অসুস্থ ও ওজরগ্রস্ত ব্যক্তির রোজা এবং ফিদয়া

বৃদ্ধ ব্যক্তি তার পূর্বের কাযা রোযার জন্য কি ফিদয়া দিতে পারবে?

প্রশ্ন (১৩৭৩১) : কয়েক বছর আগে রমযান মাসে অসুস্থতার কারণে আমি কিছু রোযা রাখতে পারিনি। সুস্থ হওয়ার পর সেগুলো কাযা করিনি। এখন বার্ধক্যের কারণে এত দুর্বল হয়ে পড়েছি যে, রোযা রাখা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। এ অবস্থায় আমার জন্য করণীয় কী? আমি কি ঐ রোযাগুলোর জন্য ফিদয়া আাদায় করতে পারব?

মৃত ব্যক্তির কাযা রোযা কি অন্য কেউ আদায় করতে পারবে?

প্রশ্ন (১৩৪৭৩) : আমার মামা দুই বছর আগে মারা গেছেন। তার জীবদ্দশায় তিনি বেশ কিছু রোযা রাখেননি। তার মৃত্যুর পর আমার খালারা কি এখন তার অনাদায়ী রোযাগুলো রাখতে পারবে? রাখলে কীভাবে রাখবে? কারণ আমরা জানি, ইচ্ছাকৃত একটি রোযা ভাঙলে একটানা ৬০টি রোযা রাখতে হয়। রোযার কাযা করা অবস্থায় ১দিন ছুটে গেলে তা কি আবার শুরু থেকেই রাখতে হবে? আর রোযা কি ১টির বদলে ৬০টি রাখতে হবে নাকি ১টি রাখলেই হবে?

অসুস্থতার দরুণ রোযা রাখতে না পারলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩২৮৮) : গত রমযান মাসে আমার দাদা ইন্তেকাল করেন। অসুস্থতার দরুণ তিনি কোনো রোযা রাখতে পারেননি। আমার বাবা-চাচারা এখন তার উক্ত রোযাগুলোর ফিদয়া আদায় করতে চাচ্ছেন। তাই জানতে চাই, তার ছুটে যাওয়া প্রতি রোযার জন্য কত টাকা করে ফিদয়া আদায় করতে হবে?

বৃদ্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে রোযা রাখতে না পারলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩০০০) : আমাদের এলাকায় অনেক পরিবারে দেখি যে, পরিবারের কেউ বৃদ্ধ হওয়ার কারণে রোযা রাখতে না পারলে রমযান মাসে মাদরাসা থেকে একজন দরিদ্র ছাত্রকে লজিং রাখে। তাকে ভোররাতে ও সন্ধারাতে খাবার খাওয়ায়। আমার জানার বিষয় হল, বৃদ্ধ হওয়ার কারণে রোযা রাখতে অক্ষম হলে কী করবে? আর উপরোক্ত পদ্ধতিতে খাবার খাওয়ানোর দ্বারা রোযার ফিদয়া কি আদায় হবে?

রমযানের শুরুতে একসাথে সব রোযার ফিদইয়া আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৯২৪) : জনৈক অসুস্থ মাযূর ব্যক্তি যিনি রোযা রাখতে পারেন না তিনি তার রোযার ফিদইয়া পুরা রমযানেরটা একসাথে রমযানের শুরুতেই আদায় করে দিতে পারবেন কি না?

ওযরবশত রোযা না রাখতে পারলে কি ফিদইয়া দেওয়া যাবে?

প্রশ্ন (১২৫৮৮) : আমার মামা আমেরিকা প্রবাসী। তার দুটো কিডনী প্রায় অচল। তাকে এক দিন পরপর ডায়ালাইসিস করতে হয়। ডাক্তারের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি কেবল নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট খাবার গ্রহণ করতে পারেন। তার হাই প্রেসারও আছে। তাকে প্রতিদিন কিডনীর জন্য এবং হাই প্রেসারের জন্য বেশ কিছু ওষুধ খেতে হয়। গত রমযান মাসে সবাই নিষেধ করা সত্ত্বেও তিনি প্রথম রোযা রাখেন। সারাদিন রোযা রাখায় তিনি বেশ দুর্বল হয়ে পড়েন। বেশি সমস্যা হয়- নিয়ম মাফিক ওষুধ না খাওয়ার কারণে। এতে তার প্রেসার হাই হয়ে যায়। আর রমযান মাসে আমেরিকায় দিন দীর্ঘ (প্রায় ১৬/১৭ ঘণ্টা) হওয়ার কারণে কেবল রাতে ওষুধ খেলে হয় না। তাই বেশিরভাগ দিনই তার আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও তিনি রোযা রাখতে পারেননি। মাঝে খুব কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও ১/২টি রোযা তিনি রেখেছেন। আমার জানার বিষয় হল, তিনি কি তার রোযার পরিবর্তে ফিদইয়া দিতে পারবেন? আর ফিদইয়া দিলে কীভাবে আদায় করবেন।

