ইমাম ও ইমামতি সংক্রান্ত

ইমাম সাহেব মেহরাব ছেড়ে প্রথম কাতারে দাঁড়ালে কোনো অসুবিধা আছে কি?

প্রশ্ন (১২৬৬৬) : আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব কিছুদিন যাবৎ মেহরাব ছেড়ে এক কাতার পিছনে দাঁড়ান। আর মুসল্লিরা মসজিদের দ্বিতীয় কাতারে দাঁড়ান। বেশ কয়েকদিন যাবৎ এভাবে নামায পড়া হচ্ছে। কিন্তু গত দুদিন আগে এক আগন্তুক বললেন, এভাবে নামায পড়ে তো আপনারা হাদিসে বর্ণিত প্রথম কাতারের ফযীলত থেকে মাহরূম হচ্ছেন। কেননা এটা তো দ্বিতীয় কাতার; প্রথম কাতার নয়। তাই বিষয়টি নিয়ে বেশ দ্বিধায় আছি। তাছাড়া এ কথা শোনার পর অনেক মুসল্লি ইমাম সাহেবকে দোষারোপ করছে। তাই হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, হাদিস শরিফে যে প্রথম কাতারের ফযীলত বর্ণিত হয়েছে, এর দ্বারা কোন প্রথম কাতার উদ্দেশ্য? এবং প্রশ্নোক্ত অবস্থায় আমরা যে নামাযগুলো পড়েছি, তাতে প্রথম কাতারের ছাওয়াব পাব কি না? দয়া করে দলীলসহ বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

নাবালেগের পিছনে নামায আদায় করলে সহিহ হবে কি?

প্রশ্ন (১২৬১৫) : আমাদের টুপির একটি গার্মেন্ট আছে। আল্লাহর রহমতে সেখানে চার ওয়াক্ত নামায জামাতের সাথে আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। একজন নির্দিষ্ট ইমামও আছেন। ইমামের অনুপস্থিতে আমি নামায পড়াই। ঘটনাক্রমে একদিন উভয়ে অনুপস্থিত ছিলাম তখন আমার ফুফাতো ভাই ইমামতি করে। আর সে হল মক্তবের ছাত্র, এখনো বালেগ হয়নি। আর উপস্থিত সকলেই নামায সম্পর্কে এতটাই অজ্ঞ যে, তারা কেউই ইমামতির দায়িত্ব পালনে সম্মত হচ্ছিল না, বিধায় অপারগ হয়ে আমার ফুফাতো ভাই নামায পড়ায়। এখন আমার জানার বিষয় হলো, তাদের নামায কি সহিহ হয়েছে? জানতে পারলে উপকৃত হব।

ইমামের পিছনে মুসল্লিরা কিভাবে দাঁড়াবে?

প্রশ্ন (১২৪৪৭) : আমরা ভার্সিটিতে মাঝে মাঝে নিজেরা জামাত করি। একদিন নামাযের জন্য কাতার করে দাঁড়ানোর সময় এক সাথী বললেন, প্রথম কাতারে যারা আছি তাদের ইমামের পিছনেই দাঁড়াতে হবে এটা আবশ্যক না। ইমামের পাশে ডানে বামে দাঁড়ালেও চলবে। আরেক সাথী বললেন, না, এভাবে দাঁড়ালে হবে না। ইমামকে সামনে এগিয়েই দাঁড়াতে হবে। যাই হোক আমরা আর কথা না বাড়িয়ে প্রথমোক্ত সাথীর কথামতো ইমামের থেকে এক কদম সরে ডানে ও বামে তিনজন করে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করি। আর বাকি সাথীরা আমাদের পিছনে আরেক কাতারে। এখন জানার বিষয় হল, এইভাবে কাতার করে দাঁড়ালে কি নামায শুদ্ধ হবে? নাকি ইমামের একদম পিছনে কাতার করা বাধ্যতামূলক? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

ছোট বাচ্চা বা পরিবারের নারী সদস্যদের নিয়ে জামাতে নামায আদায় করার ক্ষেত্রে দাঁড়ানোর পদ্ধতি কী হবে?

