বিবাহ ও পারিবারিক জীবন সংক্রান্ত

দুধ মেয়ের স্বামী কি মাহরাম হবে?

প্রশ্ন (১২৮২২) : আমার স্ত্রীর ছোট বোন তার একটি ছোট মেয়ে রেখে মারা যায়। এরপর মেয়েটিকে আমার স্ত্রী নিয়ে আসে এবং দুধ পান করায়। মেয়েটি আমাদের ঘরেই বড় হয়েছে। কিছুদিন আগে তার বিবাহ হয়। মেয়েটি মাঝে মাঝে তার স্বামীকে নিয়ে আমাদের বাসায় আসে। বাসায় আসলে আমার স্ত্রী মেয়েটির স্বামীর সামনে চলে যায়। এখন আমার জানার বিষয় হলো, আমার স্ত্রী কি মেয়েটির স্বামীর সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করতে পারবে?

তালাক সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৭৮২) : আমি আমার স্ত্রীকে প্রায় এক বছর পূর্বে তার এক আত্মীয়ের সাথে কথা বলতে নিষেধ করি এবং বলি, তার সাথে সরাসরি অথবা ফোনে যে কোনোভাবে কথা বললে তালাক হয়ে যাবে। এরপর প্রায় এক বছর পর্যন্ত আমার স্ত্রী ঐ ব্যক্তির সাথে কোনো কথা বলেনি। কিছুদিন পূর্বে বিশেষ এক প্রয়োজনে শুধু একটি ম্যাসেজ পাঠায়। উদ্দেশ্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ একটি সংবাদ পৌঁছানো। অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। এখন আমরা উভয়ে বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত। ম্যাসেজ পাঠানোর কারণে তালাক হয়েছে কি না? যদি হয়ে থাকে তাহলে আমাদের করণীয় কী?

দুই তালাকের ইদ্দত শেষ হওয়ার পর স্বামী তাকে তালাক দিলে কি উক্ত তালাক পতিত হবে?

প্রশ্ন (১২৭৫১) : এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে দুই তালাক প্রদান করে। এরপর তার স্ত্রীর সাথে চার মাস বার দিন কোনো যোগাযোগ বা অন্য কোনো সম্পর্ক রাখেনি। ইতিমধ্যে তার স্ত্রীর ইদ্দত অতিবাহিত হয়ে যায়। এরপর তাকে মৌখিক ও লিখিতভাবে কাজী ও উকিলের মাধ্যমে তিন তালাক প্রদান করে। এখন প্রশ্ন হল- ১. ইদ্দত অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পর যে তিন তালাক প্রদান করা হয়েছে তা কার্যকর হয়েছে কি? ২. যদি তিন তালাক কার্যকর না হয় তাহলে তারা কীভাবে আবার বৈবাহিক সম্পর্কে ফিরে আসতে পারবে?

পাত্রী দেখার ক্ষেত্রে কতটুকু পরিমাণ দেখা যাবে?

প্রশ্ন (১২৭২৫) : আমাদের সমাজের কিছু লোক বিবাহের জন্য পাত্রী দেখার সময় হাতের কনুইর নিচ পর্যন্ত ও পায়ের হাঁটুর নিচ পর্যন্ত দেখে। আবার অনেকে তখন নিজ হাতে আংটি পরিয়ে দেয়। জানার বিষয় হল, এভাবে পাত্রী দেখা কি জায়েয আছে? এ পদ্ধতি নাজায়েয হলে শরীয়তসম্মত পদ্ধতি কী? জানিয়ে বাধিত করবেন।

বিয়েতে কুমারী মেয়ের নিকট অনুমতি চাওয়ার পর সে চুপ থাকলে কি তার বিয়ে সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২৬৬৭) : আমাদের এলাকার একটি মেয়ে তার পছন্দের একটি ছেলেকে বিবাহ করতে চাচ্ছিল। কিন্তু তার মা-বাবা অন্যত্র বিয়ে ঠিক করেন। বিবাহের দিন তার মতামত জানতে চাইলে মেয়ে হাঁ-না কিছুই না বলে চুপ থাকে। তবে মনে মনে সে নারাজ ছিল। এ অবস্থায় তার আকদ হয়ে যায়। এবং মেয়েটি নারাজ থাকলেও মা-বাবার কথায় স্বামীর বাড়িতে চলে যায়। এবং দু‘মাস তার সাথে সংসার করে। এরপর একদিন হঠাৎ সে পালিয়ে গিয়ে পূর্বোক্ত ছেলেটির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে তার সাথে ঘর-সংসার শুরু করে। এটা নিয়ে এলাকায় অনেক তোলপাড় চলছে। মেয়েটির দাবি, সে প্রথম বিবাহে রাজি ছিল না। তাই তা সহিহ হয়নি। জানার বিষয় হল, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মেয়েটির কথা কি ঠিক? তার প্রথম বিবাহ সহিহ হয়েছে কি না? এবং সে যে দ্বিতীয় বিবাহ করল এর হুকুম কী?

