তায়াম্মুম

কখন তায়াম্মুম করে নামায আদায় করা যাবে?

প্রশ্ন (১৩৫১৮) : আমি একজন সেনা কর্মকর্তা। প্রায় সময়ই আমাদেরকে বিভিন্ন পাহাড়ি অঞ্চলে ট্রান্সফার করা হয়। সেখানে দুই সপ্তাহ পরপর আমাদের জন্য খাদ্য ও পানীয় সরবরাহ করা হয়। দেখা যায়, ১০-১২ দিন যেতেই খাওয়ার পানি ছাড়া আমাদের আর কোনো পানি অবশিষ্ট থাকে না। আশেপাশে কোনো বাড়িও থাকে না। চতুর্দিকে মাইল দুয়েক খুঁজেও পানির সন্ধান পাই না। এ অবস্থায় আমরা কি তায়াম্মুম করে নামায পড়তে পারব?

মরুভূমিতে পানি না পাওয়া গেলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩৪৮৬) : আমি সৌদি আরবের জেদ্দায় থাকি। কিছুদিন আগে আমরা কয়েকজন বন্ধু মিলে এক মরুভূমিতে ঘুরতে যাই। এবং সেখানে এক রাত অবস্থান করি। মরুভূমিটির আশপাশে প্রায় ৩/৪ কিলোমিটারের মধ্যে পানির কোনো ব্যবস্থা ছিল না। তখন আমাদের এক বন্ধুর গোসলের জরুরত হয়। আর আমাদের সাথেও এত অল্প পানি ছিল, যা দিয়ে সে শুধু অযু করতে পারবে, গোসল করতে পারবে না। ফলে সে প্রথমে অযু করে এরপর তায়াম্মুম করে নামায আদায় করে নেয়। প্রশ্ন হল, উল্লেখিত অবস্থায় এভাবে করা কি তার জন্য সঠিক হয়েছে? এবং এরপর আদায়কৃত নামাযের কী হুকুম? জানালে উপকৃত হব।

অসুস্থতার কারণে ফরয গোসলের পরিবর্তে তায়াম্মুম করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৪৮৪) : আমার সাইনোসাইটিস রোগ আছে। সামান্য ঠাণ্ডা লাগলেই মাথাব্যাথা আরম্ভ হয় এবং সর্দি লেগে যায়। তাই ডাক্তার শরীরে ঠাণ্ডা লাগাতে নিষেধ করেছেন। এ অবস্থায় রাতে গোসল ফরয হলে আমি তায়াম্মুম করতে পারব কি? যদি করা যায় তাহলে গোসলের তায়াম্মুমের নিয়ম কি হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

গোসলের জন্য তায়াম্মুম করলে কি তা অযুর জন্য যথেষ্ট হবে?

প্রশ্ন (১৩১৭৮) : জনৈক ব্যক্তির উপর গোসল ফরয হয়। তবে তিনি অসুস্থতার কারণে গোসল করতে সক্ষম নন। কিন্তু অযু করতে সক্ষম এবং তার কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণ পানিও আছে। জানার বিষয় হল, উক্ত লোকটি গোসলের জন্য যে তায়াম্মুম করবে সেটাই কি অযুর জন্য যথেষ্ট হবে। নাকি ভিন্নভাবে অযু করতে হবে?

সম্পদ চুরি হওয়ার আশঙ্কায় তায়াম্মুম করে নামায্ আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৩৬৮) : চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে আমার একটি আমের বাগান আছে। আমের সিজনে বাগানে থেকে দেখাশুনা করতে হয়। আমার এই বাগান দেখাশুনা করার জন্যে কয়েকজন শ্রমিকও রয়েছে। এবছর আমের সিজনে একবার আম পেড়ে যমিনে স্তুপ দেওয়া হয়। ঘটনাক্রমে একদিন শ্রমিকরা সবাই ছুটিতে ছিল। আমি ছাড়া আমের স্তুপ দেখার মতো কেউই ছিল না। তাই আমাকে বাগান দেখাশুনা করতে হল। এদিকে দেখাশুনা করতে করতে যোহরের নামাযের সময় হয়ে যায়। ঘটনাক্রমে আমার আশপাশে অযু করার মতো কোনো পানি ছিল না। যদি পানির সন্ধানে দূরে কোথাও বা পাহাড়ের নিচে যাই, তাহলে বাগানে রাখা সব আম ওঁত পেতে থাকা চোরেরা নিয়ে যাবে। তাই আমি ঐদিন যোহরের নামায শেষ সময়ে তায়াম্মুম করে পড়ি। জানার বিষয় হল, এভাবে যদি কেউ তার সম্পদ চুরির ভয়ে তায়াম্মুম করে নামায পড়ে, তাহলে কি তা সহিহ হবে?

ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তায়াম্মুম করে নামায পড়া সহিহ হবে কি?

প্রশ্ন (১২৩৬৭) : কয়েকদিন আগে ফজরের সময় ঘুম ভাঙতে দেরি হয়ে যায়। চোখ খুলে দেখি, সূর্যোদয়ের ১০ মিনিট বাকি আছে। অযু করার জন্য দ্রুত ওয়াশরুমে গিয়ে দেখি লাইনে পানি নেই। তখন পানি খুঁজতে গেলে নামায কাযা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তায়াম্মুম করে নামায পড়ে নিই। জানার বিষয় হল, এক্ষেত্রে তায়াম্মুম করে নামায পড়া কি সহিহ হয়েছে?

এক তায়াম্মুম দিয়ে কত ওয়াক্ত নামায আদায় করা যায়?

প্রশ্ন (১২১২৮) : শীতের মৌসুমে কয়েকদিন আমি তীব্র জ¦রে আক্রান্ত ছিলাম। তায়াম্মুম করে নামায পড়তাম। একজন অত্মীয় আমাকে দেখতে এসে বললেন, ‘একবার তায়াম্মুম করে বারবার নামায পড়া যায় না। প্রতি ওয়াক্তে তায়াম্মুম করে নিও।’ আমি জানতে চাচ্ছি, একবার তায়াম্মুম করে কত ওয়াক্ত নামায পড়া যায়? ইতিপূর্বে আমি এক তায়াম্মুমে (পবিত্রতা থাকা পর্যন্ত) একাধিক নামায পড়েছি। সেগুলোর কী হুকুম?

পানি থাকা সত্ত্বেও তায়াম্মুম করার বিধান।

প্রশ্ন (১২১১৩) : আমরা জানি, পানি না থাকলে অথবা পানি ব্যবহার না করা গেলে ওযুর প্রয়োজন আছে- এমন কোনো ইবাদত করার জন্য তায়াম্মুম করতে হয়। কিন্তু অনেকসময় ওযুর প্রয়োজন নেই- এমন ইবাদতের জন্য পানি থাকা সত্ত্বেও আমি তায়াম্মুম করি। যেমন, দ্বীনী দরস প্রদান বা যিকির করা ইত্যাদি। আবার কখনো পানি থাকা সত্ত্বেও শুধু পবিত্র অবস্থায় থাকার উদ্দেশ্যেও তায়াম্মুম করে থাকি। জানার বিষয় হচ্ছে, আমার এভাবে তায়াম্মুম করা শরীয়তসম্মত হচ্ছে কি না? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

পায়ে ব্যান্ডেজ থাকলে কিভাবে ওযু করবে?

প্রশ্ন (১২০৯৫) : রোড এক্সিডেন্টে আমার মামার এক পা ভেঙে গিয়েছে। ডাক্তার তার এ পায়ের রানের গোড়া থেকে পূর্ণ পা ব্যান্ডেজ করে দিয়েছেন। আমি জানতে চাচ্ছি, এখন তিনি কীভাবে ওযু করবেন? যদি কোনো কারণে গোসল ফরয হয় তাহলে তখন গোসল না করে তায়াম্মুম করলে জায়েয হবে কি? দয়া করে জানাবেন।

