কসম ও মান্নত

মান্নত সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১৩৩৮৪) : আমি মান্নত করেছিলাম যে, আল্লাহ যদি এই অসুস্থ গরুটি ভাল করে দেন তাহলে তা সদকা করে দিবো। এখন গরুটি সুস্থ। এখন এই গরুটি সদকা করতে হবে নাকি বিক্রি করে একাধিক মাদরাসার গোরাবা ফান্ডে দান করা যাবে?

দাড়ি না কাটার কসম করার পর কেটে ফেললে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৩৬১) : আমার বড় ভাই সবসময় দাড়ি কাটে। তাকে অনেক বুঝানোর পর দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করতে গিয়ে এভাবে বলে, আমি যদি আর দাড়ি কাটি তাহলে আমি মুসলমান না। পরে সে দাড়ি কেটেছে। এখন তার বিধান কী? তার ঈমান ও বৈবাহিক সম্পর্কের কী হবে? কেউ কেউ বলেন, তার এ কথায় কোনো কসম সংঘটিত হয়নি। কারণ দাড়ি যে একেবারে কাটা যায় না এমন তো নয়। এক মুষ্ঠির বেশি হলে তো কাটা যায়। দয়া করে সঠিক সমাধান জানাবেন।

রমযানে মান্নতকৃত ইতিকাফ আদায় করতে না পারলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৩৪৬) : গত বছর কোনো কারণে আমি রমযানে ইতিকাফের মান্নত করি। কিন্তু অসুস্থতার দরুণ গতবার তা করতে পারিনি। এবার রমযানে আমি উক্ত ইতিকাফের কাযা আদায় করতে চাচ্ছি। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, এই রমযানে ইতিকাফ করার দ্বারা কি আমার সেই মান্নত আদায় হবে? নাকি সেই ইতিকাফ ভিন্ন করে কাযা করতে হবে?

যাকাত সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১৩৩০১) : আমি আমার একটি কাজের জন্য ২০০০/- টাকা দান করার মানত করেছিলাম। আল্লাহর রহমতে আমার উক্ত কাজটি সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু আমি এখনো উক্ত টাকা সদকা করতে পারিনি। এদিকে আমার যাকাতবর্ষ পূর্ণ হয়ে গেছে। জানতে চাচ্ছি, উক্ত অর্থ কি যাকাতের হিসাব থেকে বাদ যাবে?

কসমের কাফ্ফারা।

প্রশ্ন (১৩২৯৭) : একবার আমার বন্ধু রাফির সাথে আমার খুব ঝগড়া হয়। তখন আমি কুরআন শরীফ ছুঁয়ে কসম করে বলি যে, আমি আর জীবনেও রাফিদের বাসায় যাব না। পরবর্তীতে মিলমিশ হয়ে গেলে আমি রাফিদের বাসায় যাই। এখন জানতে চাচ্ছি, এভাবে কুরআন শরীফ ছুঁয়ে কসম করার কারণে কি তা কসম বলে গণ্য হয়েছে? এবং এটা ভঙ্গ করার কারণে কি আমার উপর কাফফারা ওয়াজিব হয়েছে?

কয়েকদিন রোযা রাখার মান্নত করলে কয়টি রোযা রাখতে হবে?

প্রশ্ন (১৩২৮৫) : আমি এবার এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছি। পরীক্ষার কিছুদিন আগে আমার জ্বর হয়েছিল। তখন আমি বলেছিলাম, আমি সুস্থ হলে কয়েকদিন রোযা রাখার মান্নত করলাম। এখন প্রশ্ন হল, আমার জন্য কি এখন রোযা রাখা আবশ্যক? এবং রোযা রাখতে হলে কয়টা রাখব?

কসমের কাফ্ফারা স্বরুপ ছোট বাচ্চাকে খাওয়ালে কি কাফ্ফারা আদায় হবে?

