সিজদা

ফরয নামাযের চতুর্থ রাকাতে না বসে দাঁড়িয়ে গেলে কি নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৬৫৫) : আসরের নামাযে আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব ভুলে তৃতীয় রাকাতে বসে পড়েছেন। এরপর চতুর্থ রাকাতে ইমাম সাহেব না বসে সোজা দাঁড়িয়ে যান। কেননা তিনি ভেবেছেন, এটি তৃতীয় রাকাত। মুসল্লিরা শেষ বৈঠকে বসে লোকমা দিয়েছেন। কিন্তু ইমাম সাহেব বৈঠকে ফিরে না আসায় মুসল্লিরা বৈঠক ছেড়ে ইমাম সাহেবের অনুসরণ করে। মাসআলা জানা থাকায় আমি ও কয়েকজন মুসল্লি শেষ বৈঠকে বসে ছিলাম। এরপর ইমাম সাহেব যখন পঞ্চম রাকাতের সিজদা করেছেন তখন আমরা সালাম ফিরিয়েছি। এরপর অবশ্য আমরাও সকলের সাথে সতর্কতাবশত পুনরায় আসরের নামায আদায় করে নিয়েছি। জানার বিষয় হল, আমাদের প্রথম নামায সহিহ হয়েছিল কি?

তারাবীহর নামাযে সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করে সিজদা না করলে কি নামায আদায় হবে?

প্রশ্ন (১৩৬৪৪) : এই রযমানে একদিন তারাবীহর নামাযের পূর্বে সিজদার আয়াতের কথা বলতে ভুলে যাই। সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করা সত্ত্বেও বিশৃঙ্খলার ভয়ে আর সিজদা করিনি। এখন জানতে চাই, আমাদের উক্ত নামায কি আদায় হয়েছে? যদি আদায় না হয়ে থাকে তবে এখন কী করণীয়?

জুমার নামাযে কোনো ওয়াজিব বিধান ছুটে গেলে সাহু সিজদা না করার কোনো সুযোগ আছে কি?

প্রশ্ন (১৩৬১৮) : আমি একজন ইমাম। গত শুক্রবার জুমার নামায পড়াতে গিয়ে ভুলে একটি ওয়াজিব ছুটে যায়। শুনেছি, জুমার নামাযে ভুলে ওয়াজিব ছুটে গেলে নাকি সাহু সিজদা না দিলেও হয়। তাই আমি সাহু সিজদা করিনি। মাসআলাটি কি ঠিক? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

প্রথম বৈঠকে না বসে দাঁড়িয়ে গিয়ে লোকমা শুনে আবার বসলে কি নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৬০৭) : একদিন আমাদের মহল্লার মসজিদের ইমাম সাহেব আসরের নামাযে প্রথম বৈঠক না করে দাঁড়িয়ে যান। পেছন থেকে মুয়াজ্জিন সাহেব লোকমা দিলে তিনি তাশাহহুদের জন্য বসে যান এবং নামায শেষে সাহু সিজদা দেন। সালাম ফিরানোর পর কয়েকজন মুসল্লি বললেন যে, নামায হয়নি। ইমাম সাহেব তাই পুনরায় নামায দোহরান। আমার প্রশ্ন হল, মুসল্লিতের কথা কি ঠিক? ইমাম সাহেবের নামায দোহরানো কি সঠিক হয়েছে? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

ঈদের নামাযে অতিরিক্ত তাকবীর বলার সময় হাত উঠানোর বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩৬০৬) : এবার ঈদের নামাযে খতীব সাহেব অতিরিক্ত তাকবীর বলার সময় হাত উঠাননি। নামায শেষে কেউ কেউ বলেন, ঈদের তাকবীরে হাত না উঠালে নামায শুদ্ধ হয় না। আবার অনেকে বলেন, সাহু সিজদা করলে নামায শুদ্ধ হয়ে যেত। জানতে চাই, ঈদের নামাযে অতিরিক্ত তাকবীর বলার সময় হাত উঠানোর বিধান কী?

ইমামের পিছনে মুকতাদি কোনো ভুল করলে কি তার উপর সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১৩৫৯৭) : ইমামের পিছনে নামায আদায় করার ক্ষেত্রে প্রথম বৈঠকে আমি মাঝেমধ্যে তাশাহহুদের পর দরূদ শরীফ ও দুআয়ে মাসূরাও পড়ে ফেলি। জানার বিষয় হল, ইমামের পেছনে থেকে আমার উক্ত ভুলের কারণে কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে?

