তালাক

ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক তালাকনামায় স্বাক্ষর করালে কি তালাক হবে?

প্রশ্ন (১২৯৪৩) : আমি কানাডা থাকি। দেশে আমার মা বোনদের সাথে আমার স্ত্রীর ঝগড়া হওয়াতে সে তার পিত্রালয়ে চলে যায়। পরিবারের লোকেরা তাকে তালাক দিতে বলে। কিন্তু আমি দেইনি। এর কিছু দিন পর আমি দেশে আসলে পরিবারের লোকেরা আবারো তালাক দিতে চাপ দিতে থাকে। এমনকি একদিন রাতে কয়েকজন আমাকে নিয়ে বসে স্ত্রীকে তালাক দিব কি না জানতে চায়। আমি কোনো উত্তর না দেওয়াতে তারা আমার উপর ক্ষেপে যায়। এক পর্যায়ে আমার ছোট ভাই (বেয়াদবীর সব সীমা অতিক্রম করে) পূর্ব থেকে সংগৃহীত একটি তালাকনামা আমার হাতে দিয়ে বলে যে তালাক না দিলে আমাকে বাড়ি থেকে বের করে দিবে, বিদেশে যেতে দিবে না ইত্যাদি। অন্যান্যরাও তার কথার সমর্থন করে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি দেখাতে থাকে। আচমকা এ পরিস্থিতিতে বাধ্য হয়ে আমি তালাকনামা পূর্ণ করি। যাতে ‘আমি তোমাকে তিন তালাক দিলাম’ উল্লেখ করে নিচে দস্তখত করি। পুরো ঘটনায় আমি মুখ দিয়ে কিছুই বলিনি; বরং মনে মনে বলি ‘তালাক না তালাক না।’ এরপর তারা তালাকনামাটি আমার স্ত্রীর কাছে পাঠিয়ে দেয়। ছুটি শেষে আমি আবারো বিদেশ চলে আসি। এখনো আমি আমার স্ত্রীর উপর সন্তুষ্ট। তার সাথে সংসার করতে চাই। জানার বিষয় হল, কোনো সুযোগ আছে কি না?

স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দেওয়ার পর মারা গেলে স্ত্রী কোন ইদ্দত পালন করবে?

প্রশ্ন (১২৯২৯) : এক মাস আগে আমার স্বামী আমাকে এক তালাকে রজঈ প্রদান করেন। আমার ইদ্দত চলা অবস্থায় তিন সপ্তাহের মাথায় স্বামী ইন্তেকাল করেন। এখন জানার বিষয় হল, মাসিক হিসেবে তালাকের যে ইদ্দত পালন করছিলাম সেই হিসাব পুরা করব, নাকি স্বামী-মৃত্যুর ইদ্দত- চার মাস দশ দিনের ইদ্দত পালন করব?

খোলা তালাক দেওয়ার পর স্ত্রীর কাছে পরিশোধকৃত মহরের টাকা চাওয়া কি জায়েয আছে?

প্রশ্ন (১২৮৯৩) : বছর খানেক আগে আমার বাবার এক বন্ধুর ছেলের সাথে এক লক্ষ টাকা মহরের বিনিময়ে আমার বিবাহ হয়। তার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা ছিল নগদ পরিশোধ, আর ৫০ হাজার ছিল বাকি। অতপর বিশেষ কিছু কারণে বাধ্য হয়ে আমি স্বামীর কাছে ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে খোলা তালাকের আবেদন করি। তিনিও ২০ হাজার টাকার বিনিময় আমাকে খোলা তালাক দিতে রাজি হন। তখন আমি তাকে ২০ হাজার টাকা দিয়েছি এবং অনাদায়ী ৫০ হাজার টাকার দাবিও ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি মহর বাবদ প্রদত্ত ৫০ হাজার টাকা দিয়ে দিতে চাপ প্রয়োগ করেন। এক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান কী? দয়া করে বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

রুকু-সিজদায় যাওয়ার পর পিছনের সতর খুলে গেলে কি নামায নষ্ট হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১২৮৬৫) : অনেক সময় মসজিদে কিছু মুসল্লী ভাইকে দেখা যায় তারা এমন খাটো শার্ট, প্যান্ট ইত্যাদি পরে নামায পড়তে আসে যে, রুকু-সিজদায় গেলে পিছনের সতর খুলে যায়। এতে অনেক সময় তার পিছনের মুসল্লীদের বিব্রত হতে হয়। এখন আমি জানতে চাই, এমন কাপড় পরিধান করে নামায পড়ার কী হুকুম? এতে পিছনের মুসল্লীদের নামাযের কোনো সমস্যা হবে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

হজ্বে কি মহিলাদের মুখ ঢেকে রাখা আবশ্যক?

