নির্দিষ্ট মুনাফা দেওয়ার শর্তে মুদারাবা চুক্তি করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩৮৬৭) : আমি দেশের বাইরে থাকি। আমার চাচা ধানের ব্যবসা করে। আমি চাচার কাছে ব্যবসার উদ্দেশ্যে এক লক্ষ টাকা দিয়েছি। আমাদের মাঝে এভাবে ‍চু্ক্তি হয়েছে যে, চাচা আমাকে লাভ হিসেবে প্রতি বছর বিশ হাজার টাকা করে দিবে। এখন জানার বিষয় হল, আমাদের এই চুক্তি কি জায়েয হয়েছে, নাকি এটা সুদ হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুদের টাকা পেলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৮৫৫) : আমি একটি বীমা করেছিলাম। উক্ত বীমার মেয়াদ শেষে আমি সুদ পেয়েছি। এখন জানতে চাচ্ছি, এই টাকাগুলো আমি কী করতে পারি?

ঋণ দেওয়ার নাম করে ফরম বিক্রি করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩৮৫০) : আমার কয়েকজন বন্ধু মিলে এলাকায় জনকল্যাণমূলক একটি সংগঠন করেছে। এর মাধ্যমে তারা সমাজের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে থাকে। পাশাপাশি মানুষকে ঋণ দিয়ে সহযোগিতা করে। তবে তাদের ঋণ দেওয়ার পদ্ধতি একটু ভিন্ন। তারা ঋণের প্রদানের জন্য বিভিন্ন মূল্যের ফরম বানিয়েছে। ঋণের পরিমাণ বাড়লে ফরমের মূল্যও বাড়ে। কেউ ঋণ নিতে চাইলে ঋণের পরিমাণ হিসেবে ফরম কিনে চুক্তি করতে হয়। ঋণ পরিশোধের জন্য নির্ধারিত মেয়াদ থাকে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে পুনরায় ফরম কিনে নতুনভাবে নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য চুক্তি করতে হয়। এ পদ্ধতিতে ঋণ দেওয়া নেওয়া সহিহ কি? জানালে উপকৃত হব।

সুদী লোন নিয়ে বাড়ি বানানো যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৭৭৮) : আমার ফুফাতো ভাই আর্থিকভাবে সামর্থ্যবান। তার বাবা ব্যাংক থেকে সুদী ঋণ নিয়ে বাড়ি করেছে ভাড়া দেওয়ার জন্য। ফুফাতো ভাই তার বাবাকে সুদী ঋণ নিতে নিষেধ করেও বিরত রাখতে পারেনি। তার বাবা বাড়ি তৈরি করার সময় তার থেকে বেশ কিছু টাকা ঋণ নিয়ে ঐ বাড়িতে কাজে লাগিয়েছে। এখন সে জানতে চাচ্ছে, ঐ বাড়ি থেকে প্রাপ্ত ভাড়া সে গ্রহণ করতে পারবে কি? সে কি ঐ বাড়িতে থাকতে পারবে? আর তার বাবার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকার সূত্রে সে বাড়ি থেকে অংশ পেলে তা কি সে গ্রহণ করতে পারবে? যদি তার জন্য টাকা নেওয়া বৈধ না হয় তাহলে তার যে টাকা বাড়িতে বিনিয়োগ করা হয়েছে তা কি সে নিয়ে নিতে পারবে? উত্তর জানালে উপকৃত হব।

সিকিউরিটি মানি কি ব্যবহার করা জায়েয আছে?

প্রশ্ন (১৩৭৬৮) : আমাদের কিছু দোকান আছে। আমরা সেগুলো একবছর বা তার চেয়ে বেশি সময়ের জন্য ভাড়া দিয়ে থাকি। ভাড়া দেওয়ার সময় ভাড়াগ্রহীতা থেকে দোকানের সাইজ হিসাবে দুই-তিন লক্ষ টাকা সিকিউরিটি মানি নিয়ে থাকি। শুনেছি, এ টাকা নাকি ব্যবহার করা যায় না। কিন্তু কিছুদিন পূর্বে এক আলেমের কাছে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, সিকিউরিটির টাকা অগ্রিম ভাড়া না ধরেও ব্যবহার করা যায়। তাই জানতে চাই, সিকিউরিটি বাবৎ ভাড়াগ্রহীতা থেকে যে টাকা নেওয়া হয় তা ব্যবহারের কোনো বৈধ পদ্ধতি আছে কি? একজন পরামর্শ দিয়েছেন, সিকিউরিটি মানি না নিয়ে ভাড়াগ্রহীতা থেকে ঐ টাকা করয হিসাবে নিলে তা ব্যবহার করা যাবে। এ কাজ বৈধ হবে কি না? যদি বৈধ না হয় তাহলে অতীতে কেউ এ টাকা ব্যবহার করে থাকলে তার করণীয় কী? বিষয়গুলো দলীল-প্রমাণসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।

