অর্থনীতি ও অর্থব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত অন্যান্য

যৌথভাবে বাগান চাষ করার পদ্ধতি।

প্রশ্ন (১৩০৭৯) : আমরা দুই ভাই মিলে একটি আম বাগান ক্রয় করেছি। চাকরি সুবাধে আমি ঢাকায় থাকি। তাই বাগানের দেখা-শোনা করতে পারি না। এজন্য আমি আমার ভাইয়ের সাথে এভাবে চুক্তি করতে চাচ্ছি যে, সে এটি দেখাশোনা করবে। যা খরচ হবে তা আমাদের সম্মিলিত বলে গণ্য হবে। আর মোট লাভ থেকে তাকে নিচের দুই পদ্ধতির কোনো এক পদ্ধতিতে লাভ দেওয়া হবে। ১. ফল বিক্রয় বাবদ প্রাপ্ত লাভ থেকে ২০% তাকে দিয়ে বাকিটা আমরা দুই ভাগে ভাগ করে নেব। ২. সারা বছরের জন্য তাকে নির্ধারিত পরিমাণ টাকা পারিশ্রমিক হিসেবে দেওয়া হবে। ফল বিক্রয় বাবদ প্রাপ্ত অর্থ থেকে তার পারিশ্রমিক প্রথমে প্রদান করা হবে। এরপর খরচ বাদে অবশিষ্ট টাকা দু’জন ভাগ করে নেব। শরীয়তের দৃষ্টিতে উভয় পদ্ধতির বিধান কী? দয়া করে জানালে উপকৃত হব।

কর্মচারীদের অবহেলায় দোকানের পণ্য নষ্ট হয়ে গেলে কি তাদের থেকে জরিমানা গ্রহণ করা যাবে?

প্রশ্ন (১৩০৭৮) : আমার দোকানের কর্মচারীরা অনেক সময় কোনো জিনিস নষ্ট করে ফেলে বা তাদের অনিচ্ছায় কিংবা অবহেলায় নষ্ট হয়ে যায়। এসব ক্ষেত্রে তাদের থেকে জরিমানা নেওয়ার বিধান কী? এক্ষেত্রে তাদেরকে ছাড় দেওয়া হলে তাদের অবহেলা বাড়তেই থাকে। তাই শরীয়তের দৃষ্টিতে কোন কোন ক্ষেত্রে তাদের থেকে জরিমানা নেওয়া যাবে এবং কখন নেওয়া যাবে না? বিস্তারিত জানালে খুবই উপকৃত হব।

কেউ নির্দিষ্ট কোনো ব্যবসায় টাকা বিনিয়োগ করতে দিলে তাকে না জানিয়ে অন্য কোনো ব্যবসায় উক্ত টাকা বিনিয়ো…

প্রশ্ন (১৩০৬৮) : আমাদের বাজারে আমার দুটি ‍দোকান আছে। একটিতে মুদীর ব্যবসা, অন্যটিতে কাপড়ের ব্যবসা আছে। আমার ছোট মামা দুবাই থাকে। কয়েকমাস আগে তিনি ছুটিতে দেশে আসেন। এক মাস আগে বিদেশ যাওয়ার সময় তিনি আমাকে দুই লাখ টাকা দেন আমার ব্যবসাতে লাভ-লস সমান অংশীদারীর ভিত্তিতে বিনিয়োগ করার জন্য। কিন্তু আমার উক্ত ব্যবসাদুটিতে পুঁজি বিনিয়োগ করার প্রয়োজন নেই। তাই আমি চাচ্ছিলাম মামাকে না জানিয়ে তার টাকা দিয়ে জমি ভাড়া নিয়ে চাষাবাদ করার জন্য। অতপর ফসল মাড়াই করে বিক্রি করে লাভ-লস বণ্টন করার জন্য। জানতে চাচ্ছি, এভাবে তার টাকা বিনিয়ো করলে কোনো সমস্যা আছে কি?

জমির ফসল থেকে পারিশ্রমিক দেওয়ার শর্তে শ্রমিকদের সাথে চুক্তি করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩০৩৪) : ধান কাটার বা অন্যান্য ফসল তোলার ক্ষেত্রে শ্রমিকদের সাথে আমরা উক্ত ফসলেরই একটা অংশ দেওয়ার চুক্তি করি। অর্থাৎ কথা থাকে, তারা ক্ষেতের ধান বা ফসল তুলে বাড়িতে এনে দেবে। বিঘাপ্রতি তাদেরকে সেখান থেকে নির্দিষ্ট পরিমাণ ধান বা ফসল দেওয়া হবে। তো ধান বা ফসল তোলা শেষ হলে তা বাড়িতে পৌঁছে দিয়ে সেখান থেকে তাদের অংশ নিয়ে যায়। এক ভাই বললেন, এটা নাকি জায়েয নয়। কিন্তু আমি তার কথার কোনো কারণ খুঁজে পেলাম না। তাই আমি জানতে চাই, এ বিষয়ে শরীয়তের দৃষ্টিতে সঠিক সিদ্ধান্ত কী?

