উমরাহ

কেউ তাওয়াফে বিদা না করে চলে দেশে চলে আসলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৮১৬) : আমার এক বন্ধু তাওয়াফে বিদা না করে দেশে চলে এসেছে। এখন তার কী করণীয়? আগামী রমযানে সে ওমরায় যাওয়ার নিয়ত করেছে। তখন কি ঐ তাওয়াফে বিদা আদায় করার সুযোগ আছে? বিস্তারিত জানাবেন।

কাবা শরিফ দেখলে কি হজ্ব ফরয হয়ে যায়?

প্রশ্ন (১৩৭৭৫) : আমাদের দেশে কারো কারো থেকে শোনা যায় কাবা শরিফ দেখা মাত্রই নাকি হজ্ব ফরয হয়ে যায়। এই কথা কি সঠিক? আর উমরাতে যারা যান তাদের জন্য কি হজ্ব করা ফরয? যদি তার সামর্থ্য না থাকে তাহলে তার কী করণীয়?

ইহরাম থেকে হালাল হওয়ার সময় নিজের মাথা মুন্ডানোর আগে অন্যের চুল কেটে দেওয়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩৭৬২) : আমি আমার বোনকে নিয়ে হজ্বে যাই। মক্কায় পৌঁছার পর ওমরার তাওয়াফ ও সায়ী আদায় করি। এরপর মাথা মুণ্ডিয়ে হালাল হওয়ার সময় প্রথমে আমি আমার বোনের চুল কেটে দিই। এরপর নিজের মাথা মুণ্ডন করি। আমার এ কাজের কারণে কি আমাকে কোনো জরিমানা আদায় করতে হবে?

হজ্বে যাওয়ার আগ মুহূর্তে কোনো মহিলার স্বামী মারা গেলে তার জন্য করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৭৫০) : গত বছর আমার আব্বা-আম্মার হজ্ব করার ইচ্ছা ছিল এবং টাকাও জমা দিয়েছিলেন। হঠাৎ রমযান মাসের শেষ দিকে আব্বা মারা যান। এ অবস্থায় আমার আম্মার হজ্বে যাওয়ার হুকুম কী? এক্ষেত্রে তার জন্য ইদ্দত পালন করাই জরুরি, না হজ্বে যাওয়া?

মসজিদে নববী থেকে ইহরাম বাঁধলে কি সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৭৪৭) : আমি ঢাকা থেকে সরাসরি মদীনা শরীফ গিয়ে রাসূল (সা.)-এর রওজা মুবারক যিয়ারতের উদ্দেশ্যে ২/৩ দিন অবস্থান করি। তারপর আমি মসজিদে নববী থেকে ওমরার নিয়তে ইহরাম বেঁধে মক্কা শরীফে ওমরার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করি। তো গাড়িতে উঠার পর বাঙ্গালী ড্রাইভার আমাকে বলল, মদীনা থেকে ওমরার নিয়ত করলে হবে না। জুল হুলাইফা মসজিদ থেকে ওমরার নিয়ত করতে হবে। আমি তৎক্ষণাৎ বাংলাদেশের দুইজন বড় আলেমের সাথে ফোনে যোগাযোগ করে দুইজনের দুই রকম মতামত পাই। যেমন, একজন বললেন, যেহেতু মদীনা শরীফ ও মসজিদে নববী মীকাতের আগে তাই আপনার ওমরার নিয়ত করা ঠিক আছে। কিন্তু অন্যজন বললেন, যেহেতু রাসূল (সা.) মদীনা শরীফ থেকে ওমরার ইহরাম বাঁধেন তাই আপনাকে জুল হুলাইফা মসজিদে এসেই ওমরার নিয়ত করতে হবে। এমতাবস্থায় কোনটি সঠিক?

উমরার তাওয়াফ করার আগেই কোনো মহিলার স্রাব চলে আসলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৫৫৩) : আমার ভাবি উমরাহ করতে যায়। কিন্তু উমরার তাওয়াফ করার আগেই তার মাসিক স্রাব এসে যায়। পাঁচ দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও স্রাব বন্ধ হয়নি। এদিকে সফরের আর মাত্র দুই দিন বাকি। দুই দিন পরই দেশে চলে আসতে হবে। এখন তার করণীয় কী? মাসআলাটি বিস্তারিত জানতে চাই।

মাথা থেকে কয়েকটা চুল কাটলে কি ওমরার ইহরাম থেকে হালাল হওয়া যাবে?