সিজদার সময় দুই পা উঠে গেলে কি নামায নষ্ট হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১৩৫৯৪) : সিজদার সময় আমার দুই পা মাঝে মাঝে উঠে যায়। একবার একজন আলেম পেছন থেকে এটা দেখে আমাকে বললেন, সিজদা গিয়ে পা উঠালে নামায নষ্ট হয়ে যায়। এখন আমি জানতে চাই, সিজদার সময় যদি আমার দুই পা উঠে যায়, তাহলে কি নামায নষ্ট হয়ে যাবে?

তারাবীহর নামাযে তিলাওয়াতের সিজদা আদায় না করলে কি নামাযে কোনো সমস্যা হবে?

প্রশ্ন (১৩৫৯২) : এবার রমযানে একদিন তারাবীহর নামাযের পূর্বে সিজদার আয়াতের কথা ঘোষণা করতে ভুলে যাই। সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করা সত্ত্বেও বিশৃঙ্খলার ভয়ে সিজদা করিনি। এরপর স্বাভাবিকভাবে নামায শেষ করেছি। জানতে চাই, আমাদের উক্ত নামায কি আদায় হয়েছে? যদি আদায় না হয় তবে এখন আমাদের করণীয় কী?

নামাযের কোনো রাকাতে তিনটি সিজদা আদায় করলে উক্ত নামায সহিহ হবে কি?

প্রশ্ন (১৩৫৬৬) : আমি গতকাল আসরের নামাযের দ্বিতীয় রাকাতে ভুলে তিনটি সিজদাহ করে ফেলেছি। নামাযের শেষে সাহু সিজদাও করেছি। হযরতের কাছে জানতে চাচ্ছি, সাহু সিজদা তো ওয়াজিব হয় নামাযের কোনো ওয়াজিব বিধানে ত্রুটি হলে। সিজদা আদায় যেহেতু ফরয তাই এতে ত্রুটির কারণে হয়ত আমার নামায কি ভেঙ্গে গেছে?

নামাযের মধ্যে রাকাত সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ তৈরী হলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৫৬১) : কয়েকদিন ধরে প্রায়ই নামাযের মধ্যে আমার রাকাত সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ হয়, আমি তিন রাকাত পড়লাম নাকি চার রাকাত। এ অবস্থায় আমি কীভাবে নামায আদায় করব? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

নামাযের বৈঠকে ভুলে সূরা ফাতিহা পড়লে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে কি?

প্রশ্ন (১৩৫৬০) : আমি ফজরের দুই রাকাত সুন্নতের বৈঠকে ভুলে সূরা ফাতিহা পড়ে ফেলি। সূরা ফাতিহা শেষ করার পর আমার বৈঠকের কথা মনে হয়। পরে তাশাহহুদ পড়ে সাহু সিজদা আদায় করে নামায শেষ করি। এখন আমি জানতে চাই, নামাযের শেষ বৈঠকে ভুলে সূরা ফাতিহা পড়লে সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে কি?

চার রাকাত বিশিষ্ট নামাযের প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের পর ভুলে দরূদ শরিফ পড়লে কি সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১৩৫৩৭) : গতকাল এশার নামাযে আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব সাহু সিজদা করেন। নামাযের পর কয়েকজন মুসল্লি সাহু সিজদার ব্যাপরে জিজ্ঞাসা করেন। তখন তিনি বলেন, প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের পর ভুলে দরূদ শরিফ পড়ে ফেলি। এই কারণে সাহু সিজদা করেছি। তখন একজন বলল, দরূদ তো নবী (সা.)-এর জন্য দুআ। এর কারণে তো সাহু সিজদা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। জানতে চাই, এক্ষেত্রে সঠিক মাসআলা কী?

তারাবীর নামাযে সিজদার আয়াত তিলাওয়াত না করে সিজদা আদায় করলে কি নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৪৮৫) : তারাবীহ নামাযে প্রথম রাকাতে হাফেয সাহেব সিজদার আয়াত না পড়েই সিজদা দেন। সিজদা থেকে উঠে সিজদার আয়াতের পর থেকে শুরু করে যথানিয়মে দুই রাকাত শেষ করেন। অর্থাৎ সিজদার আয়াতটুকু পড়া হয় নাই। নামায শেষে সিজদার আয়াত ছুটে গেছে জানানো হলে তিনি পরের দুই রাকাতের প্রথম রাকাতে সিজদার আয়াত পড়ে সিজদা দেন। অতপর যথানিয়মে বাকি নামায শেষ করেন। এখন প্রশ্ন হল, প্রথম রাকাতে সিজদার আয়াত না পড়েই যেহেতু সিজদা দেওয়া হয়েছে তাই ঐ দুই রাকাত নামায সহিহ হয়েছে কি? সহিহ না হলে আমাদের করণীয় কী?

