পাক-নাপাক

পানিতে তেলাপোকা মরলে উক্ত পানি কি নাপাক হবে?

প্রশ্ন (১৩৭৪৩) : আমি গোসল করার জন্য বাথরুমে একটি বালতিতে পানি রেখেছিলাম। পানি রেখে বাহিরে অন্য একটি কাজে যাই। কিছুক্ষণ পর এসে দেখি উক্ত পানিতে দুটি তেলাপোকা মরে পড়ে আছে। তখন আমি বালতির পানি ফেলে দিই। এখন জানার বিষয় হল, পানিতে তেলাপোকা মরার কারণে কি বালতির পানি নাপাক হয়েছিল?

জামায় চড়ূই পাখির বিষ্ঠা লাগলে উক্ত জামা নিয়ে নামায আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৬৬৫) : আমি মসজিদে যাওয়ার সময় উপর থেকে চড়ূই পাখি আমার শরীরের উপর বিষ্ঠা ছেড়ে দেয়। তা আমার পাঞ্জাবীতে পড়ে। তখন আমি টিস্যু দিয়ে তা মুছে নামায আদায় করে নিই। জানার বিষয় হল, আমার ঐ নামায কি আদায় হয়েছে, নাকি পুনরায় পড়তে হবে?

বাচ্চার পেশাবের জায়গায় জায়নামায বিছিয়ে নামায আদায় করলে কি উক্ত নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৬৬২) : একদিন আমার ছেলে ঘরের মেঝেতে পেশাব করে দেয়। ওর মা পরনের প্যান্ট দিয়েই ঐ মেঝে হালকাভাবে মুছে দেয়। আমি বেখেয়ালে সেখানে জায়নামায বিছিয়ে নামায আদায় করি। জায়নামাযটা বেশ মোটা ছিল। নামায শেষে ওর মা বলল, ও তো এই জায়গায় পেশাব করেছিল, তুমি তার উপরই জায়নামায বিছিয়ে নামায পড়েছ। আমি জায়নামায উল্টে দেখি, জায়নামাযের উল্টো পিঠে হালকা ভিজা ভিজা আছে। আর পেশাবের গন্ধ মোটামুটি স্পষ্ট। কিন্তু জায়নামাযের উপর পিঠে কোনো গন্ধ নেই। প্রশ্ন হল, ঐ জায়নামাযে আমার নামায কি শুদ্ধ হয়েছে? দয়া করে জানাবেন।

বাড়ির নিচে বাথরুমের ট্যাংকি থাকলে ঐ বাড়ির ফ্লোরে নামায পড়লে কি নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৬০০) : আজকাল অনেকে এমনভাবে বাড়ি বানায় যে, বাড়ির বাথরুমের ট্যাংকি থাকে বাড়ির নিচে। আমার প্রশ্ন হল, ঐ বাড়ির প্রথম ফ্লোরে নামায পড়া জায়েয হবে কি?

প্রস্রাবের রাস্তায় হালকা পানি বের হলে কি গোসল ফরয হবে?

প্রশ্ন (১৩৫৮৭) : মাঝে মাঝে স্ত্রীর সাথে মোবাইলে কথা বলার পর প্রস্রাবের রাস্তায় হালকা পানি দেখা যায়। এছাড়াও অন্য সময় হঠাৎ এমন দেখা যায়। আমি জানতে চাচ্ছি, এ কারণে কি গোসল করতে হবে, না অযু করলে চলবে? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

গোসলের সময় শরীর থেকে পানি গড়িয়ে বালতিতে পড়লে কি বালতির পানি নাপাক হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১৩৫৬২) : আমাদের গোসলখানায় জায়গা খুব কম। ফলে গোসলের সময় কিছু পানি শরীর থেকে গড়িয়ে বালতিতে পড়ে। হযরতের কাছে জানতে চাচ্ছি, এভাবে শরীর থেকে গোসলের পানি গড়িয়ে বালতিতে পড়লে কি বালতির পানি নাপাক হয়ে যাবে?

নাপাক মেঝে পাক করার সঠিক পদ্ধতি কী?

