কসমের কাফ্ফারা।

প্রশ্ন (১২০৩৬) : আমি বারবার একটি পাপ কাজে লিপ্ত হয়ে যাচ্ছিলাম। অনেক চেষ্টা করেও তা থেকে বিরত থাকতে পারছিলাম না। একবার দৃঢ় সংকল্প করে বলি, ভবিষ্যতে কখনো এ কাজটি করব না; করলে লাগাতার দশ দিন রোযা রাখব। পরবর্তীতে শয়তানের ধোঁকায় কাজটি আবার করে ফেলি। কিন্তু শারীরিক কিছু অসুস্থতার কারণে বর্তমানে লাগাতার দশ দিন রোযা রাখা আমার জন্য কষ্টকর। জানার বিষয় হল, এখন আমাকে কী করতে হবে?

হজ্বের কুরবানী করতে না পারলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২০৩৪) : আমি কিরান হজ্ব করেছিলাম। কিরান হজ্বের কুরবানী দেওয়ার নিয়ত ছিল বিধায় ঈদের আগে তিনটি রোযা রাখিনি। কিন্তু যথাসময়ে টাকা ব্যবস্থা করতে না পারায় হজ্বের কুরবানী করা সম্ভব হয় নি। তখন হজ্বের কুরবানী না করে হালাল হয়ে যাই। এরপর হজ্বের বাকি আমল সম্পন্ন করে দেশে ফিরে আসি। এখন আমার জানার বিষয় হল, উক্ত ক্ষেত্রে বাড়িতে আসার পর উক্ত কুরবানীর বিকল্প দশটি রোযা রাখা আমার জন্য যথেষ্ট হবে, নাকি হজ্বের কুরাবানীই করতে হবে?

বাধাপ্রাপ্ত হলে রোযা রাখা যাবে কি?

প্রশ্ন (১১৯৭৭) : কেউ যদি ইহরাম বাঁধার পর বাধাপ্রাপ্ত হয় তাহলে হেরেম শরিফে একটি দম দেওয়ার মাধ্যমে হালাল হতে হয়। কিন্তু জনৈক ব্যক্তিকে বলতে শুনলাম, দম না দিয়ে রোযা রাখার দ্বারাও হালাল হওয়া যায়। জানতে চাচ্ছি, তার কথা কতটুকু সঠিক?

রোযার নিয়তের আগে কিছু খেলে রোযা হবে কি

প্রশ্ন (১১৯৩৩) : গত রমযানে প্রথম রোযায় সাহরীতে উঠতে পারিনি। আযানের পর ঘুম থেকে উঠে পানি পান করি। তখন রোযার কথা স্মরণ ছিল না। পানি পানের পর রোযা কথা স্মরণ হয় এবং রোযার নিয়ত করি। জানতে চাচ্ছি, আমার কি সেদিনের রোযা হয়েছিল?

কাযা আছে মনে করে ভেঙ্গে ফেললে কাযা করতে হবে কি

প্রশ্ন (১১৯২৯) : গত রোযায় আমার ৪টি রোযা কাযা হয়। কিন্তু আমি মনে করি যে, আমার ৫টি রোযা কাযা হয়েছিল। তাই ৪টি রোযা কাযা করার পর ৫ম টিও শুরু করি। সকালের কিছু অংশ যাওয়ার পর নিশ্চিত হই যে আমার ৪টি রোযা কাযা হয়েছিল। তাই তৎক্ষণাৎ তা ভেঙ্গে ফেলি। জানতে চাচ্ছি, উক্ত রোযা শুরু করার পর ভেঙে ফেলার কারণে আমাকে কি এর কাযা করতে হবে?

ইচ্ছাকৃত ভাঙ্গার পর হায়েয আসলে গুনাহ মাফ হবে কি

প্রশ্ন (১১৯২৮) : গত রোযায় শয়তানের ধোঁকায় পরে ইচ্ছাকৃত রোযা ভাঙ্গার পর সেদিনই সূর্যাস্তের আগে হায়েয আসে। জানতে চাচ্ছি, উক্ত কারণে ইচ্ছাকৃত রোযা ভাঙ্গার গুনাহ মাফ হবে কি?

অগ্রিম ফিদয়া দিলে আদায় হবে কি

প্রশ্ন (১১৯২৫) : আমার নানি বার্ধক্য ও অসুস্থতার কারণে রোযা রাখতে অক্ষম। তার সুস্থতার কোনো আশা নেই। তার রোযার ফিদয়াগুলো অগ্রিম দেওয়া যাবে কি?

দাঁতের ফাঁকায় লেগে থাকা গোশত গিলে ফেললে কি রোযা ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১১৯০২) : কয়েকদিন আগে আমি একটি রোযা রেখেছি। সেদিন সাহরিতে আমি গোশত দিয়ে সাহরি করি। ফজরের নামাযের পর আমি খেয়াল করলাম আমার দাঁতের ফাঁকায় সামান্য গোশত লেগে আছে। তখন ঐ গোশতের অংশ আমি দাঁতের ফাঁকা থেকে বের করে ইচ্ছাকৃতভাবেই গিলে ফেলি। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, আমার ঐ রোযা কি সহিহ হয়েছে?

