অর্থনীতি ও অর্থব্যবস্থাপনা

লভ্যাংশের হার নির্ধারণ করা ছাড়া কোনো ব্যবসায়িক চুক্তি করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৯৫২) : আমার মামার একটি কাপড়ের দোকান আছে। বছর খানেক আগে সেখানে বিনিয়োগের জন্য মামাকে দুই লাখ টাকা দিয়েছিলাম। মামা বলেছিলেন, প্রতি মাসে দুই-আড়াই হাজার টাকা করে দিবে। আর বছর শেষে যখন হিসাব হবে তখন চূড়ান্ত হিসাব করে লভ্যাংশ উভয়ে বণ্টন করে নেব। তবে কোনো অংশ উল্লেখ করা হয়নি। আমি জানতে চাচ্ছি যে, এভাবে চুক্তি করা কি বৈধ হয়েছে? আর আমি যে লাভ গ্রহণ করছি তা গ্রহণ করা জায়েয হচ্ছে কি? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

কারো পাওনা টাকা হাদিয়া বলে তাকে দিলে তা কি আদায় হবে?

প্রশ্ন (১২৯৪০) : আমার বড় ভাইয়ের সাথে একটি বিষয়ে লেনদেন করার সময় আমার নিকট ১০০০/- টাকা বেশি আসে। আমি তা জানা সত্ত্বেও ফিরিয়ে দেইনি এবং আমাকে জিজ্ঞাসা করা হলে আমি বলেছি, হিসাব সব ঠিকঠাক আছে। বর্তমানে ঐ বিষয়টি নিয়ে আমার অনুশোচনা হচ্ছে। কিন্তু কী বলে ফিরিয়ে দিব- বুঝতে পারছি না। ঐ ঘটনা বললে তো অনেক লজ্জার বিষয়। এক্ষেত্রে আমার কোনো এক বন্ধুকে বলতে শুনেছিলাম যে, হাদিয়ার কথা বলে দিলেও নাকি সেই টাকা পরিশোধ হয়ে যাবে। জানতে চাচ্ছি, এক্ষেত্রে হাদিয়ার কথা বলে দিলেও কি আদায় হয়ে যাবে?

শতকরা হারে পারিশ্রমিক দেওয়ার চুক্তিতে গাড়ি ভাড়া দেওয়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৯৩৯) : আমি একজন মাইক্রোবাস চালক। আমি ভাড়ায় মাইক্রোবাস চালাই। আমি আগে যে গাড়িটি চালাতাম তার মালিক গাড়িটি বিক্রি করে দেওয়ায় এখন আমি আর গাড়ি চালাচ্ছি না। আমার এক বন্ধুর একটি মাইক্রোবাস আছে। সে একদিন আমাকে বলল যে, তুমি আমার মাইক্রোটা চালাও। গাড়ীর প্রয়োজনীয় খরচ ব্যতীত যা আয় হবে তার ৩০% তোমার আর ৭০% আমার। আমাদের উক্ত চুক্তিটি কি সহিহ হয়েছে? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

করযে হাসানা দিয়ে অতিরিক্ত গ্রহণ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৯৩৮) : আমি একজনকে ২,০০০/- টাকা কর্জ দিলাম। বর্তমান বাজারমূল্য হিসেবে এ দ্বারা ৪০ কেজি খাদ্যশস্য পাওয়া যায়। আমি তাকে বললাম, ১ বছর পর ফেরত দিলেই চলবে। ইত্যবসরে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় উক্ত টাকায় ২৫ কেজি খাদ্যশস্য পাওয়া যায়। এমতাবস্থায় আমি ক্ষতিগ্রস্ত হলাম। এখানে যদি আমি ৩,২০০ টাকা পেতাম তাহলে পূর্বের ন্যায় ৪০ কেজি শস্য কিনতে পারতাম। এক্ষেত্রে শরীয়তের ফয়সালা কী? আমি এহসান করব? তার কাছ থেকে সুদ হিসেবে অতিরিক্ত কিছু নেব এমন আগ্রহ আমার নেই; কিন্তু আমি ক্ষতিগ্রস্ত কেন হব? আবার দাম যদি কমে যায় সেক্ষেত্রে ধরা যাক উক্ত টাকায় ৫০ কেজি শস্য পাওয়া যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতার জন্য (২,০০০/- টাকার কম) ৪০ কেজির দাম ১,৬০০ টাকা দেওয়া ঠিক হবে কি না?

