জ্ঞান ও শিক্ষা

যাকাতের টাকা দিয়ে মাদরাসায় কিতাব কিনে দিলে কি যাকাত আদায় হবে?

প্রশ্ন (১৩৮৮৩) : এক ব্যক্তির উপর বিশ হাজার টাকা যাকাত ওয়াজিব হয়েছে। এখন সে চাচ্ছে, এই টাকা দিয়ে কিতাব ক্রয় করে মাদরাসার কুতুবখানায় ওয়াকফ করতে। জানার বিষয় হলো, এর মাধ্যমে কি তার যাকাত আদায় হবে?

বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৮৬৫) : আমার চাচা উচ্চতর শিক্ষা অর্জনের উদ্দেশে দেশের একটি বড় প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হওয়ার জন্য আবেদন করে। উক্ত প্রতিষ্ঠানে বিবাহিত কাউকে ভর্তি নেয় না। কিন্তু আমার চাচা বিবাহিত। তাই বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও ভর্তি হওয়ার জন্য সে তার জীবন বৃত্তান্তে অবিবাহিত লিখে। এবং মৌখিক স্বীকারোক্তি দেন এ বলে যে, আমি অবিবাহিত; আমার স্ত্রী নেই। বর্তমানে সে ঐ প্রতিষ্ঠানের একজন ছাত্র। জানার বিষয় হল, এভাবে বলা ও লিখার কারণে তার স্ত্রীর উপর কি কোনো তালাক পতিত হয়েছে?

বেসরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রভিডেন্ট ফান্ডে বেতনের আংশিক জমা করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৭৪৮) : আমি একটি কলেজে শিক্ষকতা করি। এই কলেজটি একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের প্রভিডেন্ট ফান্ড-এর টাকা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ৫০% এবং চাকরিজীবীদের বেতন থেকে ৫০% ব্যাংক হিসাবে জমা হয়। উক্ত টাকা চাকরি শেষে চাকরিজীবীদের প্রদান করার নিয়ম রয়েছে। বর্তমানে কর্তৃপক্ষ প্রদত্ত ৫০% এর উপর এফ.ডি.আর. করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এ টাকাও চাকরির শেষে মূল ও বর্ধিত অংশসহ চাকরিজীবীদেরকে প্রদান করা হবে। অতএব এ অবস্থায় উক্ত মূল ও বর্ধিত অংশ চাকরির শেষে গ্রহণ করা যাবে কি?

মাদরাসায় ছাত্ররা তাদের জিনিসপত্র ফেলে রেখে চলে গেলে সেগুলো কী করবে?

প্রশ্ন (১৩৪৬৭) : আমাদের মাদরাসায় প্রতি বছরের শেষেই অনেক ছাত্র বিভিন্ন জিনিস রেখে চলে যায়। কিন্তু পরে আর নিতে আসেনা। যেমন, ট্রাংক, লেপ-তোষক, কিতাব ইত্যাদি। এগুলোর মধ্যে কোনোটার মালিক জানা আছে। আবার কোনোটার মালিক জানা নেই। যেগুলোর মালিক জানা আছে তাদের সাথে মাদরাসার পক্ষ থেকে তা নিয়ে যাওয়ার জন্য যোগাযোগ করা হলেও তারা তা নিতে আসছে না। আমার জানার বিষয় হল, মাদরাসা কর্তৃপক্ষ এ জিনিসগুলো কী করবে? মালিক জানা থাকা না থাকার বিষয়ে কি কোনো পার্থক্য হবে? দলীলসহ জানালে উপকৃত হব।

সন্তানকে নির্দিষ্ট মাদরাসায় পড়ানোর মান্নত করলে কি উক্ত মাদরাসায়ই পড়াতে হবে?

প্রশ্ন (১৩৪০৮) : আমার ছেলে গর্ভে থাকা অবস্থায় আমি মান্নত করেছিলাম যে, আমার গর্ভস্থ সন্তান ছেলে হলে তাকে ঢাকার একটি বড় মাদারাসায় পড়াব। পরবর্তীতে দেখা যায়, আমার ছেলে সন্তানই হয়েছে। কিন্তু তার জন্মের ছয় মাস পরেই তার বাবার সরকারি চাকরির সুবাদে খুলনায় বদলি হয়ে যায়। ফলে আমরা সপরিবারে খুলনায় এসে বসবাস শুরু করি। জানতে চাচ্ছি, আমার ছেলেকে কি এখন খুলনার কোনো মাদরাসায় পড়াতে পারব, নাকি যে মাদরাসার নামে মান্নত করেছিলাম সেখানেই পড়াতে হবে?

যাকাতের টাকা দিয়ে মাদরাসার ছাত্রদের বিতাব কিনে দিলে কি যাকাত আদায় হবে?

