বিতর নামাযে দুআ কুনুত না পড়ে রুকুতে চলে গেলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৮৩১) : গত রমযানে একদিন আমি বিতর নামায পড়াতে গিয়ে ভুলবশত দুআয়ে কুনূত না পড়ে রুকুতে চলে যাই। পেছন থেকে সাথে সাথে একজন লোকমা দিলে আমি তৎক্ষণাৎ উঠে দুআয়ে কুনূত পড়ি এবং নামায শেষে সাহু সিজদা দেই। সালামের পর মুসল্লিদের কেউ কেউ বলল, সাহু সিজদা দেওয়ার প্রয়োজন ছিল না। কারণ আমাদের দুআয়ে কুনূত ছুটেনি এবং রুকুতে গিয়েও তিন তাসবীহ পরিমাণ বিলম্ব হয়নি। হুজুরের কাছে জানতে চাই, তাদের কথা কি ঠিক? আমার জন্য কি সিজদায়ে সাহু করা ঠিক হয়েছে?

বিতরের নামাযে মাসবুক হলে ছুটে যাওয়া রাকাত কিভাবে আদায় করবে?

প্রশ্ন (১৩৮০৮) : এবার রমযানে একদিন আমি বিতরের তৃতীয় রাকাতে ইমামের সাথে শরিক হই এবং ইমামের সাথে দুআয়ে কুনূতও পড়ি। পরে যখন বাকি নামায একাকী আদায় করি তখন তৃতীয় রাকাতে গিয়ে সংশয়ে পড়ে যাই যে, আবার দুআয়ে কুনূত পড়তে হবে কি না? পরে না পড়েই নামায সমাপ্ত করি। জানার বিষয় হল, এভাবে নামায আদায় করাতে আমার নামায শুদ্ধ হয়েছে কি?

বিতরের নামাযে দুআ কুনুতের পর দরূদ শরিফ পড়ার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩৬২৭) : আমি একটি কিতাবে পড়েছি, বিতরের নামাযে দুআ কুনূতের পর দরূদ শরিফ পড়া মুস্তাহাব এবং ঐ সময়ে দরূদ শরিফ পড়লে শেষ বৈঠকে দরূদ শরিফ পড়তে হবে না। জানতে চাই, উক্ত বিতাবের কথা কি সঠিক?

বিতরের নামাযে কোন দুআ কুনুত পড়তে হবে?

প্রশ্ন (১৩৫৭০) : বিতর নামাযে কোন দুআ কুনূত পড়ব? অনেকে বলে, আমরা যে দুআ কুনূত পড়ি- )اللَّهُمَّ إِنَّا نَسْتَعِينُكَ وَنَسْتَغْفِرُكَ وَنُؤْمِنُ بِكَ وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْكَ وَنُثْنِي عَلَيْكَ الْخَيْرَ وَنَشْكُرُكَ وَلاَ نَكْفُرُكَ، وَنَخْلَعُ وَنَتْرُكُ مَنْ يَفْجُرُكَ، اللَّهُمَّ إِيَّاكَ نَعْبُدُ، وَلَكَ نُصَلِّي وَنَسْجُدُ، وَإِلَيْكَ نَسْعَى وَنَحْفِدُ، نَرْجُو رَحْمَتَكَ وَنَخْشَى عَذَابَكَ، إِنَّ عَذَابَكَ بِالْكُفَّارِ مُلْحِقٌ ( সেটি সঠিক নয়। তারা অপর একটি দুআ কুনূত পড়তে বলে। আসলে কোনটি সঠিক?

বিতিরের নামাযের পর কি নফল নামায পড়া যাবে?

প্রশ্ন (১৩৫৩১) : অনেককে দেখি, বিতির নামাযের পর বসে বসে দু’ রাকাত নামায পড়ে। কাউকে কাউকে আবার এ নামাযকে বিভিন্ন নামেও অভিহিত করতে শুনেছি। জানার বিষয় হল, এটা আসলে কী নামায? এ নামায কি সহিহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত?

বিতরের নামাযের তৃতীয় রাকাতে ইমাম সাহেবকে পেলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৪৩৩) : রমযান মাসে আমি একদিন তারাবীর নামায শেষ করে ইস্তিঞ্জার প্রয়োজনে মসজিদ থেকে বের হই। অযু করে ফিরে এসে আমি ইমাম সাহেবকে বিতরের তৃতীয় রাকাতে পাই। আমি তখন জামাতে শরিক হই। ইমাম সাহেব যখন তাকবীর বলে দুআ কুনূত পড়েন তখন আমিও তার সাথে দুআ কুনূত পড়ি। এরপর ইমাম সাহেব তৃতীয় রাকাত শেষ করে সালাম ফিরালে আমি দাঁড়িয়ে অবশিষ্ট দু রাকাত পূর্ণ করি। তাতে পুনরায় আর দুআ কুনূত পড়িনি। নামায শেষে একজন ব্যক্তি আমাকে বলল, আপনার নামায আদায় হয়নি। কেননা প্রথমবার আপনি যখন ইমামের সাথে দুআ কুনূত পড়েছেন তা ছিল আপনার প্রথম রাকাত। তাই আপনার তৃতীয় রাকাতে দুআ কুনূত পড়া আপনার জন্য ওয়াজিব ছিল। সুতরাং ইচ্ছাকৃত ওয়াজিব ত্যাগ করার কারণে আপনার নামায নষ্ট হয়ে গেছে। হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, ঐ ব্যক্তির কথা কি ঠিক আছে?

