বিবিধ

হামদ ও নাত সম্পর্কে দুটি প্রশ্ন।

প্রশ্ন (১২৫৬৯) : আমার দুটি বিষয় জানার ছিল। ১. হামদ ও নাতে বাজনা বাজানো এবং আল্লাহ আল্লাহ শব্দের জিকির বাজনা স্বরূপ ব্যবহার করা- যেমনটি বর্তমান সময়ে কিছু ইসলামী সংগীতে করা হয়, শরীয়তের দৃষ্টিতে এর হুকুম কী? ২. শরীয়তের দৃষ্টিতে মহিলাদের কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াত ও ইসলামী সংগীত শ্রবণ করার বিধান কী?

কাস্টমার পাঞ্জাবীর অর্ডার করে তা না নিলে কি সেই কাপড় যাকাত হিসেবে দিয়ে দেওয়া যাবে?

প্রশ্ন (১২৫৪৯) : আমার একটি পাঞ্জাবীর কাপড় ও টেইলার্সের দোকান আছে। আমার দোকানে কিছু পাঞ্জাবী পড়ে আছে, যা ক্রেতাদের অর্ডারে সেলাই করা হয়েছে। কিন্তু তারা তা নেয়নি। অপরদিকে আমাদের মেমোতে উল্লেখ রয়েছে, যা ক্রেতার নিকট রয়েছে, ৯০ দিনের মধ্যে কাপড় ডেলিভারী না নিলে তা নষ্ট হয়ে গেলে বা হারিয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়। এমতাবস্থায় ছয় মাস পার হয়ে গেলেও ক্রেতা তার কাপড় না নিলে আমি ঐ কাপড় যাকাত স্বরূপ দিয়ে দেই। যেমন, একটি জুব্বার অর্ডার নিলাম। কাপড় বাবদ ৬০০ টাকা, সেলাই বাবদ ৪০০ টাকা মোট ১০০০ টাকা। ক্রেতা জমা দিল ২০০ টাকা বাকি আছে ৮০০ টাকা। এক্ষেত্রে আমি ক্রেতার নিকট পাওনা ৮০০ টাকা হিসাবে জুব্বাটি যাকাত স্বরূপ দিয়ে দেই। প্রশ্ন হল, এ নিয়মে শরীয়তসম্মত যাকাত আদায় হবে কি না? যদি না হয় তাহলে সহিহ পন্থা কী হবে দলীলসহ জানাবেন।

অমুসলিমদের লালা কি নাপাক?

প্রশ্ন (১২৫৩৯) : আমার বাবা একজন নওমুসলিম। বাবার বংশের সবাই বৌদ্ধ। মাস দেড়েক আগে আমার এক বৌদ্ধ ফুফু ও ফুফাত ভাই আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসে। সবাই একসাথে দুপুরের খাবার খাই। খাওয়ার একপর্যায়ে পানি পানের জন্য ফুফুর পান করা পানির গ্লাসে মুখ দিতে গেলে মা ইশারা দিয়ে নিষেধ করেন। ফলে আমি অন্য গ্লাস দিয়ে পানি পান করি। পরে মা আমাকে বিষয়টি খুলে বলেন- ‘তোমার ফুফু ঐ গ্লাসে মুখ দিয়ে পানি পান করার কারণে অবশিষ্ট পানি নাপাক হয়ে গেছে। কারণ, অমুসলিম হল অপবিত্র।’ তো প্রশ্ন হল, আমার মার আপত্তিটি কি ঠিক? এক্ষেত্রে সঠিক মাসআলাটি জানালে কৃতজ্ঞ হব।