প্রশ্ন (১৩৩১২) : আমার কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ আছে। মাদরাসার মসজিদে নামায আদায় করার ‍সুবাদে কয়েকজন মাদরাসার ছাত্রের সাথে আমার পরিচয় হয়েছে। কথা প্রসঙ্গে তাদের কাছ থেকে জানতে পারলাম, বর্তমানে মাদরাসার পাঠ্যপুস্তকগুলোর দাম অনেক বেশি। তাই অনেকে কিতাব ক্রয় করতে পারে না। তো আমি চাচ্ছি আমার উক্ত যাকাতের টাকা দিয়ে প্রয়োজনীয় কিছু কিতাব কিনে গরীব মেধাবী ছাত্রদের দিব। জানতে চাচ্ছি, এভাবে কিতাব কিনে দেওয়ার দ্বারা আমার যাকাত আদায় হবে কী?

যাকাতের টাকা দিয়ে কি মাদরাসা নির্মাণ করা যাবে?

প্রশ্ন (১৩৩০৭) : আমাদের এলাকায় একটি এতিমখানা মাদরাসা আছে। তো মাদরাসার মুহতামিম যাকাতের টাকার মাধ্যমে মাদরাসার জন্য জমি ক্রয় ও ছাত্রাবাস নির্মাণ করতে চায়। জানার বিষয় হলো, যাকাতের টাকা দিয়ে কি এগুলো করা যাবে?

মসজিদের জন্য ওয়াক্ফকৃত জমির গাছ থেকে কি মাদরাসার ছাত্ররা ফল খেতে পারবে?

প্রশ্ন (১৩০০৮) : মসজিদের জন্য ওয়াক্ফকৃত জায়গায় যে সমস্ত ফলের গাছ আছে সেগুলোর ফল পাশের মাদরাসার ছাত্ররা খেতে পারবে কি? আসলে এ ফলগুলোর হকদার কারা? বিষয়টি নিয়ে এলাকায় খুব সমস্যা হচ্ছে। দ্রুত সমাধান জানালে উপকৃত হব।

মাদরাসার জন্য জমি ওয়াকফ করার পর তা ফিরিয়ে নেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৮৫২) : আমার পিতা জীবদ্দশায় মসজিদ সংলগ্ন চার শতক জমি ক্রয় করেন মসজিদে অবস্থিত হেফজ খানার জন্য ওয়াকফ করার উদ্দেশ্যে। পরে আমার বাবা লিখিতভাবে ওয়াকফের কাজ সম্পন্ন করার আগেই মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুর আগে তিনি আমাকে এবং আমাদের সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদেরকে ওয়াকফের কাজ সমাপ্ত করার আদেশ করে যান। আমরা তার নির্দেশ অনুযায়ী ওয়াকফের কাজ সম্পন্ন করি। এখন আমরা জানতে চাচ্ছি, মসজিদ-মাদরাসা কমিটির সম্মতিক্রমে ওসিয়তকারীর উত্তরাধিকারীরা ওয়াকফকৃত জমি সামাজিক কোনো কাজে ব্যবহার করার (পারিবারিক কবরস্থান বানানোর) জন্য ফেরত নিতে অথবা রদবদল করতে পারবে কি?

বাবা মাদরাসার নামে জমি দান করার পর ছেলেরা তা দিতে না চাইলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২৭২৩) : আমাদের এলাকায় মাদরাসার জন্য জমির প্রয়োজন ছিল। এলাকার এক ব্যক্তি একদিন জুমার পর মসজিদে মুসল্লিদের উপস্থিতিতে তার একটি জমি মাদরাসার জন্য দান করেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমি আমার অমুক জমিটি মাদরাসার জন্য দান করলাম। আপনারা সাব-কবলা করে নিবেন’। সে সময় এ লোকের ছেলেরা বিদেশে ছিল। তারা বিষয়টি জানত না। ঐ লোকের মৃত্যুর পর তারা দেশে আসে এবং তখন বিষয়টি জানতে পারে। কিন্তু তারা জমিটি দিতে চাচ্ছে না। তারা বলছে, জমিটি আমাদের প্রয়োজন। আব্বা না বুঝে দান করে দিয়েছিলেন। আমাদের জন্য এটা দেওয়া সম্ভব নয়। এখন আমরা জানতে চাচ্ছি, তাদের জন্য এ দান প্রত্যাহার করা জায়েয হবে কি না?

আলেম নয় এমন ব্যক্তির পিছনে কি আলেম ব্যক্তি ইক্তিদা করতে পারবে?

প্রশ্ন (১২৫৬৩) : আমাদের বাজার মসজিদে এশার সময় একদিন ইমাম সাহেব ছিলেন না। তখন এক মুসল্লী ইমামতী করে। সে আলেম না। তবে তার কেরাত শুদ্ধ। যখন নামায শুরু হয় তখন কোনো আলেম ছিলেন না। দ্বিতীয় রাকাতে এক আলেম এসে নামযে শরীক হন। নামাযের পর কেউ কেউ বলছে ঐ ব্যক্তি যেহেতু আলেম নয় তাই তার পেছনে আলেম ইকতেদা করার কারণে কারো নামায হয়নি। এ বিষয়টি নিয়ে আমাদের অনেকেই বিভ্রান্তিতে পড়ে গেছে। এ ব্যাপারে শরীয়তের মাসআলা জানতে চাই।

জীবিত অবস্থায় মাদ্রাসা কিংবা মসজিদের জন্য জমি ওয়াকফ করলে এর হুকুম কী হবে?