মুদারাবা ব্যবসায় লোকসান হলে তা বহন করবে কে?

প্রশ্ন (১২৯৩৫) : প্রায় এক বছর পূর্বে আমি আমার এক বন্ধুকে এক লক্ষ টাকা এ শর্তে বিনিয়োগ করি যে, আমি লাভের ৬০% পাব। আর সে পাবে ৪০%। তেমনি লোকসান হলে উভয়ে উক্ত হারে তা বহন করব। কিছুদিন আগে আমি জানতে পেরেছি যে, এভাবে চুক্তি সহিহ নয়। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, এতদিন পর্যন্ত এ চুক্তি থেকে আমরা যে লাভ ভোগ করেছি এর ব্যাপারে আমাদের করণীয় কী?

শর্তযুক্ত করে বিক্রি করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৯৩৩) : আমি একটি মটরসাইকেল কিনেছিলাম নিজ প্রয়োজনে যাতায়াতের জন্য। কিন্তু ঢাকায় আমার চাকরি হওয়ায় মটরসাইকেলটি বাড়িতে রেখে চলে এসেছি। ফলে মোটরসাইকেলটি আমার কাজে লাগছে না। তাই মোটরসাইকেলটি আমার চাচাত ভাইয়ের কাছে এ শর্তে বিক্রি করে দিয়েছি যে, বাড়িতে আসলে প্রয়োজনে আমাকে ব্যবহার করতে দিতে হবে। আমার জানার বিষয় হল, আমাদের উক্ত চুক্তিটি কি বৈধ হয়েছে? এবং বাড়িতে গেলে চুক্তি অনুযায়ী মোটরসাইকেলটি আমি ব্যবহার করতে পারব কি না? যদি সহিহ না হয় তাহলে আমরা কী করতে পারি?

হিন্দুদেরকে বাড়ি ভাড়া দেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৯৩১) : ঢাকায় আমার একটি বাড়ি আছে। বাড়িটি আমি ভাড়া দিয়ে থাকি। ভাড়ার আয় দিয়ে আমার সংসার চলে। বর্তমানে আমার বাড়িতে দুইজন হিন্দু ভাড়াটিয়া আছেন। এখন আমার জানার বিষয় হলো, আমি যদি হিন্দুদেরকে ভাড়া দেই এবং মাস শেষে তাদের ভাড়া নেই তাহলে কি সেই টাকা আমার জন্য হারাম হবে?

ব্যাংক কর্মকর্তার জমি বর্গা নেওয়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৯১৪) : আমাদের এলাকার এক ব্যক্তি ব্যাংকে বড় একটি পদে চাকরি করে । সে তার চাকরির টাকা দিয়ে এলাকায় বেশ কিছু জমি কিনে রেখেছে। এছাড়া তার অন্য কোনো আয় নেই। এই জমিগুলো সে অর্ধার্ধি হারে ফসল বণ্টনের শর্তে বর্গা দিয়ে রেখেছে। আমি জানতে চাচ্ছি, তার কাছ থেকে জমি বর্গা নেওয়া জায়েয হবে কি না? যদি জায়েয না হয় তাহলে যারা ইতিপূর্বে তার থেকে জমি বর্গা নিয়েছে তাদের কী করণীয়? দয়া করে জানাবেন।

অনির্ধারিত পারিশ্রমিকের বিনিময়ে গাড়ি ভাড়া দেওয়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৮৮৯) : আমাদের এলাকার অনেকের সিএনজি আছে। কেউ কেউ সিএনজি চালায়। তবে অধিকাংশ মালিকরাই অন্যকে ভাড়া দিয়ে রাখে। এক্ষেত্রে তারা চালকদের সাথে এভাবে চুক্তি করে যে, গাড়ি চালিয়ে প্রতিদিন যা ইনকাম হবে তার চারভাগে ভাগ করা হবে। সেখান থেকে তিনভাগ মালিক পাবে। আর একভাগ চালক নিয়ে যাবে। আমাদের এলাকায় প্রায় সবাই এভাবেই চুক্তি করে। জানার বিষয় হল, এভাবে চুক্তি করা কি সহিহ?

