সালাত বা নামাজ

জুতা পায়ে দিয়ে জানাযার নামায আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৩২৬) : আমাদের স্কুলমাঠে একবার জানাযার নামায হয়। আমি অযু করে জানাযার নামাযে শরীক হই। কাতারে দাঁড়ানোর পর পাশের এক ভাই বললেন, জুতা খুলে সামনে রেখে দিন। জুতা পরে নামায হয় না। আরেক ভাই বললেন, জুতার উপরে দাঁড়ালেও নামায হবে। এখন আমার জানার বিষয় হল, আমার কি জুতা পরে নামায পড়াটা ঠিক হয়েছে, নাকি খালি পায়ে নামায পড়া আবশ্যক ছিল?

সাবান মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল করা যাবে কি ?

প্রশ্ন (১২৩২৪) : শুক্রবার জুমুআর পূর্বে কাপড় ধোয়ার জন্য ওয়াশরুমে গিয়েছি। কাপড় ধোয়ার পরপরই পানি শেষ হয়ে যায়। কাপড়গুলো পবিত্র ছিল, শুধু ময়লা হয়েছিল। আর আমার উপর গোসলও ফরয ছিল না। জুমুআর উদ্দেশ্যে গোসল করব। এদিকে নামাযের সময় হয়ে গিয়েছে। তাই কাপড় ধোয়া সাবান মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল করে নামায পড়ে নিয়েছি। জানার বিষয় হল, সেই পানি দিয়ে গোসল করা কি আমার জন্য ঠিক হয়েছে?

একাকী নামায আদায় করার ক্ষেত্রে কি আযান দিয়ে নেওয়া জরুরী?

প্রশ্ন (১২৩২২) : আমি যে এলাকায় থাকি সেটা খ্রিস্টান অধ্যুষিত হওয়ায় সেখানে কোনো মসজিদ নেই। পার্শবর্তী এলাকায় যেখানে মসজিদ আছে ওখানকার আযানের শব্দ এখানে পৌঁছে না। এ অবস্থায় সাধারণত দু-চারজন একত্র হয়ে জামাতে নামায আদায় করলে আমরা আযান দিয়ে নিই। প্রশ্ন হল, যদি একাকী নামায পড়ি তাহলেও কি আযান দিয়ে নামায পড়া জরুরি? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

ফেতনা হওয়ার আশঙ্কায় সাহু সিজদা ছেড়ে দেওয়া কি ঠিক?

প্রশ্ন (১২৩২১) : আমি ঢাকার একটি বড় মসজিদে তারাবীহ পড়াই। এবার রমযানের ২৭ তারিখে তারাবীর নামাযের প্রথম রাকাতে সূরা ফাতিহার তিন-চার আয়াত মনে মনে পড়ি, এরপর স্মরণ হলে উচ্চস্বরে সূরা ফাতিহা শুরু থেকে পড়ি। সেদিন মসজিদে ৩-৪ হাজার মুসল্লী ছিল। অনেক বড় জামাত ফেতনা হতে পারে- একথা ভেবে সাহু সিজদা দিইনি। মুহতারামের নিকট জানার বিষয় হচ্ছে, আমার এই কাজটি কি ঠিক হয়েছে? জুমা ও ঈদের নামাযের মত তারাবীর জামাত বড় হলে সাহু সিজদা ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ আছে কি না?

