হজ্ব সংক্রান্ত অন্যান্য

ইহরাম থেকে হালাল হওয়ার জন্য কতটুকু পরিমাণ চুল কাটতে হবে?

প্রশ্ন (১২৬৬১) : হজ্ব বা উমরাহ করার পর হালাল হওয়ার জন্য কতটুকু পরিমাণ চুল কাটা আবশ্যক? মাথার চারপাশের কয়েক জায়গা থেকে অল্প অল্প করে চুল কেটে নিলে তার দ্বারা কি হালাল হওয়া যাবে?

পুরস্কার স্বরূপ হজ্ব করলে কি ফরয হজ্ব আদায় হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১২৫৫২) : দুই বছর আগে রমযানে ‘ইসলামিক নলেজ’ নামের একটি কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে আমি ১ম স্থান অধিকার করি। পুরস্কার স্বরূপ সে বছর আমাকে হজ্বে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে আমি একজন সাধারণ ব্যবসায়ী। এখন আমার হজ্ব করার সামর্থ্য আছে। মুহতারামের নিকট আমার জিজ্ঞাসা হল, এই অবস্থায় কি আমার জন্য পুনরায় হজ্ব করা আবশ্যক?

একসাথে দুইটি কংকর নিক্ষেপ করলে কি সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২৫৫০) : গত বছর আব্বা ও আম্মাকে নিয়ে হজ্বে গিয়েছিলাম। আব্বা অনেক বৃদ্ধ হয়ে গেছেন। মুআল্লিম সাহেব হজ্বের নিয়মাবলী বলে দেওয়ার পরও আব্বা অনেক কিছু ভুলে গিয়েছিলেন। ১০ তারিখ কংকর মারার সময় আব্বা দুটি কংকর একসাথে মেরেছিলেন। হযরতের কাছে জানার বিষয় হল, কংকর মারার সময় যদি দুইটি বা তিনটি কংকর একসাথে নিক্ষেপ করে ফেলে তাহলে করণীয় কী? এটার কারণে কোনো জরিমানা আসবে কি না? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

তাওয়াফ ও সাঈর চক্কর নিয়ে সন্দেহ হলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২৫৪৬) : অনেক সময় তাওয়াফ ও সাঈর চক্কর নিয়ে সন্দেহ হয় যে, কয়টি চক্কর হল। তো তাওয়াফ ও সাঈর চক্করের ব্যাপারে সন্দেহ হলে কী করণীয়? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

পথ হারিয়ে ফেলার কারণে তাওয়াফে যিয়ারত যথাসময়ে করতে না পারলে কি দম ওয়াজিব হবে?

প্রশ্ন (১২৫৩১) : আল্লাহর রহমতে আমার গত বছর হজ্বে যাওয়ার সুযোগ হয়। ১২ই যিলহজ্ব মাগরীবের পর রাস্তায় এক বৃদ্ধের সাথে দেখা হয়। তিনি বললেন, বাবা, আমি রাস্তা হারিয়ে ফেলেছি। আমার বাসাটা একটু খুঁজে দেবে? তার বাসা খুঁজতে খুঁজতে আলাপচারিতায় জানতে পারলাম তিনি তখনও তাওয়াফে যিয়ারত করেননি। মিনা থেকে ১২ই যিলহজ্বের কংকর মারার পর কাফেলার সাথে মক্কার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। কিন্তু ভিড়ে কাফেলা থেকে বিছিন্ন হয়ে যান। কাফেলাকে খুঁজে না পেয়ে শেষে একাই মাগরীবের সময় মক্কায় এসে পৌঁছান। আমি বললাম, ১২ই যিলহজ্ব সূর্যাস্তের আগে তাওয়াফ না করার কারণে আপনার উপর তো দম ওয়াজিব হয়ে গেছে। তিনি বললেন, আমি তো বিকালের আগেই তাওয়াফ করার জন্য বের হয়েছিলাম। কিন্তু পথ ও কাফেলা হারিয়ে ফেলায় দেরি হয়ে গেছে। এখন এশার সময়ই তাওয়াফ করে নিচ্ছি। তাহলেও কি আমার দম দিতে হবে? আমি জানতে চাচ্ছি, এধরনের ক্ষেত্রেও কি দম ওয়াজিব হবে? কাফেলা খুঁজতে গিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে তাওয়াফে যিয়ারত না করতে পারলে যদি পরে করে নেওয়া হয় তাহলেও কি দম দিতে হবে?

