তারাবীর নামায একসাথে চার রাকাত পড়ে ফেললে উক্ত নামাযের বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩৮২০) : এই রমযানে আমাদের মসজিদে এক হাফেয সাহেব তারাবীর নামাযে ভুলে দ্বিতীয় রাকাতে না বসে দাঁড়িয়ে যান এবং অতিরিক্ত দু রাকাত মিলিয়ে মোট চার রাকাত পড়ে সাহু সিজদার মাধ্যমে নামায শেষ করেন। নামায শেষে এ নিয়ে মুসল্লিদের মাঝে মতবিরোধ দেখা দেয়। কেউ কেউ বলে যে, সাহু সিজদার দ্বারা চার রাকাতই তারাবী হিসেবে সহিহ হয়েছে। কেউ বলে যে, শুরুর দু রাকাত সহিহ হয়েছে, শেষের দু রাকাত নয়। আবার কেউ বলে, শেষের দু রাকাত তারাবী হিসেবে ধরা হবে। এখানে আসলে কোনটি সঠিক? দয়া করে মাসআলাটির সঠিক সমাধান জানিয়ে আমাদের বিবাদ নিরসন করবেন।

এক পায়ের উপর ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৭৩০) : রমযানে আমরা তিনজন মিলে তারাবীর নামায পড়েছি। আমরা প্রতিদিন তারাবীর নামাযে পাঁচ-ছয় পারা তিলাওয়াত করেছি। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা কষ্টকর বিধায় কিছুক্ষণ এক পায়ে আবার কিছুক্ষণ অন্য পায়ে ভর দিয়ে দাঁড়াতাম। জানার বিষয় হল, এভাবে দাঁড়ানোর কারণে কি নামাযের কোনো ক্ষতি হয়েছে?

নাবালেগ ছেলে তারাবীর নামাযের ইমামতি করতে পারবে কী?

প্রশ্ন (১৩৬৯২) : এই রমযানে আমাদের এলাকার মসজিদে একজন অপ্রাপ্ত বয়স্ক হাফেয তারাবীর নামায পড়িয়েছে। মসজিদের ইমাম সাহেব আমাদেরকে মাসআলা বলেছেন, নাবালেগের পিছনে তারাবীর নামায পড়া জায়েয আছে। জানার বিষয় হল, তার কথা কি সঠিক?

রোগের কারণে গরুর লেজের পশম ঝরে পড়ে গেলে উক্ত গরু দিয়ে কুরবানী করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৬৯১) : আমাদের একটা গরু আছে। কোনো এক রোগের কারণে গরুটির লেজের সামান্য অংশ লম্বা পশমসহ ঝরে পড়েছে। আমরা আগামী ঈদুল আযহায় গরুটি কুরবানী দিতে চাচ্ছি। জানতে চাচ্ছি, শরীয়তের দৃষ্টিতে উক্ত গরু কুরবানী করা বৈধ হবে কি?

তারাবীহর নামাযে তিলাওয়াতের সিজদা আদায় না করলে কি নামাযে কোনো সমস্যা হবে?

প্রশ্ন (১৩৫৯২) : এবার রমযানে একদিন তারাবীহর নামাযের পূর্বে সিজদার আয়াতের কথা ঘোষণা করতে ভুলে যাই। সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করা সত্ত্বেও বিশৃঙ্খলার ভয়ে সিজদা করিনি। এরপর স্বাভাবিকভাবে নামায শেষ করেছি। জানতে চাই, আমাদের উক্ত নামায কি আদায় হয়েছে? যদি আদায় না হয় তবে এখন আমাদের করণীয় কী?

তারাবীহর নামায পড়িয়ে হাদিয়া গ্রহণ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৫০৬) : আমি তিন বছর যাবৎ গ্রামের একটি মসজিদে তারাবীহ পড়াই। মসজিদের কমিটি আমার অনিচ্ছা সত্ত্বেও আমাকে অল্প কিছু হাদিয়া দিয়েছে। আর আমার ছোট ভাইও দু’বছর একটি বাসায় তারাবীহ পড়িয়েছে এবং একইভাবে তাকেও হাদিয়া দেওয়া হয়। আর একজন মুসল্লি তাকে একটি পাঞ্জাবির কাপড়ও দিয়েছেন। জানার বিষয় হল, এই হাদিয়া কি আমাদের জন্য বৈধ হবে?

