সুন্নত নফল ও অন্যান্য সালাত

খতম তারাবীতে কোনো একটি সূরার শুরুতে উঁচু আওয়াজে বিসমিল্লাহ পড়ার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩৪৬৬) : আমাদের দেশে যে সকল মসজিদে তারাবীতে খতমে কুরআন হয় সেখানে দেখা যায় যে, কোনো একটি সূরার শুরুতে বড় আওয়াজে বিসমিল্লাহ পড়া হয়। বলা হয়ে থাকে, এ রকম পড়া সুন্নত। আবার সূরা ইখলাস তিনবার পড়া হয়। বলা হয়ে থাকে, এ রকম পড়া মুস্তাহাব। অনুগ্রহপূর্বক এই দুই মাসআলার বিষয়ে শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে ফয়সালা জানানোর অনুরোধ রইল।

কোনো ওজর ছাড়া তারাবীর নামায বসে পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৪৪২) : রমযান মাসে আমাদের মসজিদে খতম তারাবী হয়। হাফেয সাহেবগণ খুব ধীরে-সুস্থে তিলাওয়াত করেন। সময় দীর্ঘতার কারণে অনেক মুসল্লিই বসে বসে তারাবীর নামায আদায় করেন। জানার বিষয় হল, এভাবে কোনো প্রকার ওজর ছাড়াই বসে তারাবীর নামায পড়ার বিধান কী?

বিতরের নামাযের তৃতীয় রাকাতে ইমাম সাহেবকে পেলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৪৩৩) : রমযান মাসে আমি একদিন তারাবীর নামায শেষ করে ইস্তিঞ্জার প্রয়োজনে মসজিদ থেকে বের হই। অযু করে ফিরে এসে আমি ইমাম সাহেবকে বিতরের তৃতীয় রাকাতে পাই। আমি তখন জামাতে শরিক হই। ইমাম সাহেব যখন তাকবীর বলে দুআ কুনূত পড়েন তখন আমিও তার সাথে দুআ কুনূত পড়ি। এরপর ইমাম সাহেব তৃতীয় রাকাত শেষ করে সালাম ফিরালে আমি দাঁড়িয়ে অবশিষ্ট দু রাকাত পূর্ণ করি। তাতে পুনরায় আর দুআ কুনূত পড়িনি। নামায শেষে একজন ব্যক্তি আমাকে বলল, আপনার নামায আদায় হয়নি। কেননা প্রথমবার আপনি যখন ইমামের সাথে দুআ কুনূত পড়েছেন তা ছিল আপনার প্রথম রাকাত। তাই আপনার তৃতীয় রাকাতে দুআ কুনূত পড়া আপনার জন্য ওয়াজিব ছিল। সুতরাং ইচ্ছাকৃত ওয়াজিব ত্যাগ করার কারণে আপনার নামায নষ্ট হয়ে গেছে। হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, ঐ ব্যক্তির কথা কি ঠিক আছে?

তারাবীর বিনিময়ে হাফেয সাহেবকে হাদিয়া দেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৪০৪) : আমরা প্রতি রমযানে আমাদের মসজিদে খতম তারাবীর ব্যবস্থা করি। আমরা সবাই মিলে টাকা উঠিয়ে রমযানের শেষে হাফেয সাহেবকে কিছু হাদিয়া দিয়ে থাকি। এটা কি জায়েয আছে?

বিতরের নামাযে রাকাত সংখ্যা নিয়ে সন্দেহ হলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৩৪৮) : একদিন বিতরের নামাযে আমি রাকাত সংখ্যা ভুলে যাই। সঠিক মনে করতে পারছিলাম না যে, আমি দুই রাকাত পড়েছি নাকি তিন রাকাত পড়েছি। তখন ঐ রাকাতকে দ্বিতীয় রাকাত ধরেই নামায শেষ করেছি। তাই ঐ রাকাতে কুনূত না পড়ে পরের রাকাতে পড়েছি। এবং শেষ বৈঠকে সাহু সেজদা করেছি। এতে আমার নামায সহিহ হয়েছে কি ?

