ঋণ ও করজে হাসানা

ঋণের টাকা মনে মনে মাফ করলে কি মাফ হয়ে যায়?

প্রশ্ন (১৩৮৬৮) : কয়েক বছর আগে আমার এক বন্ধুকে আমি চল্লিশ হাজার টাকা ঋণ দিয়েছিলাম। অনেক কষ্ট করে সে বিশ হাজার টাকা পরিশোধ করতে পেরেছে। বাকি টাকা এখনো পরিশোধ করেনি। সে আর্থিকভাবে খু্বই অসচ্ছল। তাই আমি তাকে বাকি টাকা মনে মনে মাফ করে দিয়েছিলাম। তবে তাকে কিছু জানাইনি। এখন তার আর্থিক অবস্থা পরিবর্তন হয়েছে। তার কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ টাকা আছে। জানার বিষয় হলো, আমি যেহেতু তাকে মনে মনে মাফ করে দিয়েছি এখন আমার জন্য তার থেকে বাকি টাকা নেওয়া জায়েয হবে কি?

কোনো শর্তের বিনিময়ে ঋণ দেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৩৭৪) : আমাদের গ্রামে শাক সবজি ইত্যাদি চাষাবাদকারী কৃষকদেরকে ঢাকার বিভিন্ন আড়তদাররা উৎপাদনের প্রয়োজনে এই শর্তে ঋণ দেয় যে, শাক সবজি উৎপন্ন হওয়ার পর আমাদের আড়তেই আনতে হবে। অন্য কোথাও নিতে পারবেন না। তবে আড়তদাররা কোনো প্রকার সুদ নেয় না। কৃষিপণ্য উৎপন্ন হওয়ার পর কৃষকরা সেই ঋণ পরিশোধ করে দেয়। জানার বিষয় হল, এ ধরনের শর্ত করে ঋণ দেওয়া বা নেওয়া জায়েয হবে কি?

কারো পাওনা টাকা হাদিয়া বলে তাকে দিলে তা কি আদায় হবে?

প্রশ্ন (১২৯৪০) : আমার বড় ভাইয়ের সাথে একটি বিষয়ে লেনদেন করার সময় আমার নিকট ১০০০/- টাকা বেশি আসে। আমি তা জানা সত্ত্বেও ফিরিয়ে দেইনি এবং আমাকে জিজ্ঞাসা করা হলে আমি বলেছি, হিসাব সব ঠিকঠাক আছে। বর্তমানে ঐ বিষয়টি নিয়ে আমার অনুশোচনা হচ্ছে। কিন্তু কী বলে ফিরিয়ে দিব- বুঝতে পারছি না। ঐ ঘটনা বললে তো অনেক লজ্জার বিষয়। এক্ষেত্রে আমার কোনো এক বন্ধুকে বলতে শুনেছিলাম যে, হাদিয়ার কথা বলে দিলেও নাকি সেই টাকা পরিশোধ হয়ে যাবে। জানতে চাচ্ছি, এক্ষেত্রে হাদিয়ার কথা বলে দিলেও কি আদায় হয়ে যাবে?

করযে হাসানা দিয়ে অতিরিক্ত গ্রহণ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৯৩৮) : আমি একজনকে ২,০০০/- টাকা কর্জ দিলাম। বর্তমান বাজারমূল্য হিসেবে এ দ্বারা ৪০ কেজি খাদ্যশস্য পাওয়া যায়। আমি তাকে বললাম, ১ বছর পর ফেরত দিলেই চলবে। ইত্যবসরে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাওয়ায় উক্ত টাকায় ২৫ কেজি খাদ্যশস্য পাওয়া যায়। এমতাবস্থায় আমি ক্ষতিগ্রস্ত হলাম। এখানে যদি আমি ৩,২০০ টাকা পেতাম তাহলে পূর্বের ন্যায় ৪০ কেজি শস্য কিনতে পারতাম। এক্ষেত্রে শরীয়তের ফয়সালা কী? আমি এহসান করব? তার কাছ থেকে সুদ হিসেবে অতিরিক্ত কিছু নেব এমন আগ্রহ আমার নেই; কিন্তু আমি ক্ষতিগ্রস্ত কেন হব? আবার দাম যদি কমে যায় সেক্ষেত্রে ধরা যাক উক্ত টাকায় ৫০ কেজি শস্য পাওয়া যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে ঋণগ্রহীতার জন্য (২,০০০/- টাকার কম) ৪০ কেজির দাম ১,৬০০ টাকা দেওয়া ঠিক হবে কি না?

কাউকে ঋণ দেওয়ার পর কৌশলে অতিরিক্ত নেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৮৩৭) : চার বছর আগে আমার এক প্রতিবেশী দু’বস্তা চাল কেনার জন্য আমার থেকে তিন হাজার টাকা ধার নিয়েছিল। সে দিবে দিবে বলে চার বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে। এখনো টাকাগুলো পরিশোধ করেনি। তখন তিন হাজার টাকা দিয়ে দু’বস্তা চাল পাওয়া যেত। এখন তা দিয়ে সোয়া এক বস্তার মত চাল পাওয়া যায়। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, আমি কি তার কাছ থেকে বর্তমান মূল্য অনুযায়ী দু’বস্তা চালের মূল্য নিতে পারব?