পুরুষ সাক্ষী ছাড়া কি বিয়ে শুদ্ধ হবে?

প্রশ্ন (১২৬০৬) : জনৈক শিক্ষক তার সাত বছরের এক ছেলেকে স্কুলে নিয়ে গিয়ে এক প্রাপ্তবয়স্ক ছাত্রীকে বলেছে, তোমাকে আমার ছেলের স্ত্রী হিসেবে নিলাম। মেয়েটিও কোন কিছু না বুঝে বলে ফেলেছে আলহামদুলিল্লাহ আমি কবুল করলাম। সেখানে তার বয়সী একাধিক মেয়ে উপস্থিত ছিল। তবে কোনো পুরুষ সেখানে ছিল না। এরপর ঘটনা আর আগে বাড়েনি। সম্প্রতি ঐ মেয়ের অন্যত্র বিয়ের কথা চূড়ান্ত হয়েছে। এখন প্রশ্ন হল, উপরোক্ত ঘটনায় কি তাদের মাঝে বিবাহ সম্পন্ন হয়ে গেছে? এবং সেক্ষেত্রে ঐ মেয়ের অন্যত্র বিবাহ কি বৈধ হবে?

বড় ভাই ওলি হিসেবে অনুমতি দেওয়ার পর ছোট ভাই আপত্তি করতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২৫৫১) : আমরা দুই ভাই এক বোন। আমার বাবা নেই। উভয়েই কাপড়ের ব্যবসা করেন। আমি ইন্টার পাশ করার পর তারা আমার বিবাহের জন্য একটি ছেলেকে পছন্দ করেন। ছেলেটি দ্বীনদার না হওয়াতে আমি রাযি হইনি। এরপর আমার মামা (যার মাধ্যমে আমি দ্বীনের বুঝ পেয়েছি) আমার জন্য একটি দ্বীনদার পাত্র ঠিক করেন, যার অর্থনৈতিক অবস্থা আমাদের থেকে কিছুটা দুর্বল। আমার বড় ভাইয়ের সম্মতিতে তার সাথে মহরে মিছিলে আমার বিবাহ হয়। এসময় আমার ছোট ভাই ব্যবসার কাজে ইন্ডিয়াতে ছিলেন। আকদের দুই দিন পরে ইন্ডিয়া থেকে আসেন এবং বলেন আমি এই বিয়েতে রাযি নই। কারণ তারা আমাদের থেকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল। এ বিষয়ে তিনি অনেক কঠোরতা করেছেন। এখন মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাচ্ছি, ছোট ভাইয়ের সম্মতি ছাড়া অর্থনৈতিক দিক থেকে গাইরে কুফুর মধ্যে বিবাহ হওয়ার দ্বারা কি আমাদের বিবাহ সহিহ হয়েছে? শরয়ীভাবে আমার ছোট ভাই কি আমাদের বিবাহ ভেঙ্গে দেয়ার অধিকার রাখে?

কনে থেকে সম্মতি নেওয়ার সময় সাক্ষী থাকা কি জরুরি?

প্রশ্ন (১২৫৪৩) : গত শনিবার ধানমণ্ডি তাকওয়া মসজিদে আমার বড় ভাগ্নির বিবাহের আকদ হয়। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় আমার ভগ্নিপতি আমার ভাগ্নি থেকে ইযিন নিয়ে যান। এ সময় সেখানে শুধু আমার বোন ছিলেন। আকদের পূর্বে ছেলে পক্ষের কয়েকজন মুরব্বী বলে উঠলেন, বিবাহ সংঘটিত হওয়ার জন্য ইযিন নেয়ার সময়ও সাক্ষীদের উপস্থিত থাকা জরুরি। এরপর ইমাম সাহেব তাদেরকে কি যেন বলেন। তাতে তারা শান্ত হন। এরপর বিবাহ হয়। এছাড়াও এটা জরুরি কি না এ নিয়ে আরো কিছু বিবাহে জটিলতা সৃষ্টি হতে দেখেছি। এখন জানতে চাচ্ছি বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য ‘ইযিন’ নেয়ার সময় সাক্ষীদের উপস্থিতি জরুরি কি না?