প্রশ্ন (১২৮২৮) : আমি হজ্বে যেতে চাচ্ছি। তাই এখন থেকে হজ্বের মাসআলা জানার চেষ্টা করছি। আমি একবার একটি কিতাবে পড়েছিলাম যে, ইহরামের সময় মহিলাদের চেহারায় কাপড় না লাগে এমন হ্যাট জাতীয় উঁচু কিছু ব্যবহার করে তার উপর নেকাব ঝুলিয়ে পর্দা করা ওয়াজিব। এখন আমাদের প্রশ্ন হল, কারো যদি এভাবে চেহারার পর্দা করা কষ্টকর হয় এবং এজন্য চেহারা খোলা রাখতে বাধ্য হন তবে কি তিনি গুনাহগার হবেন? ইহরাম ধারণকালীন সময়ের জন্য কি তিনি শরীয়তের দৃষ্টিতে এতটুকু ছাড় পাবেন?

নামাযের পর মসজিদ বন্ধ রাখার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৭৮৯) : বর্তমানে দেখা যায় আমাদের দেশের প্রায় মসজিদই নামাযের সময় ছাড়া অন্য সময় তালা মেরে রাখা হয়। এ ব্যাপারে কোনো কোনো মসজিদ কর্তৃপক্ষ বলেন, সব সময় মসজিদ খোলা রাখলে মসজিদ ময়লা হয়ে যায় এবং মসজিদের আসবাবপত্র চুরি হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে। অথচ আমরা অনেক সময় ব্যবসা-বাণিজ্য ও অফিস টাইমের ফাঁকে ফাঁকে কিছু অবসর সময় পাই। তখন আমাদের নামায, কুরআন তিলাওয়াত বা ফাজায়েলে আমল কিংবা অন্যান্য দ্বীনী বইপত্র পড়তে মনে চায়। কিন্তু মসজিদগুলো তালাবদ্ধ থাকায় উপযুক্ত স্থান না পেয়ে আমরা এসব করতে পারি না। মাননীয় মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাই, উল্লেখিত সমস্যাকে সামনে রেখে এক্ষেত্রে শরয়ী সমাধান কী? আশা করি বিষয়টি খোলাসা করে জানাবেন।

তালাক সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৭৮২) : আমি আমার স্ত্রীকে প্রায় এক বছর পূর্বে তার এক আত্মীয়ের সাথে কথা বলতে নিষেধ করি এবং বলি, তার সাথে সরাসরি অথবা ফোনে যে কোনোভাবে কথা বললে তালাক হয়ে যাবে। এরপর প্রায় এক বছর পর্যন্ত আমার স্ত্রী ঐ ব্যক্তির সাথে কোনো কথা বলেনি। কিছুদিন পূর্বে বিশেষ এক প্রয়োজনে শুধু একটি ম্যাসেজ পাঠায়। উদ্দেশ্য ছিল গুরুত্বপূর্ণ একটি সংবাদ পৌঁছানো। অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল না। এখন আমরা উভয়ে বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত। ম্যাসেজ পাঠানোর কারণে তালাক হয়েছে কি না? যদি হয়ে থাকে তাহলে আমাদের করণীয় কী?

অপূর্ণ সন্তান প্রসব হলে কি ইদ্দত শেষ হয়ে যায়?

প্রশ্ন (১২৭৭৮) : আমাদের প্রতিবেশী এক তালাকপ্রাপ্তা মহিলা অন্তঃসত্ত্বা ছিল। তার অপূর্ণাঙ্গ একটি সন্তান জন্ম হয়। এখন আমি জানতে চাই, আকৃতি ধারণ করার পূর্বেই শুধু গোশতের টুকরা প্রসব করলে এর দ্বারা কি ইদ্দত শেষ হবে? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

দুই তালাকের ইদ্দত শেষ হওয়ার পর স্বামী তাকে তালাক দিলে কি উক্ত তালাক পতিত হবে?