নদীতে ভেসে আসা গাছের ডালপালা বা কাঠ ব্যবহার জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৮৮০) : আমার বাড়ি নদীর খুব নিকটেই অবস্থিত। বর্ষাকালে নদীতে বিভিন্ন গাছের ডালপালা ভেসে আসে। কখনো কখনো গাছের বড় বড় টুকরাও তাতে পাওয়া যায়। জানার বিষয় হল, নদীতে ভেসে আসা এসব জিনিস ব্যবহার করা জায়েয হবে কি না?

কোনো প্রতিষ্ঠান সুদী ব্যাংক থেকে লোন গ্রহণ করলে উক্ত প্রতিষ্ঠারে চাকরি করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৮৬৭) : আমি একজন আলেমের কাছে জানতে পেরেছি যে, ব্যাংকে চাকরির মাধ্যমে উপার্জিত টাকা হারাম। ছেলে ব্যাংকে চাকরি করে। তাই তার উপার্জন দ্বারা মা-বাবা হজ্ব করতে পারবেন না। এই উত্তর থেকে আমার মনে সংশয় এসেছে যে- ১. বিভিন্ন বিধর্মী বিদেশী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানী করে থাকে। তারা সুদকে হারাম মনে করে না। ব্যাংক থেকে সুদী লোন নিয়ে থাকে এবং ব্যাংক থেকে সুদ দেওয়া হলে তাও গ্রহণ করে। আমি উক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসাবে বাংলাদেশে তাদের অফিসে কাজ পরিচালনা করে থাকি। এক্ষেত্রে আমার কাজ পোষাকশিল্প নিয়েই। প্রস্তুত করা থেকে নিয়ে শিপমেন্ট পর্যন্ত সকল কাজের পরিচালনা আমার দায়িত্বে। তো এ বাবদ তারা যে বিনিময় প্রদান করে থাকে তা গ্রহণ করা হালাল না হারাম? ২. আমার এক দ্বীনী ভাইয়েরও প্রশ্ন হল, উপরোক্ত কোম্পানী ও এধরনের প্রতিষ্ঠানের আমদানীকৃত পণ্য সে এদেশ থেকে বিদেশে পরিবহন করে থাকে। এ বাবদ তাদের থেকে প্রাপ্ত টাকা হালাল না হারাম। তার পরিবহন সংক্রান্ত কার্যাদিও বৈধ। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, তার পরিবহন খরচ পরিশোধ করছে তো উক্ত ইহুদী-খ্রিস্টানদের কোম্পানী, যারা সুদী লোন নেয় এবং ক্ষেত্রবিশেষে সুদ গ্রহণও করে। এ কারণে আমাদের বেতন ও পারিশ্রমিক অবৈধ গণ্য হবে কি না?

বন্ধকী জমি ঋণগ্রহিতার নিকট ভাড়া দিয়ে তার থেকে ধান নেওয়ার শর্ত করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৮৫৮) : এক ব্যক্তি কারো থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা নেন সাত কাঠা জমি বন্ধক রেখে। এরপর বন্ধকগ্রহিতা পুনরায় উক্ত জমি ঋণগ্রহিতার নিকট ফেরত দেন এই শর্তে যে, উক্ত জমি থেকে প্রতি বছর আমাকে পনের মন ধান দিতে হবে। উল্লেখ্য, ঋণগ্রহিতা উক্ত জমিতে ধান চাষ নাও করতে পারেন। তবুও তাকে পনের মন ধান অথবা তার মূল্য দিতে হবে। প্রশ্নোক্ত পদ্ধতি কি জায়েয আছে?