প্রশ্ন (১৩৪৯২) : এক ব্যক্তি ওমরার ইহরাম করে তাওয়াফ সায়ী করেছে। এরপর সে মাথার দুই তিন স্থান থেকে তিন/ চারটা চুল কেটে নেয় এবং পুনরায় মসজিদে আয়েশা থেকে ওমরার ইহরাম করে আরেকটি ওমরা আদায় করে এবং শেষে মাথা মুণ্ডিয়ে নেয়। এ ব্যক্তির পূর্বের ওমরা এবং পরের ওমরার কী হুকুম?

ইহরাম অবস্থায় আতর মাখলে কি জরিমানা ওয়াজিব হবে?

প্রশ্ন (১৩৩৮৫) : রমযান মাসে আমি ওমরা করেছি। আমি যখন ওমরার তাওয়াফ করছিলাম তখন মাতাফের এক পাশে এক ব্যক্তি আতরের শিশি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলো। সে আমার শরীরে আতর মেখে দেয়। তাওয়াফ শেষ করে শরীর ও কাপড়ের যে অংশে আতর লেগেছিল সে অংশ ভালোবাভে ধুয়ে ফেলি। হুজুরের কাছে জানার বিষয় হল, এভাবে অন্য কেউ শরীরে আতর লাগিয়ে দেয়ার কারণে আমার উপর কোনো জরিমানা ওয়াজিব হয়েছে কি?

ইহরাম অবস্থায় হায়েয চলে আসলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩২৪৬) : আমি আমার স্বামীর সাথে হজ্বে যাই। ওখানে পৌঁছার পর উমরার তাওয়াফ করার আগেই আমার মাসিক স্রাব শুরু হয়ে যায়। কিন্তু তখন তা আমি পুরো বুঝতে পারিনি। তাওয়াফ সায়ী শেষ করার পর পুরোপুরি নিশ্চিত হলাম যে, তাওয়াফের আগেই আমার মাসিক শুরু হয়েছিল। এরপর আমি আমার মাথার চুল ছোট করে হালাল হয়ে যাই। পরে একজন আলেমকে ব্যাপারটি জানালে তিনি বলেন, এখন পবিত্র অবস্থায় তাওয়াফটি করে নিতে। তাহলে আর কোনো জরিমানা দিতে হবে না। নতুবা একটি দম দিতে হবে। কিন্তু একজন সন্দেহ পোষণ করছেন যে, এখন তো আমি উমরার সব কাজ শেষ করে হালাল হয়ে গেছি। এখনো আমার এ সুযোগ আছে কি না? তাই এক্ষেত্রে সঠিক মাসআলা কী তা জানতে চাই। এখন ওই তাওয়াফ পুনরায় আদায় করলে কি জরিমানা মাফ হয়ে যাবে এবং এক্ষেত্রে সায়ীও কি আবার আদায় করতে হবে? বিস্তারিত জানতে চাই।

মদীনা যিয়ারতের পর ইহরাম ছাড়া মক্কায় এসে দেশে চলে আসলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩১৯৫) : হজ্বের পর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে মদীনায় গিয়েছিলাম। এরপর সেখান থেকে ইহরাম না বেঁধেই মক্কায় চলে এসেছি। এবং দেশেও চলে এসেছি। এখন উপায় কী?

মাহরাম ছাড়া ওমরাহ করলে কি ওমরাহ আদায় হবে?

প্রশ্ন (১৩১৬৪) : কিছুদিন আগে আমি আমার বয়স্ক চাচাতো ভাই ও চাচীর সাথে ওমরার সফরে গিয়েছিলাম। যেহেতু চাচী সার্বক্ষণিক সাথেই থাকবেন এবং ছিলেনও, তাই ভেবেছি চাচাতো ভায়ের সাথে সফর করতে দোষ নেই। তাছাড়া অনেকে এমনটা বলেছিলো। কিন্তু মাদরাসা পড়ুয়া আমার ভাগিনা বলেছে আমাদের সফর করা ঠিক হয়নি। আবার কিছু কিছু লোক বলেছেন কোনো অসুবিধা নেই। বিষয়টা দলীলসহ জানতে চাই?

