সিজদা

ইমাম সাহেব বসে তারাবীহর ইমামতি করলে তার পিছনে ইক্তিদা করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২৫৫) : গত রমযানে একদিন আমাদের মসজিদের হাফেজ সাহেব হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যান। অসুস্থতার কারণে তিনি বসেবসেই রুকু-সিজদার সাথে তারাবীহর ইমামতি করেন। এবং আমাদেরকে উনার পিছনে দাঁড়িয়েই ইক্তিদা করতে বলেন। উনার কথা মত আমরা দাঁড়িয়েই ইক্তিদা করি। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে আমার বেশ সংশয় হচ্ছে। তাই জানতে চাচ্ছি যে, এভাবে বসে ইমামতি করা ও তার পিছনে ইক্তিদা করা কি জায়েয আছে? এবং আমাদের ঐ দিনের তারাবীহ কি সহিহ হয়েছে?

নামাযে সিজদার আয়াত পাঠ করার পর সিজদা দিতে ভুলে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২২৪০) : নামাযের মধ্যে সিজদার আয়াত পাঠের পর ভুলে যথাসময়ে সিজদা আদায় না করলে কী করণীয়? একজন হাফেজ সাহেব বললেন যে, নামায শেষ হওয়ার আগে যদি স্মরণ হয়ে যায় তাহলে তা আদায় করে নিবে এবং পরে সাহু সিজদা করবে। তার কথাটি কি ঠিক?

নামাযে ইশারা করে কিছু বললে কি নামায ভেঙে যায়?

প্রশ্ন (১২২২৭) : আমি ও আমার বন্ধু একদিন তার ইমামতিতে আছরের নামায পড়ছিলাম। সালাম ফেরানোর পর রাকাত নিয়ে তার সন্দেহ হয়। তাই সে আমাকে হাতের ইশারায় জিজ্ঞেস করে যে, নামায তিন রাকাত হয়েছে, না চার রাকাত? আমি হাত ও মাথা দিয়ে ইশারা করে বুঝাই যে তিন রাকাত হয়েছে। সে দাঁড়িয়ে আরেক রাকাত পড়ে সাহু সিজদা দিয়ে নামায শেষ করে। কিন্তু আমার সন্দেহ হয় যে, এভাবে ইশারা করার পর এ নামায সহিহ হয়েছে কি না? তাই আমি পুনরায় নামাযটি পড়ে নিই। এখন জানার বিষয় হল, আমাদের উক্ত নামায সহিহ হয়েছিল কি না? পুনরায় নামায পড়া কি আমার ঠিক হয়েছে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

মাসবুক ব্যক্তি বৈঠক করতে ভুলে গেলে কি তার উপর সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২১৮৮) : গতকাল মাগরিবের নামাযে মসজিদে যেতে আমার দেরি হয়ে যায়। আমি ইমামকে তৃতীয় রাকাতে পাই। ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর আমি ছুটে যাওয়া দুই রাকাত নামায পড়তে দাঁড়াই। অন্য মুসল্লিরাও সুন্নত পড়তে দাঁড়ায়। আমি সুন্নত পড়ার মত দুই রাকাত পড়ি। আমার প্রথম রাকাতের পর বৈঠক করার কথা ভুলে যাই। সাহু-সিজাদও করিনি। এরপর সুন্নাত পড়ার সময় বিষয়টি মনে পড়ে। আমার উক্ত নামায কি হয়েছে?

মাজুর ব্যক্তির পিছনে তারাবীহের ইক্তিদা করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২১৮৭) : গত রমযানে তাবলীগের এক সফরে আমি ইন্ডিয়া ছিলাম। রোখের এক মসজিদে আমরা দেখলাম, একজন বৃদ্ধ হাফেজ হুইল চেয়ারে বসে তারাবীহ পড়াচ্ছেন। আর মুক্তাদীগণ সকলেই তার পিছনে দাঁড়িয়ে তারাবীহ পড়ছেন। এমন অবস্থার সম্মুখীন আমরা প্রথম হলাম। তাই কী করব- এ নিয়ে আমরা বেশ সংশয়ে ছিলাম। এবং শেষ পর্যন্ত আমরাও এলাকার ভাইদের মতই তার পিছনে তারাবীহ আদায় করি। এখন আমি জানতে চাচ্ছি যে, এভাবে হুইল চেয়ারে বসে ইমামতি করা ও তার পিছনে ইক্তিদা করা কি জায়েয আছে? এবং আমাদের উক্ত দিনগুলির তারাবীহ কি সহিহ হয়েছে?