তারাবীর নামাযে সিজদার আয়াত তিলাওয়াত না করে সিজদা আদায় করলে কি নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৪৮৫) : তারাবীহ নামাযে প্রথম রাকাতে হাফেয সাহেব সিজদার আয়াত না পড়েই সিজদা দেন। সিজদা থেকে উঠে সিজদার আয়াতের পর থেকে শুরু করে যথানিয়মে দুই রাকাত শেষ করেন। অর্থাৎ সিজদার আয়াতটুকু পড়া হয় নাই। নামায শেষে সিজদার আয়াত ছুটে গেছে জানানো হলে তিনি পরের দুই রাকাতের প্রথম রাকাতে সিজদার আয়াত পড়ে সিজদা দেন। অতপর যথানিয়মে বাকি নামায শেষ করেন। এখন প্রশ্ন হল, প্রথম রাকাতে সিজদার আয়াত না পড়েই যেহেতু সিজদা দেওয়া হয়েছে তাই ঐ দুই রাকাত নামায সহিহ হয়েছে কি? সহিহ না হলে আমাদের করণীয় কী?

খতম তারাবীতে কোনো একটি সূরার শুরুতে উঁচু আওয়াজে বিসমিল্লাহ পড়ার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩৪৬৬) : আমাদের দেশে যে সকল মসজিদে তারাবীতে খতমে কুরআন হয় সেখানে দেখা যায় যে, কোনো একটি সূরার শুরুতে বড় আওয়াজে বিসমিল্লাহ পড়া হয়। বলা হয়ে থাকে, এ রকম পড়া সুন্নত। আবার সূরা ইখলাস তিনবার পড়া হয়। বলা হয়ে থাকে, এ রকম পড়া মুস্তাহাব। অনুগ্রহপূর্বক এই দুই মাসআলার বিষয়ে শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে ফয়সালা জানানোর অনুরোধ রইল।

কোনো ওজর ছাড়া তারাবীর নামায বসে পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৪৪২) : রমযান মাসে আমাদের মসজিদে খতম তারাবী হয়। হাফেয সাহেবগণ খুব ধীরে-সুস্থে তিলাওয়াত করেন। সময় দীর্ঘতার কারণে অনেক মুসল্লিই বসে বসে তারাবীর নামায আদায় করেন। জানার বিষয় হল, এভাবে কোনো প্রকার ওজর ছাড়াই বসে তারাবীর নামায পড়ার বিধান কী?

তারাবীর বিনিময়ে হাফেয সাহেবকে হাদিয়া দেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৪০৪) : আমরা প্রতি রমযানে আমাদের মসজিদে খতম তারাবীর ব্যবস্থা করি। আমরা সবাই মিলে টাকা উঠিয়ে রমযানের শেষে হাফেয সাহেবকে কিছু হাদিয়া দিয়ে থাকি। এটা কি জায়েয আছে?

তারাবীর নামাযে ইমাম সাহেব রুকুতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত বসে থাকা কি ঠিক?

প্রশ্ন (১৩২৭৯) : রমযান মাসে তারাবীর সময় কোনো কোনো মুসল্লী ভাইকে দেখা যায়, ইমাম সাহেব রুকুতে যাওয়া পর্যন্ত বসে থাকেন। যখনই ইমাম সাহেব রুকুতে যান তখন তারা দ্রুত উঠে তাকবীর বেঁধে রুকুতে চলে যান। জানতে চাই এমনটি করা কি ঠিক?