কেউ অন্যায়ভাবে মসজিদের জমি দখল করে না দিতে চাইলে তার থেকে জমির মূল্য গ্রহণ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৫৩২) : আমাদের মসজিদের একটি জমি দীর্ঘদিন থেকে মহল্লার এক ব্যক্তির দখলে ছিল এবং সে জমিটির মালিকানা দাবি করে আসছিল। ২০০৬ সালে সে জমিটি আরেকজনের কাছে বিক্রি করে দেয়। লোকটি তাতে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করে। ২০০৭ সালে আমরা ক্রেতার বিরুদ্ধে মামলা করি। সে নানা অপকৌশলে মামলার রায় তার পক্ষে নিয়ে যায়। ২০০৯ সালে আরেক সূত্র ধরে আমরা পুনরায় মামলা করি। দীর্ঘদিন পরে গত বছর আদালত মসজিদের পক্ষে রায় দেয়। সে জমি বুঝিয়ে না দিয়ে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। বিষয়টির এভাবে কোনো নিষ্পত্তি না দেখে এলাকার কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তি একটি সমঝোতা করতে চাচ্ছেন যে, যেহেতু সে বাড়ি নির্মাণ করে ফেলেছে তাই জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য মসজিদকে দিয়ে দিবে। জানার বিষয় হল, জমির বিপরীতে এভাবে মূল্য নেওয়া বৈধ হবে কি না? এক্ষেত্রে ঐ লোক কি মূল বিক্রেতা থেকে ক্ষতিপূরণ নিতে পারবে?

জমি বন্ধক নেওয়া সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৫২৪) : আমাদের এলাকায় লোকজন বিভিন্ন পদ্ধতিতে জমি চাষাবাদ করে। যার মধ্যে একটি পদ্ধতি উদাহরণ স্বরূপ- একজন ব্যক্তি অপরজন থেকে এক বিঘা জমি ৫ বছরের জন্য নেয় এবং অগ্রিম বাবদ দেড় লক্ষ টাকা দেয় এবং চুক্তি হয় যে, সে জমিওয়ালাকে প্রতি বছর ৫৬০ টাকা করে ভাড়া দিবে এবং নির্ধারিত বছরের পর পূর্ণ টাকা জমিওয়ালা থেকে ফেরত নিবে। অথবা প্রতি বছর ৫৬০ টাকা করে ভাড়া না দিয়ে নির্ধারিত বছরের পর মূল টাকা থেকে ৫৬০ টাকা করে প্রতি বছরে বাদ দিয়ে বাকি টাকা জমিওয়ালা ফেরত দিবে। যেমনটি দোকানের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। হযরতের কাছে জানার বিষয় হল, উল্লেখিত পদ্ধতিতে জমি চাষাবাদ করা জায়েয হবে কি না?

মসজিদের জায়গা বেদখল হয়ে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২৫২১) : দুই শতাংশ জায়গার উপর একশ বছরের পুরনো একটি মসজিদ রয়েছে। সঙ্গে মসজিদের জন্য ওয়াকফকৃত আরো পাঁচ শতাংশ জমি ছিল। কালক্রমে যা বেদখল হয়ে গিয়েছে। তা আর উদ্ধার করা সম্ভব নয়। এখন মসজিদটি সম্প্রসারিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। যা এখানে সম্ভব নয়। তাই মুতাওয়াল্লী চাচ্ছেন, অদূরে চার শতাংশের উপর বড় আকারে মসজিদ করতে। এখন আমার জানার বিষয় হল, আগের মসজিদ ও তার জায়গাটা কোন কাজে ব্যবহার করা হবে? উল্লেখ্য, অতি নিকটে হওয়ার কারণে উভয়টাকে মসজিদ হিসাবে ব্যবহার করা সমীচীন মনে হচ্ছে না। দয়া করে মাসআলাটির সমাধান প্রদান করে বাধিত করবেন।

মসজিদের জন্য ওয়াকফকৃত জায়গায় কবর থাকলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২৫১৬) : জনাব, ২৫ বছর আগে আমাদের গ্রামের এক মুরব্বী মসজিদের নামে ৫ শতাংশ জায়গা ওয়াকফ করেন। ওয়াকফকৃত জায়গাটির সীমানার মধ্যে ডান পাশে পুরাতন একটি কবর ছিল। আমাদের জানামতে এটি ওয়াকফকারীর নানার কবর। সে সময় আবাদী কম থাকায় মসজিদটি নির্মাণকালে আমরা কবরের দিক থেকে প্রায় দুই শতাংশ জায়গা ছেড়ে তা নির্মাণ করি। এখন মানুষের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। আমরা চাচ্ছি মসজিদটি বড় করে পূর্ণ জায়গার উপর নির্মাণ করতে। এক্ষেত্রে কী আমাদের জন্য কবরের জায়গাটি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে?

