রোযা অবস্থায় গলায় ধোঁয়া ঢুকে গেলে কি রোযা ভেঙ্গে যাবে?

প্রশ্ন (১৩৫২৯) : এবার রমযান মাসে একদিন রোযা অবস্থায় আমি রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলাম। রাস্তার পাশে এক জায়গায় ময়লার স্তুপে আগুন জ্বলছিল। তখন কিছু ধোঁয়া আমার গলায় ঢুকে যায়। এখন আমি জানতে চাই, ঐ ধোঁয়া আমার গলায় যাওয়ার কারণে কি আমার রোযা ভেঙ্গে গেছে?

নির্দিষ্ট দিনে রোযা রাখার মানত করলে কি ঐ দিনেই তা আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১৩৪৯১) : কিছু দিন আগে আমার ছেলে ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ে। সুস্থতার কোনো লক্ষণ না দেখে আমি মানত করি যে, ছেলে সুস্থ হলে আগামী মাসের প্রথম বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার রোযা রাখব। কয়েকদিন পর আল্লাহ তাআলা ছেলেকে সুস্থ করে দেন। কিন্তু ঘটনাক্রমে বুধবার থেকে আমার মাসিক শুরু হয়ে যায়। এখন জানতে চাচ্ছি, আমার ঐ রোযা কি আদায় করা লাগবে? যদি আদায় করতে হয় তাহলে কি পবিত্র হওয়ার পর বৃহস্পতি-শুক্রবারেই রাখতে হবে নাকি যে কোনোদিন রাখলেই চলবে?

ইচ্ছাকৃতভাবে রোযা না রাখলে কি উক্ত রোযার কাফ্ফারা আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১৩৪৩৮) : আমার স্বাভাবিক অভ্যাস হলো প্রতি ২৭ দিন পরপর আমার স্রাব শুরু হয়। সে হিসেবে ১১ রমযান আমার স্রাব শুরু হওয়ার দিন ছিল। তাই ১০ রমযান দিবাগত রাতে আমি সাহরী খাইনি এবং পরের দিন রোযার নিয়তও করিনি। ফলে ১১ রমযান সকাল থেকে আমি স্বাভাবিকভাবেই পানাহার করতে থাকি। কিন্তু সেদিন আমার স্রাব শুরু হয় রাত থেকে। এখন জানার বিষয় হল, আমার উক্ত রোযার হুকুম কী? শুধু কাযা করলেই হবে, নাকি কাফফারাও আদায় করতে হবে? অনুগ্রহ করে জানালে উপকৃত হব।

কসমের কাফ্ফারার রোযা আদায় করার পদ্ধতি কী?

প্রশ্ন (১৩৪৩৬) : কসমের কাফফারার রোযা কি ধারাবাহিকভাবে রাখা আবশ্যক, নাকি বিরতি দিয়ে ভেঙ্গে ভেঙ্গেও রাখার অনুমতি আছে? একাধিক কসমের জন্য কি একাধিক কাফফারাই লাগবে, নাকি একটি কাফফারাই যথেষ্ট হবে?

নফল রোযায় ভুলে খেয়ে ফেললে কি রোযা ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১৩৪১৩) : একবার আমি নফল রোযা রেখছিলাম। পরে রোযার কথা ভুলে গিয়ে খানা খেয়ে ফেলি। তবে রোযার কথা স্মরণ হওয়ার পর আর কিছু খাইনি। আমি জানতে চাচ্ছি, আমার এ রোযা কি আদায় হবে? আমাদের এলাকার এক মুরুব্বী বলেছেন, ফরয রোযায় ভুলে খেলে ফেললে রোযা নষ্ট হয় না। কিন্তু নফল রোযায় ভুলে খেয়ে নিলে রোযা নষ্ট হয়ে যায়। তার এ কথা কি ঠিক?

