সন্তান-সন্ততি সংক্রান্ত

ছেলেদের খতনা করার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৬৭৭) : শরীয়তের দৃষ্টিতে ছেলেদের খতনা করার হুকুম কী? ছোটকালে যদি কারো খতনা না করা হয়ে থাকে তাহলে বড় হওয়ার পরও কি খতনা করানো আবশ্যক? এক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

বাচ্চাদের কোন ধরণের নাম রাখা উচিত?

প্রশ্ন (১২৫৫৮) : হযরত আমার নাম ইমন, আমার ভাইয়ের নাম নীরব, এগুলো আমাদের ডাক নাম। এভাবে বর্তমানে ব্যাপকভাবে ডাকনাম হিসেবে সংক্ষিপ্ত বাংলা-ইংরেজি শব্দে নাম রাখার প্রচলন রয়েছে। যেমন শান্ত , সজিব ইত্যাদি। এখন মুহতারামের কাছে জানতে চাই, এরকম নাম রাখার বিধান কী? এক্ষেত্রে শরীয়তের নীতিমালা কী? আমাদের নামগুলো কি ঠিক আছে? বিষয়টি একটু বিস্তারিত বুঝিয়ে বললে উপকৃত হতাম।

সন্তান লালন-পালন সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৫৪৪) : আমার এক বন্ধু এক মেয়েকে বিয়ে করে। সাত মাসের গর্ভবতী অবস্থায় মেয়েটি পালিয়ে গিয়ে আরেক ছেলের সাথে সংসার শুরু করে। এর এক মাস পর প্রথম স্বামী ঐ মেয়েকে তালাক প্রদান করে। পালিয়ে যাওয়ার তিন মাস পর একটি কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে। পরবর্তীতে মেয়েটি কাযী অফিসে গিয়ে ঐ ছেলেটিকে বিয়ে করে নেয়। সন্তানের লালন-পালন ঐ মেয়ে এবং তার দ্বিতীয় স্বামীই করে যাচ্ছে। প্রথম স্বামীকে লালন-পালন করা এমনকি দেখার সুযোগ দিতেও তারা রাজি না। এখন আমি জানতে চাই- ১. ঐ কন্যা সন্তানের পিতা হিসেবে পরিচয় কে পাবে? ২. সন্তানটির লালন-পালনের অধিকার কে রাখে? ৩. এমন অপারগতাবস্থায় সন্তানের খোঁজ-খবর না নেওয়ার দ্বারা প্রথম স্বামী গুনাহগার হবে কি না? ৪. ঐ সন্তানের লালন-পালনের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্বামীর কোনো অধিকার আছে কি না?

নবজাতকের কানে আযান দেওয়ার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৫৪২) : কিছুদিন আগে আমার মেয়ের একটি ছেলেসন্তান জন্ম হয়। নার্সরা নাতিকে আমাদের কোলে দেওয়ার পর তার কানে আযান দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেই। ঠিক তখনই যোহর নামাযের আযান হয়। আমরা মসজিদের আযানই যথেষ্ট মনে করে পুনরায় তার কানে আর আযান দেইনি। জানার বিষয় হল, মসজিদের আযানের দ্বারা কি নবজাতকের কানে আযান দেওয়ার সুন্নাত আদায় হয়ে যায়? আর নবজাতকের কানে আযান দেওয়ার ক্ষেত্রেও কি حي على الصلاة ও حي على الفلاح বলার সময় ডানে-বামে চেহারা ঘোরানোর নিয়ম আছে? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদের পর স্ত্রী মারা গেলে সন্তান লালন-পালনের অধিকারী কে হবে?

প্রশ্ন (১২৪৮৬) : দেড় বছর আগে একটি বিশেষ কারণে আমি আমার স্ত্রীকে তালাক দিই। তখন আমাদের একটি ৫ মাসের ছেলে ছিল। ছেলেটি খুব ছোট থাকায় আমি তাকে তার মা’র কাছে রাখি এবং তার যাবতীয় খরচ বহন করি। কিছুদিন হল সে একটি দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছে। এখন আমি ছেলেটিকে আমার কাছে নিয়ে আসতে চাচ্ছি। কিন্তু তার মায়ের পরিবার অর্থাৎ আমার শাশুড়ি বাচ্চাটি কোনোভাবেই ফেরত দিতে চাচ্ছে না। আর এই বিষয়ে তার ছেলেরা তাকে সহায়তা করছে। মুহতারামের নিকট আমার জিজ্ঞাসা হল, এই অবস্থায় যখন মা নেই, তারাই কি সন্তানের ব্যাপারে বেশি হকদার নাকি পিতা হিসাবে আমি?

