বিবাহ ও পারিবারিক জীবন সংক্রান্ত

স্ত্রীর মাকে বিবাহ করার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৪৫০) : আমাদের গ্রামে একজন দরিদ্র বিধবা মহিলা থাকে। তার এক মেয়ে এক ছেলে। দুপুরে মেয়েটির বিবাহের আকদ সম্পন্ন হয়। কিন্তু সন্ধ্যায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইন্তিকাল করে। যেহেতু মেয়েটির সাথে লোকটির ঘর-সংসার হয়নি তাই কিছু দিন পর মৃত মেয়ের স্বামীর সঙ্গে বিধবা মহিলাটি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। আমাদের এলাকায় বিষয়টিকে সবাই বেশ খারাপ মনে করলেও কেউ কেউ তা শিথিলতার দৃষ্টিতে দেখছেন। এলাকায় এ নিয়ে বেশ বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাই মুফতী সাহেবের কাছে আমাদের আবেদন হল, এক্ষেত্রে শরীয়তের সঠিক মাসআলাটি জানিয়ে সবাইকে পেরেশানি মুক্ত করবেন।

আপন ভাইয়ের দুধ মাকে বিয়ে করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৪৪৯) : কিছু দিন আগে আমার স্ত্রী একটি সড়ক দুর্ঘটনায় ইন্তিকাল করে। আমার ছোট দুটি সন্তান আছে। তাদের লালন-পালনের জন্য একজন বিধবা নারীর প্রয়োজন। এক বিধবা নারীর সঙ্গে আমার বিয়ের কথা চলছে, যে আমার ছোট ভাইকে দুধ পান করিয়েছিল। এলাকার কিছু লোক বলছে, এ মহিলা যেহেতু আমার ছোট ভাইয়ের দুধ মা, তাই এ দুধ সম্পর্কের সব বিধিনিষেধ আমার সাথেও কার্যকর হবে। অবশ্য এ বিষয়ে ভিন্ন কথাও অনেকে বলেছে, যা আমার কাছে শক্তিশালী মনে হয়েছে। সার্বিকভাবে ঐ বিধবাকে পছন্দ হওয়া সত্ত্বেও শুধু এই আপত্তির কারণে বিয়েটি আটকে আছে। তাই মুফতী সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হল, আসলেই কি মহিলাটি আমার ছোট ভাইয়ের দুধ মা হওয়ার কারণে তার সাথে আমারও দুধের সম্পর্ক হয়ে গেছে, ফলে তাকে বিয়ে করা আমার জন্য বৈধ নয়? এক্ষেত্রে শরীয়তের সঠিক মাসআলাটি জানিয়ে পেরেশানি থেকে মুক্ত করবেন।

বিবাহের ক্ষেত্রে পাত্র-পাত্রী সম্পর্কে কিভাবে যাচাই করবে?

প্রশ্ন (১২৪২৬) : আমাদের সমাজে বিয়ের পূর্বে কিছু ব্যাপার ইদানীং লক্ষ্য করা যাচ্ছে; যেমন- ১. বরপক্ষ যখন মেয়ে দেখতে যায় এবং কথা প্রসঙ্গে মেয়ের উচ্চতা সম্পর্কে জানতে চায় তখন বলা হয় যে, মেয়ের উচ্চতা ৫ ফুট ১ ইঞ্চি। যদিও বাস্তবে মেয়ের উচ্চতা চার ফুট দশ ইঞ্চি। ২. অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, শ্যামবর্ণের মেয়েদের বিভিন্ন প্রসাধনী ব্যবহার করে ফর্সা হিসেবে বরপক্ষের সামনে উপস্থাপন করা হয়। ৩. আবার ছেলের মাসিক বেতনের ব্যাপারে কথা উঠলে যা প্রকৃত বেতন তার থেকে অনেক বাড়িয়ে বলা হয়। হযরতের নিকট আমার জানার বিষয় হচ্ছে, উল্লিখিত বিষয়গুলো বিবাহের মত একটা পবিত্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে ধোঁকা বা প্রতারণার শামিল কি না এবং এই ধরনের ইস্যু নিয়ে বিয়ের পর সমস্যা দেখা দিলে কী করা উচিত?

