হজ্জ ও উমরাহ

হজ্বে অন্যকে দিয়ে কংকর নিক্ষেপ করানো যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৮৮৮) : আমি গত বছর হজ্ব করেছি। হজ্বের সব কাজ ভালোভাবেই সম্পন্ন করেছি। কিন্তু ১০ যিলহজ্ব বড় জামারায় প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে নিজে কংকর মারতে পরিনি। যে কারণে আমি স্বামীকে দিয়ে ঐ দিন কংকর নিক্ষেপ করাই। আর ১১ ও ১২ যিলহজ্বের কংকর নিজেই মারি। দেশে আসার পর জানতে পারলাম, স্বামীকে দিয়ে কংকর মারানো নাকি বৈধ হয়নি। যদি তাই হয় তাহলে এখন আমার করণীয় কী?

কেউ তাওয়াফে বিদা না করে চলে দেশে চলে আসলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৮১৬) : আমার এক বন্ধু তাওয়াফে বিদা না করে দেশে চলে এসেছে। এখন তার কী করণীয়? আগামী রমযানে সে ওমরায় যাওয়ার নিয়ত করেছে। তখন কি ঐ তাওয়াফে বিদা আদায় করার সুযোগ আছে? বিস্তারিত জানাবেন।

প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি থাকলে কি হজ্ব ফরয হবে?

প্রশ্ন (১৩৮১৪) : আমার বাবা মিরাছসূত্রে অনেকগুলো জমি পেয়েছেন। এর মধ্যে অনেকগুলো জমি রয়েছে যেগুলোর ফসল ছাড়াই আমাদের যাবতীয় প্রয়োজন পূরন হয়ে যায়। জমি-জমা ব্যতীত বাবার অন্য কোনো সম্পদ নেই। জানার বিষয় হলো, এমতাবস্থায় আমার বাবার উপর হজ্ব ফরয হবে কি?

দুলাভাইয়ের সাথে হজ্বে যাওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৭৯৯) : আমার বয়স ১৮ বছর। আমি, আম্মা ও বড় বোন এবার আমাদের বড় দুলাভাইয়ের সঙ্গে হজ্ব আদায় করেছি। হজ্ব থেকে ফেরার পর জানতে পারলাম যে, দুলাভাইয়ের সঙ্গে হজ্বে যাওয়া আমার জন্য বৈধ হয়নি। তাহলে কি আমার হজ্ব সহিহ হয়নি?

কাবা শরিফ দেখলে কি হজ্ব ফরয হয়ে যায়?

প্রশ্ন (১৩৭৭৫) : আমাদের দেশে কারো কারো থেকে শোনা যায় কাবা শরিফ দেখা মাত্রই নাকি হজ্ব ফরয হয়ে যায়। এই কথা কি সঠিক? আর উমরাতে যারা যান তাদের জন্য কি হজ্ব করা ফরয? যদি তার সামর্থ্য না থাকে তাহলে তার কী করণীয়?

কেউ যদি শৈশবে হজ্ব আদায় করে তাহলে কি বড় হওয়ার পর তাকে আবার হজ্ব আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১৩৭৬৫) : আমি শৈশবে আমার বাবার সাথে হজ্ব করেছি। এখন আমি বড় হয়েছি এবং আমার কাছে হজ্বে যাওয়ার মতো সম্পদ আছে। আমার প্রশ্ন হল, ছোটবেলায় আদায় করা ঐ হজ্বটি কি আমার ফরয হজ্ব হিসেবে আদায় হয়ে গেছে, নাকি আমাকে আবার ফরয হজ্ব করতে হবে? দয়া করে জানাবেন।

ইহরাম থেকে হালাল হওয়ার সময় নিজের মাথা মুন্ডানোর আগে অন্যের চুল কেটে দেওয়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩৭৬২) : আমি আমার বোনকে নিয়ে হজ্বে যাই। মক্কায় পৌঁছার পর ওমরার তাওয়াফ ও সায়ী আদায় করি। এরপর মাথা মুণ্ডিয়ে হালাল হওয়ার সময় প্রথমে আমি আমার বোনের চুল কেটে দিই। এরপর নিজের মাথা মুণ্ডন করি। আমার এ কাজের কারণে কি আমাকে কোনো জরিমানা আদায় করতে হবে?

