পিতা-মাতা

স্ত্রী-সন্তানদের মাঝে সম্পত্তি বণ্টনের পদ্ধতি কী হবে?

প্রশ্ন (১৩৮৮১) : আমার এক স্ত্রী, দুই ছেলে ও দুই মেয়ে আছে। আমার কিছু স্থাবর সম্পত্তি, জমা-জমি ও বাড়িঘর আছে। এবং কিছু ঋণও আছে। এ অবস্থায় আমার উক্ত ওয়ারিশদের মধ্যে সহায় সম্পত্তি ইত্যাদি বণ্টন করে যেতে চাই। সামান্য নিজের নামে রাখতে ইচ্ছুক। এ অবস্থায় আমাকে শরয়ী আইন মোতাবেক কী করতে হবে? দয়া করে জানাবেন।

মান্নতের খাবার কি নিজের সন্তানকে খাওয়ানো যাবে?

প্রশ্ন (১৩৮৩৪) : আমার এক দরিদ্র প্রতিবেশী তার ছেলে অসুস্থ হলে মান্নত করে যে, ছেলে সুস্থ হলে গরিব-মিসকিনদেরকে খাবার খাওয়াবে। কিছুদিন আগে তার ছেলে সুস্থ হয়েছে। জানার বিষয় হল, তার জন্য কতজন গরিব-মিসকিনকে খাবার খাওয়াতে হবে? আর ঐ খাবার কি তার ছেলেকে খাওয়াতে পারবে?

অমুসলিম পিতা-মাতা বা আত্মীয়-স্বজনের জন্য মাগফিরাত কামনা করে দুআ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৮০১) : আমি হিন্দু ধর্মের অনুসারী ছিলাম। আনুমাণিক পাঁচ বছর আগে আল্লাহ তাআলা আমাকে ইসলাম গ্রহণের তাওফীক দিয়েছেন। স্ত্রী, দুই ছেলে ও এক মেয়ে সবাই আলহামদু লিল্লাহ ইসলাম গ্রহণ করেছে। পরিবারের অন্যান্য সদস্যের ইসলাম গ্রহণের ব্যাপারে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু আমার বাবা-মা এবং অন্যান্য আত্মীয়, যারা অমুসলিম অবস্থায় মারা গেছে, তাদের জন্য খুবই দুঃখ ও আফসোস হয়। পরকালে তাদের মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে দুআ করতাম। এ ব্যাপারে ইমাম সাহেবের সাথে আলোচনা করলে তিনি বললেন, তাদের জন্য এভাবে দুআ করা জায়েয হবে না। তাই জানার বিষয় হল, আসলেই কি তাদের জন্য দুআ করা জায়েয হবে না?

সন্তান মা-বাবার অবাধ্য হলে কি মা-বাবা তাকে মিরাস থেকে বঞ্চিত করতে পারবে?

প্রশ্ন (১৩৭৮৭) : আমাদের তিন মেয়ে দুই ছেলে। ছোট মেয়ে আমাদের কথার অবাধ্য হয়ে একটি ছেলের সাথে পালিয়ে গিয়ে তাকে বিয়ে করে। বর্তমানে আমাদের সাথে তার কোনো সম্পর্ক নেই। এখন আমার প্রশ্ন হলো, এ ধরনের অবাধ্য সন্তান পিতামাতার সম্পত্তি থেকে মিরাস পাবে কি? পিতামাতার জন্য তাকে মিরাস থেকে বঞ্চিত করা বৈধ হবে কি?

স্বামী-স্ত্রীর বিবাহ বিচ্ছেদের পর সন্তান কার নিকট থাকবে?

প্রশ্ন (১৩৭৫৩) : কয়েক মাস মাস আগে আমার চাচাতো বোনের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে। তাদের একটি ছেলে ও একটি মেয়ে আছে। ছেলের বয়স তিন বছর। আর মেয়ের বয়স ছয় বছর। প্রশ্ন হল, সন্তানরা কার নিকট থাকবে? এক্ষেত্রে শরীয়তের সিদ্ধান্ত জানতে চাই।

ঔষুধ প্রয়োগ করে গর্ভস্থ সন্তানকে নষ্ট করে ফেললে কি ইদ্দত পূর্ণ হবে?