মাসবুক ব্যক্তি কি ইমামের সাথে সাহু সিজদা আদায় করবে?

প্রশ্ন (১৩৪৮৩) : আমি আসরের নামাযের সময় চতুর্থ রাকাতে ইমামের সাথে শরিক হই। নামায শেষে ইমাম সাহেব সাহু সিজদা আদায় করেন। কিন্তু আমি সাহু সিজদা না দিয়ে বসে থাকি। কারণ আমি এক ব্যক্তির কাছে শুনেছিলাম, মাসবুক ব্যক্তি ইমামের সাথে সাহু সিজদা দিবে না। কিন্তু নামায শেষে পাশের এক মুসল্লি বলল, মাসবুক ব্যক্তিও ইমামের সাথে সাহু সিজদায় শরিক হবে। অন্যথায় তার নামায সহিহ হবে না। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, সঠিক মাসআলা কোনটি? জানালে উপকৃত হব।

কুরআন তিলাওয়াতের সময় সিজদার আয়াত আস্তে পড়ার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩৪৬৩) : একদিন মসজিদে নামায পড়ছিলাম। আমার পাশে বসে এক ব্যক্তি উঁচু আওয়াজে কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করছিল। তিলাওয়াতের মাঝে একটি সিজদার আয়াত এলে সেটাও সে আওয়াজ করেই পড়ল। আমি নামায শেষ করে তাকে বললাম, সিজদার আয়াতখানা আস্তে পড়লেই তো পারতেন। সে বলল, সব আয়াত জোরে পড়ে শুধু সিজদার আয়াত আস্তে পড়া মাকরূহ। জানার বিষয় হল, তার এ কথা কি ঠিক? সঠিক বিষয়টি জানালে উপকৃত হব।

নামাযের কোনো রাকাতে ভুলে রুকু ছুটে গেলে কি উক্ত নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৪৫৩) : আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব আসরের নামাযের প্রথম রাকাতে ভুলে রুকু না করেই সিজদায় চলে যান। পেছন থেকে তাকবীর বললেও তিনি উঠেননি। ফলে সবাই তার সাথে সিজদায় শরিক হয়ে যায়। পরে তিনি দ্বিতীয় রাকাতে দুটি রুকু করেন এবং চতুর্থ রাকাতের পর সাহু সিজদা করে নামায শেষ করেন। জানার বিষয় হল, আমাদের ঐ নামায কি সহিহ হয়েছে?

ফরয নামাযে ভুলে দুইবার সূরা ফাতিহা পাঠ করলে কি সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১৩৪৫২) : আমি মাগরিবের নামাযে প্রথম রাকাতে সূরা ফাতিহা শেষ করে ভুলবশত পুনরায় সূরা ফাতিহা পড়ে ফেলি। তারপর যথারীতি নামায পড়ে সাহু সিজদা দেই। জানতে চাচ্ছি, আমার ঐ নামায কি হয়ে গেছে? নাকি পুনরায় পড়তে হবে?

নামাযে শরিক না হয়ে ইমাম সাহেবের সিজদার আয়াতের তিলাওয়াত শুনলে কি সিজদায়ে তিলাওয়াত আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১৩৪৪৬) : আমাদের বাসা মসজিদের পাশে অবস্থিত। ফলে নামাযের সময় আমাদের বাসা থেকে ইমাম সাহেবের তিলাওয়াত শোনা যায়। জুমার দিন ফজরের নামাযে ইমাম সাহেব সূরা সাজদাহ তিলাওয়াত করেন। যা আমাদের বাসা থেকে স্পষ্টভাবে শোনা যায় এবং বাসার সবাই সিজদার আয়াতটি সম্পর্কে অবগত। জানার বিষয় হলো, বাসায় মাস্তুরাত যারা আছেন উক্ত সিজদার আয়াত শোনার দ্বারা তাদের উপরও কি সিজদা করা ওয়াজিব হবে?