প্রশ্ন (১২৪২৭) : বাসায় জামাত করে নামায আদায়ের সময় অনেক ক্ষেত্রে আমার সঙ্গে শুধু আমার ভাই ও আমার বোন থাকে। অনেক সময় কেবল আমার স্ত্রী ও আমার ছোট বাচ্চা। তো এধরনের ক্ষেত্রে জামাতে নামায আদায়ের জন্য দাঁড়ানোর পদ্ধতি কী হবে? জানালে উপকৃত হব।

ভ্রান্ত আকীদার অনুসারী বিদআতী ব্যক্তি নামাযের ইমামতি করতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২৪২১) : গত ঈদে আমি চাচার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। আলোচনার একপর্যায়ে চাচা বললেন, তোমাকে একটা বিষয় বলে রাখছি। তা হল, আমার জানাযার নামায বড় ছেলে রাশেদ পড়াবে। সে যদি না পড়ায় তাহলে তুমি পড়াবে। উল্লেখ থাকে যে, আমার জানা মতে রাশেদ ভাইয়ের কুরআন পড়া সহিহ-শুদ্ধ নয় এবং সে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাযও পড়ে না। এমনকি তার দাড়িও নেই এবং সে দেওয়ানবাগীর মুরিদ ও তার আকীদার প্রচারক। এমতাবস্থায় আমার জানার বিষয় হল- ১. ইমাম হওয়ার জন্য কী কী গুণাগুণ বা বৈশিষ্ট্য থাকা প্রয়োজন? ২. সে জানাযার নামায পড়াতে পারবে কি না? ৩. তার ইমামতি যদি জায়েয না হয় তাহলে জানাযায় উপস্থিত হাফেজ আলেম ও সাধারণ দ্বীনদার শ্রেণীর করণীয় কী হবে? কুরআন-সুন্নাহর আলোকে দলীল-প্রমাণসহ দিকনির্দেশনাদানে জনাব মুফতী সাহেবের প্রতি বিনীত অনুরোধ রইল।

মুক্তাদীর ভুলের কারণে ইমাম বা মুক্তদী কারো উপর কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে?

প্রশ্ন (১২৪১০) : একদিন আমি জামাতের সাথে এশার নামায পড়ছিলাম। প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের পর ভুলে দরূদ শরীফ অর্ধেকের বেশি পড়ে ফেলি। ইমাম সাহেব তৃতীয় রাকাতের তাকবীর বলার পর স্মরণ হয় যে, আমি প্রথম বৈঠকে আছি। তারপর যথারীতি ইমামের সাথে নামায শেষ করি। জানার বিষয় হল, উক্ত ভুলের কারণে কি আমার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছিল? এবং সাহু সিজদা না করার কারণে কি ওই নামায পুনরায় পড়তে হবে?

রুকু-সিজদায় মুক্তাদী তাসবীহ শেষ করার আগে ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২৩৩৭) : আমি একজন বয়স্ক মানুষ। ইমামের একেবারে সাথে সাথে উঠা-বসা করতে অনেক কষ্ট হয়। তাই অনেকসময় রুকু-সিজদার তাসবীহ তিন বার পড়ার আগেই ইমাম সাহেব তাকবীর বলে উঠে যান। এমতাবস্থায় আমি কি তাসবীহ তিন বার পূর্ণ করে উঠব নাকি তিন বার পূর্ণ না হলেও ইমাম সাহেব তাকবীর বললে উঠে যাব?

আযান ইকামত কি একই ব্যক্তি দেওয়া আবশ্যক?