প্রশ্ন (১৩৫৯৮) : আমাদের এক আত্মীয়ার বিবাহ হয় গত বছর। মেয়েটির গর্ভে সন্তান আসার পর তার স্বামী তাকে তালাক দিয়ে দেয়। এ দুঃখে ও ক্ষোভে মেয়েটি ঔষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে তার গর্ভস্থ সন্তানকে নষ্ট করে দেয়। এখন সে ইদ্দত কীভাবে পালন করবে? এই গর্ভপাতের দ্বারা কি ইদ্দত শেষ হয়ে গেছে? নাকি ঋতুস্রাবের মাধ্যমে ইদ্দত পালন করতে হবে?

সন্তানের আকীকা করার দায়িত্ব কার?

প্রশ্ন (১৩৫৯৩) : আকীকা করা মূলত কার দায়িত্ব? বাবার বর্তমানে দাদা, নানা বা অন্য কেউ যদি আকীকা করে তাহলে কি আকীকা আদায় হবে? আর ছোটবেলায় কারো যদি আকীকা না হয়ে থাকে তাহলে বড় হয়ে সে কি নিজের আকীকা নিজে করতে পারবে?

যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত নয় এমন ব্যক্তির সন্তানের পড়ালেখার খরচ যাকাতের টাকা থেকে গ্রহণ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৫৮৪) : আমার এক প্রতিবেশী মাসিক ছয় হাজার টাকা বেতনের ছোট একটি চাকরি করেন। পাশাপারি কিছু ফসলী জমি চাষ করেন। চাকরি ও ফসলের আয় দ্বারা তার সংসার মোটামুটি চলে। তবে অতিরিক্ত কিছু তিনি রাখতে পারেন না। এ ছাড়া তার দুইটি ফলের বাগান রয়েছে। সেগুলোর মূল্য প্রায় চার লক্ষ টাকা হবে। তার একটি ছেলে আছে। তাকে বুঝানোর পর তিনি তার সন্তানকে মাদরাসায় পড়াতে রাজি হয়েছেন। কিন্তু তিনি মাদরাসার খরচাদি দিতে রাজি নন। তবে তিনি চেষ্টা করলে খরচ বহন করতে পারবেন। এখন আমার প্রশ্ন হল, আমি কি আমার বা অন্য কারো যাকাতের টাকা থেকে ঐ ছেলের মাদরাসার খরচ চালাতে পারব?

কুড়িয়ে পাওয়া সম্পদ নিজ গরিব সন্তানকে দেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৫৪১) : আমি একজন বাসচালক। আমি গাজীপুর টু ঢাকা লোকাল বাস চালাই। একদিন আমি আমার গাড়িতে প্রায় ১০/১২ কেজি পরিমাণ গোশত পাই। সাথে সাথে আমি বাসস্ট্যান্ডে ঘোষণা করে দিয়েছি। কিন্তু একদিন এক রাত পার হওয়ার পরও মালিকের কোনো খোঁজ পাইনি। পরে আমার এক গরিব ছেলে যার সংসার ভিন্ন তাকে সেই গোশত দিয়ে দিয়েছি। জানার বিষয় হল, নিজ সন্তানকে কুড়িয়ে পাওয়া সম্পদ দেওয়া কি ঠিক হয়েছে? এটা কি জায়েয হয়েছে?

সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় মারা গেলে কি তার জানাযা পড়তে হবে?

প্রশ্ন (১৩৪৯৫) : কিছুদিন পূর্বে আমার একটি ছেলে সন্তান জন্ম হয়েছে। ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময়ই সে মারা যায়। তার জানাযা নিয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। এলাকার মুরব্বীগণ বলেন, ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় মারা গেলে জানাযা দিতে হয় না। তারপরও ইমাম সাহেব জানাযা পড়ান। প্রশ্ন হল, ভূমিষ্ঠ হওয়ার সময় বাচ্চা মারা গেলে তার জানাযার নামায পড়তে হবে কি?

