মসজিদ

নামাযের পরে মসজিদে শোয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৭৩৬) : গরমের মৌসুমে যোহরের নামায পড়ে মসজিদে অনেককেই শুয়ে থাকতে দেখা যায়। কারণ এ সময়ে সাধারণত মানুষ কাজকর্ম থেকে এসে নামায পড়ে। তাই শারীরিকভাবে খুব ক্লান্ত থাকে। তাদেরকে নিষেধও করা যায় না। এখন মুহতারামের কাছে জানতে চাই, এভাবে মসজিদে শুয়ে পড়ার অবকাশ আছে কি?

কোনো ব্যক্তির নামে মসজিদের নামকরণ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৭২৪) : আমাদের এলাকায় একটি নতুন মসজিদ নির্মাণ করা হয়েছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘শফীউদ্দিন জামে মসজিদ’। মসজিদের জন্য জমি ওয়াকফকারীর নামে এই নামকরণ। এখন কিছু মানুষ বলছে, মসজিদ আল্লাহর ঘর। আর আল্লাহর ঘর মানুষের নামে হতে পারে না। যদি রাখা হয় তাহলে এই মসজিদে নামায হবে না। তাছাড়া ঐ ব্যক্তি জমি দিয়েছে বলে কি তার নামে নামকরণ করতে হবে? এর নির্মাণ কাজে তো এলাকার সকলেই অংশগ্রহণ করেছে। এখন বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ফেতনার আশংকা দেখা দিয়েছে। এলাকার কিছু বিচক্ষণ মুরুব্বি এ বিষয়ে দারুল ইফতার শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন। তাই হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, মানুষের নামে মসজিদের নামকরণ করা জায়েয আছে কি না? বিস্তারিত জানিয়ে উক্ত ফেতনা নিরসন করার অনুরোধ রইল।

কেউ যদি রাস্তা-ঘাটে টাকা পায় তাহলে কী করবে?

প্রশ্ন (১২৭১৭) : অনেক সময় রাস্তাঘাটে টাকা-পয়সা পাওয়া যায়। খোঁজাখুঁজির পরও যদি মালিক না পাওয়া যায় তাহলে কী করা হবে? অনেকে বলে, মসজিদে দিয়ে দিতে। মসজিদে দেয়া কি জায়েয হবে? অন্যথায় করণীয় কী?

মসজিদ ফান্ডের টাকা নিজ প্রয়োজনে ব্যবহার করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৭১৫) : আমাদের মসজিদের ফান্ডের টাকা মসজিদ কমিটি নিজস্ব কাজে ব্যবহার করে। পরবর্তীতে মসজিদের প্রয়োজন পড়লে তা দিয়ে দেয়। এভাবে মসজিদের টাকা নিজ প্রয়োজনে ব্যবহার করা জায়েয আছে কি?

মসজিদে গিয়ে ইমাম সাহেবকে সিজদায় পেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২৬৯৯) : অনেক সময় মসজিদে গিয়ে দেখি ইমাম সাহেব সিজদারত আছেন। তখন কেউ কেউ ওই অবস্থায় ইমামের সঙ্গে নামাযে শরীক হয়। আবার অনেকে ইমাম সাহেব সিজদা থেকে উঠার অপেক্ষায় থাকে। যখন ইমাম সাহেব সিজদা থেকে দাঁড়ান, তখন নামাযে শরীক হয়। জানার বিষয় হল, ইমামকে সিজদা অবস্থায় পেলে করণীয় কী? জানিয়ে বাধিত করবেন।

মসজিদের প্রয়োজনের জন্য ওয়াকফকৃত জমিতে আরেকটি মসজিদ নির্মাণ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৬৯৮) : আমার দাদা আমাদের বাড়ির পাশের একটি জমি মসজিদের প্রয়োজনে ওয়াকফ করেন। তো আমাদের বাড়ি থেকে আমাদের এলাকার মসজিদ দূরে হওয়ায় বৃষ্টির দিনে যাতায়াত খুবই কষ্ট হয়ে যায়। তাই আমরা চাচ্ছি ওয়াকফকৃত জমিতে একটি পাঞ্জেগানা মসজিদ নির্মাণ করতে। এখন হযরতের কাছে জানতে চাচ্ছি, উক্ত জমিতে মসজিদ নির্মাণ করা যাবে কি?

