মৃত ব্যক্তি ঋণ রেখে গেলে ওয়ারিসদের করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩১০৯) : বাবা মারা যাওয়ার পর আমরা ওয়ারিশসূত্রে ২০০০০/- টাকা ও ১৬ শতাংশ জমি পাই। সকল টাকা-পয়সা জায়গা-জমি ঠিক পেয়েছি। তবে একটি জমি নিয়ে আমাদের সমস্যায় পড়তে হয়, আব্বু আমাদেরকে এ ব্যাপারে কিছু বলে যাননি। তবে আমাদের এক চাচা থেকে এ ব্যাপারে জানতে পারি। আব্বু জীবিত থাকতেই জমিটি একজনের কাছে বন্ধক দিয়ে কিছু ঋণ নিয়েছিলেন। পরে এক উপযুক্ত খরিদ্দার পেয়ে ঋণদাতার সাথে এভাবে কথা হয় যে, ‘আমি অমুক তারিখের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করে দেব। আমাকে জমিটি এখনি বিক্রি করার জন্য দখলমুক্ত করে দেন।’ সে এতে রাজি হয় এবং আব্বু জমিটি বিক্রি করে দেন। কিন্তু আব্বু মৃত্যুর পূর্বে ঐ ঋণ পরিশোধ করেননি। আব্বু এ ব্যাপারে কোনো অসিয়তও করে যাননি। এখন হযরতের কাছে আমাদের কয়েকটি বিষয় জানার আছে- ১. আব্বুর এ ঋণ পরিশোধ করা আমাদের জন্য জরুরি কি? ২. ঋণ আদায় করলে আমরা জমিটির মালিক হব কি? ৩. অন্যের কাছে বন্ধক রাখা অবস্থায় জমিটি বিক্রি করা আব্বুর জন্য ঠিক হয়েছে কি? এভাবে বিক্রি করা জায়েয আছে কি?

যাকাতের টাকা দিয়ে কারো ঋণ পরিশোধ করলে কি যাকাত আদায় হবে?

প্রশ্ন (১৩১০৮) : আব্দুল করিম ভাই আমাদের গ্রামের একজন পরিচিত মানুষ। সবাই তাকে খুব ভালো মানুষ হিসেবে জানে এবং খুব সম্মান করে। তিনি একটি বিপদে পড়ে তার জমি বন্ধক রেখে ঋণ নেয়। পরবর্তীতে তিনি ঐ ঋণ পরিশোধ করতে পারছিলেন না। এদিকে তার সংসারের খরচের জন্য জমিরও প্রয়োজন। কিন্তু বিষয়টি লজ্জায় তিনি কারো কাছে প্রকাশ করেননি। আমি বিষয়টি জানতে পেরে আমার কয়েকজন বন্ধুকে নিয়ে তার অগোচরে ঋণ পরিশোধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এখন আমি যদি আমার যাকাতের অর্থ দিয়ে তার অগোচরে ঋণ পরিশোধ করে দেই তাহলে আমার যাকাত আদায় হবে কি?

কিতাব ক্রয় করার জন্য টাকা নিয়ে উক্ত টাকা চিকিৎসা বাবদ খরচ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩০৯৬) : আমি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করি। আমি কিছু কিতাব ক্রয় করার জন্য আমার এক আত্মীয়ের কাছে ৪০০০/- টাকা ঋণ চেয়েছিলাম। তিনি আমাকে ঋণ দেওয়ার পরিবর্তে ৪০০০/- টাকা হাদিয়া দিয়েছেন এবং বলেছেন, এ টাকা তোমাকে হাদিয়া দিলাম কিতাব কেনার জন্য। কিন্তু এর দু’দিন পর একটি দুর্ঘটনার শিকার হয়ে পায়ে আঘাত পাই। এর চিকিৎসা বাবদ উক্ত টাকা খরচ হয়ে যায়। এখন জানতে চাচ্ছি, উক্ত টাকা চিকিৎসা বাবদ খরচ করা কি আমার জন্য ঠিক হয়েছে?