বিয়ে পড়ানোর জন্য নির্ধারিত ওকীল অনুমতি ছাড়া কি মহর বৃদ্ধি করতে পারবে?

প্রশ্ন (১২৩৩৪) : আমার বড় ভাই কুয়েতে থাকেন। আমার বড় ভগ্নিপতির ভাগ্নির সাথে তার বিবাহ ঠিক হয়। তিনি আমার ভগ্নিপতিকে ওকীল বানিয়ে দেন, যেন তিনি তার বিবাহটা পড়িয়ে দেন। ৫ লক্ষ টাকা দেন মহরের কথা হয়। কিন্তু বিবাহের মজলিসে মেয়ে পক্ষের জোরাজোরিতে আমার ভগ্নিপতি আরো দেড় লক্ষ টাকা বাড়িয়ে দেন। এক্ষেত্রে তিনি আমার ভাই থেকে পুনরায় অনুমতি নেননি এবং আমার বাবা সেখানে উপস্থিত ছিলেন, তাকেও কিছু জিজ্ঞেস করেননি। কারণ তিনি জানতেন, আমার বাবা মহর বাড়িয়ে দিতে রাযি হবেন না। আমার ভাই এখনো কুয়েত থেকে আসেননি। আরো দুই মাস পরে আসার কথা। এখন আমার জানার বিষয় হচ্ছে, আমার বড় ভাইয়ের অনুমতি ছাড়া মহর বৃদ্ধি করার কারণে তাদের বিবাহ কি শুদ্ধ হয়েছে? যদি হয় তাহলে অতিরিক্ত ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা কার উপর জরুরি? আমার ভাইয়ের উপর নাকি আমার ভগ্নিপতির উপর? উল্লেখ্য, ঐ মেয়ের মহরে মিসিল বর্তমান বাজারে ৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার মতো।

খোলা তালাক।

প্রশ্ন (১২২৩৭) : আজ থেকে ছয় মাস আগে আমাদের এক প্রতিবেশী তার নিকটাত্মীয় এক মেয়ের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়। শুরুতে তাদের সংসার ভালোই চলছিল। কিছুদিন পর থেকে মেয়ে যে কারণেই হোক স্বামীর সাথে খারাপ আচরণ শুরু করে। স্বামী সর্বদা স্ত্রীর মন জয় করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় হঠাৎ একদিন স্ত্রী স্বামীকে কোনো কিছু বলা ছাড়াই তার বাবার বাসায় চলে যায়। স্বামী তাকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করলেও সে আসতে চায় না। এমনকি এখন সে স্বামী থেকে সম্পূর্ণরূপে পৃথক হয়ে যেতে চায়। কিন্তু স্বামী তাকে তালাক দিতে রাজি নয়। সর্বশেষ স্ত্রী মহরের বিনিময়ে খোলা করতে চাচ্ছে। জানার বিষয় হল, এভাবে অর্থের বিনিময়ে তালাক দেওয়া জায়েয হবে কি না? এক্ষেত্রে বিনিময় স্বরূপ প্রদত্ত মহরের চেয়ে অতিরিক্ত গ্রহণ করা যাবে কি না? পরবর্তীতে তারা উভয়ে যদি পুনরায় ঘর সংসার করতে চায় তাহলে সেটার কোনো বৈধ সুরত আছে কিনা?

