সালাত বা নামাজ

তারাবীর নামায একসাথে চার রাকাত পড়ে ফেললে উক্ত নামাযের বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩৮২০) : এই রমযানে আমাদের মসজিদে এক হাফেয সাহেব তারাবীর নামাযে ভুলে দ্বিতীয় রাকাতে না বসে দাঁড়িয়ে যান এবং অতিরিক্ত দু রাকাত মিলিয়ে মোট চার রাকাত পড়ে সাহু সিজদার মাধ্যমে নামায শেষ করেন। নামায শেষে এ নিয়ে মুসল্লিদের মাঝে মতবিরোধ দেখা দেয়। কেউ কেউ বলে যে, সাহু সিজদার দ্বারা চার রাকাতই তারাবী হিসেবে সহিহ হয়েছে। কেউ বলে যে, শুরুর দু রাকাত সহিহ হয়েছে, শেষের দু রাকাত নয়। আবার কেউ বলে, শেষের দু রাকাত তারাবী হিসেবে ধরা হবে। এখানে আসলে কোনটি সঠিক? দয়া করে মাসআলাটির সঠিক সমাধান জানিয়ে আমাদের বিবাদ নিরসন করবেন।

কেউ ঈদের নামাযে ইমাম সাহেবকে রুকুতে পেলে তার অতিরিক্ত তাকবীরের হুকুম কী?

প্রশ্ন (১৩৮১৮) : কোন ব্যক্তি যদি ঈদের নামাযের প্রথম বা দ্বিতীয় রাকাতের রুকুর মধ্যে শরীক হয় তাহলে সে তাকবীর কখন বলবে?

নামাযের সময় চুল বেঁধে রাখার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩৮১৭) : আমি নামায সংক্রান্ত একটি বইয়ে পড়েছি যে, সিজদার সময় চুল বেঁধে রাখা মাকরূহ। আমার প্রশ্ন হল, এই বিধান কি নারী-পুরুষ সবার জন্য, না শুধু পুরুষের জন্য? জানালে খুশি হব।

বিতরের নামাযে মাসবুক হলে ছুটে যাওয়া রাকাত কিভাবে আদায় করবে?

প্রশ্ন (১৩৮০৮) : এবার রমযানে একদিন আমি বিতরের তৃতীয় রাকাতে ইমামের সাথে শরিক হই এবং ইমামের সাথে দুআয়ে কুনূতও পড়ি। পরে যখন বাকি নামায একাকী আদায় করি তখন তৃতীয় রাকাতে গিয়ে সংশয়ে পড়ে যাই যে, আবার দুআয়ে কুনূত পড়তে হবে কি না? পরে না পড়েই নামায সমাপ্ত করি। জানার বিষয় হল, এভাবে নামায আদায় করাতে আমার নামায শুদ্ধ হয়েছে কি?

জানাযার নামায পড়া শেষে তাকবীর নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৮০২) : আমাদের মহল্লার এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর যথারীতি জানাযা-দাফন সম্পন্ন হয়েছে। এরপর কিছু মুসল্লি বলাবলি করছে যে, ইমাম সাহেব জানাযার নামাযে তিন তাকবীর বলেছেন। ইমাম সাহেব দৃঢ়তার সাথে বলছেন যে, তিনি চার তাকবীরই বলেছেন। কিন্তু তারা ইমাম সাহেবের কথা মানতে নারাজ। এখন এ ব্যাপারে আমাদের কোনো করণীয় আছে কি? দয়া করে জানাবেন।

সুন্নত ইতিকাফকারী ব্যক্তি জানাযার নামাযের জন্য মসজিদের বাইরে যেতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১৩৭৯২) : রমযানের শেষ দশকে সুন্নত ইতিকাফকারী ব্যক্তি জানাযার নামাযে শরিক হওয়ার জন্য মসজিদের বাইরে যেতে পারবে কি?

মসজিদে জানাযার নামায আদায় করার হুকুম কী?

প্রশ্ন (১৩৭৭২) : আমাদের মসিজটি শহরে অবস্থিত। মহল্লার কেউ মারা গেলে মসজিদই জানাযার নামায আদায় করা হয়। মসজিদের বাইরে সামনের দিকে লাশ রাখার জন্য অল্প খালি জায়গা আছে। সেখানে রাখা হয়। আর ইমাম সাহেব মুসল্লিদের নিয়ে মসজিদের ভেতরই নামাযে জানাযা আদায় করেন। আমার জানার বিষয় হল, মসজিদে জানাযার নামায পড়ার হুকুম কী?

ফজরের ওয়াক্তে কি পূর্বের কাযা নামায আদায় করা যাবে?

প্রশ্ন (১৩৭৭০) : আমরা জানি যে, ফজরের ওয়াক্ত হয়ে যাওয়ার পর ফজরের সুন্নত ব্যতীত অন্য নফল নামায পড়া যায় না। আমি জানতে চাচ্ছি যে, আগের কাযা নামায কি তখন পড়া যাবে?