যাকাতের টাকা দিয়ে মৃত ব্যক্তির ঋণ পরিশোধ করলে যাকাত আদায় হবে কি?

প্রশ্ন (১৩০৬২) : কিছুদিন আগে আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। চিকিৎসা করাতে গিয়ে তিনি অনেক টাকা ঋণী হয়ে যান। এলাকার এক লন্ডনপ্রবাসী চাচ্ছেন, নিজের যাকাতের টাকা দিয়ে তার ঋণ পরিশোধ করে দিতে। জানার বিষয় হল, যাকাতের টাকা দিয়ে মরহুম ইমাম সাহেবের ঋণ পরিশোধ করে দিলে ঐ ব্যক্তির যাকাত আদায় হবে কি?

ঋণের টাকার সাথে অতিরিক্ত ফসল গ্রহণ করার শর্তে ঋণ দেওয়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩০৫৯) : আমাদের এলাকার একজন চাষী ফসল ফলাতে গিয়ে অভাবে পড়ে যায়। তখন সে মানুষের কাছ থেকে সার ইত্যাদি কেনার জন্য এই বলে ঋণ নেয় যে, আমাকে এখন ১০,০০০/- টাকা ঋণ দিন, পরবর্তীতে ফসল হওয়ার পর কিছু ফসলসহ পূর্ণ ১০,০০০/- টাকা ফেরত দিয়ে দিব। জানার বিষয় হলো, এ ধরনের ঋণচুক্তি করা বৈধ আছে কি?

কোনো পণ্য হাতে পাওয়ার আগে তা বিক্রির চুক্তি করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৯৬৫) : আমি গ্রামের এক চাষীকে এক লক্ষ টাকা এই শর্তে দিয়েছি যে, তিন মাস পর সে আমাকে পাঁচ শত টাকা মন হিসেবে দুইশ মন ধান দিবে। টাকা দেওয়ার এক মাস পরেই আমার একটি ছেলে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়ে। ফলে চিকিৎসার জন্য টাকার প্রয়োজন দেখা দেয়। তখন আমার বড় ভাই থেকে ৫০,০০০/- টাকা এই বলে ঋণ নিয়েছি যে, দু’মাস পর ঐ কৃষক দুইশ মন ধান দিলে আমরা দু’জনে একশত মন করে ভাগ করে নিব। আর এভাবে তার ঋণ পরিশোধ হয়ে যাবে। জানার বিষয় হল, ভাইয়ের সাথে এই ঋণ চুক্তিটি কি সহিহ হয়েছে?

করযে হাসানা দিয়ে অতিরিক্ত গ্রহণ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৯৩৮) : আমি একজনকে ২,০০০/- টাকা কর্জ দিলাম। বর্তমান বাজারমূল্য হিসেবে এ দ্বারা ৪০ কেজি খাদ্যশস্য পাওয়া যায়। আমি তাকে বললাম, ১ বছর পর ফেরত দিলেই চলবে। ইত্যবসরে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় উক্ত টাকায় ২৫ কেজি খাদ্যশস্য পাওয়া যায়। এমতাবস্থায় আমি ক্ষতিগ্রস্ত হলাম। এখানে যদি আমি ৩,২০০ টাকা পেতাম তাহলে পূর্বের ন্যায় ৪০ কেজি শস্য কিনতে পারতাম। এক্ষেত্রে শরীয়তের ফয়সালা কী? আমি এহসান করব? তার কাছ থেকে সুদ হিসেবে অতিরিক্ত কিছু নেব এমন আগ্রহ আমার নেই; কিন্তু আমি ক্ষতিগ্রস্ত কেন হব? আবার দাম যদি কমে যায় সেক্ষেত্রে ধরা যাক উক্ত টাকায় ৫০ কেজি শস্য পাওয়া যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতার জন্য (২,০০০/- টাকার কম) ৪০ কেজির দাম ১,৬০০ টাকা দেওয়া ঠিক হবে কি না?