প্রশ্ন (১৩২৭৩) : আমি একটি কসম করেছিলাম, পরবর্তীতে তা ভঙ্গ হয়ে যায়। বিষয়টি একজন আলেমকে জানালে তিনি কসমের কাফফারা হিসেবে দশজন মিসকীনকে দু’বেলা পেটপুরে আহার করানোর পরামর্শ দেন। সুতরাং আমি এলাকার একজন প্রবীণ মিসকীনকে দু’বেলা খাবারের জন্য তিনিসহ দশজন মিসকীন দাওয়াত দিতে বলি। রাতে খাবার পেশ করা হলে তাদের সাথে থাকা ৬/৭ বৎসরের একটি ছেলে অল্পকিছু খাবার খায়। দুপুরেও ছেলেটি তাদের সাথে ছিল। যেহেতু ছেলেটি তাদের দশজনের একজন তাই তার কম খাওয়ার কারণে আমার মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এখন হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, বাচ্চাটির কম খাওয়ার কারণে কাফফারা আদায়ে কোনো সমস্যা হয়েছে কি? সমস্যা হয়ে থাকলে এখন আমার করণীয় কী?

কোনো হালাল বস্তু নিজের উপর হারাম করার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩২৫১) : একবার আমার মা ভাবির উপর রাগ করে বলে ফেলেন, ‘আমার জন্য মুরগী হারাম’। কিন্তু অনেকদিন পর মা তার এই কথা ভুলে মুরগীর গোশত খেয়ে ফেলেন। আমি স্মরণ করিয়ে দিলে আবার খাওয়া বন্ধ করে দেন। প্রশ্ন হল, এভাবে কোনো কিছু হারাম করলে কি সত্যিই তা হারাম হয়ে যায়? হারাম হলে পুনরায় তা হালাল করার কোনো উপায় আছে কি?

কসমের কাফ্ফারা আদায়ের পদ্ধতি কী?

প্রশ্ন (১৩২৩৬) : আমার বাবা গত মাসে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্তেকালের আগে তিনি একটি অসিয়তনামা লিখে যান। তাতে লিখা ছিল- ‘আমার উপর প্রায় ২০ টি কসমের কাফফারা অবশিষ্ট রয়েছে। তোমরা সেগুলো আমার রেখে যাওয়া সম্পদ থেকে আদায় করে দিও।’ আমরা সকল ওয়ারিশগণ তার কসমের কাফফারা আদায় করতে প্রস্তুত রয়েছি। জানতে চাচ্ছি, তাঁর সবক’টি কসমের জন্য একটি কাফফারা আদায় করলে যথেষ্ট হবে নাকি প্রত্যেকটির জন্য আলাদা আলাদা কাফফারা লাগবে? আর কসমের কাফফারা আদায়ের নিয়ম কী হবে?

কসম করে চার মাসের অধিক সময় স্ত্রী থেকে দূরে থাকার পর উক্ত কসম থেকে নিষ্কৃতি পাওয়ার পদ্ধতি কী?

প্রশ্ন (১৩২১৩) : একদিন আমার স্ত্রীর সাথে একটি বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। এক পর্যায়ে আমি রাগের মাথায় তার সাথে এই বলে কসম করে ফেলি যে, আমি কোনোদিন তোমার সাথে মেলামেশা করব না। অতপর এক সপ্তাহ বাড়িতেই আলাদা ঘরে ছিলাম। কিন্তু সেই বিষয়টি নিয়ে আবার ঝগড়া হলে আমি ঢাকায় বোনের বাসায় চলে আসি এবং পাঁচ মাস যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রাখি। এর মধ্যে বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা হলে আমি বাড়ি ফিরে যাই। এখন হুজুরের নিকট জানতে চাচ্ছি, আমি এই কসম থেকে কীভাবে নিষ্কৃতি পাব? এবং কসমের কাফফারা কীভাবে আদায় করব?

মান্নতের পশুর গোশত কি নিজে খাওয়া যাবে?

প্রশ্ন (১৩১৮৭) : কিছুদিন আগে আমি একটা কাজের জন্য মান্নত করেছিলাম যে, কাজটা হলে একটা ছাগল জবাই করে গরীবদেরকে খাওয়াব। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, মান্নতের সেই ছাগল রান্না হলে তার গোশত আমি ও আমার পরিবার খেতে পারব কি?

মক্কা মদিনার নামে কসম করলে কি উক্ত কসম সংঘটিত হবে?