মাহরাম সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২২২০) : হযরত আমাদের এলাকায় আজীমুদ্দিন তালুকদার নামে এক লোক আছে। সে দুটি বিবাহ করেছে। প্রথম বিবির নাম আমিরুন নেসা। তার ছেলের নাম ইসমাঈল তালুকদার। এই ইসমাঈলের বড় ছেলের নাম আব্দুল কুদ্দুস তালুকদার। তার একজন মেয়ে আছে ‘মুক্তা’ নামে। আর এই আজিমুদ্দিনের অপর স্ত্রী আছে তার নাম মারিয়ম। তার ছেলের নাম ইবরাহীম তালুকদার। এই ইবরাহীম তালুকদারে সাথে ঐ মুক্তা বেগমের বিবাহ হয়েছে। এখন কথা হল, যার সাথে মুক্তার বিবাহ হয়েছে সে হল তার সৎ দাদা। অর্থাৎ মুক্তার আপন দাদা হল ইসমাঈল। আর ইসমাঈল ও ইবরাহীম হল সৎ ভাই। মা ভিন্ন বাপ এক। এখন সেই সৎ দাদা স্বীয় নাতনীকে বিবাহ করেছে। এখন প্রশ্ন হল, তাদের মধ্যকার বিবাহ বন্ধনের বিধান কী? জানালে উপকৃত হতাম।

তালাক সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২২০৭) : ১. আমি স্ত্রীর উপর রাগ করে ঠাণ্ডা মাথায় একবার একথা বলি, ‘আমার ছোট ছেলের ২ বছর পূর্ণ হওয়ার সাথে সাথে তুমি তালাক’। একথা আমি একা একা বলি শব্দ করে। আবার প্রচন্ড রাগের মাথায় একা একা শব্দ করেও ঐ জাতীয় কথা আলাদা আলাদা দিনে কয়েকদিন বলি। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, এক্ষেত্রে কয় তালাক পতিত হবে? ২. আমার এবং আমার স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া লেগে থাকে। ঝগড়ার এক পর্যায়ে আমি আমার স্ত্রীকে এ কথা বলি- ‘বেশি চিল্লাবা না; আর বেশি চিল্লাইলে তুমি আমার বউ থাকবা না।’ এ কথার পরও সে অনেক চিল্লিয়েছে। ঐ কথা বলার সময় দিলের নিয়ত কী ছিল তা বুঝতে পারছি না। অতএব, উপরিউক্ত কথার ভিত্তিতে মেহেরবানী করে ফতোয়া জানালে বাধিত থাকব।

ভাগনির ছেলে কি মাহরাম হবে?

প্রশ্ন (১২২০০) : আমার বড় ভাগনির ছেলে যখন ছোট ছিল আমি তখন ওর অনেক সেবাযত্ন করতাম। এখন ওকে আমার নিজের ছেলের মত মনে হয়। আমি হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, সে বড় হলে আমার সাথে কি তার পর্দা করতে হবে?

বিয়ে পড়ানোর ক্ষেত্রে নাম বলতে ভুল করলে কি বিয়ে শুদ্ধ হবে?

প্রশ্ন (১২১৯৬) : একই দিনে আমার ভাগনি ও তাদের পাশের বাড়ির একটি মেয়ের বিবাহ ঠিক হয়। যে মুরব্বি বিয়ে পড়ান তিনি একটু ভুল করেন। আমার ভাগনির বিয়ে পড়ানোর সময় ভুলে তার নাম না বলে অন্যজনের নাম বলে ফেলেন। তবে সেসময় যার নাম বলা হয় সে সামনে ছিল না; বরং আমার ভাগনি তার সামনে ছিল। তিনি তার দিকে হাত উঠিয়ে ইশারাও করেছিলেন। বিষয়টি তাকে বললে তিনি বলেন, সমস্যা নেই, বিবাহ হয়ে গেছে। তিনি আস্থাভাজন ও বিজ্ঞ হওয়ায় আমরা তাকে জোরাজুরি করিনি। পরে তিনি ২য় বার বিয়ে না পড়িয়ে অন্যজনের বিয়ে পড়াতে চলে যান। কিন্তু এখন আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে বিষয়টি নিয়ে কানাঘুষা চলছে। তাই হুযুরের কাছে বিষয়টির সঠিক সমাধান জানতে চাচ্ছি; ঐ মুরুব্বির কথা ঠিক কি না? আমার ভাগনির বিয়ে সহিহ হয়েছে কি না? দয়া করে জানিয়ে আমাদের উপকৃত করবেন।

বোনের ননদ দুধ পান করালে কি দুলাভাই মাহরাম হবে?