তাকবীরে তাহরীমা বলতে বলতে রুকুতে গেলে কি নামায শুদ্ধ হবে?

প্রশ্ন (১২৬৮৫) : একদিন আসরের নামাযে মসজিদে যেতে বিলম্ব হয়ে যায়। মসজিদে গিয়ে দেখি ইমাম সাহেব রুকুতে আছেন। আমি তাড়াতাড়ি তাকবীর বলা অবস্থায় রুকুতে শরীক হয়ে যাই। যেন ইমামকে রুকুতে পেয়ে পূর্ণ রাকাত পেতে পারি। আমার তাকবীর রুকুতে গিয়ে শেষ হয়। এ অবস্থায় আমার নামায কি সহিহ হয়েছে? যদি সহিহ না হয়, তাহলে এ অবস্থায় আমার করণীয় কী ছিল?

মসজিদের উন্নয়নের জন্য ওয়াকফকৃত জমিতে অন্য একটি মসজিদ নির্মাণ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৬৮২) : আমাদের গ্রামটি অনেক বড় ও ঘনবসতিপূর্ণ। পুরো গ্রামে মাত্র একটি মসজিদ। আর মসজিদটি গ্রামের একেবারে দক্ষিণ পাশে থাকায় উত্তর পাশের লোকদের নামাযে আসতে অনেক কষ্ট হয়। বর্ষাকালে বৃষ্টির কারণে মসজিদে আসা খুবই কঠিন হয়ে যায়। উত্তর পাশে মসজিদের একটি জমি আছে, যা এক ব্যক্তি মসজিদের খরচ নির্বাহের জন্য দান করেছিল। তাই এলাকার মুরুব্বীরা চাচ্ছেন উক্ত জমিতে এ পাশের লোকদের জন্য একটি পাঞ্জেগানা মসজিদ নির্মাণ করতে। যাতে তারা পাঁচ ওয়াক্ত নামায এখানে আদায় করতে পারেন। আর ঈদ ও জুমা মূল মসজিদে গিয়েই আদায় করবেন। জানার বিষয় হল, এলাকাবাসীর জন্য কি এমনটি করা জায়েয হবে? মসজিদের জায়গায় আরেকটি মসজিদ বানাতে কোনো অসুবিধা আছে কি না?

ইমাম সাহেব মেহরাব ছেড়ে প্রথম কাতারে দাঁড়ালে কোনো অসুবিধা আছে কি?

প্রশ্ন (১২৬৬৬) : আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব কিছুদিন যাবৎ মেহরাব ছেড়ে এক কাতার পিছনে দাঁড়ান। আর মুসল্লিরা মসজিদের দ্বিতীয় কাতারে দাঁড়ান। বেশ কয়েকদিন যাবৎ এভাবে নামায পড়া হচ্ছে। কিন্তু গত দুদিন আগে এক আগন্তুক বললেন, এভাবে নামায পড়ে তো আপনারা হাদিসে বর্ণিত প্রথম কাতারের ফযীলত থেকে মাহরূম হচ্ছেন। কেননা এটা তো দ্বিতীয় কাতার; প্রথম কাতার নয়। তাই বিষয়টি নিয়ে বেশ দ্বিধায় আছি। তাছাড়া এ কথা শোনার পর অনেক মুসল্লি ইমাম সাহেবকে দোষারোপ করছে। তাই হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, হাদিস শরিফে যে প্রথম কাতারের ফযীলত বর্ণিত হয়েছে, এর দ্বারা কোন প্রথম কাতার উদ্দেশ্য? এবং প্রশ্নোক্ত অবস্থায় আমরা যে নামাযগুলো পড়েছি, তাতে প্রথম কাতারের ছাওয়াব পাব কি না? দয়া করে দলীলসহ বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