প্রশ্ন (১২৯৫০) : আমি একবার আমার স্ত্রীর সাথে এভাবে কসম করেছিলাম যে, ‘যাও! মক্কা মদীনার কসম করে বলছি, আমি আর কখনো ইচ্ছা করে নামায ছাড়ব না। সর্বদা নামায পড়ব।’ কিন্তু আমি এরপরও অনেকবার নামায ছেড়ে দিয়েছি। এখন আমার করণীয় কী? আমাকে কি এর কাফফরা আদায় করতে হবে? কাফ্ফারা আদায় করতে হলে কীভাবে আদায় করব? বিষয়গুলো জানানোর অনুরোধ রইলো।

কোনো কাজ না করার কসম করার পর তা করে ফেললে করণীয়?

প্রশ্ন (১২৯২৭) : আমি আমার ছেলেকে মাদরাসায় দিয়েছি। কিন্তু সে মাদরাসায় পড়তে চায় না। বিভিন্ন সময় সে মাদরাসা থেকে চলে আসত। এভাবে সে তার জীবনের অনেক সময় নষ্ট করেছে। তাই একদিন আমি তাকে ঘর থেকে বের করে দিয়ে বলেছি, কসম করে বললাম তোকে আর আমার ঘরে ঢুকতে দিব না। এরপর বিভিন্ন সময় সে আমার ঘরে আসতে চাইলেও আমি তাকে ঘরে ঢুকতে দিইনি। আল্লাহর রহমতে এখন সে মাদরাসায় পড়ে। হযরতের কাছে জানতে চাই, এখন আমি তাকে আমার ঘরে আসতে দিতে পারব কি না? একজন আলেম বলেছেন, আমি যেহেতু আল্লাহর নামে কসম করি নাই তাই আমার কসমই হয়নি। সঠিক বিষয়টি হুযূরের কাছে জানতে চাই।

একই কসমের কথা একাধিকবার বললে কি একাধিক কাফ্ফারা দিতে হবে?

প্রশ্ন (১২৮৯০) : একবার আমি আমার ছোট ভাইয়ের সাথে রেগে গিয়ে একটি বিষয়ে কসমের নিয়তে বলে ফেলি যে, আমি কাজটি করব না। পরের দিন সে আবার প্রসঙ্গটি উঠালে আমি গুরুত্ব বুঝানোর জন্য আবারো কসম করে একই কথা বলি। এমনভাবে অন্য একজনের সাথে আলাপকালে ঐ বিষয়ে একই ধরনের কসম করি। কিন্তু পরে ঐ ছোট ভাইয়ের চাপাচাপিতে বাধ্য হয়ে কাজটি করে ফেলি। এখন জানার বিষয় হল, এখন আমাকে কি প্রত্যেকবার কসমের জন্য আলাদা আলাদা কাফফারা দিতে হবে, না সবক’টির জন্য একটা কাফফারা দিলেই হয়ে যাবে?

কোনো পশু কুরবানী করার মান্নত করার পর তা না করলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২৮৮৮) : আমি একজন খেটে খাওয়া গরীব মানুষ। আমার উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়। আমার দুটি গাভী ছিল। সেগুলোর দুধ বিক্রি করে আমারর সংসার চলত। ঘটনাক্রমে একবার আমার দুটো গাভীই রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে। তখন আমি মান্নত করি, গাভীগুলো সুস্থ হলে সামনের কুরবানী ঈদে এই কালো গাভীটা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কুরবানী করব। পরবর্তীতে গাভীদুটো সুস্থ হয়। কিন্তু কোনো কারণে আমি ঐ বছর কালো গাভীটি কুরবানী করিনি। এদিকে পরের বছর ঐ গাভীটি একটি বাচ্চা প্রসব করে এবং তা বড়ও হয়ে যায়। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, এ অবস্থায় আমার করণীয় কী?

ফরয হজ্বের সাথে মান্নতের হজ্বের নিয়ত করা যাকে কি?