মায়্যেতকে গোসল করানো সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৩১৯) : মুহতারাম, গত ২৩শে আগস্ট আমার এক নিকটাত্মীয় মারা যায়। সেই মায়্যেতকে গোসল করানোর জন্য আমি ও গ্রামের ইমাম সাহেবসহ আরেকজন ছিলাম। গোসল শেষে ইমাম সাহেব হালকাভাবে চেহারাটা মুছে মায়্যেতকে অযু করিয়ে দিলেন। তারপর পুরো চেহারা ভালোভাবে না মুছিয়েই দাফন করাতে চাইলেন। তখন আমি বললাম পুরো শরীর মুছবেন না কেন? কারণ আমার জানা মতে পূর্ণ শরীর মুছতে হবে। তখন ইমাম সাহেব বললেন, রাসূল (সা.) একবার এক সাহাবী মারা যাওয়ার পর জান্নাতের পানি দ্বারা তাকে গোসল করালেন এবং শরীর থেকে টপ টপ করে পানি পড়ছিল। এমতাবস্থায় নবী (সা.) তাকে দাফন করে দিলেন। (অর্থাৎ কাফন পরিয়ে) দিলেন। সুতরাং পুরো শরীর ভালোভাবে মুছার প্রয়োজন নেই। এখন হুযুরের কাছে আমার জানার বিষয় হল- ১. মায়্যেতকে গোসলের পর অযু করানো যাবে কি না? না হলে এর বিধান কী? ২. মায়্যেতকে গোসলের পর পুরো শরীর ভালোভাবে মুছতে হবে কি না? এবং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ইমাম সাহেবের কথা সহিহ কি না? দলীলসহ জানালে উপকৃত হব।

নামাযে মাথা ঘুরালে কোনো সমস্যা হবে কি?

প্রশ্ন (১২৩১৪) : আমি গত কয়েকদিন আগে জামাতের সাথে মসজিদে যোহর নামায পড়ছিলাম। আমার দু-একজন পরে একজন বৃদ্ধ মুরব্বী চেয়ারে বসে নামায পড়ছেন। বৃদ্ধের পাশে আরো দু-একটি চেয়ার ছিল। ইমাম সাহেব যখন রুকুর তাকবীর বললেন তখন মুরব্বী রুকু থেকে ওঠার সময় পাশে রাখা চেয়ারে হাত লাগার কারণে একটু জোরে আওয়ায হয়। আওয়ায শুনে বৃদ্ধের বরাবর সামনের কাতারে দাঁড়ানো লোকটা সিনা না ঘুরিয়ে পেছনে মাথা ফিরিয়ে তাকিয়ে দেখলেন। পরে সাথে সাথে আবার কেবলার দিকে ফিরে গেলেন। অতঃপর বাকি নামায যথা নিয়মে আদায় করেন। জানার বিষয় হল, তার নামায কি শুদ্ধ হয়েছে?

জায়গা-সংকীর্ণতার কারণে কোনো উঁচু স্থানে সিজদা করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৩১৩) : গত সপ্তাহে জুমার নামাযে মসজিদে যেতে আমার দেরি হয়ে যায়। একারণে নামাযের শুরুতে কাতারে জায়গা না পেয়ে আমরা কয়েকজন মুসল্লি কাতারের পাশে সিঁড়ির সামনে দাঁড়াই এবং জায়গা-সংকীর্ণতার কারণে প্রথম সিঁড়ির উপর সিজদা করে নামায পড়ি। আমাদের উক্ত নামায কি সহিহ হয়েছে?

জুমার দিন খতিব সাহেব খুতবা শুরু করার আগে সুন্নত পড়ে শেষ করতে না পারলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২৩১২) : জুমার পূর্বের চার রাকাত সুন্নত পড়া অবস্থায় অনেকসময় খতিব সাহেব খুতবা শুরু করে দেন। এক আলেম থেকে শুনেছি খুতবার সময় নামায পড়া নিষেধ। জানার বিষয় হল, এমন পরিস্থিতিতে আমার জন্য করণীয় কী? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

ঈদের নামাযে মাসবুক হলে ছুটে যাওয়া রাকাত আদায় করার পদ্ধতি।

প্রশ্ন (১২৩১১) : গত রোযার ঈদে মাঠে যেতে দেরি হওয়ায় আমার ও আমার ছোট ভাইয়ের ঈদের নামায এক রাকাত ছুটে যায়। তারপর ইমাম সাহেবের সালাম ফেরানোর পর আমরা আমাদের ছুটে যাওয়া নামায পূর্ণ করি। আমি দাঁড়িয়ে প্রথমে অতিরিক্ত তাকবীর বলেছি, তারপর কেরাত পড়েছি। কিন্তু আমার ছোট ভাই কেরাত পড়ার পর অতিরিক্ত তাকবীর বলেছে। নামাযের পর তাকে জিজ্ঞেস করলে সে বলেছে, ঈদের নামাযে মাসবুক হলে ছুটে যাওয়া নামায আদায় করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তাকবীর কেরাতের পর বলতে হয়। জানার বিষয় হল, আমার ভাইয়ের কথাটি কি ঠিক?