মসজিদে অতিরিক্ত ভিড় হলে মুসল্লীদের পিঠে সিজদা করে নামায পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৩৩১) : আমাদের এলাকায় সাধারণত ঈদের জামাত ঈদগাহ ময়দানে হয়। গত ঈদে নামাযের আগে প্রচণ্ড বৃষ্টি আরম্ভ হয়। তখন আমরা সবাই মসজিদে অবস্থান নেই। এছাড়া অবস্থানের অন্য কোনো বিকল্প ছিল না। ঈদের নামাযের সময় আমরা প্রস্তুতি নিয়ে কাতার করি। কিন্তু ভিড়ের কারণে মুসল্লীদের জায়গা না হওয়ায় পেছনের কাতারের কয়েকজন মুসল্লী অন্যের পিঠের উপর সিজদা করে নামায আদায় করে। জানতে চাচ্ছি, আমাদের এভাবে নামায আদায় করা কি সহিহ হয়েছে? নাকি পুনরায় আদায় করতে হবে।

তারাবীর নামাযে ইমাম সাহেব রুকুতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত বসে থাকা কি ঠিক?

প্রশ্ন (১৩২৭৯) : রমযান মাসে তারাবীর সময় কোনো কোনো মুসল্লী ভাইকে দেখা যায়, ইমাম সাহেব রুকুতে যাওয়া পর্যন্ত বসে থাকেন। যখনই ইমাম সাহেব রুকুতে যান তখন তারা দ্রুত উঠে তাকবীর বেঁধে রুকুতে চলে যান। জানতে চাই এমনটি করা কি ঠিক?

ঈদের দিন ঈদের নামাযের আগে নফল নামায পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩২৭৫) : আমি ফজর নামায পড়ে জায়নামাযে বসে সকাল-সন্ধ্যার আমল করি। এরপর এশরাকের সময় হলে দু’চার রাকাত এশরাকের নামায পড়ে ঘরের কাজ শুরু করি। গত ঈদের দিনও ফজর নামায পড়ে এশরাকের অপেক্ষায় বসেছিলাম। আমার স্বামী দেখে বললেন, ঈদের দিন ঈদের নামাযের আগে মহিলাদের কোনো নফল নামায নেই। জানতে চাই, আমার স্বামীর উক্ত কথা কি ঠিক?

মহিলাদেরকে নিয়ে তারাবীর জামাত করার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩২১৭) : আমি একজন হাফেজে কুরআন। আমার বয়স ১৫ বছর। গত রমযান মাসে আমার বোনের বাড়িতে বোনসহ তার কয়েকজন প্রতিবেশী মহিলাকে নিয়ে আমি তারাবীর নামায পড়াই। আমি দাঁড়াতাম বাহিরে। মহিলারা থাকত পর্দার ভেতরে। উল্লেখ্য যে, বোনের বাড়িতে জামাতের আয়োজন থাকায় এমন কিছু মহিলা তারাবীর নামাযে অংশগ্রহণ করেছে যারা একাকী ফরয নামাযও পড়ে না। অন্যান্য ক্ষেত্রে পর্দার বিষয়ে যেভাবেই থাকুক না কেন নামাযে আসা-যাওয়ার সময় মহিলারা যথাসাধ্য পর্দার প্রতি গুরুত্বারোপ করত। এভাবে দূর দূরান্ত থেকেও কিছু মহিলা জামাতে হাজির হত। পরবর্তীতে এলাকার আলেমদের মাঝে এ নিয়ে মতানৈক্য শুরু হয়। কেউ বলেন, মহিলাদের জন্য জামাতের আয়োজন করা মাকরূহ। কেউ বলেন, মাকরূহ নয়; জায়েয। আমার জানার বিষয় হল, উক্ত বিষয়ে শরীয়তের সঠিক সমাধান কী? দলীল-প্রমাণসহ জানালে চিরকৃতজ্ঞ হব।

ঈদের খুতবার শুরুতে তাকবীর বলার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩১৪২) : আমি ঈদের দিন প্রথম খুৎবার শুরুতে ৯ তাকবীর এবং দ্বিতীয় খুৎবার শুরুতে ৭ তাকবীর বলে খুৎবা শুরু করি। খুৎবা শেষে একজন মুসল্লি আমাকে বলল, শরীয়তে এই তাকবীরের কোনো ভিত্তি নেই। এখন আমি জানতে চাচ্ছি যে, উক্ত তাকবীর বলাটা শরীয়তের দৃষ্টিতে কেমন হয়েছে?