থুথুর সাথে কী পরিমাণ রক্ত বের হলে অযু ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২৬৬৫) : কিছু দিন আগে ডাক্তারের নিকট গিয়ে কয়েকটি দাঁত ওয়াশ করাই। দাঁতের গোড়া থেকে রক্ত পড়ছিল। ডাক্তারের কথা অনুযায়ী বাসায় এসে গরম পানি দিয়ে কুলি করলে বেশ সময় পর রক্ত পড়া বন্ধ হয়। নামাযের সময় হওয়ায় বাসা থেকে অযু করে মসজিদের উদ্দেশ্যে রওনা হই। মসজিদের কাছে গিয়ে থুথু ফেলে দেখি তা লালবর্ণ ধারণ করে ছিল। সন্দেহ হওয়ায় সতর্কতাবশত নতুন অযু করে নামায পড়ি। এখন আমার জানার বিষয় হল, আসলেই কি তখন আমার অযু ভেঙ্গে গিয়েছিল? এক্ষেত্রে শরীয়তের মাসআলাটি জানালে কৃতজ্ঞ হব।

মসজিদের জন্য ওয়াকফ করা জমি পরিবর্তন করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৬৫২) : আমার দাদা তার জীবদ্দশায় আমাদের বাড়ি সংলগ্ন একটি জমি মসজিদের নামে ওয়াকফ করে যান। এতদিন তা মসজিদের বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ইদানীং আমরা বাড়িতে একটি বিল্ডিং করার উদ্যোগ নিয়েছি। যাতে ঐ জমিটির একাংশের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। তাই আমরা চাচ্ছি, সমমূল্যের আরেকটি জমি দিয়ে উক্ত জমিটি পরিবর্তন করতে। মসজিদের মুতাওয়াল্লীসহ কমিটির বেশিরভাগ লোক এতে রাজি আছেন। তবে ইমাম সাহেবসহ কমিটির কিছু সদস্য তাতে আপত্তি জানিয়েছেন। জানার বিষয় হল, বিশেষ প্রয়োজনবশত ওয়াকফকারীর উত্তরসূরী হিসাবে আমাদের জন্য মসজিদের জমি পরিবর্তন করার অবকাশ আছে কি না? যদি কমিটির সকল সদস্য সম্মতি দেয় তাহলে কি পরিবর্তন করা যাবে?

মসজিদের ভেতরে হেঁটে হেঁটে সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করলে কি একাধিক সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২৬৪১) : আমি গত রমযান মাসে তারাবীহর পড়া ভালোভাবে ইয়াদ করার জন্য মসজিদে বসে তিলাওয়াত করি। কখনো মসজিদের ভেতরে হেঁটে হেঁটে তিলাওয়াত করি। এখন প্রশ্ন হল একটি সিজদার আয়াত মসজিদের ভেতরে হেঁটে হেঁটে বারবার পড়ার কারণে আমার উপর কি একাধিক সিজদায়ে তিলাওয়াত ওয়াজিব হবে? নাকি একটিই ওয়াজিব হবে?

নফল নামায জামাতের সাথে আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৬৪০) : আমাদের মহল্লার মসজিদে রমযানের শেষ দশকে রাত ১২টার পর জামাতের সাথে কিয়ামুল লাইল-এর নামায আদায় করা হয় এবং তাতে পূর্ণ ৩০ পারা পড়া হয়। ইমাম সাহেব ফতোয়া দিয়েছেন, রমযানের শেষ দশকের জামাতবদ্ধ এই নফল নামায মাকরূহ হবে না। তিনি মক্কা ও মদীনাকে দলীল হিসাবে ব্যবহার করেছেন। আমার জানার বিষয় হল, উক্ত নফল নামাযের জামাতটা শরীয়তে বৈধ হবে কি না? বিস্তারিত দলীলসহ জানালে উপকৃত হব।

ইতিকাফ সংক্রান্ত কয়েকটি প্রশ্ন।

প্রশ্ন (১২৬২৯) : আমি আমাদের এলাকার বড় মসজিদে সাত দিন ইতেকাফ করার মান্নত করেছিলাম। কিন্তু ইতেকাফ শুরু করার পর অসুস্থ হয়ে যাওয়ার কারণে বাকি দিনগুলোর ইতেকাফ পুরা করতে পারিনি। হুযুরের কাছে জানার বিষয় হল, ১. এখন আমার কয় দিনের ইতেকাফ করতে হবে? ২. ইতেকাফ কি বড় মসজিদেই করতে হবে? নাকি অন্য কোনো মসজিদেও করতে পারব? ৩. এ ইতেকাফের সময় কি আমাকে রোযা রাখতে হবে? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

মসজিদের গাছ থেকে ফল পেড়ে খেলে কি তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে?