সুস্থ থাকাবস্থায় কাযা হওয়া নামায অসুস্থ অবস্থায় বসে আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৭৫৮) : কিছুদিন আগে এক্সিডেন্টে আমার বাম পা ভেঙ্গে যায়। তাই আমি দাঁড়িয়ে রুকু সিজদা করে নামায পড়তে পারি না। বসে ইশারায় নামায পড়ি। সুস্থতার সময় আমার কিছু নামায কাযা হয়ে গিয়েছিল। আমি জানতে চাচ্ছি যে, ঐ নামাযগুলো এখন এ অবস্থায় কাযা করলে তা আদায় হবে কি? জানালে উপকৃত হব।

পেশাবের রাস্তায় ক্যাথেটার লাগানো থাকলে কি নামায পড়ার আগে তা খালি করে নেওয়া জরুরি?

প্রশ্ন (১৩৭৫৫) : অসুস্থতার কারণে আমার নানার পেশাবের রাস্তার সাথে ক্যাথেটার লাগিয়ে পেশাবের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ফলে তা দিয়ে সর্বক্ষণ পেশাব ঝরতে থাকে। প্রশ্ন হল, নানার জন্য পবিত্রতা অর্জনের উপায় কী? নামায শুরুর আগে ইউরিন ব্যাগটি কি খালি করে নেওয়া জরুরি? যদি খালি করে নেওয়া হয় তবুও প্রতি মিনিটে তাতে ফোঁটায় ফোঁটায় পেশাব জমা হবে। এর ফলে কি নামায আদায়ে কোনো সমস্যা হবে? আশা করি জানিয়ে বাধিত করবেন।

নামাযের ওয়াক্ত বাকি থাকা অবস্থায় সফর থেকে বাড়িতে ফিরলে কি উক্ত নামায কত রাকাত আদায় করবে?

প্রশ্ন (১৩৭৪৬) : কিছুদিন আগে আমি একটি সফরে যাই । গতকাল যোহরের নামাযের ওয়াক্ত আধা ঘণ্টা বাকি থাকাবস্থায় আমি সফর থেকে বাড়িতে আসি। তখন ক্লান্তির দরুণ নামাযের কথা ভুলে যাই। আসরের আযান শুনে আমার ঘুম ভাঙ্গে। প্রশ্ন হল, উক্ত যোহরের কাযা কি আমাকে চার রাকাত পড়তে হবে, নাকি দুই রাকাত? জানালে উপকৃত হব।

ফরয নামাযের শেষ দুই রাকাতে সূরা ফাতিহার পর বিসমিল্লাহ পড়লে কি সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১৩৭৩৭) : চার রাকাত বিশিষ্ট ফরয নামাযের শেষ দুই রাকাতে সূরা ফাতেহার পর ভুলে বিসমিল্লাহ পাঠ করলে কি সাহু সিজদা দিতে হবে?

নামাযে নিয়ত করার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩৭৩৬) : ইমামের পিছনে নামায পড়ার সময় কীভাবে নিয়ত করব আর একাকী নামায পড়ার সময় কীভাবে নিয়ত করব? অনেক সময় এমন হয় যে, পূর্ণ নামায শেষ করি বটে, কিন্তু অন্তরে কোনো কিছুই থাকে না। তবে নিজেকে এই বলে প্রবোধ দেই যে, আমি তো নামাযের জন্যই মসজিদে এসেছি। সুতরাং নির্দিষ্টভাবে নিয়তের দরকার কী? আমার এই ধারণা কি সঠিক?

ইমামের আগে মুসল্লি রুকুতে চলে গেলে কি তার নামাযের কোনো ক্ষতি হবে?

প্রশ্ন (১৩৭৩৪) : একদিন মাগরিবের নামাযে ইমাম সাহেব কেরাত শেষ করার সাথে সাথে ইমাম সাহেব রুকুতে যাওয়ার আগেই আমি রুকুতে চলে যাই। তবে ইমামের সাথেই রুকু আদায় করেছি। এখন আমার জানার বিষয় হল, ইমামের আগে রুকুতে চলে যাওয়ার কারণে আমার নামাযের কোনো ক্ষতি হয়েছে কি? আমার ঐ নামায আদায় হয়েছে কি?

তাকবীরে বলার আগে নামাযের নিয়ত করতে না পারলে কি নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৭৩২) : মসজিদে আসরের নামায শুরু হয়ে যাওয়ার পর আমি মসজিদের অযুখানায় অযু করতে যাই। অযু শেষ করে মসজিদে ঢুকে দেখি ইমাম সাহেব রুকুতে চলে যান। তখন আমি দৌড়ে গিয়ে তাকবীরে তাহরীমা বলে রুকুতে শরিক হই। তবে তাড়াহুড়োর কারণে তাকবীর বলার আগ মুহূর্তে নামাযের নিয়ত করতে পারিনি। জানার বিষয় হলো, নিয়ত করতে না পারার কারণে আমার ঐ নামায সহিহ হয়েছে কি?