সিজদারত অবস্থায় জমিন থেকে পা উঠে গেলে কি নামায ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২১৭৮) : আজ যোহরের নামাযের পর এক মুরব্বী আমাকে ডেকে বললেন, সিজদায় তোমার পা জমিন থেকে উঠে যায়। এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। কেননা দুই পা জমিন থেকে উঠে গেলে তো নামাযই হবে না। বিষয়টি আমার পুরোপুরি বুঝে আসেনি। কেননা এ বিষয়ে আমি ভিন্ন মন্তব্যও শুনেছি। সঠিক মাসআলা দলীলসহ বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব?

মাসবুক ব্যক্তির নামায।

প্রশ্ন (১২১৬১) : একদিন যোহরের নামাযে সময় আমি মাসবুক হই। যখন বাকি নামায আদায় করি তখন প্রথম রাকাতে সূরা ফাতেহা পড়তে ভুলে যাই। তবে অন্য একটি সূরা তিলাওয়াত করেছি। প্রশ্ন হল, এমন অবস্থায়ও কি আমার জন্য সাহু সিজদা করা আবশ্যক?

ঈদের নামাযের পূর্ব মুহূর্তে ওযু ছুটে গেলে করণীয় কি?

প্রশ্ন (১২১৪৮) : এবার ঈদের সময় ঈদগাহে অনেক মানুষ হয়েছিল। ইমাম সাহেবের বয়ানের পর নামায শুরু হওয়ার আগ মুহূর্তে আমার ওযু ভেঙে যায়। আমি ঈদগাহের মাঝখানে ছিলাম। তো মনে হল যে, এখন যদি ওযু করতে যাই তাহলে নামায হয়তো আর পাব না। তাই আমি নামাযের নিয়ত ছাড়া সবার সাথে এমনি রুকু সিজদা করি। প্রশ্ন হল, আমার এ কাজটি কি ঠিক হয়েছে? এমন অবস্থায় আমার করণীয় কী ছিল?

ভুলবশত কোনো রাকাতে একটি সিজদা ছেড়ে দিলে করণীয় কি?

প্রশ্ন (১২১৪৭) : একদিন যোহরের আদায় করার সময় প্রথম রাকাতের দ্বিতীয় সিজদাটি ভুলে ছেড়ে দেই। তৃতীয় রাকাতের সিজদা আদায় করার পর স্মরণ হলে সাথে সাথে ভুলে যাওয়া সিজদাটি আদায় করে নিই। প্রশ্ন হচ্ছে, এরপর কি এ ভুলের কারণে আমার উপর সিজদায়ে সাহু করা জরুরি ছিল?

সিজদার আয়াত টাইপ করলে কি সিজদা ওয়াজিব হয়?

প্রশ্ন (১২১৩৭) : আমি দেশের একটি স্বনামধন্য অভিজাত প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানে টাইপিস্টের চাকরি করি। মাঝেমাঝে আমাকে টাইপ করতে গিয়ে কুরআন শরীফের অন্যান্য আয়াতের পাশাপাশি সিজদার আয়াতও টাইপ করতে হয়। তাই হযরতের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, দেখে দেখে সিজদার আয়াত টাইপ করার কারণে কি আমাকে সিজদা করতে হবে?

মাসিক স্রাবের সময় কুরআন তিলাওয়াত শুনলে কি সিজদা ওয়াজিব হবে?

প্রশ্ন (১২১২৭) : আমি একটি মহিলা মাদরাসায় হিফজ বিভাগের শিক্ষিকা। মাসিক স্রাবের সময়ও আমাকে ছাত্রীদের তিলাওয়াত শুনতে হয়। জানার বিষয় হল, এ সময় তারা সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করলে আমার উপর সিজদা ওয়াজিব হবে কি?

মুক্তাদী নামাযে ভুল করলে কি তার উপর সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২১২৬) : একদিন এশার নামাযে দ্বিতীয় রাকাতে বসার সময় ইমাম সাহেব কিছুটা দীর্ঘ করে তাকবীর বলেন। একারণে আমরা কয়েকজন মুক্তাদি দাঁড়িয়ে যাই। এরপর অন্যদের দেখে আবার বসে পড়ি এবং শেষে ইমামের সাথেই সালাম ফিরাই। জানার বিষয় হল, এভাবে দাঁড়িয়ে যাওয়ার কারণে কি আমাদের উপর সাহু সিজদা আবশ্যক হয়েছে?

অমুসলিমদের থেকে সিজদার আয়াত শুনলে কি সিজদা ওয়াজিব হয়?