পবিত্রতা সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৩০৯) : কয়েকদিন আগে আমি খুব অসুস্থ হয়ে পড়ি। আমাকে স্যালাইন দেওয়ার প্রয়োজন হয়েছিল। ডাক্তার আমার শরীরে স্যালাইন দেওয়ার আগে আমি অযু করে নিয়েছিলাম, যেন সময়মত নামায পড়ে নিতে পারি। তবে আমার হাতে সুচ ঢুকানোর পর স্যালাইন ছাড়তে কিছুটা বিলম্ব হয়। এ কারণে নলের ভেতর কিছুদূর পর্যন্ত রক্ত বেরিয়ে আসে। এরপর স্যালাইন ছাড়লে আবার তা শরীরের ভেতর চলে যায়। জানার বিষয় হল, ঐ দিন স্যালাইন চলা অবস্থায় উক্ত অযু দ্বারা আমি দুই ওয়াক্ত নামায পড়েছিলাম। ঐ নামাযের কী হুকুম?

ইমাম সাহেব জানাযার নামাযে ভুলে তাকবীর ৫টি বলে ফেললে কি নামায হবে?

প্রশ্ন (১২৩০২) : কয়েকদিন আগে এক জানাযার নামাযে ইমাম সাহেব পাঁচটি তাকবীর দিয়ে জানাযার নামায পড়ান। পঞ্চম তাকবীরের সময় মুক্তাদীগণ অনেকেই ইমামের সাথে তাকবীর বলেন আর কেউ কেউ বিরত থাকেন। জানার বিষয় হল, আমাদের উক্ত নামাযের কী হুকুম? এছাড়া ইমাম সাহেব ভুলে চারের অধিক তাকবীর বললে মুক্তাদীদের করণীয় কী?

নফল নামাযের মাঝখানে মাসিক শুরু হয়ে গেলে কি উক্ত নফঅ নামায কাযা করতে হবে?

প্রশ্ন (১২২৯৮) : একদিন সকালে আমি কুরআন তিলাওয়াত শেষে ইশরাকের নামায পড়ছিলাম। সেদিন নামায অবস্থায় আমার মাসিক শুরু হয়ে গেলে আমি নামায ছেড়ে দিই। হুজুরের কাছে জানতে চাই, আমার উক্ত নামায কি পুনরায় আদায় করতে হবে?

নারী-পুরুষ একসাথে নামায পড়লে দাঁড়ানোর পদ্ধতি কী হবে?

প্রশ্ন (১২২৯৭) : আমার দুলাভাই বাসায় আসলে মাঝেমধ্যে আমার বোনকে নিয়ে একসাথে জামাতে নামায পড়েন। দুলাভাই কিছুটা সামনে দাঁড়ান আর বোন এক পাশে একটু পেছনে দাঁড়ায় এবং তাদের দু’জনের মাঝে একটা চেয়ারও থাকে। আম্মু বলছেন, স্বামী-স্ত্রী পাশাপাশি দাঁড়িয়ে নামায পড়লে স্বামীর নামায হয় না। এখন জানার বিষয় হল, উল্লেখিত সুরতে কি আসলেই তাদের নামায হয় না?

জুমার খুতবা না শুনতে পারলে কি জুমার নামায হবে?

প্রশ্ন (১২২৯৬) : অনেক সময় আমার জুমার জন্য প্রস্তুত হয়ে মসজিদে যেতে বেশ দেরি হয়ে যায়। গত শুক্রবার প্রস্তুত হয়ে মসজিদে গিয়ে দেখি খুতবা শেষ হয়ে গেছে। নামাযের ইকামত হচ্ছে। আমার জানার বিষয় হল, খুতবা ছাড়া আমার উক্ত জুমার নামায কি সহিহ হয়েছে?