কাজ করে দূর্বল হয়ে পড়লে রোযা ভেঙে ফেলা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৪১২) : গত রমযানে একদিন আমাদের বাড়ির অনেকগুলো গাছ কাটি। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত একটানা কাজ করি। আর রোদের তেজও ছিল প্রখর। আসরের সময় হঠাৎ মাথা ঘোরানো শুরু হয়। তখন কষ্ট সহ্য করতে না পেরে রোযা ভেঙ্গে ফেলি। এখন আমার প্রশ্ন হল, এক্ষেত্রে আমার কী করণীয়? শুধু কাযা করলেই হবে, নাকি কাফফারাও আদায় করতে হবে? অনুগ্রহ করে জানালে উপকৃত হব।

শরীর থেকে রক্ত বের হলে কি রোযা ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১৩৪০৩) : আমি লোকমুখে শুনেছি যে, রোযা অবস্থায় যদি শরীর থেকে রক্ত বের হয় তাহলে রোযা হালকা হয়ে যায়। একথা কি ঠিক? রোযা হালকা হয়ে যাওয়া বলতে কী বোঝায়? আর সিরিঞ্জ দিয়ে রক্ত বের করলে কি রোযা ভেঙ্গে যায়?

রোযা রাখা অবস্থায় ইঞ্জেকশন নিলে কি রোযা ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১৩৪০০) : রোযা অবস্থায় যদি কাউকে ইঞ্জেকশন দেওয়া হয়, তাহলে এতে কি তার রোযা ভেঙ্গে যাবে? তেমনি রোযা অবস্থায় ইনসুলিন নিলে কি রোযা ভেঙ্গে যাবে? বিস্তারিত বুঝিয়ে দিলে আমরা অনেক উপকৃত হব।

দুগ্ধদানকারিনী মহিলা রোযা ভাঙতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১৩৩৯৪) : আমাদের সন্তান হয়েছে ১ মাস হলো। আমার স্ত্রী শারীরিকভাবে দুর্বল। রোযা অবস্থায় দুধ খাওয়ালে তার রোযা রাখতে খুব কষ্ট হয়। মাঝে মাঝে সন্তান দুধই পায় না। সে দুটি রোযা রেখে ভেঙে ফেলেছিল। ডাক্তারের সাথে এ বিষয়ে কথা বললে তিনি বাচ্চাকে সাগু ও সেরেলাক খাওয়ানোর পরামর্শ দেন। কিন্তু বাচ্চা এগুলো খেতে চায় না। এদিকে তার মা রোযাও রাখতে চায় ওদিকে সন্তানের সমস্যা হয়। এক্ষেত্রে শরয়ী সমাধান জানালে আমরা কৃতজ্ঞ হবো। আর যে দুটি রোযা রেখে ভেঙ্গে ফেলেছে তার কাযা কাফফারা দিতে হবে কি?

একই সাথে রমযানের কাযা রোযা ও শাওয়ালের রোযার নিয়ত করলে তা সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৩৭৮) : কেউ যদি শাওয়াল মাসে রমযানের কাযা রোযা রাখে এবং এর সাথে শাওয়ালের ছয় রোযার নিয়তও করে তাহলে ফরযের কাযা এবং শাওয়ালের ছয় রোযার সওয়াব পাওয়া যাবে কি?

রোযা অবস্থায় হিজামা করালে কি রোযার কোনে ক্ষতি হয়?

প্রশ্ন (১৩৩৬৯) : গতবার রমযান মাসে আমি একবার হিজামা করিয়েছিলাম। তবে এরপরে সারাদিন আর কিছু খাইনি। কিন্তু এখন সন্দেহ হচ্ছে যে, আমার ঐ রোযা আদায় হয়েছে কি? এখন হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, আমার ঐ রোযার হুকুম কী হবে?

রোযা রাখা অবস্থায় স্বপ্নদোষ হলে কি রোযা ভেঙে যায়?