ঋণগ্রস্ত ব্যবসায়ীকে যাকাত দেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৯০৪) : আমার দুলাভাই একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। কিছুদিন আগে হঠাৎ করে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং চিকিৎসার জন্য অন্যের কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা ঋণ নেন এবং এর দ্বারা চিকিৎসা সম্পন্ন করেন। এখন তিনি সুস্থ হয়েছেন। কিন্তু ঐ ঋণ এখনও পরিশোধ করতে পারেননি। এখন আমি কি তাঁকে আমার যাকাতের টাকা দিতে পারব?

বন্ধকী জমি ঋণগ্রহিতার নিকট ভাড়া দিয়ে তার থেকে ধান নেওয়ার শর্ত করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৮৫৮) : এক ব্যক্তি কারো থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা নেন সাত কাঠা জমি বন্ধক রেখে। এরপর বন্ধকগ্রহিতা পুনরায় উক্ত জমি ঋণগ্রহিতার নিকট ফেরত দেন এই শর্তে যে, উক্ত জমি থেকে প্রতি বছর আমাকে পনের মন ধান দিতে হবে। উল্লেখ্য, ঋণগ্রহিতা উক্ত জমিতে ধান চাষ নাও করতে পারেন। তবুও তাকে পনের মন ধান অথবা তার মূল্য দিতে হবে। প্রশ্নোক্ত পদ্ধতি কি জায়েয আছে?

কাউকে ঋণ দেওয়ার পর কৌশলে অতিরিক্ত নেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৮৩৭) : চার বছর আগে আমার এক প্রতিবেশী দু’বস্তা চাল কেনার জন্য আমার থেকে তিন হাজার টাকা ধার নিয়েছিল। সে দিবে দিবে বলে চার বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে। এখনো টাকাগুলো পরিশোধ করেনি। তখন তিন হাজার টাকা দিয়ে দু’বস্তা চাল পাওয়া যেত। এখন তা দিয়ে সোয়া এক বস্তার মত চাল পাওয়া যায়। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, আমি কি তার কাছ থেকে বর্তমান মূল্য অনুযায়ী দু’বস্তা চালের মূল্য নিতে পারব?

ঋণের টাকা ক্ষমা করে দিলে কি উক্ত টাকার যাকাত আদায় হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১২৮২৭) : আমি আমার এক দরিদ্র প্রতিবেশীকে তার বড় একটি বিপদে অনেক টাকা ঋণ দিয়েছিলাম। লোকটি অভাবগ্রস্ত হওয়ার কারণে এক বছর পর তার পুরো ঋণ ক্ষমা করে দেই। প্রশ্ন হল, এভাবে ক্ষমা করার দ্বারা উক্ত ঋণের যাকাত কি আদায় হয়ে যাবে?

রিয়াল ধার নিয়ে টাকা দিয়ে উক্ত ঋণ পরিশোধ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৮২৫) : গত বছর হজ্বের সময় কাফেলার এক সাথীর কাছ থেকে আমি ২ হাজার রিয়াল ঋণ নিয়েছিলাম। পরবর্তীতে দেশে আসার পর রিয়ালের মূল্য কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এখন আমি ঋণ পরিশোধ করতে চাচ্ছি। জানার বিষয় হল, রিয়ালের কোন মূল্য ধরে তা পরিশোধ করতে হবে? বর্তমান মূল্য ধরে, নাকি ঋণ নেওয়ার সময়ের মূল্য ধরে?