ঋণ দেওয়ার জন্য চড়া মূল্যে ফরম বিক্রির নাম করে টাকা নেওয়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৭৯৯) : কিছুদিন আগে আমার স্বামীর অসুস্থতার কারণে মোটা অংকের টাকার প্রয়োজন হয়। তখন পরিচিত কারো কাছে ঋণ চেয়েও পাইনি। এমতাবস্থায় আমার এক প্রতিবেশী আমাকে একটি সামাজিক সংগঠনের সভাপতির কাছে নিয়ে যান। সভাপতির কাছে আমি আমার অবস্থা বলার পর তিনি আমাকে বলেন, আমরা তো কারো থেকে সুদ নেই না। তবে আমাদের ঋণ প্রদানের নিয়ম হল যে, পঞ্চাশ হাজারের বেশি কাউকে ঋণ দেওয়া হয় না। আর ঋণ গ্রহীতাকে তিন হাজার টাকা দামের একটি ফরম কিনতে হয়। কেননা আমাদের দাপ্তরিক কিছু ব্যয় রয়েছে। তাছাড়া ফরম বিক্রির মাধ্যমে আমরা অন্যান্য জনকল্যাণমূলক কাজের তহবিল সংগ্রহ করি। প্রয়োজনের তাগিদে আমি এভাবেই ঋণ নিয়ে আসি। জানার বিষয় হল, উপরোক্ত পন্থায় ঋণ নেওয়া জায়েয হয়েছে কি না?

সমিতির টাকা লটারীর মাধ্যমে ভাগ করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৫৬৬) : আমি একজন ব্যবসায়ী, আমার একটি সমিতি আছে। আমার সমিতির ৫০ জন সদস্য আছে। প্রত্যেক সদস্যের কাছ থেকে আমি প্রতি সপ্তাহে দুই কিস্তিতে ১০০০ টাকা নেই। (যার ফলে প্রতি সপ্তাহে আমার কাছে ৫০,০০০/- টাকা জমা হয়) এবং প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ৫০ সদস্যের নাম লটারী করি, যার নাম লটারীতে ওঠে তাকে একসাথে ৫০,০০০/-টাকা দিয়ে দিই। তার পরের সপ্তাহে যে ব্যক্তি টাকা পেয়েছে তার নাম বাদ দিয়ে বাকি ৪৯ জনের নাম লটারী করি। যার নাম লটারীতে ওঠে তাকে ৫০,০০/- টাকা দিয়ে দিই। এইভাবে ৫০ সপ্তাহে ৫০ জনই আগে বা পরে ৫০,০০০/- টাকা পেতে থাকে এবং যারা টাকা পেয়েছে তারাও ৫০ সপ্তাহ পর্যন্ত প্রতি সপ্তাহে এক হাজার করে টাকা দিতে থাকে। এই সমিতি করার উদ্দেশ্য হল, যারা ছোট ব্যবসায়ী তারা একসাথে ৫০,০০০/- টাকা পেয়ে যাতে ব্যবসায় উন্নতি করতে পারে। উল্লেখ্য, তাদের টাকা আমার কাছে তিন-চার দিন থাকে, তখন আমি ঐ টাকা দ্বারা ব্যবসা করি এবং সকল সদস্য আমার ব্যবসা করার বিষয়টি জানে এবং এ ব্যাপারে তারা আমাকে কিছু বলে না। এখন আমার জানার বিষয় হল, আমার সমিতির কার্যক্রম শরীয়তসম্মত কি না? শরীয়তসম্মত না হলে কী কারণে শরীয়তসম্মত না- অনুগ্রহ করে জানাবেন। ইনশাআল্লাহ, আমি সেই কারণ দূর করব।

লেনদেন সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২০৯৩) : আমার এক বন্ধু আমার থেকে এক বছরের জন্য দেড় লাখ টাকা ঋণ নেয়। আমার টাকার সংকট থাকায় আমি তাকে প্রথমে ঋণ দিতে চাচ্ছিলাম না। পরে সে আমার কাছে তার একটি পুরাতন ফোন মর্গেজ হিসাবে রাখলে আমি তাকে ঋণ দেই। আমি আমার বন্ধুর ফোনটা মাঝে মাঝে ব্যবহার করতাম। এটা আমার বন্ধু জানত না। কিছুদিন আগে বাসে বসে ফোনটা চালাচ্ছিলাম, হঠাৎ জানালা দিয়ে ফোনটা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। ফোনটা যখন আমার বন্ধু আমাকে দেয় তখন এর দাম ছিল ৬০ হাজার টাকা। কিন্তু যখন তা ছিনতাই হয় তখন এই মডেলের ফোনের বাজারমূল্য ২০% কমে গেছে। এদিকে ফোনটি ছিনতাই হওয়ার এক সপ্তাহ আগেই পাওনা পরিশোধের সময় শেষ হয়ে গেছে। ফোনটি হাতছাড়া হওয়ায় আমার বন্ধু বলছে, সে ঋণের পুরো টাকা পরিশোধ করবে না। জানার বিষয় হল, এখন আমি কি আমার বন্ধু থেকে জোরপূর্বক পুরো টাকা ফেরত নিতে পারব?