প্রশ্ন (১৩৩৬৪) : রমযান মাসে একবার দিনের বেলায় আমার স্বপ্নদোষ হয়েছিল। তখন আমি ভেবেছিলাম আমার রোযা ভেঙ্গে গেছে। তাই আমি তারপরে ইচ্ছাকৃত পানাহার করেছিলাম। এখন জানতে চাই, আমাকে কি ঐ রোযার কাযা এবং কাফ্ফারা উভয়টিই আদায় করতে হবে?

মৌখিক নিয়ত ছাড়া রোযা রাখলে কি উক্ত রোযা সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৩৬৩) : রমযান মাসে যখন আমি রোযা রাখি তখন রোযা রাখার উদ্দেশ্যে সেহরীর জন্য উঠে সেহরী খেয়ে নিই এবং অন্যান্য ইবাদত-বন্দেগী ঠিকমতো করতে থাকি। কিন্তু পৃথকভাবে রোযার নিয়ত করি না। জানার বিষয় হলো, এভাবে নিয়ত ছাড়া রোযা রাখার দ্বারা আমার রোযাগুলো সহিহ হয় কি? নাকি এই রোযাগুলোর আবার কাযা করতে হবে?

রোযা রাখা অবস্থায় তরকারির স্বাদ চেখে দেখা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৩৫৪) : আমি একটি মাদরাসায় বাবুর্চির চাকরি করি। এখানে প্রতি বেলায় প্রায় হাজার খানেক মানুষের খাবার রান্না হয়। তো রমযান মাসে আমি যে সমস্যায় পড়ি তা হলো, খাবারের স্বাদ একেবারে না চেখে রান্না করলে অনেক সময় লবণ কিছুটা কম-বেশি হয়ে যায়। ফলে ইফতার ও খাবারের সময় সবার কষ্ট হয়। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, রোযা অবস্থায় আমি কি শুধু জিহ্বা দিয়ে তরকারির স্বাদ চেখে দেখতে পারব?

রমযানে মান্নতকৃত ইতিকাফ আদায় করতে না পারলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৩৪৬) : গত বছর কোনো কারণে আমি রমযানে ইতিকাফের মান্নত করি। কিন্তু অসুস্থতার দরুণ গতবার তা করতে পারিনি। এবার রমযানে আমি উক্ত ইতিকাফের কাযা আদায় করতে চাচ্ছি। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, এই রমযানে ইতিকাফ করার দ্বারা কি আমার সেই মান্নত আদায় হবে? নাকি সেই ইতিকাফ ভিন্ন করে কাযা করতে হবে?

রোযা রাখা অবস্থায় গলায় পোকা ঢুকে গেলে রোযা ভেঙে যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৩৩৭) : আমি একটি নফল রোযা রাখি। রোযা অবস্থায় আমার মুখে মশা বা এজাতীয় কোনো পোকা প্রবেশ করে গলা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আমি অনেক কাশাকাশি করেও তা বের করতে পারিনি। জানতে চাচ্ছি, গলায় পোকা যাওয়ার কারণে কি আমার রোযার কোনো ক্ষতি হয়েছে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

প্রস্রাবের সমস্যার কারণে রোযা রাখা অবস্থায় ক্যাথেটার ব্যবহার করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৩৩৩) : আমার প্রস্রাবের রাস্তায় সমস্যা আছে। মাঝে মাঝে প্রস্রাব আটকে যায়। এজন্য আগে মাঝেমধ্যে ক্যাথেটারও ব্যবহার করতে হয়েছে। সামনে রমযান আসছে। তাই আমি জানতে চাচ্ছি যে, রোযা অবস্থায় ক্যাথেটার ব্যবহার করলে কি রোযা ভেঙ্গে যায়?

ঔষুধ খেয়ে স্রাব বন্ধ করে রমযানের রোযা রাখলে উক্ত রোযার হুকুম কী হবে?

প্রশ্ন (১৩৩১৯) : মহিলারা যদি রমযান মাসে কোনো ঔষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে ঋতুস্রাব বন্ধ রাখে তাহলে ওই দিনগুলোতে রোযা রাখতে পারবে কি? আর ‍এভাবে রোযা রাখলে উক্ত রোযার হুকুম কী হবে?