মহিলাদেরকে নিয়ে তারাবীর জামাত করার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩২১৭) : আমি একজন হাফেজে কুরআন। আমার বয়স ১৫ বছর। গত রমযান মাসে আমার বোনের বাড়িতে বোনসহ তার কয়েকজন প্রতিবেশী মহিলাকে নিয়ে আমি তারাবীর নামায পড়াই। আমি দাঁড়াতাম বাহিরে। মহিলারা থাকত পর্দার ভেতরে। উল্লেখ্য যে, বোনের বাড়িতে জামাতের আয়োজন থাকায় এমন কিছু মহিলা তারাবীর নামাযে অংশগ্রহণ করেছে যারা একাকী ফরয নামাযও পড়ে না। অন্যান্য ক্ষেত্রে পর্দার বিষয়ে যেভাবেই থাকুক না কেন নামাযে আসা-যাওয়ার সময় মহিলারা যথাসাধ্য পর্দার প্রতি গুরুত্বারোপ করত। এভাবে দূর দূরান্ত থেকেও কিছু মহিলা জামাতে হাজির হত। পরবর্তীতে এলাকার আলেমদের মাঝে এ নিয়ে মতানৈক্য শুরু হয়। কেউ বলেন, মহিলাদের জন্য জামাতের আয়োজন করা মাকরূহ। কেউ বলেন, মাকরূহ নয়; জায়েয। আমার জানার বিষয় হল, উক্ত বিষয়ে শরীয়তের সঠিক সমাধান কী? দলীল-প্রমাণসহ জানালে চিরকৃতজ্ঞ হব।

তারাবির নামাযের শেষ বৈঠকে দরূদ শরীফ ও দুআ মাছূরা না পড়লে কি কোনো সমস্যা আছে?

প্রশ্ন (১৩১১৩) : আমাদের মসজিদে দুইজন হাফেজ খতম তারাবি পড়ান। তারা অধিকাংশ সময় কেবল আত্তাহিয়্যাতু পড়ে সালাম ফিরিয়ে দেন। একবার জিজ্ঞাসা করা হলে তাদের একজন বললেন, খতম তারাবিতে দরূদ শরীফ ও দুআ মাছূরা না পড়ার অনুমতি আছে। জানতে চাচ্ছি, তাদের এ কথা কি সঠিক?

তারাবীর নামায এক সালামে আট রাকাত পড়লে কোনো সমস্যা আছে কি?

প্রশ্ন (১৩০৪৪) : গত রমযানে একদিন আমরা কয়েকজন হাফেয একসাথে তারাবীর নামায আদায় করি। প্রথম চার রাকাতে লম্বা কেরাত পড়ার কারণে অনেক রাত হয়ে যায়। এরপর বাকি ষোল রাকাত দুই সালামে আট রাকাত করে আদায় করে নেই। হুজুরের কাছে জানতে চাই, এক সালামে আট রাকাত আদায় করার দ্বারা আমাদের নামায কি আদায় হয়েছে?

তারাবীর নামাযে প্রতি চার রাকাত পর পর দুআ পড়ার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৮৮৪) : আমাদের এলাকায় প্রায় সকল মসজিদে তারাবির নামাযে চার রাকাত অন্তর অন্তর একটি দুআ- سُبْحَانَ ذِي الْمُلْكِ... পাঠ ও তারপর মোনাজাতের রীতি রয়েছে। গত বছর আমাদের মসজিদে তারাবীহ পড়ানোর জন্য একজন নতুন হাফেজ সাহেব আসেন। তিনি এভাবে মোনাজাত করতে দেখে এটাকে অনুত্তম বলেন এবং তা না করার কথা বলেন। এতে মুসল্লিরা দুই পক্ষ হয়ে যায়। ফিতনার আশংকায় কেউ কেউ মোনাজাত করার পরামর্শ দেন এবং তিনি তাই করেন। এ প্রেক্ষিতে একজন মুসল্লি বললেন, অনেকে এ মোনাজাতকে মুস্তাহাব পর্যায়ের বলে থাকে। অথচ তারাবির এ মোনাজাত সাহাবায়ে কেরাম, তাবিয়ীন ও তাবে-তাবেয়ীন কেউ করেননি; তাহলে মুস্তাহাব সাব্যস্ত হয় কীভাবে? এখন জানার বিষয় হলো, এই দুআর ব্যাপারে শরীয়তের হুকুম কী? দালীলিক সমাধান দিলে চিরকৃতজ্ঞ থাকব।

ফেতনা হওয়ার আশঙ্কায় সাহু সিজদা ছেড়ে দেওয়া কি ঠিক?

