রোজা সংক্রান্ত অন্যান্য

একই সাথে রমযানের কাযা রোযা ও শাওয়ালের রোযার নিয়ত করলে তা সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৩৭৮) : কেউ যদি শাওয়াল মাসে রমযানের কাযা রোযা রাখে এবং এর সাথে শাওয়ালের ছয় রোযার নিয়তও করে তাহলে ফরযের কাযা এবং শাওয়ালের ছয় রোযার সওয়াব পাওয়া যাবে কি?

রোযা অবস্থায় হিজামা করালে কি রোযার কোনে ক্ষতি হয়?

প্রশ্ন (১৩৩৬৯) : গতবার রমযান মাসে আমি একবার হিজামা করিয়েছিলাম। তবে এরপরে সারাদিন আর কিছু খাইনি। কিন্তু এখন সন্দেহ হচ্ছে যে, আমার ঐ রোযা আদায় হয়েছে কি? এখন হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, আমার ঐ রোযার হুকুম কী হবে?

মৌখিক নিয়ত ছাড়া রোযা রাখলে কি উক্ত রোযা সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩৩৬৩) : রমযান মাসে যখন আমি রোযা রাখি তখন রোযা রাখার উদ্দেশ্যে সেহরীর জন্য উঠে সেহরী খেয়ে নিই এবং অন্যান্য ইবাদত-বন্দেগী ঠিকমতো করতে থাকি। কিন্তু পৃথকভাবে রোযার নিয়ত করি না। জানার বিষয় হলো, এভাবে নিয়ত ছাড়া রোযা রাখার দ্বারা আমার রোযাগুলো সহিহ হয় কি? নাকি এই রোযাগুলোর আবার কাযা করতে হবে?

রোযা রাখা অবস্থায় তরকারির স্বাদ চেখে দেখা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৩৫৪) : আমি একটি মাদরাসায় বাবুর্চির চাকরি করি। এখানে প্রতি বেলায় প্রায় হাজার খানেক মানুষের খাবার রান্না হয়। তো রমযান মাসে আমি যে সমস্যায় পড়ি তা হলো, খাবারের স্বাদ একেবারে না চেখে রান্না করলে অনেক সময় লবণ কিছুটা কম-বেশি হয়ে যায়। ফলে ইফতার ও খাবারের সময় সবার কষ্ট হয়। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, রোযা অবস্থায় আমি কি শুধু জিহ্বা দিয়ে তরকারির স্বাদ চেখে দেখতে পারব?

রোযা রাখা অবস্থায় গলায় পোকা ঢুকে গেলে রোযা ভেঙে যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৩৩৭) : আমি একটি নফল রোযা রাখি। রোযা অবস্থায় আমার মুখে মশা বা এজাতীয় কোনো পোকা প্রবেশ করে গলা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। আমি অনেক কাশাকাশি করেও তা বের করতে পারিনি। জানতে চাচ্ছি, গলায় পোকা যাওয়ার কারণে কি আমার রোযার কোনো ক্ষতি হয়েছে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

প্রস্রাবের সমস্যার কারণে রোযা রাখা অবস্থায় ক্যাথেটার ব্যবহার করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৩৩৩) : আমার প্রস্রাবের রাস্তায় সমস্যা আছে। মাঝে মাঝে প্রস্রাব আটকে যায়। এজন্য আগে মাঝেমধ্যে ক্যাথেটারও ব্যবহার করতে হয়েছে। সামনে রমযান আসছে। তাই আমি জানতে চাচ্ছি যে, রোযা অবস্থায় ক্যাথেটার ব্যবহার করলে কি রোযা ভেঙ্গে যায়?

ঔষুধ খেয়ে স্রাব বন্ধ করে রমযানের রোযা রাখলে উক্ত রোযার হুকুম কী হবে?

প্রশ্ন (১৩৩১৯) : মহিলারা যদি রমযান মাসে কোনো ঔষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে ঋতুস্রাব বন্ধ রাখে তাহলে ওই দিনগুলোতে রোযা রাখতে পারবে কি? আর ‍এভাবে রোযা রাখলে উক্ত রোযার হুকুম কী হবে?

আগুনের ধোঁয়া নাক-মুখে ঢুকে গেলে কি রোযা ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১৩৩০৪) : আমাদের মসজিদে জায়গা স্বল্পতার কারণে শুক্রবারে মুসল্লিদের জায়গা হয় না। তাই আমরা মসজিদের ছাদে নামাযের ব্যবস্থা করতে চাচ্ছি। বিন্তু সমস্যা হলো ছাদে উঠার জন্য সিঁড়ি বানানোর জায়গা নেই। মসজিদের সামনে একটি কবরস্থান আছে। এমতাবস্থায় নিচে ফাঁকা বা কবর রেখে উপরে দ্বিতীয় তলার জন্য সিঁড়ি বানানো যাবে কি?

