সেজদায়ে সাহু বা নামাযে ভুল হলে করনীয়

চার রাকাত বিশিষ্ট ফরয নামাযের শেষ বৈঠকে না বসে ভুলে দাঁড়িয়ে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১১৭২৮) : একবার আমি একাকী যোহরের নামায আদায় করছিলাম। তখন চতুর্থ রাকাত শেষে বৈঠক না করে ভুলে দাঁড়িয়ে যাই। পরে পঞ্চম রাকাতে রুকুতে গিয়ে মনে পড়ে যে, আমি চতু্র্থ রাকাত শেষে বৈঠক করি নি। তখন মাসআলা না জানা থাকার কারণে আমি নামায ছেড়ে দিয়ে পুনরায় আবার নামায আদায় করি। হযরতের কাছে জানতে চাই, এ ক্ষেত্রে আমার করণীয় কী ছিল?

নামাযে একাধিক ভুল হলেও সাহু সিজদা একবারই করতে হবে।

প্রশ্ন (১১৬৮০) : কখনো কখনো নামাযের মধ্যে আমার একাধিক ভুল হয়ে যায়। যেমন- সূরা ফাতিহা পড়ার পর অন্য সূরা পড়তে ভুলে যাই, চার রাকাত বিশিষ্ট নামাযের প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের পর দুরুদ শরিফ পড়ে ফেলি ইত্যাদি। নামায শেষে সবগুলো ভুলের জন্য একবার সাহু সিজদা আাদায় করি। আমি জানতে চাচ্ছি, একাধিক ভুলের জন্য কি একবার সাহু সিজদা আদায় করা যথেষ্ট হবে?

সাহু সিজদা আদায় করতে ভুলে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১১৬৭৯) : নামায পড়ার সময় কখনো কখনো আমার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়। কিন্তু শেষ বৈঠকে আমি সাহু সিজদা করতে ভুলে যাই। ফলে সাহু সিজদা না করেই সালাম ফিরিয়ে ফেলি। এক্ষেত্রে কি আমার নামায আদায় হবে?

চার রাকাত বিশিষ্ট নামাযের প্রথম বৈঠকে ইমাম সাহেব না বসে দাঁড়িয়ে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১১৬৬৪) : ইমাম সাহেব আসরের নামাযের জামাতে প্রথম বৈঠকে না বসে দাঁড়িয়ে যান। পেছন থেকে মুসল্লিরা লোকমা দেওয়ার পরেও তিনি বৈঠকে ফিরে আসেন নি। নামায শেষে তিনি সাহু সিজদা আদায় করেন। নামায শেষ হওয়ার পর কেউ কেউ বলল, ইমাম সাহেবের নামায হয়নি। কারণ তিনি লোকমা শোনার পরেও বৈঠকে ফিরে আসেন নি। আমার জানার বিষয় হলো, মুসল্লিদের কথা কি ঠিক আছে?

প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের পর ভুলে দুরুদ শরিফ পড়লে সাহু সিজদা আবশ্যক হবে।

প্রশ্ন (১১৬৪৯) : আমি প্রায় সময়ই নামাযের প্রতম বৈঠকে তাশাহহুদের পরে ভুলে দুরুদ শরিফ পড়ে ফেলি। কখনো দুরুদ পড়ার মাঝে আবার কখনো শেষে দাঁড়ানোর কথা মনে পড়ে। মনে পড়ার সাথে সাথে আমি দাঁড়িয়ে যাই। আমার জানার বিষয় হলো, ভুলে দুরুদ শরিফ পড়ার কারণে কি আমার উপর সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

চার রাকাত বিশিষ্ট নামাযের তৃতীয় বা চতুর্থ রাকাতে সূরা ফাতিহার পরে ভুলে অন্য সূরা পড়ে ফেললে করণীয়।

প্রশ্ন (১১৬৪৭) : মাঝেমধ্যে আমি চার রাকাতবিশিষ্ট ফরয নামাযের তৃতীয় বা চতুর্থ রাকাতে সূরা ফাতিহার সাথে ভুলে অন্য সূরা পড়ে ফেলি। এর কারণে আমাকে সাহু সিজদা করতে হবে? আমাকে একজন বলল, সূরা ফাতিহার সাথে সূরা মিলানোর কারণে রুকু করতে বিলম্ব হয়েছে। তাই সাহু সিজদা করতে হবে। তার কথা কি ঠিক আছে?