কোন ধরণের ব্যাংকের সাথে লেনদেন করা উচিত?

প্রশ্ন (১৩৬৪৩) : বর্তমান সময়ে আমাদের অনিচ্ছ্বা সত্ত্বেও বাধ্য হয়ে ব্যাংকে টাকা জমা রাখতে হয়। তাই কোন ধরণের ব্যাংকের সাথে লেনদেন করা অপেক্ষাকৃত নিরাপদ? দলিল-প্রমাণসহ জানালে উপকৃত হব।

লেনদেন সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১৩৬০২) : একজন ইমাম সাহেব আমাকে সাথে নিয়ে পাইকারী দোকান থেকে ৫০ হাজার টাকার ফ্যান কিনে ইমাম সাহেবের নামেই ভাউচার করেন। অতপর ইমাম সাহেব ফ্যানগুলো নিজের আয়ত্তে দুই দিন রাখার পর ঐ ফ্যানগুলো ছয় মাসের বাকি মেয়াদে ৬০ হাজার টাকায় আমার কাছে বিক্রি করেন। জানার বিষয় হলো, উক্ত বেচাকেনাতে সুদের কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি? দলিলসহ জানালে উপকৃত হব।

প্রভিডেন্ট ফান্ডে সরকারের নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা জমা করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩৫২৬) : আমি একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। এখানে প্রতি মাসে আমার বেতন থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা প্রভিডেন্ট ফান্ডে জমা রাখা হয়। আমি ইচ্ছা করলে বেশি টাকাও জমা রাখতে পারি। ২০২২ সাল থেকে ২০২৩ সলে বেতনের প্রায় অর্ধেক জমা রেখেছিলাম। এতে আনুমানিক ১ লক্ষ টাকা সরকারী বাধ্যবাধকতার অতিরিক্ত জমা করেছি। এই টাকার উপর মুনাফা দেওয়া হয়। এখন আমি জানতে চাচ্ছি যে, এই মুনাফা নেওয়া কি আমার জন্য বৈধ হবে? আর এই জমানো টাকার উপর আমাকে প্রতি বছর যাকাত আদায় করতে হবে কি?

কোনো শর্তের বিনিময়ে ঋণ দেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৩৭৪) : আমাদের গ্রামে শাক সবজি ইত্যাদি চাষাবাদকারী কৃষকদেরকে ঢাকার বিভিন্ন আড়তদাররা উৎপাদনের প্রয়োজনে এই শর্তে ঋণ দেয় যে, শাক সবজি উৎপন্ন হওয়ার পর আমাদের আড়তেই আনতে হবে। অন্য কোথাও নিতে পারবেন না। তবে আড়তদাররা কোনো প্রকার সুদ নেয় না। কৃষিপণ্য উৎপন্ন হওয়ার পর কৃষকরা সেই ঋণ পরিশোধ করে দেয়। জানার বিষয় হল, এ ধরনের শর্ত করে ঋণ দেওয়া বা নেওয়া জায়েয হবে কি?

প্রভিডেন্ট ফান্ডের অতিরিক্ত টাকা নেওয়া কি জায়েয আছে?

প্রশ্ন (১৩৩৫০) : আমি সরকারী চাকরি করি। প্রতি মাসেই সরকার আমার বেতনের নির্দিষ্ট একটা অংশ প্রভিডেন্ট ফান্ডে বাধ্যতামুলক কেটে রাখে। এই টাকার উপর চাকুরি শেষে সুদ দেওয়া হবে। আমার জানার বিষয় হলো, মূল বেতনের অতিরিক্তটা নেওয়া কি আমার জন্য বৈধ হবে? আর এই টাকার উপর কি প্রতি বছর আমাকে যাকাত দিতে হবে?