স্বামী উপার্জন করতে না পারলে কি স্ত্রীকে স্বামী ও সন্তানের পক্ষ থেকে সদকায়ে ফিতর আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১৩৪৯৩) : আমার স্বামী অনেক বছর যাবৎ প্যারালাইসিস রোগে আক্রান্ত হয়ে বিছানায় পড়ে আছে। তাই তিনি কোনো আয়-উপার্জন করতে পারেন না। আমি একটি প্রাইমারি স্কুলে চাকরি করি এবং আমার উপার্জনেই সংসার চলে। আমার নিজের উপর যাকাত ও সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব। এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমার স্বামী ও সন্তানদের পক্ষ থেকেও কি আমাকে সদকায়ে ফিতর আদায় করতে হবে? উল্লেখ্য, আমার স্বামী ও সন্তানদের এ পরিমাণ সম্পদ নেই যে, তাদের উপর যাকাত বা সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব হয়।

কোনো এক সন্তানের জন্য কারো কাছে টাকা রেখে মারা গেলে উক্ত টাকা কে পাবে?

প্রশ্ন (১৩৪৪৫) : আমার মা আমার ভাইয়ের জন্য এক লক্ষ টাকা এক মহিলার কাছে রেখেছেন। যখন রাখেন তখন আমাকে সাক্ষী করেছিলেন। মা কিছুদিন আগে মারা গেছেন। এখন জানতে চাচ্ছি, মা যার কাছে রেখেছিলেন সে মহিলা ঐ টাকা কাকে দিবে? এ টাকা কি আমার ভাইয়েরই প্রাপ্য? নাকি এটা মীরাস হিসেবে গণ্য হবে এবং সকল ওয়ারিস তাদের হিস্যা অনুযায়ী পাবে?

সন্তানকে নির্দিষ্ট মাদরাসায় পড়ানোর মান্নত করলে কি উক্ত মাদরাসায়ই পড়াতে হবে?

প্রশ্ন (১৩৪০৮) : আমার ছেলে গর্ভে থাকা অবস্থায় আমি মান্নত করেছিলাম যে, আমার গর্ভস্থ সন্তান ছেলে হলে তাকে ঢাকার একটি বড় মাদারাসায় পড়াব। পরবর্তীতে দেখা যায়, আমার ছেলে সন্তানই হয়েছে। কিন্তু তার জন্মের ছয় মাস পরেই তার বাবার সরকারি চাকরির সুবাদে খুলনায় বদলি হয়ে যায়। ফলে আমরা সপরিবারে খুলনায় এসে বসবাস শুরু করি। জানতে চাচ্ছি, আমার ছেলেকে কি এখন খুলনার কোনো মাদরাসায় পড়াতে পারব, নাকি যে মাদরাসার নামে মান্নত করেছিলাম সেখানেই পড়াতে হবে?

মৃত সন্তান ভূমিষ্ঠ হলে কি তার জানাযার নামায পড়তে হবে?

প্রশ্ন (১৩৩২৯) : কিছু দিন আগে আমার ভাইয়ের একটি মৃত সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়। তখন আমরা ঐ বাচ্চাকে গোসল দিয়ে কাপড়ে পেঁচিয়ে দাফন করে দেই। কিন্তু তার জানাযার নামায পড়িনি। আমরা জানতে চাচ্ছি, আমাদের এই কাজটি কি সঠিক হয়েছে? নাকি তার জানাযার নামায পড়া উচিত ছিল?

ছোট সন্তানের ব্যাপারে কে বেশি হকদার?

প্রশ্ন (১৩৩০৯) : আমার নানু বাড়ির সবাই দ্বীনি পরিবেশে বড় হয়েছে। তো আমার ছোট খালার বিয়ে হয় জেনারেল শিক্ষিত এক ফ্যামিলিতে। তাদের মধ্যে সামান্য পরিমাণও ধার্মিকতা নেই। তাছাড়া তাদের ঘরোয়া পরিবেশও ততো ভালো নয়। খালাকে তারা দ্বীন থেকে সরে আসতে বাধ্য করে; এমনকি বোরখা পর্যন্ত পরতে দেয় না। একারণে বড় মামা খালাকে ছাড়িয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেন। এবং খোলা তালাক করান। কিন্তু সমস্যা দেখা যায় খালার দু‘বছরের ছেলেকে নিয়ে। শ্বশুর বাড়ির লোকেরা জোর করে তাকে নিয়ে যায়। আমরা কয়েক বছরের জন্য রাখতে চাইলেও তারা সম্মত হয় না। এখন আমরা জানতে চাই, ইসলামের দৃষ্টিতে এই ছেলের উপর বেশি অধিকার কার? মায়ের না বাবার? জানিয়ে বাধিত করবেন।

কোনো মহিলা কি তার স্বামীর অনুমতি ছাড়া মা-বাবার খেদমতে যেতে পারবে?