ইমাম সাহেব কেরাতে ভুল করলে করণীয়।

প্রশ্ন (১১৬৩০) : আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব এশার নামাযের প্রথম রাকাতে সূরা ‘লাইল’ পড়ার সময়- وَ سَیُجَنَّبُهَا الْاَتْقَی،الَّذِیْ یُؤْتِیْ مَالَهٗ یَتَزَكّٰی. আয়াতের الْاَتْقَی -এর জায়গায় الْاَشْقَی পড়ে ফেলেন এবং ওভাবেই নামায শেষ করেন। নামাযের পরে একজন আলেম বললেন, নামাযের কেরাতে ভুল হয়েছে; তাই নামায হয়নি। সুতরাং পুনরায় পড়তে হবে। ফলে নামায পুনরায় পড়া । সেই আলেমের কথা কি ঠিক আছে? পুনরায় নামায পড়া কি দরকার ছিল?

ইমাম সাহেব নামাযের মাঝে কেরাতে আটকে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১১৬২৭) : আমি মাঝে মাঝে আমাদের এলাকার মসজিদে ইমামতি করি। নামাযে কেরাত পড়ার সময় কখনো আয়াতের মাঝে আটকে যাই, আবার কখনো পরবর্তী আয়াত স্মরণ করতে পারি না। এমন পরিস্থিতিতে পড়লে আমার করণীয় কি?

ইমাম সাহেব ভুলবশত জোরে ছানা পড়ে ফেললে কি সাহু সিজদা দিতে হবে?

প্রশ্ন (১১৬২৬) : ইমাম সাহেব মাগরিবের নামাযে ভুলবশত জোরে ছানা পড়ে ফেলেছেন। কিন্তু তিনি নামায শেষে সাহু সিজদা করেন নি। আমার জানার বিষয় হলো, ইমাম সাহেবের সাহু ‍সিজদা না করা কি ঠিক আছে? নাকি এখানে সাহু সিজদা করা জরুরি ছিল?

চার রাকাত বিশিষ্ট ফরজ নামাযের তৃতীয় রাকাতে সূরা ফাতিহার পরে অন্য সূরা পড়ে ফেললে কি সাহু সিজদা ওয়াজি…

প্রশ্ন (১১৫৬৫) : আসসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি যোহরের নামাযের তৃতীয় রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়ার পর ভুলে অন্য একটি সূরা পড়ে ফেলি। যেহেতু চার রাকাত বিশিষ্ট ফরজ নামাযের তৃতীয় এবং চতৃর্থ রাকাতে সূরা ফাতেহার পর অন্য কোনো সূরা পড়ার নিয়ম নেই তো এখন কি আমার উপর সিজদা সাহু ওয়াজিব হবে? আমি সিজদা সাহু করিনি, তো আমার নামাযের কী হুকুম?

সুন্নত নামাযের কোনো রাকাতে ভুলে সূরা ফাতিহা দুইবার পড়ে ফেললে কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে?

প্রশ্ন (১১৫৬৪) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি একদিন যোহরের চার রাকাত সুন্নত পড়ার সময় দ্বিতীয় রাকাতে সূরা ফাতেহা পাঠ করে অন্য সূরা পড়ার পর ভুলবশত দ্বিতীয়বার সূরা ফাতেহা পড়ে ফেলি। কিন্তু সাহু সিজদা করিনি। তো পুনরায় সূরা ফাতেহা পড়ার কারণে আমার ওপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছিল কি?

