মুসলিম নারী সংক্রান্ত ফিকহ

অসম্পূর্ণ গর্ভ নষ্ট হয়ে বের হয়ে গেলে কি তা নেফাস হিসেবে গণ্য হবে?

প্রশ্ন (১৩৮৭২) : আমার স্ত্রী দুই মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তার গর্ভ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে কিছু গোশতের টুকরার আকারে বেরিয়ে আসে। এরপর ৬/৭ দিন পর্যন্ত রক্ত আসে। স্রাবের সময়ও তার এমনই দেখা যায়। ঐ দিনগুলোতে সে নামায পড়েনি। এখন সে জানতে চায় যে, তার ঐ নামায কি কাযা করতে হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

বয়স্কা মহিলার পর্দার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩৭৯৪) : আমাদের মসজিদে একটি তাবলীগের জামাত আছে। উক্ত জামাতের এক ব্যক্তি মাগরিবের নামাযের পর বয়ানে পর্দার আলোচনা করতে গিয়ে বললেন, কোনো মহিলার যখন ৬৫ বছর বয়স পূর্ণ হয়ে যায় তখন তার সাথে পর্দার বিধান থাকে না। তাই তার সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করা জায়েয। তার এ কথা কি সঠিক? দয়া করে জানাবেন।

হায়েযের সময় কোনো মহিলা দলিল পেশ করার উদ্দেশ্যে কুরআনের আয়াত পাঠ করতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১৩৭৮৬) : হায়েযরত অবস্থায় তিলাওয়াতের নিয়ত ব্যতীত শুধু দলিল পেশ করার উদ্দেশ্যে এক শ্বাসে অথবা শ্বাস ছেড়ে ছেড়ে কুরআনের আয়াত পড়া যাবে কি?

হজ্বে যাওয়ার আগ মুহূর্তে কোনো মহিলার স্বামী মারা গেলে তার জন্য করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৭৫০) : গত বছর আমার আব্বা-আম্মার হজ্ব করার ইচ্ছা ছিল এবং টাকাও জমা দিয়েছিলেন। হঠাৎ রমযান মাসের শেষ দিকে আব্বা মারা যান। এ অবস্থায় আমার আম্মার হজ্বে যাওয়ার হুকুম কী? এক্ষেত্রে তার জন্য ইদ্দত পালন করাই জরুরি, না হজ্বে যাওয়া?

স্বামী মাসের মাঝখানে মারা গেলে ইদ্দতের হিসাব করবে কিভাবে?

প্রশ্ন (১৩৭৪০) : শাওয়াল মাসের নয় তারিখে আমার বাবা ইন্তিকাল করেন। আমরা জানি, স্বামী মারা যাওয়ার পর চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করতে হয়। এখন প্রশ্ন হল, বাবা যেহেতু মাসের কয়েক দিন অতিবাহিত হওয়ার পর ইন্তেকাল করেছেন তাই এ অবস্থায় চার মাস দশ দিনের হিসাব কীভাবে করবে? আম্মু এখন কিভাবে ইদ্দত পালন করবে?

ঔষুধ প্রয়োগ করে গর্ভস্থ সন্তানকে নষ্ট করে ফেললে কি ইদ্দত পূর্ণ হবে?

প্রশ্ন (১৩৫৯৮) : আমাদের এক আত্মীয়ার বিবাহ হয় গত বছর। মেয়েটির গর্ভে সন্তান আসার পর তার স্বামী তাকে তালাক দিয়ে দেয়। এ দুঃখে ও ক্ষোভে মেয়েটি ঔষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে তার গর্ভস্থ সন্তানকে নষ্ট করে দেয়। এখন সে ইদ্দত কীভাবে পালন করবে? এই গর্ভপাতের দ্বারা কি ইদ্দত শেষ হয়ে গেছে? নাকি ঋতুস্রাবের মাধ্যমে ইদ্দত পালন করতে হবে?

মহিলারা হায়েয আবস্থায় কি আযানের জবাব দিতে পারবে?