ইহরাম অবস্থায় মুখ ঢেকে ঘুমালে কি কোনো জরিমানা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২৫৩০) : ইহরাম অবস্থায় আমি ৮ তারিখ রাতে এশার নামাযের পর চাদর গায়ে দিয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম। এই অবস্থায় যেহেতু মাথা ও মুখ ঢাকা যায় না, তাই আমি বুক পর্যন্ত চাদর গায়ে দিয়েছিলাম। ফযরের আগে ঘুম থেকে ওঠার সময় খেয়াল করলাম, ঘুমের ভিতরে অজান্তে পূর্ব অভ্যাস অনুযায়ী আমি চাদর দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলেছি। মুহতারামের নিকট আমার জিজ্ঞাসা হল, এক্ষেত্রে আমার করণীয় কী? এরকম অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে কি কাফফারা দিতে হয়?

তাওয়াফের সময় উচ্চস্বরে দুআ-দরূদ পড়ার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৫২২) : আল্লাহ তাআলার রহমতে গত বছর হজ্বে গিয়েছিলাম। আগামীতেও যাওয়ার ইচ্ছা আছে। তো হজ্বে গিয়ে দেখলাম, অনেক মানুষ তাওয়াফের সময় জোরে জোরে বিভিন্ন দুআ-দরূদ পড়ে। এতে অন্যের তাওয়াফে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। একবার তো তাওয়াফের সংখ্যাই ভুলে গিয়েছিলাম। পাশে এক আলেমের কাছ থেকে মাসআলা জেনে নিয়ে আমল করেছি। এ সময় আরো কিছু লোককে দেখলাম সারি বেঁধে তাওয়াফ করছে। তাদের মধ্যে একজন ছোট মাইকে দুআ পড়ছে আর অন্যরা তার অনুসরণ করেছে। এখন আমার জানার বিষয় হল, তাওয়াফের সময় এভাবে উচ্চস্বরে দুআ-দরূদ পড়ার বিধান কী? দয়া করে বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

ইহরাম অবস্থায় যয়তুন তেল ব্যবহার করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৫০৬) : আমার জিন্নাতের সমস্যা আছে। প্রতি রাতে আমি এদের আক্রমণের শিকার হই এবং দিনভর এর প্রভাব থাকে। আমাদের পরিচিত বহু হক্কানী আলেমের ইজাযতপ্রাপ্ত জনৈক আলেমের কাছে বিষয়টি আমি তুলে ধরলে তিনি আমাকে যয়তুন তেল দম করে তা প্রতিদিন পুরো শরীরে মালিশ করতে বলেন। আল্লাহর রহমতে আমি তা ব্যবহার করে এখন নিরাপদে আছি। তবে কোনো দিন যদি তেল মালিশ করতে ভুলে যাই তাহলে পূর্বের মন্দ অবস্থা প্রত্যক্ষ করি। ইতিমধ্যে আমি হজ্বে যাওয়ার যাবতীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। মুহতারামের নিকট আমার জানার বিষয় হল, ইহরাম অবস্থায় আমি কি এই তেল ব্যবহার করতে পারব? যদি করি তাহলে কি কোনো কিছু আবশ্যক হবে?

