ঋণের টাকা মনে মনে মাফ করলে কি মাফ হয়ে যায়?

প্রশ্ন (১৩৮৬৮) : কয়েক বছর আগে আমার এক বন্ধুকে আমি চল্লিশ হাজার টাকা ঋণ দিয়েছিলাম। অনেক কষ্ট করে সে বিশ হাজার টাকা পরিশোধ করতে পেরেছে। বাকি টাকা এখনো পরিশোধ করেনি। সে আর্থিকভাবে খু্বই অসচ্ছল। তাই আমি তাকে বাকি টাকা মনে মনে মাফ করে দিয়েছিলাম। তবে তাকে কিছু জানাইনি। এখন তার আর্থিক অবস্থা পরিবর্তন হয়েছে। তার কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ টাকা আছে। জানার বিষয় হলো, আমি যেহেতু তাকে মনে মনে মাফ করে দিয়েছি এখন আমার জন্য তার থেকে বাকি টাকা নেওয়া জায়েয হবে কি?

ঋণ দেওয়ার নাম করে ফরম বিক্রি করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩৮৫০) : আমার কয়েকজন বন্ধু মিলে এলাকায় জনকল্যাণমূলক একটি সংগঠন করেছে। এর মাধ্যমে তারা সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে থাকে। পাশাপাশি মানুষকে ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করে। তবে তাদের ঋণ দেওয়ার পদ্ধতি একটু ভিন্ন। তারা ঋণের প্রদানের জন্য বিভিন্ন মূল্যের ফরম বানিয়েছে। ঋণের পরিমাণ বাড়লে ফরমের মূল্যও বাড়ে। কেউ ঋণ নিতে চাইলে ঋণের পরিমাণ হিসেবে ফরম কিনে চুক্তি করতে হয়। ঋণ পরিশোধের জন্য নির্ধারিত মেয়াদ থাকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে পুনরায় ফরম কিনে নতুনভাবে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য চুক্তি করতে হয়। এ পদ্ধতিতে ঋণ দেওয়া নেওয়া সহিহ কি? জানালে উপকৃত হব।

লটারির মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩৮৪৮) : আমরা দশজন বন্ধু মিলে একটি সমিতি গঠন করি। এই সমিতিতে টাকা জমা করা ও বণ্টন করার পদ্ধতি হলো যে, আমরা ১০ হাজার করে টাকা জমা করে সবার নাম আলাদা আলাদা কাগজে লিখে লটারি করব। লটারিতে যার নাম উঠবে সে উক্ত টাকা পাবে। এভাবে দশ মাস আমরা এই পদ্ধতিতে টাকা নিব। যে ব্যক্তি এক মাস টাকা পাবে সে পরবর্তীতে আর কোনো মাসে টাকা পাবে না। তবে আমাদের সবাই একবার টাকা পাওয়ার আগ পর্যন্ত সবাই টাকা দিবে। জানার বিষয় হচ্ছে, এভাবে টাকা জমা করে বণ্টন করা জায়েয আছে? যদি জায়েয না হয় তবে জায়েয পদ্ধতি কী? জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুদী লোন নিয়ে বাড়ি বানানো যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৭৭৮) : আমার ফুফাতো ভাই আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান। তার বাবা ব্যাংক থেকে সুদী ঋণ নিয়ে বাড়ি করেছে ভাড়া দেওয়ার জন্য। ফুফাতো ভাই তার বাবাকে সুদী ঋণ নিতে নিষেধ করেও বিরত রাখতে পারেনি। তার বাবা বাড়ি তৈরি করার সময় তার থেকে বেশ কিছু টাকা ঋণ নিয়ে ঐ বাড়িতে কাজে লাগিয়েছে। এখন সে জানতে চাচ্ছে, ঐ বাড়ি থেকে প্রাপ্ত ভাড়া সে গ্রহণ করতে পারবে কি? সে কি ঐ বাড়িতে থাকতে পারবে? আর তার বাবার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে সে বাড়ি থেকে অংশ পেলে তা কি সে গ্রহণ করতে পারবে? যদি তার জন্য টাকা নেওয়া বৈধ না হয় তাহলে তার যে টাকা বাড়িতে বিনিয়োগ করা হয়েছে তা কি সে নিয়ে নিতে পারবে? উত্তর জানালে উপকৃত হব।

কারো কাছে পাওনা ঋণ যাকাত হিসেবে মাফ করে দিলে কি যাকাত আদায় হবে?