মসজিদ ফান্ডের টাকা নিজ প্রয়োজনে খরচ করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১৩০১৮) : আমি একটি মসজিদের ক্যাশিয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। মসজিদ ফান্ডের লাখ লাখ টাকা আমার কাছে থাকে। আমি এ টাকাগুলো মসজিদের নামেই ব্যাংকের একটি কারেন্ট একাউন্টে জমা করি এবং প্রয়োজনের সময় উত্তলোন করে খরচ করি। গত কয়েকদিন আগে আমার একটি ব্যক্তিগত কাজে লাখ দেড়েক টাকার প্রয়োজন হয়। তখন আমি শীঘ্রই ফিরিয়ে দেওয়ার নিয়তে দেড় লাখ টাকা মসজিদের একাউন্ট থেকে উত্তোলন করে খরচ করে ফেলি। জানতে চাচ্ছি, আমার এ কাজটি কি ঠিক হয়েছে? দয়া করে জানালে উপকৃত হব।

ক্রয় প্রতিনিধি কি পণ্যের ছাড় পাওয়া মূল্য রেখে দিতে পারবে?

প্রশ্ন (১২৯৯৮) : আমি দোকান যাচাই করে ভালো শাল কিনতে পারি। তাই অনেক পরিচিতরা আমাকে কাশমীরী শাল কেনার জন্য টাকা দেয়। সাধারণ খুচরা বাজারে যে চাদরটার মূল্য হয় ৭০০০/-টাকা। কিন্তু ইন্ডিয়া থেকে সরাসরি এগুলো আমদানী করে এমন কয়েকজনের সাথে আমার পরিচয় আছে। তারা সে চাদরটাই বিক্রি করে ৫৫০০/- টাকায়। আবার কখনো দেখা যায়, তাদের থেকে আমি নিয়মিত পণ্য নেই, একারণেও আমার কাছ থেকে তারা মূল্য কম নেয়। তাই জানতে চাচ্ছি, আমার জন্য এই অতিরিক্ত টাকা রেখে দেওয়া বৈধ হবে কী? এতে শরীয়তের দৃষ্টিতে কোনো আপত্তি আছে কি না? জানালে উপকৃত হব।

ব্যবসার আয়ের আংশিক ভাড়া হিসেবে দেওয়ার চুক্তিতে দোকান ভাড়া নেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৯৯২) : ঢাকায় আমার একটি দোকান। আছে। আমার এক বন্ধু দোকানটি এভাবে ভাড়া নিতে চাচ্ছে যে, সে এখানে ব্যবসা করে যা লাভ হবে তার ৩০% আমাকে দিবে। কোনো সিকিউরিটি মানি বা অ্যাডভান্স দিবে না। জানতে চাই, এভাবে দোকান বাবদ লাভ নেওয়া সহিহ আছে কি না?

নির্দিষ্ট পরিমাণ অংকের টাকা লাভ দেওয়ার ভিত্তিতে ব্যবসার চুক্তি করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৯৫৩) : আমার ফুফার একটি রাইসমিল আছে। সেখানে নতুন কিছু মেশিনারিজ কেনার জন্য ১,৩০,০০০/- টাকার প্রয়োজন। সে আমার সাথে এভাবে চুক্তি করতে চাচ্ছে যে, আমি তাকে ঐ টাকা দিলে সে প্রতি মাসে আমাকে ১৭০০/- টাকা লাভ দিবে। এর পর বাকি লাভ যা থাকবে ছয়মাস পর পর হিসাব করে বণ্টন হবে। তখন লাভের পরিমাণ দেখে ইনসাফের ভিত্তিতে শতকরা হারে একটি পরিমাণ নির্ধারণ করে বাকি লাভ নেওয়া হবে। তাই মুফতী সাহেবের নিকট জানতে চাচ্ছি, উপরে বর্ণিত নিয়মে করা আমাদের চু্ক্তিটি কি বৈধ হবে?