প্রশ্ন (১২৩০০) : আমাদের মাদরাসার মসজিদের জন্য মুআযযিন নির্ধারিত আছে। মুআযযিন ঐ মাদরাসারই ছাত্র। সাধারণত মুআযযিনই আযান দেন। কিন্তু ইকামতের সময় অনেক সময় মাদরাসার মুহতামিম সাহেব ইকামত দেন। প্রায় ২/৩ ওয়াক্তে তিনিই ইকামত দেন। এটা নিয়ে কিছু মুসল্লী কানাঘুষা শুরু করে। জানার বিষয় হল, একজনে আযান দেওয়া অন্যজনে ইকামত দেওয়ার বিধান কী?

ইমাম সাহেব কি মেহরাবের ভিতরে দাঁড়াবে নাকি মেহরাবের বাহিরে দাঁড়াবে?

প্রশ্ন (১২২৫৭) : ইমাম সাহেব নামায পড়ানোর সময় মসজিদের অংশে না দাঁড়িয়ে কেবলমাত্র মেহরাবের ভেতরে দাঁড়িয়ে নামায পড়ালে নামায হবে কি? শুনেছি ইমাম সাহেব নামায পড়ানোর সময় মসজিদের অংশেই দাঁড়াতে হয়। এক্ষেত্রে সঠিক বিষয়টি জানালে উপকৃত হব।

একাকী নামায পড়া অবস্থায় কেউ পিছনে এসে ইকতেদা করলে করণীয় কি?

প্রশ্ন (১২১৪৫) : একদিন আমি মাদরাসায় একাকী ফযরের নামায পড়ছিলাম। সেখানে দু’জন ছাত্র এসে আমার পিছেনে ইকতেদা করে। আমি একাকী নামায আদায়কারী ব্যক্তি যেভাবে নামায পড়ে সেভাবেই নামায শেষ করি। নামায শেষে এদের একজন বলল, আপনার জন্য উচ্চ স্বরে কিরাত পড়া জরুরি ছিল। প্রশ্ন হল, এক্ষেত্রে সঠিক নিয়মটা কী? কেউ যদি উঁচু আওয়াজে না পড়ে, তাহলে কি তার নামায হবে?

কোনো মহিলা কি ইমামতি করতে পারবে?

প্রশ্ন (১২১৪২) : আমার মেয়ে এ বছর হিফয শেষ করেছে। আমরা কয়েকজন মহিলা মিলে নিয়ত করেছি, আমার মেয়ের পেছনে খতম তারাবীহ পড়ব। যাতে ওর হিফ্জ মজবুত হয়ে যায় এবং আমাদেরও খতম হয়ে যায়। কিন্তু আমার এক ভাশুর বলেছেন, মহিলাদের পেছনে তারাবীহ পড়া যায় না। এ বিষয়ে সঠিক মাসআলাটি জানালে উপকৃত হতাম।

ইমাম সাহেব ভুলে প্রথম বৈঠকে না বসে দাঁড়িয়ে গেলে করণীয় কি?

প্রশ্ন (১২১২১) : একদিন যোহরের নামাযের ইমাম সাহেব মসজিদে ছিলেন না। তখন মুসল্লিদের থেকে একজন নামায পড়ালেন। তিনি ভুলক্রমে প্রথম বৈঠক না করেই তৃতীয় রাকাতে দাঁড়িয়ে গেলেন। পেছন থেকে লোকমা দিলেও তিনি বসলেন না এবং শেষে সাহু-সিজদা করে নামায শেষ করেন। তো আমি জানতে চাচ্ছি, আমাদের উক্ত নামায কি সহিহ হয়েছে ?

ভুলে ওযু ছাড়া নামায পড়ানোর পর মনে পড়লে করণীয়।

প্রশ্ন (১২০৯১) : আমি একটি মসজিদে ইমামতি করি। গতকাল এশার নামাযের সময় আমার ওযু আছে মনে করে নামায পড়িয়ে দেই। নামাযের পর মুসল্লীরা সবাই যখন যার যার বাড়িতে চলে যায় তখন আমার মনে পড়ে, আমি তো ওযু ছাড়াই নামায পড়িয়ে দিয়েছি। হযরতের কাছে জানতে চাই, এ অবস্থায় আমাদের জন্য করণীয় কী?