প্রশ্ন (১২৭৫১) : এক ব্যক্তি তার স্ত্রীকে দুই তালাক প্রদান করে। এরপর তার স্ত্রীর সাথে চার মাস বার দিন কোনো যোগাযোগ বা অন্য কোনো সম্পর্ক রাখেনি। ইতিমধ্যে তার স্ত্রীর ইদ্দত অতিবাহিত হয়ে যায়। এরপর তাকে মৌখিক ও লিখিতভাবে কাজী ও উকিলের মাধ্যমে তিন তালাক প্রদান করে। এখন প্রশ্ন হল- ১. ইদ্দত অতিবাহিত হয়ে যাওয়ার পর যে তিন তালাক প্রদান করা হয়েছে তা কার্যকর হয়েছে কি? ২. যদি তিন তালাক কার্যকর না হয় তাহলে তারা কীভাবে আবার বৈবাহিক সম্পর্কে ফিরে আসতে পারবে?

সুদী ব্যাংকে একাউন্ট খোলা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৬৮৬) : সুদী ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসাব খুললে মাসে মাসে সুদ জমা হয় বলে তা হারাম। এখন কেউ যদি সুদের টাকা নিয়ে ভোগ না করে দরিদ্রদেরকে সদকা করার নিয়তে সঞ্চয়ী হিসাব খোলে তাহলে কি তার জন্য তা জায়েয হবে?

স্ত্রী তার বাবার বাসায় ইদ্দত পালন করলে কি স্বামীর পক্ষ থেকে ভরণ-পোষণ পাবে?

প্রশ্ন (১২৬৭৯) : আমার এক প্রতিবেশী তার স্বামীর সাথে ঝগড়া করে তার অনুমতি ছাড়া বাবার বাসায় চলে যায়। কিছুদিন পর তার স্বামী তার বাবার বাসা থেকে স্ত্রীকে আনতে গেলে সে আসতে অস্বীকার করে এবং তালাকের দাবি করে। ফলে স্বামী তাকে এক তালাকে বায়েন দিয়ে দেয়। এখন স্ত্রী তার বাবার বাসায়ই আছে। এখন জানার বিষয় হলো, এই ইদ্দতকালীন সময়ে স্ত্রী তার স্বামী থেকে ভরণ-পোষণ পাবে কি না?

বিয়েতে কুমারী মেয়ের নিকট অনুমতি চাওয়ার পর সে চুপ থাকলে কি তার বিয়ে সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২৬৬৭) : আমাদের এলাকার একটি মেয়ে তার পছন্দের একটি ছেলেকে বিবাহ করতে চাচ্ছিল। কিন্তু তার মা-বাবা অন্যত্র বিয়ে ঠিক করেন। বিবাহের দিন তার মতামত জানতে চাইলে মেয়ে হাঁ-না কিছুই না বলে চুপ থাকে। তবে মনে মনে সে নারাজ ছিল। এ অবস্থায় তার আকদ হয়ে যায়। এবং মেয়েটি নারাজ থাকলেও মা-বাবার কথায় স্বামীর বাড়িতে চলে যায়। এবং দু‘মাস তার সাথে সংসার করে। এরপর একদিন হঠাৎ সে পালিয়ে গিয়ে পূর্বোক্ত ছেলেটির সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে তার সাথে ঘর-সংসার শুরু করে। এটা নিয়ে এলাকায় অনেক তোলপাড় চলছে। মেয়েটির দাবি, সে প্রথম বিবাহে রাজি ছিল না। তাই তা সহিহ হয়নি। জানার বিষয় হল, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মেয়েটির কথা কি ঠিক? তার প্রথম বিবাহ সহিহ হয়েছে কি না? এবং সে যে দ্বিতীয় বিবাহ করল এর হুকুম কী?

চোখে ব্যান্ডেজ করলে অযুর বিধান কী হবে?

প্রশ্ন (১২৬৪৪) : আমাদের এক আত্মীয়ের দুই চোখে অপারেশন হয়েছে। বেশ বড় ধরনের অপারেশন। সাত দিনের আগে ব্যান্ডেজ খোলা হবে না এবং খোলার পর এক মাস পর্যন্ত ডাক্তার চোখে পানি লাগাতে নিষেধ করেছে। এমন অবস্থায় তার অযুর বিধান কী? জানিয়ে বাধিত করবেন।