প্রশ্ন (১২১৩২) : আমি একটি মহিলা মাদরাসায় হিফয বিভাগে পড়ি। আমার এক বছর বয়সে একদিন আমার বড় আপার ননদ আমাকে দুধ পান করান। এ কারণে আমি আপার বাড়িতে গেলে বা তারা আমাদের বাড়িতে আসলে আপা আমাকে দুলাভাইয়ের সাথে দেখা করতে বলেন। আমাকে তার সামনে নিয়ে যান। কিন্তু আমি এখন বড় হয়েছি। বিষয়টা আমার কাছে খুবই সংকোচ লাগে। হুযূরের কাছে জানতে চাচ্ছি, এক্ষেত্রে আমার দুলাভাই কি আমার মাহরাম? আমি কি তার সাথে দেখা করতে পারব? আশা করি বিস্তারিত জানাবেন।

সৎ শাশুড়ি কি মাহরাম হবে?

প্রশ্ন (১২১১৪) : আমার শাশুড়ি কিছুদিন আগে ইন্তেকাল করেন। এরপর আমার শ্বশুর পুনরায় বিবাহ করেছেন। আমরা শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে গেলে আমার সৎ শাশুড়ি আমাদের আপ্যায়নের জন্য আমাদের সামনে আসেন। প্রশ্ন হল, আমি কি আমার এই সৎ শাশুড়ির সাথে দেখা করতে পারব? তিনি কি আমার মাহরাম?

তালাক সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২১০৫) : আমার ও আমার স্ত্রীর মাঝে পারিবারিক কিছু বিষয়ে ঝগড়া হয়েছিল। তখন আমি তাকে রাগের মাথায় বলেছিলাম, ‘আজ থেকে তোকে তালাক দিয়ে দিলাম।’ প্রতি উত্তরে সে বলেছিল, ‘তালাক দিয়ে লাভ কী? কিছুদিন পর আবার তো ফিরিয়ে নেবেন।’ একথা শুনে আমার রাগ আরো বেড়ে যায় এবং তার কথার জবাবে বলে ফেলি, ‘আচ্ছা, ঠিক আছে তোকে আর ফিরিয়ে নেব না।’ তখন তার বাবা এসে তাকে বাপের বাড়ি নিয়ে যায়। তখন থেকে এ পর্যন্ত (প্রায় ২৫/২৬ দিন) তার সাথে আমার আর কোনো দেখা-সাক্ষাৎ হয়নি। অবশ্য প্রয়োজনে ফোনে এক-দুবার কথা হয়েছে। কিন্তু ইদানীং ফোন করে সে আমার কাছে ক্ষমা চাচ্ছে এবং তার কৃতকর্মের ওপর অনুশোচনা প্রকাশ করছে। আমারও তার সাথে আবার সংসার করার ইচ্ছা আছে। তাই জানতে চাচ্ছি, উক্ত অবস্থায় তার ওপর কয় তালাক এবং কোন ধরনের তালাক পতিত হয়েছে? পুনরায় সংসার করতে চাইলে কীভাবে কী করতে হবে? আশা করি সবিস্তারে জানাবেন।