প্রশ্ন (১২৩২১) : আমি ঢাকার একটি বড় মসজিদে তারাবীহ পড়াই। এবার রমযানের ২৭ তারিখে তারাবীর নামাযের প্রথম রাকাতে সূরা ফাতিহার তিন-চার আয়াত মনে মনে পড়ি, এরপর স্মরণ হলে উচ্চস্বরে সূরা ফাতিহা শুরু থেকে পড়ি। সেদিন মসজিদে ৩-৪ হাজার মুসল্লী ছিল। অনেক বড় জামাত ফেতনা হতে পারে- একথা ভেবে সাহু সিজদা দিইনি। মুহতারামের নিকট জানার বিষয় হচ্ছে, আমার এই কাজটি কি ঠিক হয়েছে? জুমা ও ঈদের নামাযের মত তারাবীর জামাত বড় হলে সাহু সিজদা ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ আছে কি না?

তারাবীহর নামায বসে আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২৯৫) : রমযানে অনেককে দেখা যায় কোনো প্রকার ওযর ছাড়াই বসে বসে তারাবীহর নামায আদায় করে। হযরতের কাছে আমি জানতে চাচ্ছি যে, কোনো ওযর ছাড়াই তারাবীহ বসে পড়া জায়েয আছে কি?

বিতিরের নামায পড়ার পর তারাবীহ পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২৮১) : গত রমযানে একদিন এশার পরবর্তী দুই রাকাত সুন্নাত আদায় করার পর রমযানের কথা স্মরণ না থাকায় গতানুগতিকভাবে আমি ভুলে বিতিরও পরে ফেলি। বিতির শেষ হওয়ার পর তারাবীহ শুরু হলে আমার রমযানের কথা স্মরণ হয়। কিন্তু তখন আমার সংশয় হতে থাকে যে, তারাবীহ তো বিতিরের আগে পড়তে হয়। আমি তো বিতির পড়ে ফেলেছি, এখন কি আমার তারাবীহ হবে? এই দোদুল্যমান অবস্থা নিয়েই আমি তারাবীহ আদায় করি। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, আমার উক্ত তারাবীহ কি শুদ্ধ হয়েছে? না হলে এখন আমার করণীয় কি?

ইমাম সাহেব বসে তারাবীহর ইমামতি করলে তার পিছনে ইক্তিদা করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২৫৫) : গত রমযানে একদিন আমাদের মসজিদের হাফেজ সাহেব হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যান। অসুস্থতার কারণে তিনি বসেবসেই রুকু-সিজদার সাথে তারাবীহর ইমামতি করেন। এবং আমাদেরকে উনার পিছনে দাঁড়িয়েই ইক্তিদা করতে বলেন। উনার কথা মত আমরা দাঁড়িয়েই ইক্তিদা করি। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে আমার বেশ সংশয় হচ্ছে। তাই জানতে চাচ্ছি যে, এভাবে বসে ইমামতি করা ও তার পিছনে ইক্তিদা করা কি জায়েয আছে? এবং আমাদের ঐ দিনের তারাবীহ কি সহিহ হয়েছে?

তারাবীর নামায সংক্রান্ত দুটি প্রশ্ন।

প্রশ্ন (১২২৫১) : ১. তারাবীর নামাযে চার রাকাত পর পর মুসল্লীরা নিম্নোক্ত দুআ- سُبْحَانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ، سُبْحَانَ ذِي الْعِزّةِ وَالْعَظمَةِ ... পড়ে থাকেন। এ সময় আসলে কী করণীয়? এ দুআ পড়বে নাকি ভিন্ন কোনো দুআ পড়বে? এ দুআ পড়ার অবকাশ আছে কি? ২. মাঝে মাঝে এমন হয় যে, দেরি করে আসার কারণে ইশার নামায শেষ করে তারাবীতে শরীক হতে হতে ৪/৬ রাকাত হয়ে যায়। ২০ রাকাত পড়ানোর পর ইমাম সাহেব বিতিরের জন্য দাঁড়িয়ে যান। তখন আমার কী করণীয়? তারাবীর বাকি রাকাতগুলো পড়তে গেলে বিতির ছুটে যাওয়ার আশংকা হয়। জানিয়ে বাধিত করবেন।