প্রশ্ন (১২৫৭৯) : প্রায় দশ বছর আগে আমি এক এলাকায় ঘুরতে গিয়ে সেখানকার মসজিদের গাছের ফল চুরি করে খেয়েছি। পরে খাওয়ার জন্য কিছু ফল সাথে করে নিয়েও এসেছিলাম। তখন অনেক ছোট ছিলাম বিধায় এর ভয়াবহতা বুঝতে পারিনি। এখন আমি বিষয়টি নিয়ে খুবই চিন্তিত। এর দায়মুক্তির জন্য আমাকে কি কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে হবে? একবার ভাবি অন্যায় হয়নি। আবার মনে হয় তখন তো আমি ছোট ছিলাম তাই এর কোনো হিসাব হবে না। তবে এর বিপরীতে ভিন্ন ভাবনাও কাজ করে। তাই জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় সে মসজিদ ছাড়া অন্য মসজিদে ক্ষতিপূরণ দিলে আদায় হবে কি না? কেননা আমরা এখন সে মসজিদ থেকে অনেক দূরে থাকি। সেখানে কোনো কিছু পাঠানো খুবই কষ্টসাধ্য। উপরোক্ত বিষয়গুলো বিস্তারিত জানানোর অনুরোধ রইল।

মসজিদে অবস্থানকারী ব্যক্তি কোনো কারণে রাতে মসজিদ থেকে বের হতে না পারলে কীভাবে পবিত্রতা অর্জন করবে?

প্রশ্ন (১২৫৭৩) : আমি মাঝে মাঝে তাবলীগে যাই। কখনো কখনো আমাদের জামাতের রোখ প্রত্যন্ত গ্রামে পড়ে। গ্রামের মসজিদগুলোতে সাধারণত অযু-গোসলের ব্যবস্থা মসজিদ থেকে একটু দূরে থাকে। সেখানে মাঝ রাতে যদি গোসলের প্রয়োজন দেখা দেয় তাহলে করণীয় কী? কারণ এমন জায়গায় গভীর রাতে একা একা বের হয়ে গোসল করে নেওয়াটা কঠিন। দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

জামাতে নামায আদায় করার গুরুত্ব।

প্রশ্ন (১২৫৬০) : আমার জানামতে আমাদের সমাজে কিছু মানুষ যে কোনো ফরয নামায (বিশেষ করে ফজরের ফরয নামায)-এর জামাতে অনুপস্থিত থাকে। কারণ হিসাবে তারা বলেন, নবী কারীম (সা.) সবসময় নামায আউয়াল ওয়াক্তে আদায় করতেন এবং আবু দাউদ শরীফের একটি হাদিসে আছে, ‘যখন তোমাদের ইমামগণ নামায আদায়ে বিলম্ব করবে তখন তোমরা নিজেরা উক্ত নামায ঘরে আদায় করবে। পরে তাদের সাথে মিলিত হলে পুনরায় জামাতে শরীক হবে। তা তোমাদের জন্য নফল।’ তাদের এ বক্তব্য কতটুকু সঠিক এবং উক্ত কারণে জামাতে অনুপস্থিত থাকার গুনাহ হবে কি না?

মাসবুক ব্যক্তির পিছনে ইক্তিদা করা সহিহ আছে কি?

প্রশ্ন (১২৫৫৭) : কিছু দিন আগে আমার এক চাচা বাসায় বেড়াতে আসেন। আসরের সময় একসঙ্গে মসজিদে যাই। যেতে দেরি হওয়ায় গিয়ে দেখি ইমাম সাহেব সালাম ফিরাচ্ছেন। তাই আমি মসজিদের এক পাশে গিয়ে নামায আদায় করি। নামায শেষে জানতে পারি, জামাতে নামায পড়ার উদ্দেশ্যে চাচা একজন মাসবুকের পেছনে ইক্তিদা করে নামায আদায় করেছেন। হযরতের কাছে আমার জানার বিষয় হল, মাসবুকের পেছনে ইক্তিদা করে তার নামায পড়া কি সহিহ হয়েছে? এক্ষেত্রে শরীয়তের সঠিক মাসআলাটি জানালে কৃতজ্ঞ হব।