অসুস্থতার কারণে তাওয়াফ না করে দেশে চলে আসলে কি কোনো জরিমানা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২৫০২) : আমি গত বছর স্বপরিবারে হজ্বে যাই। আমাদের সাথে আমার দশ বছর বয়সী ছোট ছেলেটিও ছিল। সে হজ্বের কাজগুলো করতে সক্ষম ছিল। সে আমাদের সাথে হজ্বের প্রথম দুই দিনের কাজগুলো যথাযথভাবে করার পর আরাফায় অসুস্থ হয়ে যায়। এরপরও আমরা তাকে নিয়ে দশই যিলহজ্বের কাজগুলো করেছি। এদিন তার অসুস্থতা এত বেড়ে যায় যে, তার পক্ষে বা তাকে নিয়ে তাওয়াফ করা কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। আমরা দেশের প্রথম ফিরতি ফ্লাইটে চলে আসি। আসার আগেও সে তাওয়াফ করতে পারেনি। জানার বিষয় হল, তাওয়াফ না করে চলে আসার কারণে তার উপর কিংবা আমাদের উপর কোনো জরিমানা ওয়াজিব হয়েছে কি না? সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

কংকর নিক্ষেপের সময় কখন থেকে শুরু হয়?

প্রশ্ন (১২৪৫৯) : আমার ভগ্নিপতি গত বছর হজ্বে গিয়েছিলেন। হজ্বে যাওয়ার আগে দেশেই আমি হজ্বের বিভিন্ন বিষয়ে তাকে দিকনিদের্শনা দিয়েছিলাম। যেন হজ্বের হুকুম-আহকাম পালনে কোনো ধরনের ত্রুটি না হয়। ১২ তারিখে তাকে ফোন করে জিজ্ঞাসা করলাম, কোথায় আছেন? তিনি বললেন, এই তো কেবলমাত্র কংকর মেরে মক্কায় আসলাম। আমি বললাম, সূর্য ঢলার আগেই কংকর মেরেছেন? তিনি বললেন, হাঁ। এখানকার অনেকেই বলেছে ১১ ও ১২ তারিখে সূর্য ঢলার আগেও কংকর নিক্ষেপ করা যায়। আমি বললাম, আপনি পুনরায় মিনায় গিয়ে কংকর মেরে আসেন। ফলে তিনি আবার মিনায় গিয়ে কংকর নিক্ষেপ করেন। এখন হুজুরের কাছে আমার জানার বিষয় হল, যারা বলে, ১১ ও ১২ তারিখে সূর্য ঢলার আগেও কংকর মারা যাবে। তাদের কথা শুদ্ধ কি না? বিষয়টি নির্ভরযোগ্য দলীলসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।

শাওয়াল মাসে মক্কায় অবস্থান করলে কি হজ্ব ফরয হয়ে যায়?

প্রশ্ন (১২১৭৬) : এক রমযানে আমি উমরার সফর করি। শাওয়ালের দশ তারিখ দেশে ফিরি। তখন অনেক পরিচিতজনই আমাকে বলেছে যে, আমার উপর নাকি হজ্ব ফরয হয়ে গেছে। কেননা হজের মাসে উমরাহ করলে নাকি হজ্ব ফরয হয়ে যায়। কারো কারো বক্তব্য হল, কাবা দেখলে বা যে কোনো সময়ই ওমরা করলে হজ্ব ফরয হয়ে যায়। তাদের এ কথাগুলো সঠিক কি না? আমি একজন আলেমকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি বলেন, কিতাবাদীতে আছে যে, হজ্বের মৌসুমে মক্কায় অবস্থান করলে হজ্ব ফরজ হয়ে যায়। এখানে কোন বক্তব্যটি সঠিক?

মান্নতের নিয়তে হজ্ব আদায় করলে কি ফরয হজ্ব আদায় হবে?

প্রশ্ন (১২১৫৮) : আমার মামা অনেক দিন যাবৎ মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে জেলখানায় আটক ছিলেন। তখন তিনি মান্নত করেন যে, যদি আল্লাহ তাকে জেলখানা থেকে মুক্তি দান করেন তাহলে তিনি হজ্ব করবেন। আল্লাহর মেহেরবানীতে কিছুদিন আগে তিনি মুক্তি পেয়েছেন এবং মান্নত পূর্ণ করার জন্য আগামী বছর হজ্ব করার ইচ্ছা করেছেন। এর আগে কখনো তিনি হজ্ব করেননি। কিন্তু আগে থেকেই তার উপর হজ্ব ফরয ছিল। জানার বিষয় হল, এই হজ্বের মাধ্যমে কি তার ফরয হজ্ব আদায় হবে, নাকি ফরয হজ্ব আদায়ের জন্য পৃথকভাবে আরেকটি হজ্ব করতে হবে?