মসজিদে নববী থেকে ইহরাম বাঁধলে কি সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৭৪৭) : আমি ঢাকা থেকে সরাসরি মদীনা শরীফ গিয়ে রাসূল (সা.)-এর রওজা মুবারক যিয়ারতের উদ্দেশ্যে ২/৩ দিন অবস্থান করি। তারপর আমি মসজিদে নববী থেকে ওমরার নিয়তে ইহরাম বেঁধে মক্কা শরীফে ওমরার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করি। তো গাড়িতে উঠার পর বাঙ্গালী ড্রাইভার আমাকে বলল, মদীনা থেকে ওমরার নিয়ত করলে হবে না। জুল হুলাইফা মসজিদ থেকে ওমরার নিয়ত করতে হবে। আমি তৎক্ষণাৎ বাংলাদেশের দুইজন বড় আলেমের সাথে ফোনে যোগাযোগ করে দুইজনের দুই রকম মতামত পাই। যেমন, একজন বললেন, যেহেতু মদীনা শরীফ ও মসজিদে নববী মীকাতের আগে তাই আপনার ওমরার নিয়ত করা ঠিক আছে। কিন্তু অন্যজন বললেন, যেহেতু রাসূল (সা.) মদীনা শরীফ থেকে ওমরার ইহরাম বাঁধেন তাই আপনাকে জুল হুলাইফা মসজিদে এসেই ওমরার নিয়ত করতে হবে। এমতাবস্থায় কোনটি সঠিক?

যে ব্যক্তি কখনো হজ্বে যায় নি তাকে দিয়ে বদলি হজ্ব করানো যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৭১০) : আমার বাবার উপর হজ্ব ফরয হয়েছিল। কিন্তু তিনি হজ্বে যাওয়ার আগে ইন্তিকাল করেন। তাই আমরা চাচ্ছি বাবার বদলি হজ্ব করাতে। তো বাবার বদলি হজ্ব করার জন্য আমরা যাকে নির্ধারণ করেছি তিনি পূর্বে কখনো হজ্ব করেননি। এক লোক বলল, এমন ব্যক্তিকে দিয়ে বদলি হজ্ব করালে তা সহিহ হয় না। ঐ লোক কি ঠিক বলেছে?

হাজরে আসওয়াদ কি আগে থেকেই কালো ছিল নাকি পরবর্তীতে কালো হয়েছে?

প্রশ্ন (১৩৬৯৭) : অনেককেই বলতে শুনি যে, হাজরে আসওয়াদ প্রথমে সাদা বর্ণের ছিল। পরবর্তীতে লোকদের চুম্বনে তাদের গুনাহ চুষে কালো হয়ে গেছে। এই কথা কি সঠিক?

হজ্বের সময় ঠান্ডা পড়লে কি মুহরিম ব্যক্তি চাদর দিয়ে হাত, পা, মুখ ঠাকতে পারবে?

প্রশ্ন (১৩৬৭৪) : আমি এ বছর হজ্বে যাওয়ার নিয়ত করেছি। আমার প্রশ্ন হল, যদি সৌদিতে খুব ঠাণ্ডা পড়ে তবে আমি কি ইহরাম অবস্থায় হাত, পা ও চেহারা চাদর দিয়ে ঢেকে ঘুমাতে পারব?

অবুঝ শিশুকে হজ্বে নিয়ে গেলে তার হজ্বের বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩৬৭২) : আমরা স্বামী-স্ত্রী এবার হজ্বে যাব ইনশাল্লাহ। আমাদের দু বছরের একটি ছেলে সন্তান আছে। তাকেও নিয়ে যাব। প্রশ্ন হল এই শিশু ছেলের ইহরাম বা হজ্বের আমল কীভাবে হবে? তাকেও কি ইহরামের কাপড় পরাতে হবে? ঠান্ডার কারণে মাথা মুখ ঢাকতে হলে তা পারব কি? তার ভুলের কারণে দম ওয়াজিব হবে কি? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

ভিড়ের কারণে অন্যকে দিয়ে কংকর নিক্ষেপ করানো যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৬৬৮) : আজকাল ভিড়ের কারণে অনেক মহিলার পক্ষ থেকে মাহরাম পুরুষরাই কংকর মারার কাজ সেরে নেন। এটা কি সহিহ? আবার অনেক মহিলা ভিড়ের কারণে মুযদালিফার মাঠে না থেকে সরাসরি মিনার তাঁবুতে এসে রাত যাপন করেন। জানতে চাই এমন করা কি জায়েয হবে? এতে কি কোনো দম ওয়াজিব হবে?

১২ যিলহজের পর হজ্বের সায়ী আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৬৫৮) : হজ্বের সায়ী ১২ যিলহজ্বের ভিতর আংশিক বা পুরোই আদায় করতে না পারলে করণীয় কী? ১২ যিলহজের পর তা আদায় করে নিলে কি কোনো জরিমানা ওয়াজিব হবে?

বোনের নাতী কি মাহরামের অন্তর্ভূক্ত?