প্রশ্ন (১৩৭৭৭) : আমি আমার বন্ধুর কাছে দশ হাজার টাকা পাই। দুই বছর আগে সে টাকাগুলো নিয়েছিল। কিন্তু সে টাকাটা দিতে পারছে না। আমি যদি যাকাত আদায়ের নিয়তে ঐ দশ হাজার টাকা মাফ করে দেই তাহলে কি আমার যাকাত আদায় হবে?

সিকিউরিটি মানি কি ব্যবহার করা জায়েয আছে?

প্রশ্ন (১৩৭৬৮) : আমাদের কিছু দোকান আছে। আমরা সেগুলো একবছর বা তার চেয়ে বেশি সময়ের জন্য ভাড়া দিয়ে থাকি। ভাড়া দেওয়ার সময় ভাড়াগ্রহীতা থেকে দোকানের সাইজ হিসাবে দুই-তিন লক্ষ টাকা সিকিউরিটি মানি নিয়ে থাকি। শুনেছি, এ টাকা নাকি ব্যবহার করা যায় না। কিন্তু কিছুদিন পূর্বে এক আলেমের কাছে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, সিকিউরিটির টাকা অগ্রিম ভাড়া না ধরেও ব্যবহার করা যায়। তাই জানতে চাই, সিকিউরিটি বাবৎ ভাড়াগ্রহীতা থেকে যে টাকা নেওয়া হয় তা ব্যবহারের কোনো বৈধ পদ্ধতি আছে কি? একজন পরামর্শ দিয়েছেন, সিকিউরিটি মানি না নিয়ে ভাড়াগ্রহীতা থেকে ঐ টাকা করয হিসাবে নিলে তা ব্যবহার করা যাবে। এ কাজ বৈধ হবে কি না? যদি বৈধ না হয় তাহলে অতীতে কেউ এ টাকা ব্যবহার করে থাকলে তার করণীয় কী? বিষয়গুলো দলীল-প্রমাণসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।

কাদেরকে যাকাত দেওয়া যাবে?

প্রশ্ন (১৩৭১৬) : যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত ব্যক্তি কে? আত্মীয়কে কি যাকাত দেওয়া যায়? দয়া করে বিস্তারিত জানাবেন।

কোনো হিন্দু ব্যক্তি থেকে ঋণ নিয়ে উক্ত ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৬৮৮) : আমি আমার এক হিন্দু প্রতিবেশীর কাছ থেকে কিছু টাকা ঋণ নিয়েছিলাম। কিছুদিন পর সে তার বাড়ি চলে যায়। এখন তার সাথে আমি কোনোভাবে যোগাযোগ করতে পারছি না। আর সে বাসায় আসছেও না। আমার জানার বিষয় হল, ঋণকৃত টাকা হিন্দু লোকটার নামে সদকা বা আল্লাহর রাস্তায় কল্যাণকর কাজে খরচ করলে আমি ঋণমুক্ত হব কি?

যাকাতের টাকা দিয়ে মৃত ব্যক্তির ঋণ পরিশোধ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৬৫৭) : আমার মামার কিছু ঋণ ছিল। ঋণ রেখেই তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন। তার রেখে যাওয়া সম্পত্তিও এতই সামান্য যে, তা দিয়ে সব ঋণ পরিশোধ হবে না। এছাড়া তার সন্তানদের পক্ষেও নিজেদের অর্থ দিয়ে সেই ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব নয়। এখন আমি যদি আমার যাকাতের অর্থ দিয়ে তা পরিশোধ করি তাহলে আমার যাকাত আদায় হবে কি?