অস্থায়ী নামায ঘর গুদাম হিসেবে ব্যবহার করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৫১৫) : আমাদের বাজারের মসজিদের সাথে লাগানো একটি পাটের গুদাম ছিল। গুদামের মালিক এই এলাকা থেকে তার ব্যবসা সরিয়ে নেয়ার সময় গুদামটি মসজিদের কল্যাণে ওয়াকফ করে যায়। এরপর মসজিদ কমিটি সেটিকে এক গম ব্যবসায়ীর নিকট গোডাউন হিসেবে ভাড়া দেয়। জুমার দিন মুসল্লি বেশি হওয়া শুরু হলে মসজিদ কমিটি ভাড়াটিয়াকে সরিয়ে গুদামটির দেয়াল ভেঙ্গে মসজিদের সাথে মিলিয়ে দেয়। এক থেকে দেড় বছর সেখানেও নামায হয়। এখন মসজিদের মূল জায়গাতেই তিন তলা ভবন করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় মুহতারামের নিকট জানার বিষয় হচ্ছে, এতদিন নামায পড়ার পর এখন ঐ জায়গাটি গুদাম বা দোকান হিসাবে ভাড়া দেওয়া যাবে কি না?

আমানতের জিনিস কি বন্ধক রাখা যায়?

প্রশ্ন (১২৫১৪) : আমাদের পাশের গ্রামের এক লোকের টাকার প্রয়োজন হলে সে আমার কাছ থেকে তিন মাসের জন্য ১৫ হাজার টাকা নেয় এবং তার সাথে থাকা সাইকেলটি বন্ধক রেখে যায়। আমার এক পরিচিত ব্যক্তি সাইকেলটি দেখে বলে, এটা তো আমার সাইকেল, তুমি কোথায় পেলে? আমি বিষয়টি বললে সে বলে, আমি তাকে সাইকেলটি কয়েকদিন ব্যবহারের জন্য দিয়েছিলাম। তুমি সাইকেলটি আমাকে দিয়ে দাও। ঋণের গ্যারান্টি শেষ হয়ে যাবে বলে তাকে সাইকেলটি দেইনি। জানার বিষয় হল, এভাবে সাইকেলটি বন্ধক রাখা ঠিক হয়েছে কি না? তার মালিক আমার থেকে সাইকেলটি নিয়ে যেতে পারবে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

মসজিদের অপ্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি করে দেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৫১৩) : আমাদের এলাকায় একটি প্রাচীন মসজিদ আছে। মসজিদে অনেক আগের ইসলামী ফাউন্ডেশনের দেওয়া দুটি আলমারি আছে, এগুলো প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। এছাড়াও কিছু পুরাতন পাখাসহ অন্যান্য জিনিসপত্র আছে। মসজিদ বানানোর পর এসকল জিনিসপত্র নতুন করে কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তখন বর্তমান জিনিসপত্রের কোনো প্রয়োজন থাকবে না। রেখে দিয়ে কোনো লাভও হবে না। উক্ত জিনিসগুলো ওয়াকফকৃত হওয়ায় তা কী করা হবে- এ নিয়ে দ্বিমত হচ্ছে। কেউ বলছে, এগুলো বিক্রি করা যাবে না। অনেকে এগুলো বিক্রি করে তার অর্থ মসজিদের কাজে ব্যবহার করতে বলছেন। জানার বিষয় হল, এই জিনিসগুলো রেখে দেওয়ার মাঝে কোনো লাভ নেই, তাই এগুলো বিক্রি করে মসজিদের কাজে ব্যয় করার শরয়ী বিধান কী? জানিয়ে বাধিত করবেন।

রাস্তার পাশে মসজিদ নির্মাণের ক্ষেত্রে সরকারি আইন অনুযায়ী রাস্তার জন্য জায়গা ছেড়ে দেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৫১২) : আজ থেকে ১৫ বছর আগে আমরা আমাদের এলাকার অভ্যন্তরীণ সাধারণ সড়কের পাশে একটি মসজিদ নির্মাণ করি। মসজিদটি নির্মাণকালে আশেপাশে বাড়ি-ঘর, দোকান-পাট কম থাকায় রাস্তা প্রশস্ত ছিল। তাই আমরা রাস্তার জন্য দেড় ফিট জায়গা- যা সরকারী আইন অনুযায়ী খালি রাখার দরকার ছিল- তা খালি না রেখেই নিজেদের পূর্ণ জায়গার উপর মসজিদটি নির্মাণ করি। পরবর্তীতে যারা রাস্তার পাশে বাড়ি-ঘর, দোকান-পাট বানিয়েছে, তারাও রাস্তার জন্য দেড় ফিট জায়গা না ছেড়ে ওগুলো বানিয়েছে। ফলে চলাচলের পথ সংকীর্ণ হয়ে মানুষের যাতায়াতে কষ্ট হচ্ছে। বর্তমানে পৌরসভার পক্ষ থেকে সবার কাছে রাস্তার জন্য জায়গা ছাড়ার নোটিশ এসেছে। মুহতারামের নিকট জিজ্ঞাসা হল, এই অবস্থায় কি মসজিদের সেই অংশ থেকে রাস্তার জন্য দেড় ফিট জায়গা বের করার অবকাশ আছে, যে অংশটুকু সরকারি আইন অনুযায়ী খালি রাখার দরকার ছিল?