প্রশ্ন (১৩২৬৬) : আমাদের ঘরের মেঝে মাটি দিয়ে লেপা। আমার বাচ্চা ঘরের মেঝেতে পেশাব করে দেয়। আমার শ্বাশুরি বলেন, পেশাব করা স্থান মাটি দ্বারা লেপে দিলে পাক হয়ে যায়। কিন্তু আমার মনে হয়, মাটি লেপে দেয়ার পরও তো এ স্থানে পেশাব রয়েই যায়। আমি হুযুরের কাছে জানতে চাই, নাপাক মেঝে পাক করার সঠিক নিয়ম কী? এভাবে মাটি লেপে দিলে কি তা পাক হবে?

গোশত থেকে জামায় রক্ত লাগলে কি জামা নাপাক হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১৩১৭৪) : বাজার থেকে মুরগি কিনে ফেরার পথে পলিথিন থেকে চুয়ে রক্ত পড়ে আমার কাপড়ে কিছু রক্ত লাগে। যোহরের নামাযের সময় মসজিদে গেলে একজন বললেন, রক্ত যেহেতু নাপাক তাই এই কাপড়ে আপনার নামায হবে না। তখন আমি সেই কাপড় পরিবর্তন করে নামায পড়ি। এখন আমি জানতে চাই, তার কথা কি ঠিক? গোশতের মধ্যে থাকা রক্ত কি নাপাক?

কাপড়ে রক্ত লেগেছে। কিন্তু কখন লেগেছে তা জানা নেই। এ ক্ষেত্রে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২৭৫৭) : আমি একটি কাপড় পরে কয়েকদিন ধরে নামায পড়ছি। একদিন নামাযের দুই ঘণ্টা পরে দেখি যে, কাপড়ের একাংশে দুই ইঞ্চি পরিমাণ রক্ত লেগে আছে। এ রক্ত কখন লেগেছে তা আমার জানা নেই। নামাযের সময় এ রক্ত ছিল কি না তাও জানা নেই। এখন কি এই কাপড় পরে যত নামায পড়েছি তার কাযা পড়তে হবে? জানালে উপকৃত হব।

পানির ব্যাঙ মসজিদের জায়নামাযে পেশাব করে দিলে কি জায়নামায নাপাক হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১২৭৪৫) : আমাদের মসজিদ নদীর খুব নিকটে। আমরা মূলত চরে বসবাস করি। মসজিদে প্রায়ই পানির ব্যাঙ ঢুকে জায়নামাযে পেশাব করে দেয়। জানতে চাই, একারণে কি জায়নামায নাপাক হয়ে যাবে?

গোসল ফরয অবস্থায় শরীর থেকে বের হওয়া ঘাম কি নাপাক?

প্রশ্ন (১২৬৯৫) : আমরা জানি, গোসল ফরয অবস্থায় শরীর নাপাক থাকে। তো আমি জানতে চাচ্ছি, এই অবস্থায় শরীর থেকে বেরিয়ে আসা ঘাম কি নাপাক? তা জামায় লাগলে কি জামা নাপাক হয়ে যাবে?

নামাযী ব্যক্তির কোলে বাচ্চা নাপাক কাপড় নিয়ে বসে পড়লে কি তার নামায ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২৬৩৩) : একদিন আমার আম্মা নামায আদায় করছিলেন। তিনি যখন তাশাহহুদের বৈঠকে ছিলেন তখন আমার এক ছোট বাচ্চা তাঁর কোলে গিয়ে বসে পড়ে। বাচ্চার গায়ের জামা-কাপড় পেশাবে ভেজা ছিল। বাড়িতে কেউ কেউ বলছে, নাপাকিসহ বাচ্চা তাঁর কোলে বসে পড়ায় নামায নষ্ট হয়ে গেছে। কিন্তু আমার কথা হচ্ছে, নাপাকি তো তাঁর নিজের কাপড়ে ছিল না। তো এ অবস্থায় কি আসলেই তাঁর নামাযের কোনো ক্ষতি হয়েছে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

প্রস্রাব করার পর পানি ব্যবহার না করে শুধু ঢিলা ব্যবহার করলে কি পবিত্রতা অর্জন হয় না?