ইমাম সাহেবের জন্য মেহরাবের ভিতরে দাঁড়িয়ে নামায পড়ার হুকুম কী?

প্রশ্ন (১২০৭০) : বর্তমানে অধিকাংশ মসজিদেই দেখা যায় ইমাম সাহেব মেহরাবের ভিতরে দাঁড়িয়ে নামায পড়ান। আমি জানতে চাচ্ছি, ইমাম সাহেবের জন্য মেহরাবের ভিতরে দাঁড়িয়ে নামায পড়ার হুকুম কী?

একই ব্যক্তি ইমাম ও মুআযযিন হলে কোনো অসুবিধা আছে?

প্রশ্ন (১২০৫৯) : আমাদের এলাকার মসজিদগুলোতে সাধারণত মুআযযিন থাকে না; বরং ইমাম সাহেবই আযান দিয়ে থাকেন। শরীয়তের দৃষ্টিতে এটা কেমন? আর এক্ষেত্রে ইকামত দেবে কে? ইমাম নিজেই, না অন্য কোনো মুসল্লি? সাধরণত দেখা যায়, ইমাম যাকে বলে সে কিংবা নিয়মিত মুসল্লিদের মধ্যে থেকে কোনো একজন ইকামত দিয়ে থাকে।

ইমামের ইক্তিদা সম্পর্কে দুটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২০০৪) : নামায সম্পর্কে আমার কয়েকটি বিষয় জানার ছিল। ১. প্রত্যেক ওঠা-বসার সময় মুক্তাদী কি ইমামের সাতে সব তাকবীর বলবে? ২. মাসবুক ব্যক্তি ইমামের সাতে প্রথম বৈঠকে শরিক হলে কি তাশাহ্হুদ পাঠ করবে?

ইমাম সাহেব প্রথম বৈঠকে না বসে দাঁড়িয়ে গেল করণীয়।

প্রশ্ন (১১৮৯০) : ইমাম সাহেব মাগরিবের নামাযে প্রথম বৈঠক না করে দাঁড়িয়ে যান। মুক্তাদীরা পেছন থেকে লোকমা দিলে ইমাম সাহেব বসে যান। তারপর নামায শেষে সাহু-সিজদা করেন। নামাযের পরে কয়েকজন মুসল্লি বলল, ইমাম সাহেবের দাঁড়ানো থেকে বসে যাওয়াটা ঠিক হয়নি। এতে নামায নষ্ট হয়ে গেছে। আমি জানতে চাচ্ছি, আসলেই কি আমাদের ওই নামায নষ্ট হয়ে গেছে, নাকি সহিহ হয়েছে?

সহশিক্ষার প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত ব্যক্তি ইমাম হওয়ার যোগ্য হবে কি

প্রশ্ন (১১৮৪৫) : আমাদের মসজিদে এক ব্যক্তিকে ইমাম হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার চেষটা চলছে। উক্ত ব্যক্তি এমন এক প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে যেখানে সহশিক্ষা চালু আছে। জানতে চাচ্ছি, এমন ব্যক্তি ইমাম হওয়ার উপযুক্ত কি?

মুসাফির ব্যক্তি মুকিমের পিছনে ইকতিদা করলে কত রাকাত আদায় করবে?

প্রশ্ন (১১৬৯৯) : আমার বাড়ি যশোর। মাঝে মাঝে ব্যক্তিগত কাজে আমার ঢাকা যেতে হয়। যাত্রাপথে ড্রাইভার নামাযের বিরতি দেয়। তখন মসজিদে জামাত হলেও আমি এই ভেবে জামাতে শরিক হই না যে, ইমাম সাহেব মুকিম, তাই তিনি চার রাকাত নামায পড়াবেন। আর আমি তো মুসাফির, আমার উপর দুই রাকাত ওয়াজিব। তো আমার এই ভাবনা কি ঠিক আছে?