প্রশ্ন (১৩৫৮২) : আসসালামু আলাইকুম ওয়ারাহমাতুল্লাহ, হায়েয অবস্থায় তো মহিলারা কুরআন পড়তে পারে না। জানার বিষয় হলো, হায়েয অবস্থায় আযানের জবাব দিতে পারবে কি?

কোনো নারী কি তার বাবার বাড়িতে ইদ্দত পালন করতে পারবে?

প্রশ্ন (১৩৫০১) : আমি আমার স্বামীর সাথে আমার বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসার পর ঘটনাক্রমে সেখানেই তার ইন্তেকাল হয়ে যায়। এখন হুযুরের নিকট আমার জানার বিষয় হল, আমি স্বামীর মৃত্যুর ইদ্দত কোথায় পালন করব? আমার স্বামীর বাড়িতে না পিতার বাড়িতে? দয়া করে উত্তরটা জানালে উপকৃত হব।

মাসিকের সময় মহিলারা দুআ পড়তে পারবে কি?

প্রশ্ন (১৩৪৫৭) : আম্মু ঋতুস্রাবের দিনগুলোতেও বিভিন্ন মাসনুন দুআ পড়েন। আম্মুর দেখাদেখি আমরাও এ সময়গুলোতে মাসনুন দুআসমূহ আদায় করি। কিন্তু একজন বলল, মেয়েদের জন্য এ সময়ের দুআ-দরূদ পড়া কিংবা যিকির-আযকার করা কোনোটিই জায়েয নেই। জানতে চাচ্ছি, এই কথা কি সঠিক?

ইচ্ছাকৃতভাবে রোযা না রাখলে কি উক্ত রোযার কাফ্ফারা আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১৩৪৩৮) : আমার স্বাভাবিক অভ্যাস হলো প্রতি ২৭ দিন পরপর আমার স্রাব শুরু হয়। সে হিসেবে ১১ রমযান আমার স্রাব শুরু হওয়ার দিন ছিল। তাই ১০ রমযান দিবাগত রাতে আমি সাহরী খাইনি এবং পরের দিন রোযার নিয়তও করিনি। ফলে ১১ রমযান সকাল থেকে আমি স্বাভাবিকভাবেই পানাহার করতে থাকি। কিন্তু সেদিন আমার স্রাব শুরু হয় রাত থেকে। এখন জানার বিষয় হল, আমার উক্ত রোযার হুকুম কী? শুধু কাযা করলেই হবে, নাকি কাফফারাও আদায় করতে হবে? অনুগ্রহ করে জানালে উপকৃত হব।

স্বামীর বাসায় ইদ্দত পালন করতে কষ্ট হলে অন্য কোনো আত্মীয়ের বাসায় গিয়ে ইদ্দত পালন করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩২৭২) : আমাদের ৫ মাসের একটি সন্তান আছে। মাস খানেক আগে আমার স্বামী এন্তেকাল করেছে। আমরা শহরের একটি ফ্ল্যাট বাসায় ভাড়া থাকতাম। তার অবর্তমানে এখন সে বাসায় ছোট দুধের বাচ্চা নিয়ে একাকী থাকতে খুব ভয় হচ্ছে। প্রায় রাতেই উল্টাপাল্টা স্বপ্ন দেখে চিৎকার দিয়ে উঠি। দৈনন্দিন প্রয়োজন পূরণ করতেও খুব কষ্ট হচ্ছে। একটু দূরে আমার ভাইয়ের বাসা আছে। ভাইয়া বলেছেন, তার বাসায় গিয়ে ইদ্দত পালন করতে। আমি কি বর্তমান বাসা থেকে বের হয়ে তার বাসায় গিয়ে ইদ্দত পালন করতে পারব? দয়া করে জানালে উপকৃত হব।

নারীদের কন্ঠের কি পর্দা আছে?

প্রশ্ন (১৩২২৬) : প্রাপ্ত বয়স্কা নারীদের গলার আওয়াজ কি পর্দার অন্তর্ভুক্ত? অনেক পর্দানশীন মহিলাদের নিজের ঘর থেকে উচ্চ শব্দে কথা বলতে শোনা যায়। এ বিষয়ে শরীয়তের বিধান জানতে চাই। আর কোনো মহিলা কি পরপুরুষের সাথে কথা বলতে পারবে? কথা বললে তার পর্দা কি নষ্ট হয়ে যাবে?