প্রশ্ন (১৩২৭৭) : আমার এক প্রতিবেশীর স্ত্রীর মা-বাবা খুব অসুস্থ। দীর্ঘদিন রোগাক্রান্ত থাকায় তারা অনেক দুর্বল হয়ে গেছে। দৈনন্দিন প্রয়োজন পূরণ করার সক্ষমতাও তাদের নেই। তাই তার স্ত্রী মা-বাবার সেবা-যত্ন করার জন্য তাদের কাছে যেতে চায়; কিন্তু তার স্বামী অনুমতি দেয় না। এ পরিস্থিতিতে সে কি স্বামীর কথা না মেনে মা-বাবার খেদমত করার জন্য যেতে পারবে? দয়া করে জানালে কৃতজ্ঞ হব।

স্ত্রী মা-বাবা থেকে আলাদা থাকতে চাইলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩২৩৯) : আমাদের পরিবার একান্নভুক্ত পরিবার। আমরা ৬ ভাই। সাথে মা আছেন। সবাই বিবাহিত। জায়গা-জমির ঝামেলার কারণে গ্রামে পৃথক পৃথক বাড়ী করা সম্ভব হচ্ছে না। সবার জন্য রান্নাঘর একটাই। আমার বিয়ের দেড় বছর হয়েছে। কিন্তু আমার স্ত্রী এখনো আমাদের পরিবারের সাথে মানিয়ে নিতে পারেনি। বিভিন্ন বিষয়ে মাঝেমধ্যে আম্মুর সাথে মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। তার এগুলো সহ্য হয় না। আমাকে বাইরে বাসা নেওয়ার জন্য তাগাদা দেয়। এদিকে আমি ঘরে না থাকলে আম্মুর কষ্ট হবে। আম্মুর খেদমতে সমস্যা হবে। এ জন্য বাইরে যেতে চাচ্ছি না। চিন্তা করছি, একদিকে মা কষ্ট পাবে, অন্যদিকে স্ত্রীর অধিকার হরণ হচ্ছে। এখন আমি কী করব। এ ব্যাপারে শরয়ী দিকনির্দেশনা কি তা জানালে খুশি হব।

ধনী ব্যক্তির সন্তানকে যাকাত দেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩১৬৯) : আমার বন্ধুর বাবা একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি। আমার বন্ধু মাদরাসায় পড়াশুনা করে এবং সে বালেগ। কিন্তু সে তার বাবার অমতে সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায় মাদরাসায় পড়াশুনা করার কারণে তিনি তার পড়াশুনার খরচ বহন করেন না। আর এ ব্যাপারে তিনি খুবই কঠোর। এহেন পরিস্থিতিতে আমি কি তার পড়াশুনার খরচের জন্য তাকে যাকাত দিতে পারব?

সন্তানদেরকে কত বছর বয়স থেকে রোযার রাখার অভ্যাস করানো উচিত?

প্রশ্ন (১৩১৩১) : আমাদের সমাজে ধার্মিক পরিবারগুলোতে পিতা-মাতা তাদের সন্তানকে ৭/৮ বছর বয়স থেকেই নামাযের প্রতি উৎসাহ দিতে শুরু করেন এবং এ ব্যাপারে তাদেরকে খুব সচেতন বলেই মনে হয়। কিন্তু রমযানের রোযার ব্যাপারে কখনো কখনো এর বিপরীত চিত্র পরিলক্ষিত হয়। এমনকি কেউ কেউ তো সন্তানের বয়স ১১/১২ হওয়া সত্ত্বেও তাকে রোযা থেকে বিরত রাখেন। এ ব্যাপারে তাদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তারা বলেন, সন্তানের এখনও রোযার বয়স হয়নি। হযরতের নিকট জানার বিষয় হল, অপ্রাপ্তবয়স্ক বালকের রোযার ক্ষেত্রে শরীয়তের নির্দেশনা কী?