সন্তান লালন-পালন সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৫৪৪) : আমার এক বন্ধু এক মেয়েকে বিয়ে করে। সাত মাসের গর্ভবতী অবস্থায় মেয়েটি পালিয়ে গিয়ে আরেক ছেলের সাথে সংসার শুরু করে। এর এক মাস পর প্রথম স্বামী ঐ মেয়েকে তালাক প্রদান করে। পালিয়ে যাওয়ার তিন মাস পর একটি কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে। পরবর্তীতে মেয়েটি কাযী অফিসে গিয়ে ঐ ছেলেটিকে বিয়ে করে নেয়। সন্তানের লালন-পালন ঐ মেয়ে এবং তার দ্বিতীয় স্বামীই করে যাচ্ছে। প্রথম স্বামীকে লালন-পালন করা এমনকি দেখার সুযোগ দিতেও তারা রাজি না। এখন আমি জানতে চাই- ১. ঐ কন্যা সন্তানের পিতা হিসেবে পরিচয় কে পাবে? ২. সন্তানটির লালন-পালনের অধিকার কে রাখে? ৩. এমন অপারগতাবস্থায় সন্তানের খোঁজ-খবর না নেওয়ার দ্বারা প্রথম স্বামী গুনাহগার হবে কি না? ৪. ঐ সন্তানের লালন-পালনের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্বামীর কোনো অধিকার আছে কি না?

ফোনে বিয়ে করলে কি বিয়ে কার্যকর হবে?

প্রশ্ন (১২৫২৩) : আমার এক বন্ধু এক মেয়েকে ফোনে বিয়ে করে। সে মেয়েটিকে ফোনে বলে, আমি তোমাকে এত টাকার মহরে বিবাহ করলাম, তুমি রাজী থাকলে কবুল বল। মেয়েটি তখন কবুল বলে। ফোনে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে ছেলের দুজন বন্ধুও মেয়ের কবুল বলা শুনেছিল। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ছেলে এবং মেয়ে উভয়ের অভিভাবক তাদেরকে ভিন্ন জায়গায় বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাদের উভয়ে বলে, আমাদের তো বিয়ে হয়ে গেছে। আমরা পরস্পর স্বামী-স্ত্রী। তাই অন্য কোথাও আমরা বিয়ে করব না। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, তাদের বিবাহ কি শুদ্ধ হয়েছে? এক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান কী? বর্তমানে তাদের বাবা-মা চাচ্ছেন তারা একে অপরকে তালাক দিয়ে দিক। এটা কি বৈধ হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

স্ত্রীর উদ্দেশ্যে চিঠিতে তালাকের কথা লিখলে কি তালাক হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১২৫১৯) : আমি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। আমার ছোট ছোট দুটি ছেলে এবং একটি মেয়ে আছে। আমার স্ত্রীর সাথে একটি বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হচ্ছিল। কিছুদিন আগে আমার বোনেরা আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসলে সে তাদের সাথে খুবই খারাপ আচরণ করে এবং ফোনে আমার সাথে খুব কথা কাটাকাটি হয়। আমি তাকে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই এবং একটি চিঠিতে ঘটনার বিবরণসহ লিখি যে, ‘আমি আমার স্ত্রীকে বায়েন তালাক দিলাম’। আমি মুখে উচ্চারণ করে তালাক বলিনি কিন্তু তালাকের নিয়তেই উক্ত কথা লিখেছি। পরে আমার ছেলে-মেয়ের কথা ভেবে তালাকের চিঠিটি তার কাছে না পাঠিয়ে ছিঁড়ে ফেলি। আমার জানার বিষয় হল, উক্ত লেখার কারণে আমার স্ত্রীর উপর তালাক পতিত হয়েছে কি না? এখন তার সাথে ঘর-সংসার করতে পারব কি না? উল্লেখ্য, আমি ইতিপূর্বে তাকে কোনো তালাক দেইনি। সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

খোলা তালাক দেওয়ার সময় স্ত্রীর কাছ থেকে কী পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করা উচিত?

প্রশ্ন (১২৫১৭) : গত বছর আমার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছু দিন পরই স্ত্রীর সাথে মনোমালিন্য হয়। সে বিভিন্ন পর-পুরুষের সাথে ফোনে কথা বলে, তাদের সাথে আড্ডা দেয়। তাকে অনেক বোঝানোর পরও কাজ হয়নি; বরং সে বারবার বলে, আমাকে ছেড়ে দাও। আমাকে তালাক দিয়ে দাও। আমার স্ত্রীরা পারিবারিকভাবে বেশ ধনী। তাই মুরব্বীদের সাথে পরামর্শ করে তাকে খোলা তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আমার এক চাচা বললেন, তুমি খোলা তালাক বাবদ তিন লাখ টাকা নাও। আমার বিয়ের মহর ছিল আড়াই লাখ টাকা। বিয়ের সময় স্বর্ণালংকারের মাধ্যমে তা আদায় করে দিয়েছি। হযরতের কাছে কাছে জানতে চাই, আমি কি আমার স্ত্রী থেকে তালাক বাবদ উক্ত টাকা গ্রহণ করতে পারব?