নারীদের চেহারা ঢেকে রাখার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩২০৮) : ইদানিং অনেক মহিলাকে দেখি হিজাব পরে, কিন্তু চেহারা ঢাকে না। তারা বলে যে, পর্দার জন্য চেহারা ঢাকতে হয় না। আমি জানতে চাচ্ছি, কথাগুলো আসলেই ঠিক কি?

ইদ্দত সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১৩১৮৩) : কিছুদিন পূর্বে আমাদের প্রতিবেশী এক ব্যক্তি ইন্তিকাল করেছেন। লোকটির বাড়ি নোয়াখালী। তবে তার নোয়াখালীর বাড়িতে বর্তমানে তার মেয়ে পরিবারসহ বসবাস করছে। লোকটি তার কর্মস্থল গাজীপুরে জায়গা-জমি কিনে বাড়ি করেছিলেন। দীর্ঘদিন যাবৎ তিনি পরিবারসহ গাজীপুরেই বসবাস করছিলেন। তবে কখনো কখনো তারা দীর্ঘদিনের জন্য নোয়াখালীতে মেয়েদের কাছেও থাকতেন। লোকটি তার বর্তমান বাড়ি গাজীপুরেই মারা গিয়েছে। এখন তার স্ত্রী সে বাড়িতেই ইদ্দত পালন করছে। পনের দিন হয়েছে তার স্বামী মারা গিয়েছে। এখন মহিলাটি ইদ্দতের বাকি সময় নোয়াখালীর বাড়িতে তার মেয়ের নিকট কাটাতে চাচ্ছে। তার জন্য কি নোয়াখালীর বাড়িতে ইদ্দত পালন করা জায়েয হবে?

ঔষুধের মাধ্যমে স্রাব বন্ধ করে রাখলে উক্ত সময়ের নামায-রোযার হুকুম কী?

প্রশ্ন (১৩০৫০) : বর্তমানে ঔষধ সেবনের মাধ্যমে সাময়িকভাবে মাসিক স্রাব বন্ধ করে রাখা যায়। তাই অনেকে রমযান মাসের সবগুলো রোযা রাখার জন্য ঔষধ সেবনের মাধ্যমে স্রাব বন্ধ করে রাখে। বিশেষত হ্জ্ব চলাকালীন হায়েয আসলে নানা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। তাই অধিকাংশ মহিলা হজ্বের সময়গুলোতে ঔষধ সেবনের মাধ্যমে স্রাব বন্ধ করে রাখে, যেন হজ্বের আমলগুলো কোনো প্রকার প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই সম্পাদন করা যায়। এজন্য হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, ঔষধ সেবনের মাধ্যমে এভাবে ঋতুস্রাব বন্ধ করে রাখা কি জায়েয আছে? এ অবস্থায় কি সে নামায, রোযা ও তাওয়াফ ইত্যাদি আদায় করতে পারবে? যদি পারে তাহলে পরবর্তীতে এগুলো কাযা করা লাগবে কি না? দয়া করে বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

ইদ্দতরত অবস্থায় কোনো মহিলা ঘর থেকে বের হতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১৩০৩৫) : কিছুদিন পূর্বে আমার এক প্রতিবেশী ইন্তেকাল করেন। তার আট-দশ বছর বয়সী দুটি ছেলে আছে। উভয়ে মাদরাসায় পড়াশোনা করে। এছাড়া সংসারে কর্মক্ষম কোনো পুরুষ নেই। লোকটির স্ত্রী এক মহিলা মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন। মাদরাসাটি বাড়ি থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে। মহিলাটি প্রতিদিন বিকেলে বাড়িতে চলে আসেন। আর বর্তমানে উক্ত মহিলার সংসারের খরচ চালানোর জন্য তার এ চাকরি ছাড়া আর কোনো ব্যবস্থা নেই। প্রশ্ন হল, উক্ত মহিলার জন্য ইদ্দতের সময় এ চাকরি করা জায়েয হবে কি না?