তারাবীহর নামায বসে আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২৯৫) : রমযানে অনেককে দেখা যায় কোনো প্রকার ওযর ছাড়াই বসে বসে তারাবীহর নামায আদায় করে। হযরতের কাছে আমি জানতে চাচ্ছি যে, কোনো ওযর ছাড়াই তারাবীহ বসে পড়া জায়েয আছে কি?

মাসবুক ব্যক্তি ইমামের প্রথম সালামের পর দাঁড়াবে নাকি দ্বিতীয় সালামের পর?

প্রশ্ন (১২২৯৪) : মসজিদে প্রায় প্রতি ওয়াক্তেই অনেক মানুষ মাসবুক হয়। অনেককে দেখি ইমাম সাহেব প্রথম সালাম ফিরানোর সাথে সাথেই বাকি নামায আদায়ের জন্য দাঁড়িয়ে যান। আবার অনেকে দ্বিতীয় সালামের পর দাঁড়ান। জানার বিষয় হল, মাসবুক বাকি নামায আদায়ের জন্য কখন দাঁড়াবে?

অফিসে বা ঘরে জামাত করার জন্য কি মসজিদের আযান যথেষ্ট হবে?

প্রশ্ন (১২২৯৩) : আমাদের অফিসে নামাযের জন্য ভিন্ন জায়গা আছে। নির্দিষ্ট সময়ে সেখানে জামাত হয়। কিন্তু আযান দেওয়া হয় না। শুধু ইকামত দিয়ে নামায শুরু করা হয়। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এক্ষেত্রে মহল্লার আযান কি আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে? নাকি পৃথকভাবে আযান দেওয়া লাগবে?

মুসল্লীরা সামনের কাতার খালি রেখে নামাযে দাঁড়িয়ে গেলে তাদের সামনে দিয়ে যাওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২৯২) : আমাদের মহল্লার মসজিদটি তিন তলা বিশিষ্ট। জুমুআর দিন পুরো মসজিদ ভরে যায়। খুতবার সময় তৃতীয় তলায় অনেকেই জায়গা না পেয়ে পেছনে দাঁড়িয়ে থাকে। ইকামতের সময় সবাই দাঁড়ালে কাতারের মাঝে জায়গা খালি হয়। তখন অনেকেই কাতারে দাঁড়াতে পারে। কখনো কখনো নামায শুরু হয়ে যাওয়ার পরও কোথাও খালি জায়গা দেখা যায়। তখন পেছন থেকে দুই-একজন নামাযীদের সামনে দিয়ে সেখানে গিয়ে দাঁড়ায়। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এক্ষেত্রে নামাযীদের সামনে দিয়ে অতিক্রম করা কি জায়েয আছে? জানালে কৃতজ্ঞ হব।

নামাযে একাধিক বার নাক মোছার প্রয়োজন হলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২২৯১) : আমার ঠান্ডার সমস্যা আছে। শীতের দিনে নাক দিয়ে পানি পড়ে। বারবার মোছার প্রয়োজন হয়। হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, নামায পড়া অবস্থায় নাক মোছার প্রয়োজন হলে আমার জন্য করণীয় কী? আমি কি পকেট থেকে রুমাল বা টিস্যু বের করে তা দিয়ে নাক মুছতে পারব বা নাক মোছার প্রয়োজনে এগুলো হাতে রেখে নামায পড়া যাবে?

নামায কসর করা সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২২৯০) : আমার গ্রামের বাড়ি সিলেট। আমি লন্ডনে থাকি । লন্ডনের সিটিজেনশিপ আছে। সিলেটে আমাদের বাড়ি ও জায়গা-জমি আছে। বছরে আব্বা-আম্মাসহ একাধিকবার দেশে আসা হয়। সামনে আমার বিবাহ-শাদী ইত্যাদি দেশেই করার খেয়াল এবং লন্ডন ও বাংলাদেশ উভয় দেশেই থাকার খেয়াল। কিছু সময় দেশে থাকব, বাকি সময় লন্ডনে থাকব। জানার বিষয় হল, আমি দেশে আসলে কি কসর করব?