প্রশ্ন (১২১২৪) : উত্তরবঙ্গে মিশনারীদের তৎপরতা অত্যধিক বেশি। খ্রিষ্টান মিশনারীরা নানা কৌশলে মানুষকে প্ররোচিত করছে। তারা সরলমনা মুসলমানদেরকে প্রভাবিত করতে প্রথমে তাদেরকে কুরআন পড়ে শোনায় এবং কিছু কিছু আয়াতের অনুবাদ করে তারা কুরআন থেকেই যীশুখ্রীস্টের শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করে। তাদের কৌশল ও কার্যক্রম জানতে আমরা মাঝে মাঝে তাদের কথা শুনি। জানার বিষয় হল, এসব অমুসলিমদের থেকে সিজদার আয়াত শুনলে আমাদের উপর সিজদা ওয়াজিব হবে কি না?

ইমাম সাহেব ভুলে প্রথম বৈঠকে না বসে দাঁড়িয়ে গেলে করণীয় কি?

প্রশ্ন (১২১২১) : একদিন যোহরের নামাযের ইমাম সাহেব মসজিদে ছিলেন না। তখন মুসল্লিদের থেকে একজন নামায পড়ালেন। তিনি ভুলক্রমে প্রথম বৈঠক না করেই তৃতীয় রাকাতে দাঁড়িয়ে গেলেন। পেছন থেকে লোকমা দিলেও তিনি বসলেন না এবং শেষে সাহু-সিজদা করে নামায শেষ করেন। তো আমি জানতে চাচ্ছি, আমাদের উক্ত নামায কি সহিহ হয়েছে ?

ইমাম সাহেব সাহু সিজদা দেওয়ার পর জামাতে শরীক হলে কি ইক্তিদা সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২০৯৮) : গতকাল এশার নামাযে ইমাম সাহেব সাহু সিজদা দেওয়ার পর আমি জামাতে শরীক হয়েছি। নামায শেষ করার পর আমার সন্দেহ হয় যে, ইমাম সাহেব সাহু সিজদা করার পর আমার ইক্তেদা করা সহিহ হল কি না? দয়া করে বিষয়টি জানিয়ে বাধিত করবেন।

তারাবীর নামায ভুলে একসাথে চার রাকাত আদায় করে ফেললে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২০৯৭) : আমি আমাদের গ্রামের মসজিদে খতম তারাবী পড়াই। কয়েকদিন আগে তারাবী নামাযে দুই রাকাতের পর বৈঠক না করে ভুলে দাঁড়িয়ে যাই এবং একসঙ্গে চার রাকাত পড়ে সাহু সিজদা করে সালাম ফেরাই। নামায শেষে একজন বললেন, তারাবী নামাযে প্রত্যেক দুই রাকাতের পর বৈঠক করা ফরয। আপনি যেহেতু ফরয তরক করেছেন, তাই সাহু সিজদা করলেও নামায সহিহ হয়নি। সুতরাং আগামীকাল তারাবী নামায শুরু হওয়ার আগে এই চার রাকাত নামায পুনরায় পড়িয়ে দেবেন। আমি ইমাম সাহেবের নির্দেশ অনুযায়ী ঐ চার রাকাত নামায পরদিন রাতে তারাবীর নামায শুরু হওয়ার আগে ছোট ছোট সূরা দিয়ে পড়িয়ে দেই। মুহতারামের নিকট জানার বিষয় হল, বাস্তবেই কি তারাবী নামাযে দুই রাকাতের পর ভুলে বৈঠক না করে একসঙ্গে চার রাকাত পড়ে নিলে (শেষে সাহু সিজদা করলেও) পুরো নামায ফাসেদ হয়ে যায়, নাকি এক্ষেত্রে সাহু সিজদা করাই যথেষ্ট?

মাসবুক ব্যক্তি ইমাম সাহেবের সাথে সালাম ফিরিয়ে ফেললে কি তার নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২০৯৬) : কখনো কখনো মাসবুক হলে শেষ বৈঠকে তা স্মরণ থাকে না। ভুলে ইমাম সাহেবের সাথে সালাম ফিরিয়ে ফেলি। প্রথম সালাম ফিরিয়ে নেওয়ার পর মাসবুক হওয়ার বিষয়টি মনে পড়ে। এক্ষেত্রে কি আমার নামায ভেঙে যাবে। আর যদি না ভাঙে, তাহলে কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে?

সিজদার আয়াত লিখলে কি সিজদা ওয়াজিব হয়?

প্রশ্ন (১২০৮৮) : কয়েকদিন আগে খাতায় একটি প্রবন্ধ লিখছিলাম। ঐ প্রবন্ধে কুরআন মাজীদের বিভিন্ন আয়াত উল্লেখ করি। সেখানে সিজদার আয়াতও ছিল। জানার বিষয় হল, সিজদার আয়াত লেখার কারণে আমার ওপর কি সিজদা ওয়াজিব হয়েছে?