ইতিকাফ সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৫৫৪) : গত রমযানে আমাদের গ্রামের একটি পাঞ্জেগানা মসজিদে আমরা আটজন ইতিকাফে বসি। পাশের জামে মসজিদে আমার দুই মামাও ইতিকাফে বসেন। আটাশ রমযানে সেই মসজিদে জুমার নামায পড়তে গেলে বড় মামা আমাকে জোর করে রেখে দেন। ফলে বাকি দুদিন সেখানে থেকে ইতিকাফ পূর্ণ করি। এক হুজুরকে মাসআলা জিজ্ঞেস করলে ইতিকাফ হয়ে যাবে বলে মত দেন। কিন্তু এ বিষয়ে খটকা রয়ে যায়। তাই মুফতী সাহেবের কাছে আবেদন হল, এ বিষয়ে শরীয়তের সঠিক মাসআলাটি জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

ব্যাংক একাউন্ট থেকে আসা সুদের টাকা জনকল্যাণমূলক কাজে খরচ করার নিয়তে ব্যাংকে টাকা রাখা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৫৪৮) : আমার কয়েকটি বিষয় জানার ছিল, ১. আমি বিগত সময় আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে সেভিংস একাউন্টে কিছু টাকা জমা রেখেছিলাম। যার লাভের হার ছিল ৪%। এই লাভের টাকা আমি কোনোদিনই ভোগ করিনি এবং কোনোদিন করবও না ইনশাআল্লাহ। এই লাভের টাকা দিয়ে বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসার টয়েলেট ও প্রস্রাব খানা তৈরি করার কাজে ব্যয় করা হয়। এখন অন্য ব্যাংকে যদি জমা রাখি তাহলে সেই ব্যাংক আমাকে ৫.৫% হারে লাভ দিবে। উল্লেখ থাকে যে, সেই টাকাও বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসার টয়লেট ও প্রস্রাব খানা তৈরি করার কাজে ব্যয় করা হবে। এখন জানাবেন যে, বেশি লাভের জন্য আমি অন্য ব্যাংকে টাকা জমা রাখতে পারব কি না? ২. আমার ব্যবসা পরিচালনার জন্য কোম্পানীর নামে একাধিক ব্যাংকে চলতি হিসাব বা কারেন্ট একাউন্ট চালু আছে এবং লেনদেন করছি। ঐসকল ব্যাংকগুলো তাদের ব্যাংকে লেনদেন করার কারণে বাৎসরিক সার্ভিস চার্জ বাবদ টাকা কেটে নেয়। আমি অন্য ব্যাংক থেকে যে সুদ বা লাভের টাকা পাব তা দিয়ে উক্ত সার্ভিস চার্জ পরিশোধ করতে পারব কি না? ৩. আমার কোম্পানীর ওভেন, ডায়ার ও চুলা ব্যবহারের নতুন গ্যাস লাইন বর্ধিত করার জন্য ব্যাংক গ্যারান্টি বাবদ ১০ লক্ষ টাকা তিতাস গ্যাস কোম্পানীকে দিতে হবে। উক্ত ব্যাংক গ্যারান্টির ১০ লক্ষ টাকা নগদ জমা দিলে আমাকে ২% হারে সুদ বা লাভ দিবে ব্যাংক এবং জামানতও দেওয়া হবে। আর যদি নগদ ৩ লক্ষ টাকা জামানত বাবদ জমা দেওয়া হয় তাহলে ব্যাংকে বছর শেষে আরো ছয় হাজার টাকা অতিরিক্ত সুদ দিতে হবে। এখন আমার জানার ইচ্ছা যে, উক্ত সুদ বা লাভের টাকা অন্য ব্যাংক একাউন্টের সুদ বা লাভের টাকা থেকে পরিশোধ করা যাবে কি না? মোটকথা হল, এক ব্যাংকের সুদ বা লাভের টাকা দিয়ে অন্য ব্যাংকের সুদ বা লাভের টাকা পরিশোধ করা যাবে কি না?