প্রশ্ন (১২৫৯৪) : আমাদের এলাকার একজন মুসল্লী বলেন যে, প্রস্রাব করার পর পানি থাকা সত্ত্বেও কেউ যদি পানি ব্যবহার না করে, তবে সে নাপাক থেকে যাবে, তার অযু হবে না। তাই হযরতের কাছে আমার জানার বিষয় হলো, কেউ যদি প্রস্রাব করার পর শুধু টিস্যু বা মাটির ঢিলা ব্যবহার করে শুকিয়ে নেয়, পানি ব্যবহার না করে, তারপর অযু করে নামায পড়ে, তবে কি তার নামায হবে না? পানি ব্যবহার না করার কারণে সে কি নাপাক থেকে যাবে?

জোঁক শরীর থেকে রক্ত খেলে কি অযু ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২৪৯৬) : আমাদের বাসা থেকে মসজিদে যেতে একটা ঝোপঝাড়ের পথ পাড়ি দিতে হয়। কিছুদিন আগে সেই পথ ধরে মসজিদে যাই। মসজিদের কাছাকাছি গিয়ে হঠাৎ পায়ে একটি জোঁক দেখতে পাই, যা রক্তে পূর্ণ ছিল। জামাত দাঁড়িয়ে যাওয়ায় জোঁকটি ফেলে জামাতে শরীক হই। যেহেতু অযু অবস্থায় ছিলাম, তাই নতুন করে অযু করিনি। এখন হুজুরের কাছে জানার বিষয় হল, আমার উক্ত নামাযটি কি শুদ্ধ হয়েছে? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

তেলাপোকা বা এজাতীয় পোকা পানিতে পড়ে মারা গেলে কি উক্ত পানি নাপাক হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১২৪৪৫) : পানির সমস্যার কারণে আমাদের বাসায় বিভিন্ন পাত্রে পানি ভরে রাখা হয়। কখনো কখনো পাত্রে এক বা একাধিক তেলাপোকা মরা পাওয়া যায়। আমার মা সবসময় এ পানি ফেলে সাবান দিয়ে পাত্রটি ধুয়ে নেন। প্রশ্ন হল, তেলাপোকা মরার কারণে পাত্রের পানির হুকুম কী? তা কি অযু-গোসল কিংবা কাপড় ধোয়া ইত্যাদি কাজে ব্যবহার করার সুযোগ আছে? সঠিক মাসআলাটি জানিয়ে বাধিত করবেন।

মলদ্বারে ঔষুধ প্রয়োগ করার পর তা বের হলে কি অযু ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২৪২৪) : গত রোযায় কোনো এক রাতে এশার নামাযের পূর্বে ডাক্তারের পরামর্শক্রমে মলদ্বারে ঔষুধ প্রয়োগ করি। পরে তারাবীহ পড়ানো শেষ হলে পায়জামায় হাত দিলে ভেজা ভেজা অনুভব হয়। জানার বিষয় হল, মলদ্বারের ভিতর ঔষধ প্রয়োগ করার পর তা যদি বের হয়ে যায়, তাহলে কি অযু ভেঙে যায়?

কবুতরের বিষ্ঠা কি নাপাক নয়?

প্রশ্ন (১২৩৮৫) : মসজিদের চত্বরে বসে নামাযের জন্য অপেক্ষা করছিলাম। হঠাৎ কবুতরের বিষ্ঠা জামায় এসে পড়ে। পরে টিস্যুপেপার দিয়ে মুছে নামায পড়েছি। আমার জানার বিষয় হল, উক্ত কাপড় পরে নামায সহিহ হয়েছে, নাকি ওই নামায পুনরায় পড়তে হবে?

পবিত্রতা সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৩৭১) : সেদিন ফরয গোসল করতে গিয়ে বালতি থেকে মগ দিয়ে পানি ওঠানোর সময় হাতের আঙ্গুলের অংশে পানি লেগে যায়। এক্ষেত্রে যদিও আমার হাতে দৃশ্যত কোনো নাপাকি ছিল না; তথাপি যেহেতু ফরয গোসল তাই পরে আমার সন্দেহ হলে পাশের একজনকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আপনার আঙ্গুলের অংশ পানিতে লাগার কারণে ঐ পানি ব্যবহৃত পানির হুকুমে হয়ে গেছে। আর আপনার ঐ পানি দিয়ে গোসল ও পবিত্রতা অর্জন শুদ্ধ হয়নি। জানার বিষয় হল, তার কথাটি কি ঠিক?