ছেলে তার বাবার স্ত্রীর আগের ঘরের মেয়েকে বিয়ে করতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২৫৩৩) : কিছু দিন আগে আমার মায়ের ইন্তিকালের পর আমার পিতা এক বিধবা নারীকে বিবাহ করেন। তার ১৮ বছরের এক মেয়ে আছে। বর্তমানে সে আমাদের বাড়িতে অবস্থান করছে। সম্প্রতি ঐ মেয়ের মামা চাচ্ছেন আমার সঙ্গে তাকে বিবাহ দিতে। আমি কি তাকে বিবাহ করতে পারব? কেউ কেউ বলছেন, এই বিবাহ সহিহ হবে না। তাদের কথা কি ঠিক?

ফোনে বিয়ে করলে কি বিয়ে কার্যকর হবে?

প্রশ্ন (১২৫২৩) : আমার এক বন্ধু এক মেয়েকে ফোনে বিয়ে করে। সে মেয়েটিকে ফোনে বলে, আমি তোমাকে এত টাকার মহরে বিবাহ করলাম, তুমি রাজী থাকলে কবুল বল। মেয়েটি তখন কবুল বলে। ফোনে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে ছেলের দুজন বন্ধুও মেয়ের কবুল বলা শুনেছিল। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ছেলে এবং মেয়ে উভয়ের অভিভাবক তাদেরকে ভিন্ন জায়গায় বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাদের উভয়ে বলে, আমাদের তো বিয়ে হয়ে গেছে। আমরা পরস্পর স্বামী-স্ত্রী। তাই অন্য কোথাও আমরা বিয়ে করব না। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, তাদের বিবাহ কি শুদ্ধ হয়েছে? এক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান কী? বর্তমানে তাদের বাবা-মা চাচ্ছেন তারা একে অপরকে তালাক দিয়ে দিক। এটা কি বৈধ হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

স্ত্রীর উদ্দেশ্যে চিঠিতে তালাকের কথা লিখলে কি তালাক হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১২৫১৯) : আমি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। আমার ছোট ছোট দুটি ছেলে এবং একটি মেয়ে আছে। আমার স্ত্রীর সাথে একটি বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হচ্ছিল। কিছুদিন আগে আমার বোনেরা আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসলে সে তাদের সাথে খুবই খারাপ আচরণ করে এবং ফোনে আমার সাথে খুব কথা কাটাকাটি হয়। আমি তাকে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই এবং একটি চিঠিতে ঘটনার বিবরণসহ লিখি যে, ‘আমি আমার স্ত্রীকে বায়েন তালাক দিলাম’। আমি মুখে উচ্চারণ করে তালাক বলিনি কিন্তু তালাকের নিয়তেই উক্ত কথা লিখেছি। পরে আমার ছেলে-মেয়ের কথা ভেবে তালাকের চিঠিটি তার কাছে না পাঠিয়ে ছিঁড়ে ফেলি। আমার জানার বিষয় হল, উক্ত লেখার কারণে আমার স্ত্রীর উপর তালাক পতিত হয়েছে কি না? এখন তার সাথে ঘর-সংসার করতে পারব কি না? উল্লেখ্য, আমি ইতিপূর্বে তাকে কোনো তালাক দেইনি। সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

খোলা তালাক দেওয়ার সময় স্ত্রীর কাছ থেকে কী পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করা উচিত?