একাকী নামাযে ভুলে সূরা ফাতিহা উচ্চঃস্বরে পড়ে ফেললে কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে?

প্রশ্ন (১১৫১৩) : গতকাল প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির কারণে আমি আসরের আসরের নামাযের সময় মসজিদে যেতে পারিনি। ঘরে একাকী নামায আদায় করি। তো প্রথম রাকাতে ভুলে সূরা ফাতেহার অর্ধেক উচ্চ আওয়াজে পড়ে ফেলি। বাকি কেরত স্বাভাবাবিক নিয়মে পড়ি। পরে আমি সাহু সিজদা আদায় করে নামায শেষ করি। এখন আমার উক্ত নামায কি আদায় হয়ে গেছে? দয়া করে জানালে কৃতজ্ঞ হব।

ফাতিহার এক আয়াত বাদ দিয়ে সাহু সেজদা না করলে নামায হবে কি

প্রশ্ন (১১৩৪৪) : জনৈক ব্যক্তি সূরা ফাতিহার একটি আয়াত ভুলবশত পাঠ করেনি। নামায শেষে সাহু সেজদাও করেনি। জানতে চাচ্ছি, তার নামাযের বিধান কি হবে?

ইশারায় রাকাত সংখ্যা বুঝালে নামায হবে কি

প্রশ্ন (১১৩৩২) : একবার জামাতে নামায পড়ার সময় ইমাম সাহেবের সালাম ফিরানোর পর রাকাত সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ হয় যে তিনি তিন রাকাত পড়েছেন নাকি চার রাকাত। হাতের দ্বারা ইশারা করে তিনি আমার কাছে জানতে চান। আমিও হাতের দ্বারা ইশারা করে বলে দেই। তিনি আরেক রাকাত পড়ে সাহ সেজদা করে নামায শেষ করেন। জানতে চাচ্ছি, ইশারার কারণে নামায ভেঙ্গে গিয়েছিল কি?

তিন তাসবীহ না হলেও কি সাহু সিজদা দিতে হবে

প্রশ্ন (১১৩২৮) : একবার আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব দ্বিতীয় রাকাতে বৈঠক না করে দাঁড়াতে উদ্বত হন এবং দাঁড়ানোর কাছকাছি চলে যান। মুক্তাদীদের লোকমার কারণে বৈঠকে ফিরে আসেন। নামায শেষে সাহু সিজদা না করেই নামায শেষ করেন। লোকেরা জিজ্ঞাসা করলে বলেন, তিন তাসবীহ পরিমাণ হয়নি তাই সিজদা করিনি। জানতে চাচ্ছি, তার বক্তব্য কি সঠিক?

ইমামের ভুলে শরিক না থাকলেও কি সিজদা দিতে হবে

প্রশ্ন (১১৩১৮) : কিছুদিন আগে আমি মসজিদে গিয়ে ইমাম সাহেবকে নামাযরত পাই। ততক্ষণে ইমাম সাহেবের দুই রাকাত শেষ হয়ে গিয়েছে। আমি যে দুই রাকাত পেয়েছি তাতে ইমাম সাহেবের কোনো ভুল হয়নি। কিন্তু নামায শেষে ইমাম সাহেব সাহু সিজদা করেন। এক্ষেত্রে আমার করণীয় কি ছিল? যদিও আমি সাহু সিজদা করেছিলাম।

তৃতীয় রাকাতে বসে দাঁড়িয়ে গেলে সেজদা কি দিতে হবে না

প্রশ্ন (১১০৯৮) : ইমাম সাহেব ভুলে তৃতীয় রাকাতে বসে যাওয়ার সাথে সাথে মুসল্লীরা লোকমা দেয়। তিনিও সাথে সাথে দাঁড়িয়ে যান। নামায শেষে সাহু সেজদা করেননি। জানতে চাচ্ছি, সেদিনের নামায হয়েছিল কি?