কাউকে ঋণ দেওয়ার পর কৌশলে অতিরিক্ত নেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৮৩৭) : চার বছর আগে আমার এক প্রতিবেশী দু’বস্তা চাল কেনার জন্য আমার থেকে তিন হাজার টাকা ধার নিয়েছিল। সে দিবে দিবে বলে চার বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে। এখনো টাকাগুলো পরিশোধ করেনি। তখন তিন হাজার টাকা দিয়ে দু’বস্তা চাল পাওয়া যেত। এখন তা দিয়ে সোয়া এক বস্তার মত চাল পাওয়া যায়। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, আমি কি তার কাছ থেকে বর্তমান মূল্য অনুযায়ী দু’বস্তা চালের মূল্য নিতে পারব?

অংশীদার ভিত্তিক ব্যবসায় শরিকদের জন্য নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক নির্ধারণের পর অতিরিক্ত ধার্য করা জায়েয আছ…

প্রশ্ন (১২৮৩০) : আমি আর আমার এক চাচাতো ভাই মিলে একলক্ষ আশি হাজার টাকা দিয়ে যাত্রী বহনের জন্য একটি মোটর সাইকেল কিনেছি। এতে আমি এক লক্ষ বিশ হাজার টাকা দিয়েছি আর সে ষাট হাজার টাকা দিয়েছে। আমাদের মাঝে চুক্তি হয়েছিল আমরা আমাদের মূলধন অনুপাতে লাভ নিব। মোটর সাইকেল নিয়মিত আমার চাচাতো ভাই চালায়। যার কারণে সে এত অল্প লাভে সন্তুষ্ট নয়। এজন্য আমি বলেছি, তুই প্রতিদিন লাভের সাথে দুইশত টাকা অতিরিক্ত নিবি। জানার বিষয় হল, আমাদের উক্ত চুক্তিটি বৈধ হয়েছে কি না? বৈধ না হলে সঠিক পদ্ধতি কী হতে পারে?

পণ্য বিক্রি করার পর হস্তান্তর না করলে কি বিক্রি সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২৮২৬) : আমার এক বন্ধু কিছুদিন পূর্বে নতুন বাড়ি নির্মাণ করেছে। কিন্তু টাকার সল্পতার কারণে গেট বানাতে পারছিল না। বিষয়টি সে আমাকে জানানোর পর তার সাথে আমি এভাবে চুক্তি করি যে, আমি ৩০ হাজার টাকা দিয়ে গেট বানিয়ে তার কাছে তা ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করব। আর সে তা ৩ মাসের মধ্যে পরিশোধ করে দিবে। সে মর্মে আমরা একটি ওয়ার্কশপে গিয়ে গেটের সাইজ, স্টীল ও লোহার মান ইত্যাদি বিবরণ স্পষ্ট করে অর্ডার দেই। তারপর আমি দোকানদারকে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে নিজের নামে দোকানের মেমো লিখিয়ে গেট বানানোর পর আমার বন্ধুকে দিয়ে দেওয়ার জন্য বলে আসি। নির্দিষ্ট সময়ে গেট তৈরি হওয়ার পর আমার বন্ধু তা নিয়ে এসে বাসায় ফিট করে। এখন জানার বিষয় হল, আমাদের উক্ত চুক্তিটি বৈধ হয়েছে কি না?

বিক্রি করা পাখি বিক্রেতার কাছে রেখে লালন-পালন করার শর্তে চুক্তি করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৮০৫) : আমরা প্রায় সময় আমাদের প্রতিবেশীদের থেকে কবুতরের বাচ্চা ক্রয় করি খাওয়ার জন্য। একবার আমি এক বাড়িতে গিয়ে দেখি কবুতরের বাচ্চাগুলো খুবই ছোটো, এখনো খাওয়ার উপযুক্ত হয়নি। কিন্তু সে বাড়ির লোকজনের তৎক্ষণাৎ টাকার প্রয়োজন থাকায় তখনই তারা সেগুলো বিক্রি করে আমার থেকে টাকা রেখে দেয়। তখন আমি এই শর্তে টাকা দিয়ে আসি যে, আমি বাচ্চাগুলো এখনই নিব না। কয়েকদিন পর বড় হলে নিয়ে যাবো এবং এক সপ্তাহ পর গিয়ে আমি সেগুলো নিয়ে আসি। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, এভাবে মালিকের বাড়িতে রেখে আসার শর্তে কবুতর কেনা বৈধ হয়েছে কি না?