তালাক সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২০৯২) : এলাকার এক মেয়ের সাথে আমার দীর্ঘদিন সম্পর্ক ছিল। প্রায় সময়ই ফোনে তার সাথে কথাবার্তা হত। নিয়ত ছিল তাকে বিয়ে করব। তাই এ ব্যাপারে তাকে আশ্বস্ত করার জন্য একদিন বলেছিলাম, ‘আমি তোকে ছাড়া যদি অন্য কাউকে বিয়ে করি, তাহলে সে তিন তালাক।’ কিন্তু গত সপ্তাহে তার বাবা-মা তাকে অন্যত্র বিয়ে দিয়ে দেয়। এখন তার সাথে আমার সম্পর্কও বিচ্ছেদ হয়ে যায়। উক্ত বিষয়টি জানালে কেউ কেউ বলেছেন, আমি নাকি আর বিবাহ করতে পারব না। অন্য কাউকে বিয়ে করলে তার ওপর নাকি সাথে সাথেই তিন তালাক পড়ে যাবে। এ নিয়ে আমি খুব পেরেশানিতে আছি। হুজুরের কাছে অনুরোধ, সামনে গুনাহের পথ থেকে যেন বাঁচতে পারি তাই শরীয়াহসম্মত বিবাহের কোনো সমাধান দেবেন।

নারীদের জন্য মাহরাম ছাড়া সফরসম দূরত্বে গমন করার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২০৮৪) : হুজুর, আমার স্বামী ইন্তেকাল করেছেন এক বছর আগে। আমি সিলেট থাকি। আমার বড় মেয়ে পরিবারসহ ঢাকায় থাকে। আমার একটি ছেলে আছে, যার বয়স সাত বছর। প্রশ্ন হল, আমি আমার ঐ ছেলের সাথে কি ঢাকায় মেয়ের বাসায় বেড়াতে যেতে পারব?

পুরুষের জন্য দাদী শাশুড়ি, নানি শাশুড়ি ও খালা শাশুড়ি কি মাহরাম হবে?

প্রশ্ন (১২০৭৬) : আমার বিবাহের পর আমার দাদী শাশুড়ি, নানি শাশুড়ি ও খালা শাশুড়িরা আমাকে দেখার জন্য আমার রুমে চলে আসেন। তারা আমার মাহরাম কিনা-এ বিষয়ে প্রশ্ন উঠলে এক খালা শাশুড়ি বলেন, তারা কামেলের বইতে পড়েছেন যে, তারা নাকি জামাইয়ের (আমার) মাহরাম। মুফতি সাহবের নিকট সঠিক মাসআলাটি জানতে চাই।

মাতাল অবস্থায় স্ত্রীকে তালাক দিলেকি তালাক পতিত হয়?

প্রশ্ন (১২০৭৩) : আমার এক প্রতিবেশী প্রায়ই মদ খায়। এক রাতে সে মাতাল হয়ে বাড়ি আসে এবং তার স্ত্রীকে খুব মারধর করে তাকে বলে, ‘যা আজ থেকে তুই তালাক?’ পরের দিন সে ঘুম থেকে উঠে লজ্জিত হয়। তার স্ত্রী এখন তার থেকে আলাদা থাকছে। এখন তারা পুনরায় ঘর-সংসার করতে চায়। হুযুরের কাছে আমার জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় তার স্ত্রীর উপর তালাক পতিত হয়েছে কি না? পতিত হলে তাদের ঘর-সংসার করার কোনো সুযোগ আছে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

স্ত্রীকে তালাকের অধিকার দেওয়ার পর কি তা ফিরিয়ে নেওয়া যায়?

প্রশ্ন (১২০৭২) : এক বছর হল আমার বিবাহ হয়েছে। বিয়ের সময় আমার স্বামী আমাকে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে (আমি যখনই চাই তখনই) তালাক গ্রহণ করার অধিকার দিয়েছিলেন। বিয়ের পর আমি নিজেকে শ্বশুর বাড়ির সাথে কোনভাবেই মানিয়ে নিতে পারছি না। আর অন্যদিকে আমার স্বামীর আচার-আচরণও ভালো নয়। তাই আমি তালাক গ্রহণের প্রাপ্ত অধিকার বলে তালাক গ্রহণ করতে চাইলে তিনি বলেন-আমি তোমাকে যে অধিকার দিয়েছিলাম তা ফিরিয়ে নিলাম। এখন তোমার তালাক গ্রহণের অধিকার নেই, আর আমিও তোমাকে তালাক দেব না। জানার বিষয় হল, আমার তালাক গ্রহণের অধিকার কি শেষ হয়ে গেছে? এখন বিবাহ বিচ্ছেদের উপায় কী? সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

মজার ছলে ইজাব কবুল বলে ফেললে কি বিয়ে সংঘটিত হয়ে যায়?