পণ্য বিক্রি করার পর হস্তান্তর না করলে কি বিক্রি সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২৮২৬) : আমার এক বন্ধু কিছুদিন পূর্বে নতুন বাড়ি নির্মাণ করেছে। কিন্তু টাকার সল্পতার কারণে গেট বানাতে পারছিল না। বিষয়টি সে আমাকে জানানোর পর তার সাথে আমি এভাবে চুক্তি করি যে, আমি ৩০ হাজার টাকা দিয়ে গেট বানিয়ে তার কাছে তা ৩৫ হাজার টাকায় বিক্রি করব। আর সে তা ৩ মাসের মধ্যে পরিশোধ করে দিবে। সে মর্মে আমরা একটি ওয়ার্কশপে গিয়ে গেটের সাইজ, স্টীল ও লোহার মান ইত্যাদি বিবরণ স্পষ্ট করে অর্ডার দেই। তারপর আমি দোকানদারকে ৩০ হাজার টাকা দিয়ে নিজের নামে দোকানের মেমো লিখিয়ে গেট বানানোর পর আমার বন্ধুকে দিয়ে দেওয়ার জন্য বলে আসি। নির্দিষ্ট সময়ে গেট তৈরি হওয়ার পর আমার বন্ধু তা নিয়ে এসে বাসায় ফিট করে। এখন জানার বিষয় হল, আমাদের উক্ত চুক্তিটি বৈধ হয়েছে কি না?

বিক্রি করা পাখি বিক্রেতার কাছে রেখে লালন-পালন করার শর্তে চুক্তি করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৮০৫) : আমরা প্রায় সময় আমাদের প্রতিবেশীদের থেকে কবুতরের বাচ্চা ক্রয় করি খাওয়ার জন্য। একবার আমি এক বাড়িতে গিয়ে দেখি কবুতরের বাচ্চাগুলো খুবই ছোটো, এখনো খাওয়ার উপযুক্ত হয়নি। কিন্তু সে বাড়ির লোকজনের তৎক্ষণাৎ টাকার প্রয়োজন থাকায় তখনই তারা সেগুলো বিক্রি করে আমার থেকে টাকা রেখে দেয়। তখন আমি এই শর্তে টাকা দিয়ে আসি যে, আমি বাচ্চাগুলো এখনই নিব না। কয়েকদিন পর বড় হলে নিয়ে যাবো এবং এক সপ্তাহ পর গিয়ে আমি সেগুলো নিয়ে আসি। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, এভাবে মালিকের বাড়িতে রেখে আসার শর্তে কবুতর কেনা বৈধ হয়েছে কি না?

গ্রামে প্রচলিত পদ্ধতিতে গরু বর্গা দেওয়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৭৬৮) : আমাদের এলাকায় এভাবে গরু-ছাগল বর্গা দেওয়া হয় যে, বর্গা দেওয়ার সময় পশুর যে মূল্য থাকে সে মূল্যের পর থেকে বছর শেষে যতটুকু মূল্য বাড়বে তা দু’ভাগে ভাগ করা হবে। এ সূরত জায়েয আছে কি?

কারো পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হয়ে পণ্য ক্রয় করে কমিশন পেলে উক্ত কমিশন গ্রহণ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৭২২) : আমি একটি ফ্যাক্টরীতে চাকরি করি। আমার দায়িত্ব হল, ফ্যাক্টরীর পণ্য উৎপাদনের যাবতীয় কাঁচামাল বাজার থেকে ক্রয় করা। দীর্ঘদিন যাবৎ এ পোস্টে কাজ করার সুবাদে অনেক ব্যবসায়ীর সাথে আমার পরিচয় ও সম্পর্ক আছে। এখন এক ব্যবসায়ী আমার সাথে এভাবে চুক্তি করতে চাচ্ছে যে, আমি যদি ফ্যাক্টরীর সব কাঁচামাল তার থেকে ক্রয় করি তাহলে সে আমাকে শতকরা ৩% কমিশন দিবে। এখন হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, আমার জন্য উক্ত কমিশন গ্রহণ করতে শরয়ীভাবে কোনো অসুবিধা আছে কি না? জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