ব্যাংকে চাকরি করে উপার্জিত টাকা কি হালাল হবে?

প্রশ্ন (১৩৩৪০) : আমরা স্বামী-স্ত্রী উভয়ে ব্যাংকে চাকুরী করি। ব্যাংকে পরিশ্রমের বিনিময়ে আমাদেরকে বেতন দেওয়া হচ্ছে এবং অবসরের পর কয়েক লক্ষ টাকা পেনশন দেওয়া হবে। আমার প্রশ্ন হল, পরিশ্রমের মাধ্যমে উক্ত বেতন এবং পেনশন-এর টাকা আমাদের জন্য হালাল হচ্ছে কি?

জিপি ফান্ড থেকে প্রদত্ব সুদ নেওয়া কি জায়েয আছে?

প্রশ্ন (১৩৩২২) : একজন সরকারী কর্মচারী চাইলে মূল বেতনের কমপক্ষে ৫% বাধ্যতামূলক এবং সর্বোচ্চ ২৫% টাকা ঐচ্ছিক কর্তন করাতে পারেন। জানার বিষয় হলো, জিপি ফান্ডের সরকার প্রদত্ব অংশ বা সুদ নেওয়া জায়েয আছে কি? জিপি ফাণ্ডের সরকার প্রদত্ত অংশ বা সুদ না নিয়ে এই টাকা দিয়ে সরকারকে ট্যাক্স দেওয়া ঠিক হবে কি? অথবা এই টাকা দিয়ে নিতান্ত অপারগতার কারণে অন্য কোনো সরকারী কর্মকর্তাকে ঘুষ দিতে পারব কি?

করের পরিমাণ কমানোর জন্য ব্যাংকে ডিপিএস বা সঞ্চয়পত্র ক্রয় করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩২৮৭) : আমি একজন ব্যবসায়ী। আমাকে প্রতি বছর অনেক টাকা ইনকামট্যাক্স দিতে হয়। করের পরিমাণ কমানোর জন্য আয়কর রেয়াত পাওয়ার কয়েকটি অপশন আছে। তার মধ্যে ব্যাংকে ডিপিএস করা, সঞ্চয়পত্র ক্রয় করা ইত্যাদি। সুদের লভ্যাংশ না নেয়ার নিয়তে কেবলমাত্র করের পরিমাণ কমানোর জন্য ব্যাংকে ডিপিএস করা অথবা সঞ্চয়পত্র ক্রয় করা ঠিক হবে কি?

ব্যাংক থেকে জমা টাটার উপর যে ইন্টারেস্ট আসে তা কি হালাল হবে?

প্রশ্ন (১৩২৪০) : ব্যাংকে আমার পিতার কিছু টাকা ছিল। আমার পিতা ইন্তেকাল করার পর ব্যাংক ঐ টাকার সুদসহ হিসাব করে আমাদের নামে দিয়ে দিয়েছে। এখন এই টাকা আমাদের জন্য হালাল হবে কি?

মসজিদের টাকা ব্যবসায় বিনিয়োগ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩১৫৭) : মসজিদ কমিটির নিকট মসজিদের কিছু টাকা আছে। এখন কমিটির লোকজন চাচ্ছে, সেগুলো কোনো কাজে খাটিয়ে মুনাফা অর্জন করতে। তাই তারা একটি দোকান/ঘর এভাবে বন্ধক নিল যে, এক লক্ষ টাকা দোকান মালিককে দিয়ে তার থেকে দোকান বুঝে নিবে। অতপর সে দোকানটিকে দোকানের মালিক বা অন্য কারো নিকট ভাড়া দিয়ে দোকানের মাসিক ভাড়া মসজিদের ক্যাশে রাখবে। অতপর যখন মালিক এক লক্ষ টাকা দিয়ে দিবে তখন কমিটি তার দোকান তাকে বুঝিয়ে দিবে। এখন প্রশ্ন হল, মসজিদের টাকা মুনাফার আশায় খাটানো অথবা কাউকে ঋণ দেওয়া যাবে কি?