প্রশ্ন (১২৫১৭) : গত বছর আমার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছু দিন পরই স্ত্রীর সাথে মনোমালিন্য হয়। সে বিভিন্ন পর-পুরুষের সাথে ফোনে কথা বলে, তাদের সাথে আড্ডা দেয়। তাকে অনেক বোঝানোর পরও কাজ হয়নি; বরং সে বারবার বলে, আমাকে ছেড়ে দাও। আমাকে তালাক দিয়ে দাও। আমার স্ত্রীরা পারিবারিকভাবে বেশ ধনী। তাই মুরব্বীদের সাথে পরামর্শ করে তাকে খোলা তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আমার এক চাচা বললেন, তুমি খোলা তালাক বাবদ তিন লাখ টাকা নাও। আমার বিয়ের মহর ছিল আড়াই লাখ টাকা। বিয়ের সময় স্বর্ণালংকারের মাধ্যমে তা আদায় করে দিয়েছি। হযরতের কাছে কাছে জানতে চাই, আমি কি আমার স্ত্রী থেকে তালাক বাবদ উক্ত টাকা গ্রহণ করতে পারব?

স্ত্রীকে তালাক হওয়ার পরেও কি সে স্বামীর বাড়িতে থাকতে পারবে?

প্রশ্ন (১২৫০৯) : কয়েকদিন আগে আমার প্রবাসী পিতা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার আম্মাকে তিন তালাক দিয়ে দেন। বিষয়টি একজনকে জানালে তিনি দ্রুত আম্মাকে নানাবাড়িতে পাঠিয়ে দিতে বলেন। একথা শুনে তিনি বিমূর্ষ হয়ে পড়েছেন। এই বৃদ্ধ বয়সে নানাবাড়িতে কীভাবে যাবেন? এ করুণ পরিস্থিতিতে জনাবের কাছে জানার বিষয় হল, ১. এখন কি বাস্তবেই আম্মাকে নানাবাড়িতে পাঠিয়ে দিতে হবে? আমরা চাচ্ছি, তিনি আব্বুর স্ত্রী হিসাবে না থাকলেও আমাদের দেখাশুনা ও পরিবারের নিয়ন্ত্রণের জন্য আব্বুর সংসারে থাকুন। এতে শরয়ী কোনো সমস্যা আছে কি না? এক্ষেত্রে আব্বুর টাকা দিয়ে তিনি নিজের ব্যয় নির্বাহ করতে পারবেন কি না? ২. আম্মার তালাকের ইদ্দতেও মৃত্যু পরবর্তী ইদ্দতের ন্যায় সাজসজ্জা ত্যাগ ইত্যাদি বিভিন্ন বিধান কার্যকর হবে কি না?

‘তুই আমার মার মত’ স্ত্রীকে এই কথা বললে কি তালাক হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১২৫০৪) : আমার বন্ধুর সাথে তার স্ত্রীর ঝগড়া হচ্ছিল। এক পর্যায়ে সে তার স্ত্রীকে থামানোর জন্য বলে, ‘তুই আমার মার মত’ একথা বলার সময় তার চিন্তায় তালাক বা ভিন্ন কিছুর নিয়ত ছিল না। কেবল ঝগড়া থামানোর জন্যই সে এটা বলেছিল। এখন সে একথা বলার জন্য অনুতপ্ত। সে জানতে চেয়েছে, এতে কি তাদের বিবাহে কোনো সমস্যা হয়েছে? হয়ে থাকলে তাদের করণীয় কী? তাদের কি দ্বিতীয়বার বিবাহ করতে হবে?

স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর আবার ইদ্দতের মাঝে বিবাহ করতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২৪৯৮) : আমার বন্ধু তার স্ত্রীকে এক তালাকে বায়েন দিয়েছে। তারপর ইদ্দত শেষ হওয়ার আগেই তারা পুনরায় বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। এখন জানার বিষয় হলো, ইদ্দত শেষ হওয়ার পূর্বে তাদের বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া ঠিক হয়েছে কি না?

তালাক সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৪৮৫) : আমার মামাতো বোনের তুলনায় ওর স্বামীর বয়স অনেক বেশি ছিল। সে কারণে ওদের মধ্যে কোনো বিষয়ে কথা কাটাকাটি হলেই আমার মামাতো বোন বলত, তুমি যদি আমাকে তালাক দিয়ে দাও তাহলে আমার কোনো সমস্যা নেই। গত সপ্তাহে আবার ঝগড়া হলে আমার মামাতো বোন কথার একপর্যায়ে বলে উঠে, তাহলে তুমি আমাকে তালাক দিয়ে দাও। তখন ওর স্বামী রাগের মাথায় বলে ফেলেছে, যা দিলাম। মুখে তালাক বা এজাতীয় কোনো শব্দ উল্লেখ করেনি। এখন একথা বলার দ্বারা তালাক হয়েছে কি না? কয়েকজন থেকে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য পাওয়া গেছে। সঠিক মাসআলাটি মুহতারামের নিকট জানতে চাচ্ছি। আর যদি তালাক হয়ে যায় তাহলে পুনরায় একত্রে থাকতে চাইলে কী করণীয়?