অর্ডার করে বানানো পণ্য মালিক ব্যতিত অন্য কারো কাছে বিক্রি করে দেওয়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৬৭৩) : আমি এক দোকানির কাছে একটি স্টিলের আলমারির অর্ডার করি। সে ১৫ তারিখে ডেলিভারি দিতে চায়। পরে ৭ তারিখে সে ফোনে আমাকে বলে যে, আলমারী প্রস্তুত হয়ে গিয়েছে চাইলে নিয়ে যেতে পারবেন। আমি ব্যস্ততার কারণে ঐ দিন যেতে পারিনি। ১০ তারিখ তা আনতে গেলে জানতে পারি যে, সে অতিরিক্ত দাম পেয়ে অন্যত্র তা বিক্রি করে দিয়েছে। এতে আমার খুব রাগ হয়। তখর সে ১৫ তারিখের ভিতর আরেকটি বানিয়ে দেওয়ার কথা বলে। কিন্তু আমি এতে রাজি হইনি এবং তার কাছ থেকে আর আলমারি নিব না বলে জানিয়ে দেই। এখন মুফতী সাহেবের কাছে আমার জিজ্ঞাসা হল, দোকানির জন্য এভাবে অর্ডারী বস্তু বিক্রি করা বৈধ হয়েছে কি না? এক্ষেত্রে পূর্ব নির্ধারিত টাকার চেয়ে অতিরিক্ত টাকা কি তার জন্য হালাল হবে? আর শুধু এ কারণে তার সাথে আমার চুক্তি বাতিল করা কি ঠিক হয়েছে?

মোবাইল রিচার্জ সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৫৩৫) : আমরা যখন মোবাইলে টাকা রির্চাজ করার জন্য দোকানদারকে বিশ টাকা দেই, তখন সে ১ টাকা কম ১৯ টাকা রির্চাজ করে দেয়। এক্ষেত্রে আমাদের এই লেনদেন কমবেশি করার কারণে সুদী লেনদেন হবে কি না? আর যদি সুদ হয় তাহলে বিগত দিনগুলোতে যে লেনদেন করা হয়েছে তাতে উভয়ের কী হুকুম? বিস্তারিত জানালে আমরা সকলেই উপকৃত হতাম।

পণ্য ফেরত দেওয়ার চুক্তিতে ক্রয় করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৪০৭) : আমাদের এলাকায় মাদরাসা-মসজিদের মাহফিলগুলোতে আমরা বইয়ের দোকান দিই। যেহেতু সব বই বিক্রি করা যায় না; তাই আমরা লাইব্রেরী থেকে বই কেনার সময় এভাবে চুক্তি করি যে, যেসব বই বিক্রি হবে না, সেগুলো ফেরত দিব। মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাই, আমাদের এভাবে চুক্তি করা কি সহিহ হচ্ছে?

বিক্রি করা পণ্য ফেরত নেওয়ার বিধান কি?

প্রশ্ন (১২৪০২) : আমি লাইব্রেরী থেকে ৩০০ টাকা দিয়ে একটি কিতাব কিনি। কিতাবটি কেনার পর এটি প্রয়োজন না হওয়ায় আমি সে লাইব্রেরীতে কিতাবটি ফেরত দিতে যাই। লাইব্রেরীওয়ালা বলল, আমরা তো কিতাব ফেরত নিই না। তবে কিনে নিই। অতপর সে ২৫০ টাকায় কিতাবটি আমার থেকে কিনে নেয়। তার এই কাজটি কি ঠিক হয়েছে?

প্রেসে নষ্ট হয়ে যাওয়া কাগজ কোনো কাজে ব্যবহার করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৩৮৩) : আমাদের প্রেসে বিভিন্ন ধরনের বইপত্র ছাপানো হয়। এর মধ্যে ইসলামী কিতাবাদিও রয়েছে। (যেমন তাফসীর, হাদীসগ্রন্থ, দ্বীনী বিষয়ে বিভিন্ন কিতাবাদি)। গ্রাহকবৃন্দ আমাদেরকে যে ছাপার কাজগুলো দেন এর মধ্যে যেমন দুনিয়াবী বইপত্র থাকে তেমনি ইসলামী কিতাবাদিও থাকে। ছাপানোর সময় বিভিন্ন কারণে (যেমন মেশিনে সমস্যা হলে বা কাটিং যন্ত্র ঠিক মতো কাজ না করলে) উল্লেখযোগ্য পরিমাণ কাগজ উদ্বৃত্ত হয়। গ্রাহকদেরকে তাদের অর্ডার দেওয়া বইপত্র বা কিতাবাদি বুঝিয়ে দেওয়ার সময় সেই উদ্বৃত্ত কাগজগুলো দিয়ে আমরা বইগুলো বেঁধে দিই। যাতে বাঁধাইয়ের উপর দড়ির দাগ না পড়ে। এরপরও যেসব কাগজ অবশিষ্ট থাকে সেগুলো ভাঙ্গারির কাছে বিক্রি করে দিই। তারা সাধারণত ঠোঙা বানানোর কাজে এগুলো ব্যবহার করে থাকে। মুহতারামের নিকট জিজ্ঞাসা হল, এ কাগজগুলো এসব কাজে ব্যবহার করতে কোনো অসুবিধা আছে? অনুরূপভাবে এগুলো বিক্রি করা কি বৈধ হবে?

ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৩৫৫) : কিছুদিন আগে একটি ফার্নিচারের দোকান থেকে আমি এক লক্ষ বিশ হাজার টাকার ফার্নিচার ক্রয় করি। তার মধ্যে এক লক্ষ টাকা নগদে পরিশোধ করি। বাকিটা কয়েকদিন পরে দেওয়ার কথা হয়। ফার্নিচারের দোকানদার বিক্রির সময় আমাকে বলেছিল, এগুলোর কেনা দাম এক লক্ষ টাকা। এর সঙ্গে মেরামত বাবদ অতিরিক্ত খরচসহ এর বিক্রয়মূল্য ধরা হয়েছে এক লাখ বিশ। কিন্তু ফার্নিচারগুলো দেখার পর অভিজ্ঞ বেশ কয়েকজন আমাকে বললেন, দোকানদার আপনাকে ঠকিয়েছে। এর কেনা দাম মোটেও সত্তর হাজারের বেশি হবে না। এ বিষয়ে দোকানদারকে জিজ্ঞেস করা হলে প্রথমে সে অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করে যে, তার কেনা দাম অন্তত এক লাখ না। তার চেয়ে কম। আপনার কাছে জানতে চাচ্ছি, তার এই প্রতারণার কারণে আমি কি তাকে বাদবাকি বিশ হাজার টাকা কম দিতে পারি? এক্ষেত্রে শরীয়তের নির্দেশনা কী?

মোবাইল ব্যাংকিং সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৩৩২) : আমি বিকাশের একজন এজেন্ট। অনেকেই মোবাইল ব্যাংকিংয়ের বিভিন্ন সেবা গ্রহণ করতে আমার দোকানে আসে। কেউ ক্যাশ আউট করতে আসলে বিকাশ এজেন্টগণ সাধারণত প্রতি হাজারে খরচ বাবদ ২০ টাকা রাখে। অথচ কোম্পানীর পক্ষ থেকে নির্ধারিত চার্জ হল ১৮.৫০। এখানে এজেন্টগণ ১.৫০ অতিরিক্ত লাভ গ্রহণ করে। আবার কারো ক্যাশ আউটের পরিমাণ বেশি হলে তাকে সেন্ড মানি করতে বলা হয়। এখানেও খরচ হিসেবে প্রতি হাজারে ২০ টাকা করে রাখে। অথচ কোম্পানীর পক্ষ থেকে সেন্ড মানির জন্য নির্ধারিত চার্জ হল পাঁচ টাকা। এক্ষেত্রে ২০ টাকা পুরোটাই অতিরিক্ত গ্রহণ করে থাকে। আর বলে- আমাদের তো টাকা ওঠাতে এত টাকা খরচ হবে। তাই আপনার থেকে রাখলাম। এক্ষেত্রে অনেকেই পরবর্তীতে ক্যাশ আউট না করে অন্যভাবে উক্ত টাকা ব্যবহার করে থাকে। অতএব হুযুরের কাছে উক্ত কারবারদুটির শরয়ী বিধান জানতে চাচ্ছি।

আমানতের টাকা অনুমতি ছাড়া ব্যয় করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২২৯৯) : আমি ঢাকায় চাকরি করি। গ্রামে আমার তেমন জায়গা-জমি নেই। তাই অনেক দিন ধরে আমি গ্রামে একটি জমি ক্রয় করতে চাচ্ছি। আর এই ব্যপারে আমার চাচাকে জানিয়ে রাখি যে, যদি ভালো কোনো জমির সন্ধান পান তাহলে যেন তিনি আমাকে জানান। একবার আমার চাচা একটি জমির সন্ধান পেয়ে আমাকে জানান। তখন আমার নামে জমিটি কেনার জন্য চাচার একাউন্টে পাঁচ লক্ষ টাকা পাঠিয়ে দিই। জমি কিনতে বিলম্ব হওয়ায় চাচা আমাকে না জানিয়ে এক লক্ষ টাকা নিজের ব্যবসায় খাটায়। জানার বিষয় হল, চাচার জন্য কি টাকা ব্যবসায় খাটানো ঠিক হয়েছে? এ টাকা দ্বারা যা লাভ হয়েছে তা কি চাচার জন্য ভোগ করা বৈধ হবে? জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।