প্রশ্ন (১২৮৬৩) : আমি অনেক দিন যাবৎ মারাত্মক অসুস্থতায় ভুগছি। অসুস্থতার এক পর্যায়ে আমার মা একটি মান্নত করেছে যে, আল্লাহ যদি আমার ছেলেকে সুস্থ করে দেন তাহলে আমি একটি হজ্ব করব। আল্লাহ তাআলার মেহেরবানীতে এখন আমি সুস্থ। আবার আমার মায়ের উপরও হজ্ব ফরয। কিন্তু এখনো তা আদায় করার সুযোগ হয়নি। এখন তিনি জানতে চাচ্ছেন যে, তার কয়টি হজ্ব আদায় করতে হবে। একটি হজ্ব আদায় করলে উভয়টির ক্ষেত্রে (ফরয ও মান্নত) যথেষ্ট হবে কি না? জানালে খুব উপকৃত হব।

কোনো জমি দান করার মান্নত করার পর উক্ত জমির মূল্য দান করা যাবে?

প্রশ্ন (১২৮৫৩) : দীর্ঘদিন পর্যন্ত আমার বাড়ির জমি নিয়ে মামলা চলছিল। এর পেছনে আমার অনেক টাকা ব্যয় হয়েছে। একবার মান্নত করি যে, উক্ত জমির ব্যাপারে যদি আদালত আমার পক্ষে রায় দেয় তাহলে আমার চরের জমিটি মাদরাসায় গরীব ছাত্রদের জন্য সদকা করে দিব। অনেক মামলা-মুকাদ্দামার পর আদালত আমার পক্ষে রায় দেয়। এদিকে ভবিষ্যতে চরের জমিটির দামও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এজন্য আমি চাচ্ছি, জমির পরিবর্তে তার বর্তমান বাজারমূল্য হিসাব করে মাদরাসার গোরাবা ফান্ডে দিয়ে দিতে। জানার বিষয় হল, আমি নির্দিষ্টভাবে একটি জমি সদকা করার মান্নত করেছি। তাই তার মূল্য আদায়ের দ্বারা কি আমার মান্নত আদায় হবে?

একই পশুতে আকীকা ও মান্নতের নিয়ত করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৮৪৬) : আমার এক বন্ধু মান্নত করেছিল যে, সন্তান হলে আত্মীয়-স্বজনকে দাওয়াত দিয়ে খাওয়াবে। পরর্তীতে তার একটি সন্তান হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত সে উক্ত মান্নত পূরণ করে নি। এখন সে জানতে চাচ্ছে যে, তার সন্তানের আকীকা আর মান্নতের নিয়ত একই পশুতে করলে কি তার মান্নত আদায় হবে? দয়া করে জানাবেন।

মনে মনে দান করার নিয়ত করলে কি মান্নত সংঘটিত হয়?

প্রশ্ন (১২৭৯৮) : কিছু দিন আগে একটি বিপদের সম্মুখীন হয়েছিলাম। যেখানে কোনো অন্যায় না করেও আমাকে অপরাধী সাব্যস্ত হতে হয়েছে। তখন আমি মনে মনে নিয়ত করেছিলাম যে, আল্লাহ তাআলা এ পরিস্থিতি থেকে হেফাজত করলে পাঁচ শত টাকা সদকা করব। পরে আল্লাহর মেহেরবানীতে সে বিপদ কেটে গেলেও আর টাকা সদকা করা হয়নি। প্রশ্ন হল, মুখে না বলে শুধু মনে মনে নিয়ত করার কারণে সেটি কি মান্নত হয়ে গিয়েছে? এবং এখন কি আমার জন্য ঐ পরিমাণ টাকা সদকা করা ওয়াজিব?

মাজারে কোনো কিছু দান করার মান্নত করলে সে ক্ষেত্রে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২৭৭৯) : আমার এক প্রতিবেশী মান্নত করেছে যে, তার পালিত একটি গাভীর তৃতীয়বার বাচ্চা হলে দুধ খাওয়া শেষে সেটিকে মাজারে দিয়ে দেবে। এক ব্যক্তি তাকে বুঝিয়েছে- সেখানে দিলে তোমার কোনো লাভ হবে না। তার চেয়ে গাভীটি বিক্রি করে টাকা মসজিদের নির্মাণকাজে দান করে দাও। কিন্তু সে তাতে সম্মত হয়নি। পরবর্তীতে তার শর্ত অনুযায়ী তৃতীয়বার বাচ্চা দেওয়া ও দুধ শেষ হওয়ার পর গাভীটি মারা গেছে। এখন সে কীভাবে ঐ মান্নত পুরা করবে?