রোযা রেখে ছোট বাচ্চাকে খাবার চিবিয়ে খাওয়ালে কি রোযা ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১৩২৯৮) : আমরা স্বামী-স্ত্রী শহরের একটি ফ্ল্যাট বাসায় ভাড়া থাকি। আমাদের এক বছরের একটি সন্তান আছে। বাসায় অন্য কোনো মহিলা নেই। রমযান মাসে রোযা রেখে মাঝেমধ্যেই আমার সন্তানকে খাদ্য চিবিয়ে খাওয়ানোর প্রয়োজন হয়। তখন রোযা রাখেনি এমন কাউকে না পেয়ে আমি নিজেই খাদ্য চিবিয়ে ওর মুখে দেই। জানতে চাই, রোযাবস্থায় এভাবে খাদ্য চিবালে রোযার কোনো ক্ষতি হয় কি?

ভুলবশত সাহরীর সময় শেষ হওয়ার পর খাবার খেলে উক্ত রোযা আদায় হবে কি?

প্রশ্ন (১৩২৮৯) : একদিন আমার ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে যায়। তখনো সাহরীর সময় বাকি আছে ধারণা করে সাহরী খেতে থাকি। খাওয়া শেষে জানতে পারি তখন সুবহে সাদিক হয়ে গেছে। জানার বিষয় হল, আমার উক্ত রোযা আদায় হবে কি? না হলে এক্ষেত্রে আমার করণীয় কি? জানালে কৃতজ্ঞ হব।

রোযা রাখা অবস্থায় মুখ থেকে রক্ত বের হয়ে থুথুর সাথে পেটে চলে গেলে কি রোযা ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১৩২৮১) : আমি রোযা রাখা অবস্থায় মিসওয়াক করছিলাম। তখন দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত বের হয়। এবং তা থুথুর সাথে পেটে চলে যায়। এতে কি আমার রোযা ভেঙ্গে গেছে? ভেঙ্গে থাকলে এখন আমার কী করণীয়? জানিয়ে বাধিত করবেন।

রোযাদার ভুলে কিছু খাওয়া শুরু করলে তাকে রোযার কথা মনে করিয়ে দেওয়ার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩২৭০) : আমার বোন শারীরিকভাবে ভীষণ দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও গত রমাযানে সে রোযা রাখে। কিন্তু প্রথম রোযার দিন ভুলে সে দুপুরবেলা খাওয়া শুরু করে দেয়। আমি তৎক্ষণাত তাকে রোযার কথা মনে করিয়ে দেই। এতে আম্মু আমার উপর খুব রেগে যান। এবং ধমক দিয়ে বলেন, রোযাদার ভুলে কিছু খেতে গেলে তাকে মনে করিয়ে দিতে হয় না। সত্যিই কি তাকে মনে করিয়ে দেয়া আমার অন্যায় হয়েছে?

গর্ভবতী মহিলার জন্য রোযা না রাখার অনুমতি আছে কি?

প্রশ্ন (১৩১৫০) : আমার মামি গর্ভাবস্থায় রমযানের প্রথম দিকে চার-পাঁচটি রোযা রেখেছে। রোযা রাখার কারণে অস্বাভাবিক পানিশূন্যতাসহ তার বেশ কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। এবং বর্তমানের গর্ভকালীন মেয়াদ অনুযায়ী দিনে গর্ভস্থ সন্তানের যে পরিমাণে মুভিং ও নড়া-চড়া হওয়ার কথা তাও আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। এ অবস্থায় তার জন্য কি রোযা না রাখার অনুমতি আছে?

ফজরের পর পানি পান করার পর দ্বিপ্রহরের আগে রোজার নিয়ত করলে কি উক্ত রোজা সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩১১৫) : আমি কয়েকদিন আগে একটি রোযা রাখার ইচ্ছা করি। কিন্তু রাতের বেলায় শরীরটা খারাপ লাগায় রোযার নিয়ত করতে পারিনি। সকালে কিছুটা সুস্থতা অনুভব হলে রোযা রাখার মনস্থ করি এবং দ্বিপ্রহরের আগেই নিয়ত করে ঐ দিনের রোযা রাখি। কিন্তু ইফতারের পর হঠাৎ স্মরণ হয় যে, আমি রোযার নিয়ত করার আগেই ফজরের পর ভুলে পানি পান করেছিলাম। জানার বিষয় হল, ভুলে পানি পান করার পর নিয়ত করে এভাবে রোযা রাখা সহিহ হয়েছে কি না?

বিমানে সফরকারী ব্যক্তি কিভাবে ইফতার করবে?