স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদের পর সন্তান লালন-পালনের হকদার কে হবে?

প্রশ্ন (১২৪৬৯) : আমার বোনকে কিছু দিন আগে তার স্বামী তালাক দিয়ে দেয় এবং দু’জনের মধ্যে সম্পর্ক বিচ্ছেদ হয়ে যায়। নিয়ম অনুযায়ী আমার বোন তার ইদ্দত পূর্ণ করে। এরপরই তার বিবাহের নতুন সম্বন্ধ আসতে শুরু করে। এদিকে তাদের পনেরো মাস বয়সের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। এই মুহূর্তে সে তার মায়ের কাছেই অর্থাৎ আমাদের বাড়িতেই আছে। তবে তার বাবার পরিবার থেকে বলা হচ্ছে, মেয়ের মা যদি অন্যত্র বিবাহ করে তাহলে সে বা এ বাড়ির অন্য কেউ বাচ্চার লালন-পালনের অধিকার ধরে রাখতে পারবে না। বাবার পরিবারই নাকি তখন মেয়ের প্রতিপালনের একমাত্র হকদার। মুহতারামের কাছে আমার জিজ্ঞাসা, শরীয়তের দৃষ্টিতে বাচ্চার প্রতিপালনের বেশি হকদার কে? মা নাকি বাবা? তাছাড়া বাচ্চার মা অন্যত্র বিবাহ করলে কি সত্যিই সে আর বাচ্চার প্রতিপালনের অধিকার রাখে না? যদি নাও রাখে তথাপি মায়ের পর বাচ্চার প্রতিপালনের বেশি হকদার কে? এবং এর কোনো সময়সীমা আছে কি না? বিস্তারিত জানতে আগ্রহী।

বাচ্চাকে দুই বছরের বেশি দুধ পান করানো যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৪৬২) : আমি জানতাম, বাচ্চাকে দুই বছর পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়ানো যায়। আমার বাচ্চার বয়স দুই বছর এক মাস। কিন্তু এখনও দুধ ছাড়াতে পারিনি। সেদিন এক বোন থেকে শুনলাম, আড়াই বছর পর্যন্ত নাকি দুধ পান করানো যায়। এক্ষেত্রে সঠিক মাসআলাটি জানতে চাচ্ছি।

বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হওয়ার কত দিন পর আকীকা করা সুন্নত?

প্রশ্ন (১২৪০৩) : কুরবানী ঈদের দুদিন আগে আমার ছেলে ভূমিষ্ঠ হয়। ঈদের দিন কুরবানীর সঙ্গে তার আকীকা আদায় করি। এক লোক বললেন, ‘আমার এই আকীকা আদায় করা সহিহ হয়নি। কেননা আকীকা করতে হয় বাচ্চা ভূমিষ্ঠ হওয়ার সাত দিন পর। এর আগে করলে আদায় হয় না।’ তার এই কথা কি ঠিক?

জন্মের পর পর বাচ্চাদের খতনা করানো যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৩৯৭) : আমাদের দেশে সাধারণত খতনা করা হয় একটু বয়স হওয়ার পর। কিন্তু আমেরিকার হাসপাতালগুলোতে জন্মের এক সপ্তাহের ভিতরেই খতনা করে ফেলা হয়। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এত ছোট বয়সে খতনা করতে শরীয়তের পক্ষ হতে কোনো নিষেধাজ্ঞা আছে কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।

সন্তান লালন-পালন করতে গিয়ে নফল ইবাদত ছুটে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২৩৭৯) : আমাদের ৫ সন্তান। তন্মধ্যে দুইজন ছোট। তাদের নার্সিং করতে গিয়ে আমার স্ত্রী প্রায়ই কুরআনের তিলাওয়াত, যিকির-আযকার, নফল নামায ইত্যাদি ইবাদত করতে পারে না। এই বিষয়ে তার খুব মন খারাপ থাকে। আমি তাকে বলেছি, তুমি সন্তানাদি নার্সিং করার কারণে নফল ইবাদতের সওয়াব পাবে। এ ব্যাপারে আমার স্ত্রীর সান্ত্বনার জন্য কুরআন-হাদিসের আলোকে কিছু উপদেশ দিলে উপকৃত হবো।

আকীকার গোশত বণ্টন করা পদ্ধতি।

প্রশ্ন (১২১৯৭) : অনেককে দেখা যায়, আকীকা করার পর বাড়িতে বাড়িতে গোশত পাঠিয়ে দেয়। আবার অনেকে দাওয়াত করে খাওয়ায়। দুই পদ্ধতির কোনটি উত্তম?