যাকাত সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১৩৫৮৬) : আমার বন্ধুর ছোট একটি দোকান আছে। দোকানে সবসময় ৭/৮ হাজার টাকার ব্যবসার মাল থাকে। তো সে কুরবানীর ঈদের পর নেসাবের মালিক হয়। ৬ মাস পর সে উক্ত টাকা দিয়ে বাড়ি বানানোর জন্য জমি ক্রয় করে। এতে তার সব টাকা খরচ হয়ে যায় এবং আরো ঋণ করতে হয়। এখনো সে পরিপূর্ণভাবে ঋণ পরিশোধ করতে পারেনি। এ অবস্থায় জানার বিষয় হল- ১. নগদ টাকা খরচ হয়ে যাওয়ার কারণে ঐ ব্যক্তির নেসাব বাকি আছে কি? ২. নেসাব বাকি থাকলে কি যাকাতবর্ষ শেষে অন্যান্য যাকাতযোগ্য সম্পদের সাথে ঋণ পরিশোধের জন্য জমাকৃত টাকারও যাকাত, কুরবানী আদায় করতে হবে? এবং কুরবানীর দিনগুলোতে ব্যবসার মাল ছাড়া নগদ অর্থ কুরবানীর সর্বাপেক্ষা ছোট পশুর মূল্যের পরিমাণ না হলে কি ধার করে কুরবানী করতে হবে?

মিরাছ বণ্টনের পদ্ধতি কী?

প্রশ্ন (১৩৫৫০) : আমার মা কিছুদিন আগে স্ট্রোক করে মারা যান। তার মালিকানায় ৬ শতক জমি ছিল। তাঁর ওয়ারিশগণ হল- ১. স্বামী ২. এক পুত্র ও ৩. দুই কন্যা। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে এর বণ্টন কীভাবে হবে?

কোনো শর্তের বিনিময়ে ঋণ দেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৩৭৪) : আমাদের গ্রামে শাক সবজি ইত্যাদি চাষাবাদকারী কৃষকদেরকে ঢাকার বিভিন্ন আড়তদাররা উৎপাদনের প্রয়োজনে এই শর্তে ঋণ দেয় যে, শাক সবজি উৎপন্ন হওয়ার পর আমাদের আড়তেই আনতে হবে। অন্য কোথাও নিতে পারবেন না। তবে আড়তদাররা কোনো প্রকার সুদ নেয় না। কৃষিপণ্য উৎপন্ন হওয়ার পর কৃষকরা সেই ঋণ পরিশোধ করে দেয়। জানার বিষয় হল, এ ধরনের শর্ত করে ঋণ দেওয়া বা নেওয়া জায়েয হবে কি?

কর্মচারীদের পাওনা বেতন কি যাকাতের হিসাব থেকে বাদ যাবে?

প্রশ্ন (১৩৩৬৮) : আমি একটি স্কুল পরিচালনা করি। সেখানে শিক্ষক, স্টাফ মিলে প্রায় ৪০ জন কর্মচারী আছে। আমার যাকাতবর্ষ পূর্ণ হওয়ার সময় আমার কাছে বেতন বাবদ তাদের বেশ টাকা পাওনা থাকে। আমি উক্ত টাকা ঋণ হিসেবে যাকাত থেকে বাদ দিয়ে অবশিষ্ট সম্পদের যাকাত আদায় করি। হুজুরের কাছে আমার জানার বিষয় হল, আমার এভাবে যাকাত আদায় করা ঠিক আছে কি?

বন্ধকি জমির গাছের ফল কার মালিকানাধীন থাকবে?

প্রশ্ন (১৩২৬২) : আমার আব্বা একজনের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে আমাদের বাগানের জমির কাগজপত্র ঋণদাতার কাছে বন্ধক রাখে। পরবর্তীতে আমরা বাগান থেকে ফল পাড়তে গেলে ঐ ব্যক্তি আমাদের বাধা দেয়। আমরা বললাম, আপনার কাছে তো জমি বন্ধক রেখেছি। ফল নিয়ে তো কোনো কথা হয়নি। সে বলল, ফল নিয়ে কথা হয় নাই ঠিক আছে, কিন্তু তোমরা যেহেতু জমি বন্ধক রেখেছ, তাই জমির সাথে ফল ও ফলের গাছও বন্ধকের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে। এই ঘটনার ভিত্তিতে এখন আমরা জানতে চাই ঐ জমির গাছের ফল কি আমরা নিতে পারব? নাকি তা বন্ধক হিসেবে থাকবে? তখন তো এগুলো নষ্ট হয়ে যাবে।