প্রশ্ন (১২০৬৭) : আমাদের কলেজে বন্ধুদের মধ্যে মজার ছলে একটি ঘটনা ঘটে যায়। ঘটনাটি হচ্ছে, আমার এক বন্ধু আমাদের কয়েকজন বন্ধুদের সামনে তার এক বান্ধবীকে মজা করে বলল, আমি তোকে বিবাহ করলাম। তার বান্ধবীও বলল, আমি কবুল করলাম। এরপর আর তাদের মধ্যে কোনোকিছু হয়নি; বরং দু’জনই স্বাভাবিকভাবে আলাদা আলাদা থাকে। পড়াশোনা শেষ করে আমার বন্ধু অন্য জায়গায় বিয়ে করে। এখন ঐ মেয়েটির বিবাহ ঠিক হয়েছে। মেয়ের বাবা উক্ত ঘটনা জানতে পেরে আমার বন্ধুকে তালাক দিতে বলছে। আর আমার বন্ধু বলছে আমি তো ঠাট্টা করে বলেছিলাম। তালাক দেয়ার কী প্রয়োজন? এখন মুফতী সাহেবের নিকট জানার বিষয় হচ্ছে, ঠাট্টাচ্ছলে ইজাব কবুলের দ্বারা তাদের ঐ বিবাহ কী হয়েছিল? এই মেয়েকে বিবাহ দেয়ার জন্য কী তালাক নেয়া জরুরি?

কোনো কাজের সাথে তালাকের শর্তযুক্ত করলে কি তালাক পতিত হবে?

প্রশ্ন (১২০২৩) : বিশেষ কোনো কারণে আমার স্বামী আমাকে এক বছর তার অনুমতি ছাড়া আমার বাবা-মার সাথে ফোনে বা সরাসরি কথা বলতে নিষেধ করেছে। কথা বললে প্রত্যেকবার এক তালাক হবে। এভাবে তিনবার বললে তিন তালাক হয়ে যাবে। পরবর্তীতে সে আমাকে অনুমতি দেয়। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, একবারে পূর্ণ এক বছরের জন্য অনুমতি নিয়ে নেয়াই যথেষ্ট হবে, না প্রতিবারের জন্য পৃথক অনুমতি নিতে হবে?

খোলা তালাকের বিনিময়ে স্বামী তার স্ত্রী থেকে কী পরিমাণ টাকা গ্রহণ করতে পারবে?

প্রশ্ন (১২০১৬) : আমার চাচাতো বোনের দুই বছর আগে বিয়ে হয়েছে। বিয়ের পর থেকেই স্বামীর সাথে তার ঝগড়া লেগে থাকে। সে সবসময় তার স্বামীর সাথে খারাপ ব্যবহার করে। তার কথা অমান্য করে। সে নিজের মন মত চলাফেরা করে। এতে স্বামী বাধা দেয় বিধায় সে তার স্বামীর সাথে থাকতে চাচ্ছে না এবং তার থেকে তালাক নিতে চাচ্ছে। এখন স্বামী বলছে পাঁচ লক্ষ টাকার বিনিময়ে খোলা তালাক দিবে। বিয়েতে মোহর ছিল আড়াই লক্ষ টাকা। সম্পুর্ণ টাকা বিয়ের পরপরই পরিশোধ করে দেওয়া হয়েছিল। এখন জানার বিষয় হলো, খোলা তালাকের বিনিময়ে স্বামী কী পরিমাণ টাকা স্ত্রীর থেকে নিতে পারবে?