ঋণ দেওয়ার জন্য চড়া মূল্যে ফরম বিক্রির নাম করে টাকা নেওয়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৭৯৯) : কিছুদিন আগে আমার স্বামীর অসুস্থতার কারণে মোটা অংকের টাকার প্রয়োজন হয়। তখন পরিচিত কারো কাছে ঋণ চেয়েও পাইনি। এমতাবস্থায় আমার এক প্রতিবেশী আমাকে একটি সামাজিক সংগঠনের সভাপতির কাছে নিয়ে যান। সভাপতির কাছে আমি আমার অবস্থা বলার পর তিনি আমাকে বলেন, আমরা তো কারো থেকে সুদ নেই না। তবে আমাদের ঋণ প্রদানের নিয়ম হল যে, পঞ্চাশ হাজারের বেশি কাউকে ঋণ দেওয়া হয় না। আর ঋণ গ্রহীতাকে তিন হাজার টাকা দামের একটি ফরম কিনতে হয়। কেননা আমাদের দাপ্তরিক কিছু ব্যয় রয়েছে। তাছাড়া ফরম বিক্রির মাধ্যমে আমরা অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কাজের তহবিল সংগ্রহ করি। প্রয়োজনের তাগিদে আমি এভাবেই ঋণ নিয়ে আসি। জানার বিষয় হল, উপরোক্ত পন্থায় ঋণ নেওয়া জায়েয হয়েছে কি না?

যাকাত সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৭৯২) : এ বছর রমযানে এক ব্যক্তিকে যাকাত দিয়েছি। সে ব্যক্তির ব্যক্তিগত তেমন জায়গা জমি নেই। সে দেড় লক্ষ টাকা দিয়ে একটি জমি কটে রেখে চাষাবাদ করে। এ ছাড়া ঐ ব্যক্তির কোনো সম্পদ নেই এবং বর্তমানে সে অভাবগ্রস্ত। এ অবস্থায় তাকে যাকাত দেওয়া কি ঠিক হয়েছে?

অগ্রিম পণ্য ক্রয় করার পর পণ্য পরিশোধের সময় তার বাজার মূল্য গ্রহণ করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৭৮৩) : আমাদের এলাকায় টাকা পয়সা ঋণ নেওয়ার একটা প্রচলন আছে। তা হলো, কারো ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন হলে অন্যের নিকট থেকে এই শর্তে টাকা নেয় যে, এখন এক হাজার টাকা দিব, এক/দুই মাস পর সে টাকার বিনিময়ে দুই মণ ধান দিতে হবে। মেয়াদ শেষে ঋণদাতা কখনো ধান না নিয়ে সে সময়ের বাজারদর হিসেবে ধানের মূল্য নিয়ে নেয়। অনেকে এ ধরনের লেনদেনকে সুদী কারবার বলে। কারণ, এর দ্বারা ঋণদাতার লাভ হয়। তাই মুফতী সাহেবের নিকট জানতে চাচ্ছি, উক্ত লেনদেনের শরয়ী হুকুম কী? জানিয়ে বাধিত করবেন।

কোনো ব্যবসায় শ্রম না দিয়ে বিনিয়োগকৃত মূলধনের আনুপাতিক হারের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ গ্রহণ করা জায়েয আছে …

প্রশ্ন (১২৭৭৩) : আমার ফুফাতো ভাই একটি দোকান দিয়েছে। সে এতে ৬ লক্ষ টাকা পুঁজি বিনিয়োগ করেছে। কিছুদিন পর তার টাকার প্রয়োজন হলে সে আমার কাছে ঋণ চায়। আমি তাকে ঋণ দেওয়ার পরিবর্তে আলোচনাক্রমে তার ব্যবসায় বিনিয়োগ করি। বিনিয়োগকৃত টাকার পরিমাণ ছিল ৪ লক্ষ। এক্ষেত্রে আমাদের মাঝে এভাবে চুক্তি হয় যে, ব্যবসা সে দেখাশোনা করবে। আর দোকানের সব খরচ বাদ দিয়ে যা লাভ হবে তা দু’জনের মাঝে অর্ধার্ধি হারে বণ্টন হবে। আর লোকসান হলে উভয়ে মূলধন অনুপাতে বহন করবে। এখন মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাচ্ছি, আমাদের উক্ত চুক্তিটি শরীয়তসম্মত হয়েছে কি না? দয়া করে জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

بيع الوفاء কী? এটা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৭১৪) : بيع الوفاء কী? بيع الوفاء -এর ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য মত কী? আমাদের সমাজে ব্যাপকভাবে প্রচলন রয়েছে যে, ঋণগ্রহিতা তার জমি ঋণদাতার কাছে বন্ধক রেখে ঋণ নেয়। আর ঋণদাতা ঋণ পরিশোধ হওয়ার আগ পর্যন্ত জমিটি ভোগ করে। আমরা জানি, এমন লেনদেন অবৈধ। সমাজকে অবৈধ লেনদেন থেকে বাঁচানোর জন্য بيع الوفاء -এর পরামর্শ দেওয়া যাবে কি?