বন্ধকী জমি ভাড়া নেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩২৬১) : আমি আমার এক প্রতিবেশীর কাছ থেকে একটি জমি বন্ধক রেখে তাকে পাঁচ লক্ষ টাকা ঋণ দেই। তার সাথে এই চুক্তি হয়েছে প্রায় চার বছর পূর্বে। এই কয়বছর জমিটি এমনিতেই অলস পড়ে আছে। কয়েক মাস হল আমি ইট বালু ও কংক্রিটের একটি ব্যবসা শুরু করেছি। তার বন্ধকি জমিটি এই ব্যবসার জন্য খুবই উপযুক্ত। তাই তাকে বললাম, তোমার জমিটি তো আমার কাছে বন্ধক হিসাবে অলস পড়ে আছে। তুমি চাইলে জমিটা আমার কাছে ভাড়া দিতে পার। আর তোমাকে যে পাঁচ লক্ষ টাকা ঋণ দিয়েছি তা থেকে ভাড়া বাবদ প্রতি মাসে নির্দিষ্ট একটা টাকা কেটে রাখবে। পরে যখন আমার ঋণ পরিশোধ করবে তখন হিসাব করে অবশিষ্ট টাকা আমাকে ফিরিয়ে দিবে। ফলে সে আমার এই প্রস্তাবে রাজী হয়েছে। এখন হযরতের কাছে প্রশ্ন হল, আমাদের উক্ত চুক্তি শরীয়তসম্মত হয়েছে কি? জানালে উপকৃত হব।

জমি বন্ধক নিয়ে তা ভোগ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩২০৯) : আমাদের এলাকায় জমি বন্ধক দেওয়ার নিয়ম হলো, যতদিন ঋণ আদায় না করবে ততদিন ঋণদাতা জমি ভোগ করবে, ঋণ আদায় করলে কোনো কর্তন ব্যতীতই জমি ফেরত দিবে। এখন কেউ যদি কোনো প্রয়োজনে প্রচলিত নিয়মে জমি বন্ধক দিয়ে ঋণ নেয় এবং এই টাকা তার ব্যবসায় বিনিয়োগ করে তাহলে তার সম্পূর্ণ আয় কি হারাম বলে গণ্য হবে? দয়া করে জানাবেন।

কাউকে ব্যবসার জন্য ঋণ দিয়ে তার ব্যবসা থেকে লভ্যাংশ গ্রহণ করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩১৬৭) : এক কোম্পানী তাদের মাল বিক্রির জন্য ডিলার নিয়োগ দিয়েছে। কোম্পানী জামানত সরূপ ডিলারদের নিকট হতে ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) করে টাকা চেয়েছে। হিসাব করে দেখা গেছে পণ্য বিক্রির পর প্রত্যেক পণ্য হতে ডিলারের ৭ টাকা করে লাভ থাকবে। একজন ডিলার তার নিকট জামানতের টাকা না থাকায় আমার নিকট ৫০,০০০/- টাকা ঋণ চেয়েছেন। আমি তাকে বলেছি, টাকা দিতে পারি এই শর্তে যে, প্রত্যেক বিক্রিকৃত পণ্য হতে আমাকে ১ টাকা করে লাভ দিবেন। আমি জানতে চাই উক্ত পদ্ধতিতে আমার টাকা নেওয়া শরীয়তসম্মত হবে কি?

মসজিদের টাকা ব্যবসায় বিনিয়োগ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩১৫৭) : মসজিদ কমিটির নিকট মসজিদের কিছু টাকা আছে। এখন কমিটির লোকজন চাচ্ছে, সেগুলো কোনো কাজে খাটিয়ে মুনাফা অর্জন করতে। তাই তারা একটি দোকান/ঘর এভাবে বন্ধক নিল যে, এক লক্ষ টাকা দোকান মালিককে দিয়ে তার থেকে দোকান বুঝে নিবে। অতপর সে দোকানটিকে দোকানের মালিক বা অন্য কারো নিকট ভাড়া দিয়ে দোকানের মাসিক ভাড়া মসজিদের ক্যাশে রাখবে। অতপর যখন মালিক এক লক্ষ টাকা দিয়ে দিবে তখন কমিটি তার দোকান তাকে বুঝিয়ে দিবে। এখন প্রশ্ন হল, মসজিদের টাকা মুনাফার আশায় খাটানো অথবা কাউকে ঋণ দেওয়া যাবে কি?