মুখের কথা ধর্তব্য নাকি নিয়ত

প্রশ্ন (১১৮০৪) : মান্নত করার সময় নিয়ত ছিল দুইদিন রোযা রাখব। কিন্তু মুখে বলার সময় বের হয়ে যায় ৫ দিন। জানতে চাচ্ছি, আমার কয়দিন রোযা রাখতে হবে?

দুগ্ধদানকারিনী মহিলা কি দুধ পান করানোর কারণে রোযা ছেড়ে দিতে পারবে?

প্রশ্ন (১১৭৫৯) : রমযানের তিন মাস আগে আমার একটি সন্তানের জন্ম হয়। তো রমযান মাস আসার পরে আমি রোযা রেখেই দুধ পান করাচ্ছিলাম। কিন্তু রোযা রেখে দুধ পান করানো আমার জন্য খুব কষ্ট হচ্ছিল। শারীরিকভাবে খুব দূর্বল হয়ে পড়ি। আবার বুকে দুধও কম আসছিল। আমার সন্তান ঠিকমত দুধ পাচ্ছিল না। তারও খুব কষ্ট হচ্ছিল। তাই আমি আর বাকি রোযাগুলো রাখি নি। হযরতের কাছে আমার জানার বিষয় হলো, এই কারণে কি আমার রোযা না রাখা ঠিক হয়েছে? আর ছুটে যাওয়া রোযাগুলোর ক্ষেত্রে আমার কী করণীয়?

ভুলবশত কিছু খেয়ে ফেললে কি রোযা ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১১৭৫১) : কিছু দিন আগে আমি একটি রোযা রেখেছিলাম। দুপুরে একটি কাজে বাহিরে গিয়েছিলাম। বাহির থেকে ফেরার সময় ভুলে রাস্তা থেকে এক গ্লাস শরবত কিনে পান করে ফেলি। বাসায় আসার পরে আমার মনে পড়ে যে, আমি রোযা ছিলাম। পরে বাকি দিন আমি না খেয়েই অতিবাহিত করি। আমার জানার বিষয় হলো, আমার উক্ত রোযা কি সহিহ হয়েছে?

অনিচ্ছাকৃত ভাবে গলায় কোনো পোকা ঢুকে গেলে কি রোযা ভেঙে যায়?

প্রশ্ন (১১৭৫০) : আমি ৯ই যিলহজ্ব রোযা রেখেছিলাম। মাগরিবের আগে ইফতারী ক্রয় করার জন্য বাজারে যাই। রাস্তায় হঠাৎ একটি মশা আমার গলার ভিতরে চলে যায়। বের করার চেষ্টা করেও বের করতে পারিনি। আমার জানার বিষয় হলো, অনিচ্ছাকৃত ভাবে গলায় কোনো পোকা ঢুকে গেলে কি রোজা ভেঙে যায়?

রোযা অবস্থায় রক্ত দিলে কি রোযা ভেঙে যায়?

প্রশ্ন (১১৭৪৯) : আলহামদুলিল্লাহ, বুঝ হওয়ার পর থেকে আমি কখনো রোযা ভাঙিনি। এই রমযানে আমার ছোট বোন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাই আমি তাকে এক ব্যাগ রক্ত দেই। তখন এক ব্যক্তি আমাকে বলল, রক্ত বের হলে যেমন ওযু ভেঙে যায়, তেমনি রোযাও ভেঙে যায়। কিন্তু আমি সেদিনের রোযা ভাঙিনি। আমার জানার বিষয় হলো, রক্ত দিলে কি রোযা ভেঙে যায়?

ভুলে পানাহার করলে রোযা ভাঙে না।

প্রশ্ন (১১৭৪৫) : গত রমযানে একদিন ওযু করার সময় ভুলে পানি পান করে ফেলি। তখন আমি রোযা ভেঙে গেছে মনে করে দিনের বাকি সময় স্বাভাবিক পানাহার করি। তো ইচ্ছাকৃত পানাহার করার কারণে কি আমার উপর ঐ রোযার কাযা-কাফ্ফারা উভয়টি আদায় করতে হবে নাকি শুধু কাযা্ আদায় করলেই হবে?

রোযা রাখা অবস্থায় শরীর থেকে রক্ত নিলে কি রোযার কোনো সমস্যা হবে?

প্রশ্ন (১১৭১৪) : রমযান মাসে আমার অসুস্থতার কারণে ডাক্তার দেখাই। ডাক্তার আমাকে কয়েকটা রক্তের টেস্ট দেয়। টেস্ট করার জন্য আমার হাত থেকে এক সিরিঞ্জ পরিমান রক্ত নেওয়া হয়। রোযা রাখা অবস্থায় রক্ত নেওয়ার কারণে কি আমার রোযার কোনো সমস্যা হয়েছে?