স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর অন্যের কাছে তালাকের বর্ণনা দিলে কি নতুন করে তালাক পতিত হবে?

প্রশ্ন (১২৪৮২) : একবার ভাইয়া-ভাবির মাঝে প্রচন্ড ঝগড়া হয়। ঝগড়ার একপর্যায়ে ভাইয়া তাকে উদ্দেশ্য করে বলে, ‘তুমি তালাক, চুপ করো বলছি!’ একথা শুনে অবাক হয়ে আম্মা বললেন, বাবা, তুই কী বললি!? ভাইয়া বলে, বলেছি, ‘ও তালাক’ এরপর আব্বা, ভাইয়ার শ্বশুর এবং অন্যান্যরা ফোন করে আম্মার মতো প্রশ্ন করতে থাকলে ভাইয়া আগের মতই উত্তর দিয়ে যান। জানার বিষয় হল, তালাক দেওয়ার পর বিভিন্নজনের জানতে চাওয়ার প্রেক্ষিতে এভাবে একের পর এক তালাক শব্দ যে উচ্চারণ করা হল, এর দ্বারা আসলে কয় তালাক হয়েছে?

স্ত্রীর জন্য বিনা প্রয়োজনে পৃথক বাসা নেওয়া কি জরুরি?

প্রশ্ন (১২৪৮১) : আমি আমার স্ত্রীকে নিয়ে মায়ের সঙ্গে এক বাড়িতে থাকি। বাড়িটি আমার বাবা তার জীবদ্দশায় মায়ের নামে লিখে দিয়েছেন। এখানে মায়ের ও আমাদের রুম ভিন্ন এবং ওয়াশরুমও ভিন্ন। বিয়ের পর থেকে আমার স্ত্রী আলাদা বাসা ভাড়া নেওয়ার জন্য তাগাদা দিচ্ছে। তার যুক্তি হল, ‘তোমার বড় ভাই যদি তোমার ভাবিকে নিয়ে আলাদা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতে পারে তাহলে তুমি কেন পারবে না।’ কিন্তু একে তো আমার এই পরিমাণ সামর্থ্য নেই যে, আলাদা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকব। তাছাড়া আলাদা হয়ে যাবার মতো কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলেও মনে হয় না। অর্থাৎ কারণে অকারণে ঝগড়া-বিবাদ, মনোমালিন্য বা একে অন্যের খুঁত ধরা- এজাতীয় কিছু তাদের মাঝে সাধারণত হয় না। শুধু বড় ভাইয়ের স্ত্রীর প্রতি ঈর্ষার বশবর্তী হয়ে সে এরকম আলাদা বাসা ভাড়া নেওয়ার আবদার করছে। মুহতারামের নিকট জিজ্ঞাসা হল, শরীয়তের দৃষ্টিতে তার এই আবদার কি ঠিক আছে?

বিয়েতে পাত্রের বাবা ও আকদ সম্পাদনকারী কি সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট হবে?

প্রশ্ন (১২৪৬০) : আমার এক বন্ধুর বোনকে তার স্বামী একটি বায়েন তালাক দেয়। তালাক দেয়ার কিছুদিন পর তারা উভয়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে সম্মত হন। ১৭ দিন পরে আমার বন্ধুর বাবা ঘরোয়াভাবে তাদের বিবাহের আয়োজন করেন। আমাদের গ্রামের ইমাম সাহেবকে ডেকে বিবাহ পড়িয়ে দেন। বিবাহের মজলিসে ইমাম সাহেব আমার বন্ধুর বাবা এবং তার সেই বোন ও বোনজামাই উপস্থিত ছিলেন। ইমাম সাহেব খুতবা দিয়েছেন আর তার বাবা বিবাহ পড়িয়েছেন। এখন আমার জানার বিষয় হলো, তার বাবা এবং ইমাম সাহেব সাক্ষী হিসেবে যথেষ্ট হবেন কি না?