প্রশ্ন (১২৫০৮) : আমার চাচা এক মাস আগে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর পূর্বে সুস্থ অবস্থায় তিনি আমাদের গ্রামের মাদরাসার জন্য আট শতাংশের একটি জমি ওয়াকফ করেন। তিনি মৌখিকভাবে বলেছিলেন, ‘আমি আমার এই আট শতাংশ জমি আমাদের গ্রামের মাদরাসার জন্য ওয়াকফ করলাম। তবে যতদিন আমি বেঁচে আছি ততদিন আমি এই জমির ফল-ফসল ভোগ করব। আমার মৃত্যুর পরে মাদরাসা এটি নিয়ে নিবে।’ চাচার ইন্তেকালের পর চাচাত ভাইয়েরা এক হুযুরকে মাসআলা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন যে, আট শতাংশ জমি যদি মৃতের রেখে যাওয়া সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশ বা তার চেয়ে কম হয় তাহলে সেটা পুরোটাই মাদরাসার হবে। আর যদি এক তৃতীয়াংশের চেয়ে বেশি হয় তাহলে এক তৃতীয়াংশ পরিমাণ মাদরাসার জন্য ওয়াকফ হবে। বকিটা ওয়ারিশদের সম্পত্তি বলে বিবেচিত হবে। এখন চাচাত ভাইয়েরা জানতে চায় যে, ঐ কথা কি ঠিক? অনুগ্রহপূর্বক সঠিক মাসআলা জানানোর অনুরোধ রইল।

মসজিদ-মাদরাসায় খেদমতে নিয়োজিত ব্যক্তিরা বোনাস নিতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২৩৮২) : যারা মসজিদ-মাদরাসার খেদমতে নিয়োজিত আছেন, তারা যদি বেতনের পাশে বছরের দুই ঈদে বোনাস গ্রহণ করেন তাহলে সেটা কি বৈধ হবে?

মাদ্রাসার জন্য জমি দান করার পর আবার সেখান থেকে পৃথক করে মসজিদের জন্য দান করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৩৩০) : আমাদের এলাকার এক ব্যক্তি মাদরাসা প্রতিষ্ঠার জন্য ১০ ডিসিম জমি দান করে। সেখানে একটি অনাবাসিক নূরানী মকতব প্রতিষ্ঠা করা হয়। দুই-তিন বছর পর এলাকার মানুষের প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে মাদরাসা কমিটি সিদ্ধান্ত নিল, মাদরাসার পাশাপাশি একটি জামে মসজিদ নির্মাণ করবে। তাই কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে উক্ত ব্যক্তি দানকৃত জমি থেকে ৪ ডিসিম জমি মসজিদের জন্য দান করে এবং সেখানে মসজিদ নির্মাণ করে। আমার প্রশ্ন হল, উক্ত প্রক্রিয়াটি সঠিক হয়েছে কি না? ভুল হলে সংশোধনের উপায় কী? এবং এতদিন এলাকাবাসীর আদায়কৃত নামাযে কোনো সমস্যা হবে কি না? মাদরাসা ও মসজিদে একই কমিটি ও পূর্বের কমিটি অপরিবর্তিত।

মাদরাসার এতিম ছাত্রদের পক্ষ থেকে উকিল হয়ে যাকাত গ্রহণের পদ্ধতি।

প্রশ্ন (১২২২১) : আমাদের মাদরাসায় লিল্লাহ বোডিং আছে। আমাদের ছাত্রদের থেকে মৌখিক স্বীকৃতি নেওয়া আছে যে, তারা তাদের পক্ষ হতে উস্তাযদেরকে যাকাত গ্রহণ করার জন্য প্রতিনিধি সাব্যস্ত করেছে। এমতাবস্থায় উস্তাদগণ তাদের পক্ষ হতে উকিল সাব্যস্ত হয়ে যাকাত গ্রহণ করতঃ টাকা হস্তগত করলে মালিকদের পক্ষ হতে যাকাত আদায় হবে কি না? অতঃপর উক্ত টাকা ছাত্রদেরকে মালিক বানানো ছাড়াই সেখান থেকে উসূলকারীগণ আমেল হিসাবে ২০% গ্রহণ করতে পারবে কি না? এব্যাপারে শরীয়তের সঠিক নির্দেশনা জানতে চাই। পাশাপাশি শরীয়তসম্মত পদ্ধতিতে আমেল হওয়ার সঠিক সূরাত বর্তমান সময়ে কী হতে পারে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

মাদরাসায় নামায হলে কুরবানী করা যাবে কি

প্রশ্ন (১১৩০৩) : আমাদের এলাকায় একটি মাদরাসা আছে। সেখানে ঈদুল আযহার নামায এলাকার মসজিদের চেয়ে দেড় ঘণ্টা আগে হয়। জানতে চাচ্ছি, সেখানের হুজুর দিয়ে মহল্লার মসজিদের নামাযের আগে পশু কুরবানী করা যাবে কি?