সাঈ করার সময় চক্কর ছুটে গেলে কি কোনো জরিমানা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১৩১৬১) : আমার এক প্রতিবেশী ওমরা করার সময় সাঈতে ছয় চক্কর দিয়েই মাথা মুন্ডিয়ে হালাল হয়ে যায়। এরপর সে আর সাঈর বাকি চক্কর পূর্ণ করেনি। এভাবেই দেশে চলে আসে। প্রশ্ন হল, তার ওমরা সহিহ হয়েছে কি? সহিহ না হলে তার করণীয় কী? আর যদি সহিহ হয়ে থাকে তাহলে তার উপর কোনো জরিমানা ওয়াজিব হয়েছে কি? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

ভুলে উমরার সায়ী না করে মাথা মুন্ডিয়ে হালাল হয়ে গেলে কি তার উমরাহ সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২৯৪৫) : আমাদের কাফেলার এক ব্যক্তি ভুলে উমরার সায়ী না করে মাথা মুন্ডিয়ে হালাল হয়ে যায়। স্মরণ হওয়ামাত্রই হেরেমে গিয়ে সায়ী করে নেয়। জানতে চাই, তার এই উমরা কি সহিহ হয়েছে? যদি না হয়ে থাকে তাহলে করণীয় কী?

কিরান হজ্বের ইহরাম বাঁধার পর কোনো কারণে হজ্বে যেতে না পারলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২৯০৮) : ইদানিং হজ্বের মওসুমে হজ্বযাত্রীদের অনেকে হজ্ব এজেন্সী কর্তৃক বিড়ম্বনার শিকার হন। তাদের মধ্যে কারো কারো বেলায় এমনও ঘটে যে, ইহরাম বেঁধে ফ্লাইটের দোরগোড়ায় যাওয়ার পর ফেরত আসতে হয়। এখন জানার বিষয় হল, কেউ কিরান হজ্বের ইহরাম বাঁধার পর হজ্বে যেতে না পারলে তার করণীয় কী? সে ইহরাম থেকে হালাল হবে কীভাবে? এবং পরবর্তীতে উক্ত হজ্ব কাযা করার নিয়ম কী? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

ইহরাম ছাড়া মক্কায় প্রবেশ করলে কি দম ওয়াজিব হয়?

প্রশ্ন (১২৮৯৪) : কিছুদিন আগে আমি শ্রমিক ভিসায় সৌদীআরব এসেছি। কাজ কোথায় হবে তা আগে থেকে আমার জানা ছিল না। জেদ্দায় পৌছার পর ভিসাদাতা কোম্পানি মক্কার একটি রডের দোকানে আমাকে নিয়োগ দেয়। মক্কায় পৌঁছার পর আমি জানতে পারি যে, ইহরাম ছাড়া মক্কায় প্রবেশ করা অন্যায়। ইহরাম ছাড়া মক্কায় প্রবেশ করলে নাকি জরিমানা স্বরূপ দম দিতে হয়। এখন আমি জানতে চাচ্ছি যে, এ পরিস্থিতিতে আমার করণীয় কী?

বাইতুল্লাহ দেখলে কি হজ্ব ফরয হয়ে যায়?

প্রশ্ন (১২৮৮৭) : একবার আমি একটি মাহফিলে শুনেছিলাম, কোনো দরিদ্র ব্যক্তি যদি কারো পক্ষ থেকে বদলী হজ্বে যায় তাহলে বাইতুল্লাহ দেখামাত্র তার উপর হজ্ব ফরয হয়ে যায়। তদ্রুপ কেউ যদি ওমরায় যায় তাহলেও নাকি বাইতুল্লায় পৌঁছলেই তার উপর হজ্ব ফরয হয়ে যায়। আমি জানতে চাচ্ছি, এ কথা কতটুকু সঠিক? দয়া করে সঠিক মাসআলা জানাবেন।

ইহরাম পরিহিত ব্যক্তি নিজে হালাল হওয়ার আগে কি অন্য কারো চুল কাটতে পারবে?