বিতরের নামাযে রাকাত সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ হলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৩৪৮) : একদিন বিতরের নামাযে আমি রাকাত সংখ্যা ভুলে যাই। সঠিক মনে করতে পারছিলাম না যে, আমি দুই রাকাত পড়েছি নাকি তিন রাকাত পড়েছি। তখন ঐ রাকাতকে দ্বিতীয় রাকাত ধরেই নামায শেষ করেছি। তাই ঐ রাকাতে কুনূত না পড়ে পরের রাকাতে পড়েছি। এবং শেষ বৈঠকে সাহু সেজদা করেছি। এতে আমার নামায সহিহ হয়েছে কি ?

দুআ কুনুত না জানলে বিতরের নামাযে কোন দুআ পড়বে?

প্রশ্ন (১৩০৭৬) : আমার ছেলে দশ বছর বয়স থেকেই নামায পড়ে। অল্প কিছু সূরা আর নামাযের অন্যান্য দুআ-দরূদ পারলেও এখনো দুআ কুনূত মুখস্থ করতে পারেনি। জানতে চাই, ও কীভাবে বিতরের নামায পড়বে? একজন বলেছে, দুআ কুনূতের জায়গায় তিনবার সূরা ইখলাস পড়বে। এ বিষয়ে সঠিক মাসআলা জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

বিতরের নামাযের দুআ কুনুত না জানলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩০০৪) : এক ব্যক্তি ‘আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতায়িনুকা’ দুআটি জানে না। তবে সে চাইলে শিখতে পারে। কিন্তু সে তা শেখার জন্য চেষ্টাও করে না। এমতাবস্থায় বিতর নামাযে অন্য কোনো দুআ পড়লে তার নামায সহিহ হবে কি?

রমজান মাসে কি বিতির নামাযের সব রাকাতেই জোরে কেরাত পড়তে হবে?

প্রশ্ন (১২৯৮৭) : রমযানে বিতিরের নামাযের প্রত্যেক রাকাতে জোরে কেরাত পড়তে হবে নাকি শুধু প্রথম দুই রাকাতে? ছোটদের জন্য লেখা একটি বইয়ে শুধু প্রথম দুই রাকাতে জোরে কেরাত পড়ার কথা বলা হয়েছে। এ বক্তব্যটি কি সঠিক? আশা করি দলীল-প্রমাণসহ বিস্তারিত জানিয়ে কৃতার্থ করবেন।

বিতির নামায পড়ার পর কি নফল নামায আদায় করা নিষেধ?

প্রশ্ন (১২৮৯৯) : বিতির নামাযের পর নফল নামায পড়া যাবে কি? অনেকে বলে, এশার নামাযের পর বিতির নামায পড়ে কোনো নফল পড়া যায় না। এই কথা কি ঠিক? দয়া করে দলিলসহ জানাবেন।

দুআয়ে কুনূত না পারলে কি সূরা ইখলাস পড়া যাবে?

প্রশ্ন (১২৫৬৭) : এক আলেমকে বলতে শুনেছি, কেউ যদি দুআয়ে কুনূত না পারে তাহলে সে ঐ সময় তিনবার সূরা ইখলাস পড়ে নিবে। হযরতের কাছে আমার প্রশ্ন হল, তার উক্ত কথা কি ঠিক আছে?

বিতির নামাযে ইমাম সাহেব ভুলে দুআ কুনুত না পড়ে রুকুতে চলে গেলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২৪৩৯) : বিতিরের নামাযে ইমাম সাহেব ভুলে দুআ কুনূত না পড়েই রুকুতে চলে যান। মুক্তাদীগণ লোকমা দিলে রুকু বাদ দিয়ে আবার দাঁড়িয়ে যান। এরপর দুআ কুনূত পড়ে যথারীতি বাকি নামায শেষ করেন। এতে এক রাকাতে দুই রুকু হয়ে যায়। উক্ত নামায কি সহিহ হয়েছে? এক আলেম বলেছেন, নামায সহিহ হয়নি। সঠিক মাসআলাটি জানালে উপকৃত হতাম।

মুসল্লি ইমাম সাহেবকে বিতির নামাযের তৃতীয় রাকাতে পেলে বাকি নামায কিভাবে আদায় করবে?

প্রশ্ন (১২৩৮০) : রমযান মাসে একদিন বিতির নামাযের তৃতীয় রাকাতে ইমামের সাথে রুকুতে শরীক হই। ফলে দুআ কুনূত পড়ার আর সুযোগ হয়নি। এমতাবস্থায় ছুটে যাওয়া নামায আদায় করার সময় শেষ রাকাতে আমার কী করণীয়? আমি কি দুআ কুনূত পড়ব, না পড়ব না? কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করেছি। একেকজন একেকরকম বলেছে। ফলে বিষয়টি আমার কাছে অস্পষ্ট হয়ে গেছে। তাই সঠিক মাসআলাটি জানালে কৃতজ্ঞ হব।

বিতিরের নামাযে মাসবুক হলে কিভাবে তা আদায় করব?

প্রশ্ন (১২২৫৯) : রমযান মাসে একদিন খতম তারাবীর ২০ রাকাত শেষ হওয়ার পর আমি ইস্তিঞ্জায় যাই। অযু করে এসে ইমামের সাথে বিতিরের দুই রাকাত পাই। কিন্তু ভুলবশত অবশিষ্ট এক রাকাত পড়ার সময় দুআয়ে কুনূত না পড়েই নামায শেষ করে ফেলি। ইমাম সাহেবকে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, নামায হয়ে গেছে। জানার বিষয় হল, তিনি কি সঠিক বলেছেন? ইমামের সাথে যে রাকাতে আমি দুআয়ে কুনূত পড়েছি সেটা আমার দ্বিতীয় রাকাত ছিল। এমতাবস্থায় কি আমার নাযায সহিহ হয়েছে?