তায়াম্মুম সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২০৭১) : আমি কয়েকদিন খুব অসুস্থ ছিলাম। তাই ডাক্তার আমাকে পানি ব্যবহার করতে নিষেধ করেছিল। তখন আমি তায়াম্মুম করে নামায আদায় করতাম। এর মধ্যে একদিন আমার গোসল ফরয হয়। যেহেতু আমার পানি ব্যবহার করা নিষেধ তাই তায়াম্মুম করেই নামায আদায় করি। এখন আমি সুস্থ হয়ে গেছি। আমি জানতে চাচ্ছি, এখন আমি কি করব? আমি কি শুধু ওযু করেই নামায পড়তে পারব নাকি ঐ ফরয গোসল করতে হবে? সঠিক সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

পানি দিয়ে গোসল করলে শারিরীক ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে তায়াম্মুম করে নামায আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২০১৯) : আমার স্বামী ঢাকায় থেকে চাকরি করেন। আর আমি গ্রামের বাড়িতে থাকি। তিনি সপ্তাহে একদিন বাড়িতে আসেন। বর্তমানে আমি গর্ভবতী। আমি শারিরীকভাবে খুবেই দুর্বল। আমার এলার্জী, ঠান্ডা ও কাশির সমস্যা আছে। রাতে গরম পানি দিয়ে গোসল করাও আমার জন্য কষ্টকর। তাই ফজরের নামায কাযা হওয়ার আশঙ্কায় আমরা সহবাস করা থেকে বিরত থাকি। আর দিনের বেলা গরম পানি দিয়ে একাধিকবার গোসল করলে শারীরিক ক্ষতি ও রোগ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে। এসব বিষয় নিয়ে আমাদের মাঝে মনোমালিন্য হচ্ছে। এমতাবস্থায় আমার জন্য কী করণীয়?

ফজরের ওয়াক্ত ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও তায়াম্মুম করা যাবে না। ওযু করে নামায আদায় করতে হবে।

প্রশ্ন (১১৬২৫) : সকালে আমার ঘুম ভাঙার পর দেখি ফজরের ওয়াক্তের আর অল্প সময় বাকি আছে। এই সময়ে ওযু করতে গেলে নামায কাযা হয়ে যাবে। তাই আমি নামায কাযা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তায়াম্মুম করে ফজরের নামায আদায় করে নিই। হযরতের কাছে জানতে চাই, এভাবে তায়াম্মুম করে নামায আদায় করা কি সঠিক হয়েছে?

গোসল ফরয হওয়ার পর ওযরবশত তায়াম্মুম করে নামায আদায় করার পর পানি পেলে কি করবে?

প্রশ্ন (১১৫৫০) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ,গত সপ্তাহে আমি অসুস্থতার কারণে পানি ব্যবহার করতে সক্ষম ছিলাম না। তখন একবার আমার ওপর গোসল ফরয হয়। তখন আমি তায়াম্মুম করি এবং অসুস্থতার দিনগুলোতে তায়াম্মুম করেই নামায পড়েছি। সুস্থ হওয়ার পর কি আমি স্বাভাবিকভাবে ওযু করে নামায পড়তে পারব, না আগে ফরয গোসল করে নিতে হবে?

পায়ে ব্যান্ডেজ থাকলে তায়াম্মুম করা যাবে কি

প্রশ্ন (১১৩৯২) : জনৈক ব্যক্তির পা ভেঙ্গে যাওয়ায় ডাক্তার রানের গোড়া থেকে পুরো পা ব্যান্ডেজ করে দিয়েছে এবং তা ভিজাতে নিষেধ করে দিয়েছে। জানতে চাচ্ছি, তার যদি গোসল ফরয হয় তাহলে কী করবে? তায়াম্মুম করা যাবে কি?

অসুস্থতা বেড়ে যাওয়ার আশংকায় তায়াম্মুম করা যাবে

প্রশ্ন (১১৩৮০) : আমি গর্ভবতী। ঠান্ডার সমস্যা আছে। গরম পানি করে গোসল করলেও ঠান্ডার বেড়ে যায়। ডাক্তার বলেছেন ঠান্ডা না লাগাতে। কারণ এতে বাচ্চার ক্ষতি হবে। জানতে চাচ্ছি, সহবাসের পর আমি গোসলের পরিবর্তে তায়াম্মুম করতে পারব কি?