স্ত্রীকে তালাক হওয়ার পরেও কি সে স্বামীর বাড়িতে থাকতে পারবে?

প্রশ্ন (১২৫০৯) : কয়েকদিন আগে আমার প্রবাসী পিতা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমার আম্মাকে তিন তালাক দিয়ে দেন। বিষয়টি একজনকে জানালে তিনি দ্রুত আম্মাকে নানাবাড়িতে পাঠিয়ে দিতে বলেন। একথা শুনে তিনি বিমূর্ষ হয়ে পড়েছেন। এই বৃদ্ধ বয়সে নানাবাড়িতে কীভাবে যাবেন? এ করুণ পরিস্থিতিতে জনাবের কাছে জানার বিষয় হল, ১. এখন কি বাস্তবেই আম্মাকে নানাবাড়িতে পাঠিয়ে দিতে হবে? আমরা চাচ্ছি, তিনি আব্বুর স্ত্রী হিসাবে না থাকলেও আমাদের দেখাশুনা ও পরিবারের নিয়ন্ত্রণের জন্য আব্বুর সংসারে থাকুন। এতে শরয়ী কোনো সমস্যা আছে কি না? এক্ষেত্রে আব্বুর টাকা দিয়ে তিনি নিজের ব্যয় নির্বাহ করতে পারবেন কি না? ২. আম্মার তালাকের ইদ্দতেও মৃত্যু পরবর্তী ইদ্দতের ন্যায় সাজসজ্জা ত্যাগ ইত্যাদি বিভিন্ন বিধান কার্যকর হবে কি না?

‘তুই আমার মার মত’ স্ত্রীকে এই কথা বললে কি তালাক হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১২৫০৪) : আমার বন্ধুর সাথে তার স্ত্রীর ঝগড়া হচ্ছিল। এক পর্যায়ে সে তার স্ত্রীকে থামানোর জন্য বলে, ‘তুই আমার মার মত’ একথা বলার সময় তার চিন্তায় তালাক বা ভিন্ন কিছুর নিয়ত ছিল না। কেবল ঝগড়া থামানোর জন্যই সে এটা বলেছিল। এখন সে একথা বলার জন্য অনুতপ্ত। সে জানতে চেয়েছে, এতে কি তাদের বিবাহে কোনো সমস্যা হয়েছে? হয়ে থাকলে তাদের করণীয় কী? তাদের কি দ্বিতীয়বার বিবাহ করতে হবে?

তালাকের মাধ্যমে স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদের পর মহর ও ভরণপোষণের ব্যাপারে শরীয়তের নির্দেশনা কী?

প্রশ্ন (১২৪৯৯) : আমার বিয়ে হয়েছে প্রায় তিন বছর হয়েছে। প্রথম দেড় বছর মোটমুটি ভালো কাটলেও এরপরই সমস্যা শুরু হয়। সমস্যার সূচনা আমার স্ত্রীর ফেইসবুক চালানো নিয়ে। সে বিভিন্ন মানুষের সাথে মেসেজ আদান-প্রদান করত। এ নিয়ে বেশ কয়েকবার কথা কাটাকাটিও হয়। সে বারবার বলত, আমি ফেইসবুক চালালে তোমার সমস্যা কোথায়? এক মাস আগে এ নিয়ে ঝগড়ার একপর্যায়ে বলে ফেলি, ফেইসবুক চালালে আমার ঘরে আর থাকতে পারবে না। পরের দিন আমি অফিসে যাওয়ার পর সে তার বাবার বাসায় চলে যায়। আমার ও আমার পরিবারের লোকদের কয়েকবার চেষ্টার পরও সে আসেনি। পরে আমি মুরব্বীদের সাথে পরামর্শ করে তাকে তালাক দিয়ে দিই। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, যেহেতু তার দোষেই আমাদের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে তাই মহর, তালাক পরবর্তী ইদ্দতের ভরণ-পোষণ এগুলো দিতে কি আমি বাধ্য? তাছাড়া আমার স্ত্রী পারিবারিকভাবে বেশ সচ্ছল।