রোযার ফিদইয়া সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২২৭৪) : আমার এক মেয়ে আজ প্রায় ১৫-১৬ বছর যাবত অনেক বেশি অসুস্থ। এত বেশি অসুস্থ যে, তা বর্ণনা করে বুঝানো সম্ভব নয়। শুধু এতটুকু বলব যে, সে যে বেঁচে আছে এটা কেউ বিশ্বাসই করতে চায় না। মাঝখানে তার মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত ছিল। অর্থাৎ তার বয়স যখন আঠারো ছিল মারাত্মক অসুস্থতার কারণে ওজন ১৭ তে নেমে আসে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আল্লাহ তাকে হাজারো মানুষের দুআয় বাঁচিয়ে রেখেছেন। হুজুরের কাছে যে বিষয়ে জানতে চাচ্ছি তা হচ্ছে, ১৫-১৬-১৭-১৮ বয়সগুলোতে সে লাগাতার রোযা ভাঙে। এছাড়া পরবর্তীতে ডাক্তারদের অনুরোধে আরো কিছু রোযা ভাঙে। এখন তার বয়স ত্রিশ। কষ্ট করে রোযা নামায যথাযথভাবে পালন করে যাচ্ছে। সে নিজেকে সুস্থ মনে করে এ হিসেবে যে, আল্লাহ তাকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনে বৈবাহিক জীবন যাপনের তাওফীক দিয়েছেন এবং অকল্পনীয়ভাবে সন্তানের মাও বানিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে সে সুস্থ নয়। কারণ এমন এমন কিছু জটিল রোগ আছে, যা বাহ্যদৃষ্টিতে নিরাময় হবে বলে মনে হয় না। বরং প্রায়ই তার থেকে শাখাগত রোগ দেখা দিয়ে থাকে। তাই মাঝে মাঝে সে আমাকে বলে থাকে, বাবা! রোযাগুলোর কী হবে? সেগুলোর কি ফিদয়া দেওয়া যায় না? তাই সে কি উক্ত রোযাগুলোর ফিদয়া দিতে পারবে? জানালে উপকৃত হব।

অগ্রিম ফিদয়া দিলে আদায় হবে কি

প্রশ্ন (১১৯২৫) : আমার নানি বার্ধক্য ও অসুস্থতার কারণে রোযা রাখতে অক্ষম। তার সুস্থতার কোনো আশা নেই। তার রোযার ফিদয়াগুলো অগ্রিম দেওয়া যাবে কি?

৩০ রোযার ফিদয়া ৩০ জনকেই দিতে হবে

প্রশ্ন (১১২৪৫) : আমার নানা খুবই বয়স্ক। তার রোযা রাখার সক্ষমতা নেই। তিনি কি ৩০ রোযার ফিদয়া একজন ফকিরকে দিতে পারবেন নাকি ৩০ জনকেই দিতে হবে?

সুবহে সাদিকের আগে বেঁহুশ হলে কাযা করতে হবে কি

প্রশ্ন (১১১৮৩) : জনৈক ব্যক্তি সাহরীতে রোযা রাখার জন্য উঠেছে। কিন্তু সুবহে সাদিকের আগেই সে বেঁহুশ হয়ে যায়। জ্ঞান ফিরে ইফতারের পর। মাঝে কোনো খাবার বা অন্য কোনো জিনিস তার দেহে পুশ করা হয়নি। প্রশ্ন হল, তার উক্ত রোযা কি কাযা করতে হবে?

সুস্থতা লাভ না করে মারা গেলে ফিদয়া দিতে হবে কি

প্রশ্ন (১১০২৩) : আমার মামা রমযানের ১০ দিন আগে গুরুতর অসুস্থ হন। অসুস্থতার কারণে রমযানের রোযা রাখতে পারেননি। ঈদের ৪ দিন আগে মারা যান। জানতে চাচ্ছি, তার রোযাগুলোর ফিদয়া দিতে হবে কি?

রোজা রেখে বেশি অসুস্থ হয়ে গেলে পরবর্তী রোজার জন্য ফিদয়া দিতে পারবে কি

প্রশ্ন (৭৪৬৪) : আমার চাচা বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। রোজা রাখলে তিনি অত্যাধিক অসুস্থ ও দুর্বল হয়ে পড়েন। এই রমজানে কষ্ট করে রোজা রাখার চেষ্টা করেন। কয়েকটি রোজা রাখার পর তিনি পুনরায় অসুস্থ ও দুর্বল হয়ে পড়েন। যার ফলে পরবর্তী রোজাগুলো আর রাখতে পারেননি। এখন আমার জানার বিষয় হলো, তিনি রোজা রাখার পরিবর্তে ফিদয়া দিতে পারবেন কি?

অসুস্থ থেকে সুস্থ হয়ে মধ্যাহ্নের পূর্বে রোজার নিয়ত করলে সহিহ হবে কি

প্রশ্ন (৬৫৯৩) : আমি একবার রোজার সময় অসুস্থ ছিলাম। তাই রোজা রাখিনি। কিন্তু সকাল দশটার দিকে সুস্থতাবোধ করায় রোজার নিয়ত করে ফেলি এবং সারাদিন রোজা রাখি। আমার রোজাটি কি হয়েছে?