পুরুষের জন্য রুপার আংটি ছাড়া অন্য কোনো আংটি ব্যবহার করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৫১১) : মুহতারামের নিকট আমার জানার বিষয় হল, পুরুষের জন্য রুপার আংটি ছাড়া অন্য কোনো আংটি যেমন ইমিটেশন, তামা ইত্যাদি ব্যবহার বৈধ কি না?

জীবিত অবস্থায় মাদ্রাসা কিংবা মসজিদের জন্য জমি ওয়াকফ করলে এর হুকুম কী হবে?

প্রশ্ন (১২৫০৮) : আমার চাচা এক মাস আগে ইন্তেকাল করেন। মৃত্যুর পূর্বে সুস্থ অবস্থায় তিনি আমাদের গ্রামের মাদরাসার জন্য আট শতাংশের একটি জমি ওয়াকফ করেন। তিনি মৌখিকভাবে বলেছিলেন, ‘আমি আমার এই আট শতাংশ জমি আমাদের গ্রামের মাদরাসার জন্য ওয়াকফ করলাম। তবে যতদিন আমি বেঁচে আছি ততদিন আমি এই জমির ফল-ফসল ভোগ করব। আমার মৃত্যুর পরে মাদরাসা এটি নিয়ে নিবে।’ চাচার ইন্তেকালের পর চাচাত ভাইয়েরা এক হুযুরকে মাসআলা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন যে, আট শতাংশ জমি যদি মৃতের রেখে যাওয়া সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশ বা তার চেয়ে কম হয় তাহলে সেটা পুরোটাই মাদরাসার হবে। আর যদি এক তৃতীয়াংশের চেয়ে বেশি হয় তাহলে এক তৃতীয়াংশ পরিমাণ মাদরাসার জন্য ওয়াকফ হবে। বকিটা ওয়ারিশদের সম্পত্তি বলে বিবেচিত হবে। এখন চাচাত ভাইয়েরা জানতে চায় যে, ঐ কথা কি ঠিক? অনুগ্রহপূর্বক সঠিক মাসআলা জানানোর অনুরোধ রইল।

কোনো স্থানে কুকুর শুয়ে থাকলে কি উক্ত স্থান নাপাক হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১২৪৯৭) : আমাদের মসজিদের বাহিরের সিঁড়িতে প্রায়সময় কুকুর শুয়ে থাকে। মুআযযিন সাহেব খুব কষ্ট করে পানি ঢেলে সিঁড়ি পবিত্র করেন। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কুকুর শোয়ার দ্বারা কি সিঁড়ি নাপাক হয়ে যায়?

কাউকে হাদিয়া দেওয়ার পর তা ফেরত নেওয়ার বিধান কি?

প্রশ্ন (১২৪৯০) : চার বছর আগে আমার ভাই আমার বিয়ের সময় আমাকে আড়াই ভরি স্বর্ণালংকার দিয়েছিল- বিয়ের গিফট হিসাবে। কিছুদিন আগে পারিবারিক একটা বিষয়কে কেন্দ্র করে তার সঙ্গে আমার সম্পর্ক খারাপ হয়। তখন থেকে সে আমার কাছে তার দেওয়া স্বর্ণালংকারগুলো ফেরত চাচ্ছে এবং আমাকে চাপ দিচ্ছে। যেহেতু সে অলংকারগুলো আমি আমার স্ত্রীকে দিয়ে দিয়েছি তাই তার থেকে সেগুলো ফেরত নিয়ে ভাইকে দেওয়া কঠিন। মুহতারামের নিকট আমার জিজ্ঞাসা হল, ঐ অলংকারগুলো আমার ভাইকে ফেরত দেওয়া কি আবশ্যক?