দোকানে বিক্রির শর্তে ঋণ নেওয়া যাবে কি

প্রশ্ন (১১২৮৮) : ধানের সিজনে বাজারের গুদাম ব্যবসায়ীরা চাষীদেরকে এই শর্তে সুদমুক্ত ঋণ দেয় যে, ফসল কাটা হলে তা তার কাছে বিক্রি করতে হবে। জানতে চাচ্ছি, উক্ত শর্তের ভিত্তিতে ঋণ নিতে কোনো সমস্যা আছে কি?

ঋণের টাকা ব্যবসায় খাটানো যাবে কি

প্রশ্ন (১১২৮৩) : জনৈক ব্যক্তি আমার কাছ থেকে ২ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছে। সে তা পরিশোধ করেনি। তাই আমি তার সাথে চুক্তি করেছি যে, এই ২ লক্ষ টাকা দিয়ে তুমি ব্যবসা করবে। যা লাভ হবে তার অর্ধেক আমাকে দিবে। জানতে চাচ্ছি, এই চুক্তি কি সঠিক হয়েছে?

ঋণের টাকা থেকে ক্যাশআউট খরচ বাদ দেওয়া যাবে কি

প্রশ্ন (১১০৪৮) : আমি কিছুদিন আগে এক ব্যক্তি থেকে ১০ হাজার টাক ঋণ নেই। সে বিকাশে ১০ হাজার টাকাই পাঠায়। খরচ দিয়ে আমার উক্ত টাকা উঠাতে হয়। জানতে চাচ্ছি, পরিশোধের সময় খরচ পরিমাণ টাকা কাটিয়ে রাখতে পারব?

ঋণ নিয়ে অন্য বস্তুর মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়া যাবে কি

প্রশ্ন (১১০৪৭) : আমার এক বন্ধুকে আমি এক লক্ষ টাকা ঋণ দিয়েছি এ মর্মে যে, সে আমাকে ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করবে। আর বাকি ২০ হাজার টাকার পরিবর্তে ৩০ হাজার টাকার সমমূল্যের মুদী পণ্য দিবে। যেহেতু আমার মুদী দোকান আছে। জানতে চাচ্ছি, এভাবে চুক্তি করা বৈধ হবে কি?

ঋণের টাকা ব্যবসার জন্য দেওয়া যাবে কি

প্রশ্ন (১০৮৭১) : আমি আমার খালাত ভাইয়ের কাছে ঋণ হিসেবে ২ লক্ষ টাকা পেতাম। কিছুদিন আগে সে বলে, আমি এই দুই লক্ষ টাকা দিয়ে ব্যবসা করব। যা লাভ হবে এর ৬০% তুমি পাবে আর বাকি ৪০% আমার। আমি রাজি হয়ে যাই। জানতে চাচ্ছি, এভাবে চুক্তি করলে শুদ্ধ হবে কি?

খরচসহ ফেরত দিলে কি সুদ হবে

প্রশ্ন (১০৪৪৪) : আমি একজন থেকে বিকাশে ঋণ নিয়েছিলাম। সে তখন কোনো খরচ পাঠায়নি। বর্তমানে আমি তার টাকা বিকাশে খরচসহ পাঠাতে চাচ্ছি। জানতে চাচ্ছি, অতিরিক্ত টাকাটা কি সুদ হবে?

হারাম উপার্জনকারীর কাছ থেকে ঋণের টাকা নেওয়া যাবে কি

প্রশ্ন (৯৮৫৯) : আমি এক ব্যক্তির কাছে কিছু টাকা ঋণ হিসেবে পাই। সে হারাম উপার্জনের সাথে জড়িত। জানতে চাচ্ছি, সে যদি ঋণ পরিশোধ করে তাহলে সেই টাকা নেওয়া যাবে কি?

টাকা উঠানোর খরচ কে দিবে

প্রশ্ন (৯৮৫২) : হাতে হাতে ঋণ নিয়ে ফেরত দেওয়ার সময় যদি বিকাশের মাধ্যমে দেওয়া হয় তাহলে উঠানোর খরচ কে দিবে?

যে পরিমাণ তেল নেওয়া হয়েছিল তাই কি ফেরত দিতে হবে

প্রশ্ন (৯৬৬১) : কিছুদিন আগে আমার সয়াবিন তেলের প্রয়োজন পড়ে তাই পাশের বাসা থেকে দুই লিটার তেল ধার নেই। তখন তেলের দাম ছিল ১৮০ টাকা লিটার। বর্তমানে তেলের দাম হয়েছে ২০০ টাকা লিটার। জানতে চাচ্ছি, আমাকে কি দুই লিটার তেলই ফেরত দিতে হবে নাকি টাকার হিসাব করে কিছু কম দিলেও চলবে?