ওষুধ খেয়ে বুকে দুধ আসলে সে দুধ পান করলে কি দুধ সম্পর্ক স্থাপন হবে?

প্রশ্ন (১২১১২) : আমরা এক ভাই এক বোন। আমার এক বছরের একটি কন্যা সন্তান আছে। আর আমার বোনের এক ছেলে। তার বয়স ৫ বছর। আমাদের পরিবারে আমার মেয়ের জন্য যেহেতু আমার দুলাভাই এবং ভাগ্নেই গাইরে মাহরাম তাই আমরা চিন্তা করছি, আমার বোন যদি আমার মেয়ের দুধ মা হয়ে যায় তাহলে তার জন্য আর পর্দা করতে হবে না। কিন্তু আমার বোনের এখন কোন দুধের বাচ্চা নেই। আমার মেয়েকে আমার বোন দুধ পান করাতে হলে ওষুধ খেতে হবে। এভাবে ওষুধ খাওয়ার পর যদি বুকে দুধ আসে এবং আমার মেয়েকে তা খাওয়ায় তবে আমার দুলাভাই কি আমার মেয়ের দুধপিতা এবং আমার ভাগ্নে আমার মেয়ের দুধভাই বলে গণ্য হবে? মাসআলাটির সঠিক সমাধান জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন। আল্লাহ তাআলা আপনাদের উত্তম প্রতিদান দান করুন।

বুকের দুধ অল্প পান করলে কি দুধসম্পর্ক সাব্যস্ত হবে?

প্রশ্ন (১২০৪৮) : আমার চাচাতো ভাইয়ের চোখে ফুসকুড়ি ওঠে। গ্রামে প্রচলিত আছে বুকের দুধ দিলে জ্বালাপোড়া কমে। তাই জ্বালাপোড়া কমানোর জন্য পাশের বাড়ির এক মহিলা থেকে তার চোখে দেয়ার জন্য একটি ছোট পাত্রে ৭/৮ ফোঁটা বুকের দুধ আনা হয়। ঘটনাক্রমে ঐ পাত্র থেকে দুধটুকু অসুস্থ তার দেড় বছরের ভাগ্নী খেয়ে ফেলে। জানার বিষয় হল, পাত্র থেকে এতটুকু দুধ পান করার কারণে দুধসম্পর্ক সাব্যস্ত হবে কি না? ঐ মেয়ে বড় হলে তার ছেলেদের সাথে দেখা দিতে পারবে কি না?

দুধ পান সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২০৩৫) : আমার আপন ভাগিনা বয়সে আমার সমান। আমার মা আমার ভাগিনাকে ছোট বেলায় দুধ পান করিয়েছেন। এখন আমার ভাগিনা আমার আপন ভাতিজিকে অর্থাৎ তার মামাতো বোনকে বিবাহ করতে চায়। এটা কি তার জন্য জায়েয হবে?

চিকিৎসার মাধ্যমে আসা বুকের দুধ পান করলে কি হুরমত সাব্যস্ত হবে?

প্রশ্ন (১১৬৪৪) : আমার এক বছরের একটি বাচ্চা মেয়ে রেখে আমার স্ত্রী মারা যায়। আমার মেয়ের খালা তার লালন-পালনের দায়িত্ব নেয়। তার স্বামী, সন্তানাদিও আছে। সন্তানরা সবাই প্রাপ্তবয়স্ক। তার বয়স বেশি হয়ে যাওয়ায় বুকে দুধ আসে না। তাই দুধ আসার জন্য চিকিৎসা করা হয়। ফলে বুকে দুধ আসে। এখন আমার মেয়েকে তার খালা দুধ পান করায়। এখন জানার বিষয় হল, এমতাবস্থায় আামর মেয়ের খালু কি তার দুধপিতা হবে? এবং মেয়েটি বড় হওয়ার পর তার খালুর সাথে দেখাসাক্ষাৎ করতে পারবে?

বাটিতে দুধ খেলে দুধ সম্পর্ক স্থাপিত হবে কি

প্রশ্ন (১১৪১৩) : জনৈকা নারী বাটিতে করে তার বুকের দুধ দেড় বছরের এক বাচ্চাকে খাইয়েছে। জানতে চাচ্ছি, উক্ত নারীর সাথে সেই বাচ্চার দুধ সম্পর্ক সাব্যস্থ হবে কি?