অগ্রীম ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির ক্ষেত্রে ক্রেতা বিক্রেতা থেকে কোনো কিছু বন্ধক নিতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২৮০৪) : আমি একজন ব্যবসায়ী। ব্যবসার স্বার্থে অনেক সময় অগ্রীম বিক্রয় চুক্তি করতে হয়। এক্ষেত্রে প্রায় অনেক ব্যবসায়ীকে দেখা যায় যে, তারা ‘সিকিউরিটি’ হিসাবে বিক্রেতা থেকে কোনো কিছু বন্ধক নেয়। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, এভাবে আগাম বিক্রয় চুক্তির ক্ষেত্রে আমার (ক্রেতার) জন্য বিক্রেতা থেকে চুক্তিকৃত পণ্য সরবরাহ করা পর্যন্ত ‘সিকিউরিটি’ হিসাবে কোনো কিছু বন্ধক নেওয়া কি বৈধ হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

জমি বিক্রির জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি মালিকের নির্ধারিত মূল্য থেকে বেশি মূল্যে বিক্রি করলে অতিরিক…

প্রশ্ন (১২৮০০) : আমার বাড়ি যশোর। গ্রামে আমার কিছু জমি রয়েছে। কিছুদিন আগে আমাদের এলাকার এক লোককে (সে জমির দালালির সাথে জড়িত) জমিটি কাঠা প্রতি ত্রিশ হাজার টাকা দামে বিক্রি করে দেওয়ার কথা বলি। এক্ষেত্রে তাকে নির্দিষ্ট পারিশ্রমিক দেব বলেও জানাই। সে প্রায় ৭/৮ ‍দিন পর এক ব্যক্তির কাছে জমিটি বিক্রি করে দেয়। আমাকে কাঠা প্রতি ত্রিশ হাজার টাকা দামে ১০ কাঠায় ৩ লক্ষ টাকা দেয়। পরে আমি কোনোভাবে জানতে পারি যে, জমিটি সে কাঠা প্রতি ৩৭ হাজার টাকা দামে বিক্রি করেছে। বিষয়টি আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে বলে, আপনি যা চেয়েছেন তা তো পেয়েছেন, তাহলে আমি বেশি দামে বিক্রি করলে আপনার সমস্যা কী? জানার বিষয় হল, এভাবে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা জায়েয হয়েছে কি না? এখন এ টাকার হকদার কে, সে না আমি?

ঋণ দেওয়ার জন্য চড়া মূল্যে ফরম বিক্রির নাম করে টাকা নেওয়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৭৯৯) : কিছুদিন আগে আমার স্বামীর অসুস্থতার কারণে মোটা অংকের টাকার প্রয়োজন হয়। তখন পরিচিত কারো কাছে ঋণ চেয়েও পাইনি। এমতাবস্থায় আমার এক প্রতিবেশী আমাকে একটি সামাজিক সংগঠনের সভাপতির কাছে নিয়ে যান। সভাপতির কাছে আমি আমার অবস্থা বলার পর তিনি আমাকে বলেন, আমরা তো কারো থেকে সুদ নেই না। তবে আমাদের ঋণ প্রদানের নিয়ম হল যে, পঞ্চাশ হাজারের বেশি কাউকে ঋণ দেওয়া হয় না। আর ঋণ গ্রহীতাকে তিন হাজার টাকা দামের একটি ফরম কিনতে হয়। কেননা আমাদের দাপ্তরিক কিছু ব্যয় রয়েছে। তাছাড়া ফরম বিক্রির মাধ্যমে আমরা অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কাজের তহবিল সংগ্রহ করি। প্রয়োজনের তাগিদে আমি এভাবেই ঋণ নিয়ে আসি। জানার বিষয় হল, উপরোক্ত পন্থায় ঋণ নেওয়া জায়েয হয়েছে কি না?