সৌদি প্রবাসীকে দিয়ে বদলি হজ্ব করানো যাবে কি?

প্রশ্ন (১২১৩৩) : আমার নানার উপর হজ্ব ফরয ছিল। হজ্বে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন। এরই মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। হজ্বের টাকা-পয়সাও চিকিৎসা বাবদ খরচ হয়ে যায়। মৃত্যুর সময় তিনি বদলি-হজ্ব করানোর অসীয়ত করে যান। কিন্তু মৃত্যুর পর তার সম্পদের এক-তৃতীয়াংশ ৫০ হাজার টাকার বেশি নয়। এ দিয়ে হজ্ব করানো অসম্ভব। আমাদের এক আত্মীয় সৌদিতে থাকেন। তিনি উক্ত টাকায় বদলি হজ্ব করতে রাজি হয়েছেন। জানতে চাই উক্ত সৌদি প্রবাসীকে দিয়ে হজ্ব করানো যাবে কি না?

হজ্বের কুরবানী করতে না পারলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২০৩৪) : আমি কিরান হজ্ব করেছিলাম। কিরান হজ্বের কুরবানী দেওয়ার নিয়ত ছিল বিধায় ঈদের আগে তিনটি রোযা রাখিনি। কিন্তু যথাসময়ে টাকা ব্যবস্থা করতে না পারায় হজ্বের কুরবানী করা সম্ভব হয় নি। তখন হজ্বের কুরবানী না করে হালাল হয়ে যাই। এরপর হজ্বের বাকি আমল সম্পন্ন করে দেশে ফিরে আসি। এখন আমার জানার বিষয় হল, উক্ত ক্ষেত্রে বাড়িতে আসার পর উক্ত কুরবানীর বিকল্প দশটি রোযা রাখা আমার জন্য যথেষ্ট হবে, নাকি হজ্বের কুরাবানীই করতে হবে?

ইহরাম অবস্থায় কি সুগন্ধিযুক্ত খাবার খাওয়া যাবে?

প্রশ্ন (১২০০৮) : এবার আমি হজ্বে যাই। কিরান হ্জ্ব করায় প্রায় ১৫ দিনের মত ইহরাম অবস্থায় ছিলাম। তখন আমি ‍সুগন্ধিযুক্ত বিরিয়ানী ও বিভিন্ন ধরনের খাবার খাই। আমি জানতে চাচ্ছি, ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধিযুক্ত খাবার খাওয়ার কারণে কি আমার উপর কোনো জরিমানা ওয়াজিব হয়েছে?

ইহরাম অবস্থায় পিঁপড়া মেরে ফেললে কি দম ওয়াজিব হয়?

প্রশ্ন (১১৬৯১) : আমি গত বছর হজ্ব আদায় করেছি। সূর্যাস্তের পর মুযদালিফায় অবস্থানকালে কতগুলো কালো পিঁপড়া আমার পায়ে কামড় দেয়। তখন আমি সেই পিঁপড়াগুলোকে মেরে ফেলি। তো ইহরাম অবস্থায় পিঁপড়া মেরে ফেলার কারণে কি আমার উপর কোনো দম ওয়াজিব হয়েছে?

নাবালেগের হজ্ব নফল হজ্ব। তাই বালেগ হলে আবার ফরজ হজ্ব আদায় করতে হবে যদি নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হ…

প্রশ্ন (১১৬৯০) : আমি নাবালেগ থাকা অবস্থায় আমার বাবা-মার সাথে হজ্ব করি। এখন আমি প্রাপ্ত বয়স্ক। কিছুদিন আগে আমার বাবা ইন্তিকাল করেন। আমি ওয়ারিস সূত্রে অনেক সম্পদের মালিক হয়েছি। এবং আমি হজ্ব করার সামর্থ্য রাখি। তো আমার আগের হজ্ব কি আমার জন্য যথেষ্ট নাকি নতুন করে হজ্ব আদায় করতে হবে?