মান্নতকারী ব্যক্তি মান্নতী পশুর গোশত খেতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২৪৮৪) : এক ব্যক্তি তার ভাইয়ের সুস্থতার জন্য ছাগল সদকা করার মান্নত করেছে। এই মান্নতী ছাগলের গোশত মান্নতকারী অথবা তার ভাই খেতে পারবে কী?

মসজিদের সামনে মানুষ চলাচলের রাস্তায় মেহরাব নির্মাণ করা জায়েয আছে?

প্রশ্ন (১২৪৮৩) : আমাদের মসজিদের জন্য ওয়াকফকৃত জায়গার পরিমাণ ছিল চার কাঠা। পুরাতন মসজিদ সেই জায়গার উপরেই ছিল। জুমার দিন দেখা যেত মুসল্লিরা মসজিদের ভিতরে জায়গা না হওয়াতে বাইরে কাতার করত। তাই নতুন করে নির্মাণের সময় মেহরাব ও সামনের কাতারের কিছু অংশ ওয়াকফকৃত জায়গা থেকে সামনের দিকে বাড়িয়ে নেয়। যাতে পূর্ণ এক কাতার বেড়ে যায়। বর্ধিত অংশের জায়গা ছিল মানুষ চলাচলের রাস্তার কিছু অংশ। রাস্তা বড় হওয়াতে মানুষ চলাচলে সমস্যা হয় না। কারণ ঐ গলি দিয়ে গাড়ি চলে না। শুধু মানুষ যাতায়াত করে। এখন মুহতারামের নিকট জানতে চাচ্ছি, ওয়াকফকৃত জায়গা অতিক্রম করে মানুষের চলাচলের জায়গায় মসজিদ বাড়ানো ঠিক হয়েছে কি না? বর্ধিত অংশ মসজিদের হুকুমে কি না? ঐ অংশে দাঁড়িয়ে ইমামতি করলে তা সহিহ হবে কি না? উল্লেখ্য, রাস্তার জায়গার পরিমাণ ছিল আট ফুট। মেহরাবের মধ্যে চলে আসছে সোয়া তিন ফুট।

কোনো কাজ না করার কসম করার পর ভুলে তা করে ফেললে কি কসম ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২৪৮০) : আমার ভগ্নিপতি খুবই বদমেজাজী। সন্তানরা সামান্য কথা মানতে না পারলেই রেগে গিয়ে মারধর শুরু করে দেয়। আমাদের কথাও মানে না। আমরা তাকে একজন আলেমের কাছে নিয়ে যাই। এরপর থেকেই তার মাঝে পরিবর্তন আসতে থাকে। সে সন্তানদেরকে মারধর করা ছেড়ে দেয় আর ভবিষ্যতে না মারার শপথও করে। কিছুদিন আগে পাশের বাড়ির লোকদের সাথে একটি বিষয় নিয়ে ঝগড়া হলে সে তাদেরকে লাঠি নিয়ে মারতে যায়। আমার ভাগিনা ঝগড়া থামাতে গেলে ভুলে তার মাথায় আঘাত পড়ে এবং সে আহত হয়। ভগ্নিপতির তাকে মারার উদ্দেশ্য ছিল না; বরং অন্যরা সরে যাওয়ায় তার মাথায় পড়েছে। জানার বিষয় হল, ভাগিনার গায়ে এভাবে আঘাত লাগার কারণে কি তার পিতার শপথ ভেঙ্গে গেছে? এখন তার করণীয় কী? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

শালির সাথে অবৈধ সম্পর্কে লিপ্ত হলে কি স্ত্রীর সাথে বৈাহিক সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়?

প্রশ্ন (১২৪৭৭) : আমার এক বন্ধুর দুই ছেলে এক মেয়ে। শালির সাথে কিছুদিন আগে তার অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক হয়। বিষয়টি এখনো সবার অজানা এবং সেও বেশ অনুতপ্ত। জানার বিষয় হল, তার বর্তমান বৈবাহিক সম্পর্কের হুকুম কী? তার স্ত্রী কি তার জন্য হারাম হয়ে গিয়েছে?