ঋণের টাকার সাথে অতিরিক্ত ফসল গ্রহণ করার শর্তে ঋণ দেওয়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩০৫৯) : আমাদের এলাকার একজন চাষী ফসল ফলাতে গিয়ে অভাবে পড়ে যায়। তখন সে মানুষের কাছ থেকে সার ইত্যাদি কেনার জন্য এই বলে ঋণ নেয় যে, আমাকে এখন ১০,০০০/- টাকা ঋণ দিন, পরবর্তীতে ফসল হওয়ার পর কিছু ফসলসহ পূর্ণ ১০,০০০/- টাকা ফেরত দিয়ে দিব। জানার বিষয় হলো, এ ধরনের ঋণচুক্তি করা বৈধ আছে কি?

কোনো প্রতিষ্ঠান সুদী ব্যাংক থেকে লোন গ্রহণ করলে উক্ত প্রতিষ্ঠারে চাকরি করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৮৬৭) : আমি একজন আলেমের কাছে জানতে পেরেছি যে, ব্যাংকে চাকরির মাধ্যমে উপার্জিত টাকা হারাম। ছেলে ব্যাংকে চাকরি করে। তাই তার উপার্জন দ্বারা মা-বাবা হজ্ব করতে পারবেন না। এই উত্তর থেকে আমার মনে সংশয় এসেছে যে- ১. বিভিন্ন বিধর্মী বিদেশী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানী করে থাকে। তারা সুদকে হারাম মনে করে না। ব্যাংক থেকে সুদী লোন নিয়ে থাকে এবং ব্যাংক থেকে সুদ দেওয়া হলে তাও গ্রহণ করে। আমি উক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি হিসাবে বাংলাদেশে তাদের অফিসে কাজ পরিচালনা করে থাকি। এক্ষেত্রে আমার কাজ পোষাকশিল্প নিয়েই। প্রস্তুত করা থেকে নিয়ে শিপমেন্ট পর্যন্ত সকল কাজের পরিচালনা আমার দায়িত্বে। তো এ বাবদ তারা যে বিনিময় প্রদান করে থাকে তা গ্রহণ করা হালাল না হারাম? ২. আমার এক দ্বীনী ভাইয়েরও প্রশ্ন হল, উপরোক্ত কোম্পানী ও এধরনের প্রতিষ্ঠানের আমদানীকৃত পণ্য সে এদেশ থেকে বিদেশে পরিবহন করে থাকে। এ বাবদ তাদের থেকে প্রাপ্ত টাকা হালাল না হারাম। তার পরিবহন সংক্রান্ত কার্যাদিও বৈধ। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, তার পরিবহন খরচ পরিশোধ করছে তো উক্ত ইহুদী-খ্রিস্টানদের কোম্পানী, যারা সুদী লোন নেয় এবং ক্ষেত্রবিশেষে সুদ গ্রহণও করে। এ কারণে আমাদের বেতন ও পারিশ্রমিক অবৈধ গণ্য হবে কি না?

ঋণ দেওয়ার জন্য চড়া মূল্যে ফরম বিক্রির নাম করে টাকা নেওয়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৭৯৯) : কিছুদিন আগে আমার স্বামীর অসুস্থতার কারণে মোটা অংকের টাকার প্রয়োজন হয়। তখন পরিচিত কারো কাছে ঋণ চেয়েও পাইনি। এমতাবস্থায় আমার এক প্রতিবেশী আমাকে একটি সামাজিক সংগঠনের সভাপতির কাছে নিয়ে যান। সভাপতির কাছে আমি আমার অবস্থা বলার পর তিনি আমাকে বলেন, আমরা তো কারো থেকে সুদ নেই না। তবে আমাদের ঋণ প্রদানের নিয়ম হল যে, পঞ্চাশ হাজারের বেশি কাউকে ঋণ দেওয়া হয় না। আর ঋণ গ্রহীতাকে তিন হাজার টাকা দামের একটি ফরম কিনতে হয়। কেননা আমাদের দাপ্তরিক কিছু ব্যয় রয়েছে। তাছাড়া ফরম বিক্রির মাধ্যমে আমরা অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কাজের তহবিল সংগ্রহ করি। প্রয়োজনের তাগিদে আমি এভাবেই ঋণ নিয়ে আসি। জানার বিষয় হল, উপরোক্ত পন্থায় ঋণ নেওয়া জায়েয হয়েছে কি না?