ঋণ দিয়ে ঋণগ্রহিতার কাছ থেকে কোনো উপকার গ্রহণের শর্ত করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৭০২) : আমার বাসা হেমায়েতপুর। বাসার পাশেই আমার একটি ছোটখাটো মুরগীর খামার আছে। খামারে প্রতি সপ্তাহে প্রায় দেড় হাজার ডিম উৎপাদন হয়। আমার একক খরচে খামার পরিচালনা সম্ভব হয়ে উঠে না বিধায় মাঝে মাঝেই ঋণ করতে হয়। ব্যাংক থেকে লোন নিতে গেলে সেখানে তো সুদের কারবার আছে। তাই সাধারণত পরিচিতজনদের থেকে স্বল্প সময়ের জন্য করয করে থাকি। কিছুদিন আগে আমার পরিচিত এক আড়ৎ মালিক আমাকে বিনা সুদে ঋণ দিতে চেয়েছে। তবে তার শর্ত হল, আমার খামারের উৎপাদিত সকল ডিম তার আড়তে বিক্রি করতে হবে। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, আমার জন্য তার থেকে এ শর্তে ঋণ নেওয়া জায়েয হবে কি না?

ঋণের বিনিময়ে কোনো সুবিধা গ্রহণ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৬৭১) : আমি এক ব্যক্তিকে ৩ বছরের জন্য ৫ লাখ টাকা দিয়েছি এই চুক্তি স্বাপেক্ষে যে, আমি তার বাড়িতে বিনা ভাড়ায় ৩ বছর থাকব। ৩ বছর শেষ হয়ে গেলে বাড়িওয়ালা উক্ত ৫ লাখ টাকা আমাকে ফেরত দিয়ে দিবে। অবশ্য আমার মনে এই নিয়ত ছিল যে, বাড়িওয়ালা যেহেতু আমাকে একটা সুবিধা দিচ্ছে তাই আমি তার থেকে কিছু টাকা কম নিব। এখন আমি জানতে চাচ্ছি যে, আমাদের এই লেনদেন বৈধ হবে কি না?

নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হওয়া সত্ত্বেও হাতে টাকা না থাকলে কি ঋণ করে কুরবানী দিতে হবে?

প্রশ্ন (১২৬৭০) : আমি ভার্সিটিতে পড়াশোনা করি। পড়াশোনার পাশাপাশি টিউশনি করি। টিউশনি থেকে প্রাপ্ত টাকার একটা অংশ আমি ব্যাংকে জমা করি। এভাবে ৫০ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা হয়েছে। গত তিন মাস আগে আমার এক বন্ধুর একটি বিপদে সে টাকাগুলো তাকে ঋণ দিয়েছি। বর্তমানে আমার কাছে অতিরিক্ত কোনো সম্পদ নেই। আমি একজন হুজুরের কাছে শুনেছিলাম যে, কেউ যদি ৪০ হাজার টাকা বা সে পরিমাণ সম্পদের মালিক হয় তাহলে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব। তার কাছে যদি নগদ টাকা না থাকে তাহলে কিছু সম্পদ বিক্রি করে বা ঋণ নিয়ে হলেও কুরবানী দিতে হবে। এখন আমার প্রশ্ন হল, এ অবস্থায় আমার উপর কি কুরবানী ওয়াজিব হয়েছে? দ্রুত মাসআলাটির সমাধান জানালে কৃতজ্ঞ হব।