প্রশ্ন (১৩০৮১) : রমযানে যখন বিমানে সফর করা হয় তখন ইফতারের সময় নিয়ে বেশ দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ি। কারণ, যে দেশ থেকেই সফর শুরু হয় এক সময় দেখা যায়, সে দেশের সময় অনুযায়ী সূর্যাস্ত হয়ে গেছে। কিন্তু বিমান যমিন থেকে কয়েক হাজার ফিট উপরে থাকায় স্পষ্টভাবেই সূর্য দেখা যায়। বিশেষ করে বিমান যখন পূর্বদিক থেকে পশ্চিম দিকে যেতে থাকে। যেমন কেউ বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বিমানে উঠল। এক্ষেত্রে বিমান যেহেতু পশ্চিম দিকে যাচ্ছে তাই দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা সূর্য চোখের সামনে থাকে। অথচ বাংলাদেশের সময় অনুযায়ী সূর্যাস্ত হয়ে গেছে অনেক আগেই। এক্ষেত্রে বিমানের যাত্রীদের যদি সূর্যাস্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় তাহলে দেখা যায় কখনো কখনো রোযার সময় প্রলম্বিত হয়ে ২০-২২ ঘণ্টাও হয়ে যায়। তাই হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, এ ধরনের অবস্থায় আমরা কখন ইফতার করব?

রোযা রেখে চোখে এবং নাকে ড্রপ ব্যবহার করলে কি রোযার কোনো ক্ষতি হবে?

প্রশ্ন (১৩০৬৪) : আমার নানু প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার নফল রোযা রাখেন। কিছুদিন আগে তিনি চোখের অপারেশন করিয়েছেন। তাতে ঘন ঘন ড্রপ ব্যবহার করতে হয়। জানার বিষয় হল, রোযা অবস্থায় চোখে ড্রপ ব্যবহার করলে রোযা নষ্ট হবে কি? অনুরূপ রোযা অবস্থায় নাকে ড্রপ ব্যবহার করলে রোযার কোনো ক্ষতি হবে কি?

অসুস্থ অবস্থায় রোযা কাযা হওয়ার পর মারা গেলে কি উক্ত রোযার ফিদইয়া দিতে হবে?

প্রশ্ন (১২৯২৩) : আমার ছোট ভাই ২৫ রমযানে অ্যাক্সিডেন্টে মারাত্মকভাবে আহত হয়। প্রায় এক সপ্তাহ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিল। এবং চিকিৎসাধীন থাকাবস্থায়ই সে মারা যায়। তাই শেষের পাঁচটি রোযা রাখতে পারেনি। এখন জানার বিষয় হল, অসুস্থাতার কারণে রমযানের শেষের যে রোযাগুলো সে রাখতে পারেনি সেগুলোর ফিদইয়া আদায় করা কি তার উপর ওয়াজিব ছিল? দয়া করে জানাবেন।

কানে পানি গেলে কি রোযা ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২৯২২) : গত রমজানে একদিন গোসল করার সময় আমার কানে পানি ঢুকে যায়। আমি কানে আরেকটু পানি দিয়ে তা বের করি। এক ভাই তা দেখে বললেন, ইচ্ছাকৃত এভাবে কানের ভেতর পানি দেওয়ার কারণে আপনার রোযা নষ্ট হয়ে গেছে। জানার বিষয় হল, তার এ কথাটি কি ঠিক?

রমযানের দিনে কেউ ইসলাম গ্রহণ করলে তার রোযার হুকুম কী হবে?

প্রশ্ন (১২৬৩৫) : গত রমযানে আমরা একটি দাওয়াতী সফরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে যাই। বৌদ্ধ-পাড়ায় দাওয়াতের কাজ করি। আলহামদুলিল্লাহ ইসলামের সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে এক ভাই বারতম রমযানে সকাল নয়টার দিকে স্বেচ্ছায় ইসলাম গ্রহণ করে। সে যেহেতু নতুন তাই তাকে সেদিন পানাহার থেকে বিরত থাকতে বলিনি; বরং পরবর্তী দিন থেকে সে নিয়মিত রোযা রাখে। তার ইসলাম গ্রহণের দিন এবং পূর্বে অতিবাহিত হওয়া এগারো দিনের রোযা কাযা করা-না করা নিয়ে আমাদের মাঝে মতের ভিন্নতা দেখা দেয়। কেউ বলে, রমযান হল নামাযের মত। তাই এক রমযান পাওয়া পুরো রমযান পাওয়ার হুকুমে। ফলে বিগত এগারো দিনের কাযা করতে হবে। আবার কেউ ভিন্ন কথাও বলেন। তো প্রশ্ন হল- এক. যেদিন কেউ ইসলাম গ্রহণ করল, সেদিন কি সে পানাহার থেকে বিরত থাকবে? যদি এমন ক্ষেত্রে পানাহার করে ফেলে তাহলে কী পরবর্তীতে তা কাযা করতে হবে? এক্ষেত্রে শরীয়তের বিধানটি জানালে কৃতজ্ঞ হব। দুই. রমযানের কিছু দিন অতিবাহিত হওয়ার পর কেউ ইসলাম গ্রহণ করলে বিগত দিনের রোযা কাযা করার ব্যাপারে সঠিক মাসআলাটি কী?