প্রশ্ন (১২৭৯৫) : আল্লাহর রহমতে আমি এ বছর আমার স্ত্রীসহ হজ্ব করেছি। হজ্বে যাওয়ার কিছুদিন আগে হজ্ব প্রশিক্ষণে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাদেরকে বলা হয়েছে যে, উমরার সমস্ত কাজ শেষ করার পর এবং ১০ যিলহজ্ব কুরবানী করার পর হালাল হওয়ার জন্য প্রথমে কাফেলার একজন কোনো নাপিত বা হালাল ব্যক্তির কাছে মাথা মুণ্ডিয়ে হালাল হবেন। তারপর সেই ব্যক্তি অন্যদের মাথা মুণ্ডন করতে পারবেন। এভাবে যারা হালাল হয়ে গেছেন শুধু তারাই অন্যদের মাথা মুণ্ডন করবেন। আর হালাল হয়েছেন এমন কোনো পুরুষ তার স্ত্রী বা মাহরামের চুল কেটে দেবেন। তারপর সেই মহিলা অন্য মহিলাদের চুল কেটে দিতে পারবেন। মোটকথা প্রশিক্ষণে বলা হয়েছে, কেউ নিজে হালাল না হয়ে নিজের বা অন্য কারো চুল কাটতে পারবে না। এ কথা কি ঠিক? কেউ যদি হালাল না হয়ে নিজের বা অন্য কারো চুল কেটে দেয় তাহলে এর ফলে কি দম বা সদকা ওয়াজিব হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

নফল হজ্ব করা বেশি উত্তম নামি দান-সদকা?

প্রশ্ন (১২৫১৮) : আল্লাহর অশেষ দয়ায় আমি একাধিকবার বাইতুল্লাহর হজ্ব করতে পেরেছি এবং সবসময় চেষ্টা করি, প্রতি বছর না হলেও অন্তত তিন বছরে যেন একবার যাওয়া হয়। সে হিসাবে আমি আগামী বছরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করি। কিন্তু দেশের কিছু অঞ্চলে বন্যা হওয়ায় শত শত পরিবার বিপদের সম্মুখীন হয়। সেখানে আমার কিছু আত্মীয়-স্বজনও আছে। এ অবস্থায় আমাদের ইমাম সাহেব আমাকে পরামর্শ দেন এবারের হজ্বের জন্য জমা করা অর্থগুলো মানবতার সেবায় দান করে দিতে। তিনি বলেন, নফল হজ্বের চেয়ে বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বেশি ফযীলতের। তার কথামতো সে অর্থ আমি ঐ খাতে দান করে দেই। এখন চিন্তা হচ্ছে, আসলে কোনটা উত্তম ছিল, দান করে দেয়া, নাকি হজ্বে যাওয়া। এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানিয়ে আমাকে আশ্বস্ত করবেন।

উমরার ইহরাম করার পর কোনো কারণে উমরায় যেতে না পারলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২২৩৯) : আমার চাচা বাড়ি থেকে উমরার ইহরাম করে বের হন এয়ারপোর্ট যাওয়ার পথে গাড়ি এক্সিডেন্ট হয়। তাই তার পক্ষে এখন উমরায় যাওয়া সম্ভব না। আমার জানামতে এমন ব্যক্তিগণ কারো মাধ্যমে হেরেম এলাকার ভেতর একটি দম জবাই করে ইহরাম থেকে মুক্ত হবেন এবং পরবর্তীতে উমরাটি কাযা করে নেবেন। কিন্তু জনৈক আলেম বলছেন, এক্ষেত্রে দম না দিয়ে রোযা রাখারও সুযোগ আছে। আমার জানার বিষয় হচ্ছে, তার বক্তব্য সঠিক কি না এবং উল্লেখিত অবস্থায় দম না দিয়ে সদকা করা বা রোযা রাখার মাধ্যমে ইহরাম থেকে মুক্ত হওয়ার সুযোগ আছে কি না? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

হজ্বে সেলাইকৃত জামা পরিধান করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২১৫) : আমি পবিত্র হজ্ব পালন করেছি। ইহরাম অবস্থায় সতরের সতর্কতার জন্য আন্ডারপ্যান্ট পরি। তামাত্তু হজ্বের উমরা ও হজ্ব উভয়টি আদায়কালে আমি এটি পরিধান করে ছিলাম। পরবর্তীতে আলেমদের কাছে শুনেছি যে, ইহরাম অবস্থায় এগুলো পরা নিষেধ। এখন আমার কি করণীয়? জানিয়ে বাধিত করবেন।