তারাবির নামাযের শেষ বৈঠকে দরূদ শরীফ ও দুআ মাছূরা না পড়লে কি কোনো সমস্যা আছে?

প্রশ্ন (১৩১১৩) : আমাদের মসজিদে দুইজন হাফেজ খতম তারাবি পড়ান। তারা অধিকাংশ সময় কেবল আত্তাহিয়্যাতু পড়ে সালাম ফিরিয়ে দেন। একবার জিজ্ঞাসা করা হলে তাদের একজন বললেন, খতম তারাবিতে দরূদ শরীফ ও দুআ মাছূরা না পড়ার অনুমতি আছে। জানতে চাচ্ছি, তাদের এ কথা কি সঠিক?

দুআ কুনুত না জানলে বিতরের নামাযে কোন দুআ পড়বে?

প্রশ্ন (১৩০৭৬) : আমার ছেলে দশ বছর বয়স থেকেই নামায পড়ে। অল্প কিছু সূরা আর নামাযের অন্যান্য দুআ-দরূদ পারলেও এখনো দুআ কুনূত মুখস্থ করতে পারেনি। জানতে চাই, ও কীভাবে বিতরের নামায পড়বে? একজন বলেছে, দুআ কুনূতের জায়গায় তিনবার সূরা ইখলাস পড়বে। এ বিষয়ে সঠিক মাসআলা জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

তারাবীর নামায এক সালামে আট রাকাত পড়লে কোনো সমস্যা আছে কি?

প্রশ্ন (১৩০৪৪) : গত রমযানে একদিন আমরা কয়েকজন হাফেয একসাথে তারাবীর নামায আদায় করি। প্রথম চার রাকাতে লম্বা কেরাত পড়ার কারণে অনেক রাত হয়ে যায়। এরপর বাকি ষোল রাকাত দুই সালামে আট রাকাত করে আদায় করে নেই। হুজুরের কাছে জানতে চাই, এক সালামে আট রাকাত আদায় করার দ্বারা আমাদের নামায কি আদায় হয়েছে?

বিতরের নামাযের দুআ কুনুত না জানলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩০০৪) : এক ব্যক্তি ‘আল্লাহুম্মা ইন্না নাসতায়িনুকা’ দুআটি জানে না। তবে সে চাইলে শিখতে পারে। কিন্তু সে তা শেখার জন্য চেষ্টাও করে না। এমতাবস্থায় বিতর নামাযে অন্য কোনো দুআ পড়লে তার নামায সহিহ হবে কি?

রমজান মাসে কি বিতির নামাযের সব রাকাতেই জোরে কেরাত পড়তে হবে?

প্রশ্ন (১২৯৮৭) : রমযানে বিতিরের নামাযের প্রত্যেক রাকাতে জোরে কেরাত পড়তে হবে নাকি শুধু প্রথম দুই রাকাতে? ছোটদের জন্য লেখা একটি বইয়ে শুধু প্রথম দুই রাকাতে জোরে কেরাত পড়ার কথা বলা হয়েছে। এ বক্তব্যটি কি সঠিক? আশা করি দলীল-প্রমাণসহ বিস্তারিত জানিয়ে কৃতার্থ করবেন।

ঈদের খুতবায় ইমাম সাহেব তাকবীর বলার সময় মুসল্লীরা কী করবে?

প্রশ্ন (১২৯৫৫) : ঈদের খুতবায় ইমামের তাকবীর বলার সময় মুসল্লীরাও কি তাকবীর বলবে না চুপ থাকবে? অনেককে তাকবীর বলতে দেখা যায়। সঠিক মাসআলাটি জানানোর অনুরোধ রইল।

বিতির নামায পড়ার পর কি নফল নামায আদায় করা নিষেধ?

প্রশ্ন (১২৮৯৯) : বিতির নামাযের পর নফল নামায পড়া যাবে কি? অনেকে বলে, এশার নামাযের পর বিতির নামায পড়ে কোনো নফল পড়া যায় না। এই কথা কি ঠিক? দয়া করে দলিলসহ জানাবেন।