প্রশ্ন (১৩৬৫১) : আমার নানীর বোন হজ্বে যেতে চাচ্ছেন। তার ফ্যামিলিতে এমন কেউ নেই যে তাকে হজ্বে নিয়ে যাবে। তাই তিনি আমাকে নিয়ে হজ্বে যেতে চাচ্ছেন। প্রশ্ন হল, আমি কি তার মাহরাম? তিনি কি আমার সঙ্গে হজ্বে যেতে পারবেন? দয়া করে জানাবেন।

হজ্বে কুরবানী করার পূর্বে মাথা মুন্ডানো যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৬৩৭) : গতবার আমরা একটি কাফেলার সাথে হজ্বে গিয়েছিলাম। আমাদের কাফেলায় সকলেই তামাত্তু হজ্বকারী ছিল। শুধু একজন ছিল বদলি হজ্ব আদায়কারী। বদলি হজ্ব আদায়কারী হজ্বের কুরবানী দেয়নি। পাথর মারার পর আমাদের কুরবানীর আগেই সে মাথা মুণ্ডিয়ে নিল। জানার বিষয় হলো, তার এ কাজ কি ঠিক হয়েছে? সঠিক মাসআলা জানালে উপকৃত হব।

অসুস্থতার কারণে অন্যকে দিয়ে কংকর নিক্ষেপ করানো যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৬২৪) : গতবার আমার চাচা হজ্বে গিয়েছিলেন। ১০ যিলহজ্ব সকালে মুযদালিফা থেকে মিনায় যাওয়ার সময় তিনি পায়ে আঘাত পায়। ফলে ঐ দিন মিনায় গিয়ে কংকর নিক্ষেপ করা তার জন্য সম্ভব ছিল না। তাই সে ঐ দিন তার এক সঙ্গীকে দিয়ে কংকর নিক্ষেপ করায়। সেদিন ঔষুধ ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। পরের দিন এগারো তারিখ বিকেলে সে অনেকটা সুস্থ হয়ে যায় এবং রাতের বেলা সে নিজে গিয়ে ঐ দিনের কংকর নিক্ষেপ করে। প্রশ্ন হল, প্রথম দিন সে যে আরেকজনকে দিয়ে কংকর নিক্ষেপ করিয়েছে তা কি সহিহ হয়েছে? আর পরের দিন তো সে সুস্থ হয়ে গেছে। তাহলে কি ঐ দিনের কংকর নিক্ষেপ পরের দিন তাকে আবার করে নিতে হবে?

প্রয়োজনের অতিরিক্ত জমি থাকলে কি হজ্ব ফরয হবে?

প্রশ্ন (১৩৫৯১) : আমি একজন চাকরিজীবী। আমি আমার বেতন থেকে অল্প অল্প করে প্রায় লাখ খানেক টাকা সঞ্চয় করেছি। আর গ্রামের বাড়িতে পৈত্রিকসূত্রে দেড় বিঘা জমি পেয়েছি। যার আনুমানিক মূল্য পঞ্চাশ লক্ষ টাকা হবে। এছাড়া আমার আর কোনো অর্থ-সম্পদ নেই। চাকরির বেতন দিয়েই আমার সংসার চলে। আর জমি থেকে বর্গাচাষের ভিত্তিতে বছরে কিছু আয় আসে। আমার জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় আমার উপর হজ্ব ফরয হবে কি? অথচ হজ্বে যাওয়ার মতো টাকা আমার কাছে নেই।

তাওয়াফের দুই রাকাত নামায পড়তে বিলম্ব হলে কোনো দম আবশ্যক হবে কি?

প্রশ্ন (১৩৫৫৭) : গত বছর হজ্বের সফরে একদিন তাওয়াফের পর তাওয়াফের দুই রাকাত নামায পড়তে ভুলে যাই। বাসায় আসার পর স্মরণ হলে ঐ দুই রাকাত নামায পড়ে নিই। প্রশ্ন হল, তাওয়াফের দুই রাকাত নামায পড়তে বিলম্ব হওয়ায় আমার উপর কোনো দম আবশ্যক হয়েছে কি?

উমরার তাওয়াফ করার আগেই কোনো মহিলার স্রাব চলে আসলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৫৫৩) : আমার ভাবি উমরাহ করতে যায়। কিন্তু উমরার তাওয়াফ করার আগেই তার মাসিক স্রাব এসে যায়। পাঁচ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও স্রাব বন্ধ হয়নি। এদিকে সফরের আর মাত্র দুই দিন বাকি। দুই দিন পরই দেশে চলে আসতে হবে। এখন তার করণীয় কী? মাসআলাটি বিস্তারিত জানতে চাই।