সালাত বা নামাজ

সন্তান লালন-পালন করতে গিয়ে নফল ইবাদত ছুটে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২৩৭৯) : আমাদের ৫ সন্তান। তন্মধ্যে দুইজন ছোট। তাদের নার্সিং করতে গিয়ে আমার স্ত্রী প্রায়ই কুরআনের তিলাওয়াত, যিকির-আযকার, নফল নামায ইত্যাদি ইবাদত করতে পারে না। এই বিষয়ে তার খুব মন খারাপ থাকে। আমি তাকে বলেছি, তুমি সন্তানাদি নার্সিং করার কারণে নফল ইবাদতের সওয়াব পাবে। এ ব্যাপারে আমার স্ত্রীর সান্ত্বনার জন্য কুরআন-হাদিসের আলোকে কিছু উপদেশ দিলে উপকৃত হবো।

কসর সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৩৭৫) : আমি ঢাকা লালমাটিয়ায় এলাকায় থাকি। বাড়িতে যাওয়ার সময় অনেকক্ষেত্রে আমাকে আমার ছোট ভাইয়ের মাদরাসা (কেরানীগঞ্জ) যেতে হয়। ওখান থেকে তাকে নিয়ে আবার লালমাটিয়া হয়ে এয়ারপোর্ট দিয়ে বাড়ি (সিলেট) যেতে হয়। প্রশ্ন হচ্ছে, কেরানীগঞ্জ তো সিটির বাইরে। তাই সেখানে গেলে কি আমি কসর করতে পারব। কেরানীগঞ্জ থেকে লালমাটিয়া হয়ে এয়ারপোর্ট যাওয়ার সময় আমি যদি মুহাম্মদপুর বা লালমাটিয়ায় নামায পড়ি তাহলে আমি কসর করব, না পূর্ণ নামায পড়ব। দলীলসহ উত্তর জানালে কৃতজ্ঞ থাকব। জাযাকুমুল্লাহু খায়রান।

সম্পদ চুরি হওয়ার আশঙ্কায় তায়াম্মুম করে নামায্ আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৩৬৮) : চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলে আমার একটি আমের বাগান আছে। আমের সিজনে বাগানে থেকে দেখাশুনা করতে হয়। আমার এই বাগান দেখাশুনা করার জন্যে কয়েকজন শ্রমিকও রয়েছে। এবছর আমের সিজনে একবার আম পেড়ে যমিনে স্তুপ দেওয়া হয়। ঘটনাক্রমে একদিন শ্রমিকরা সবাই ছুটিতে ছিল। আমি ছাড়া আমের স্তুপ দেখার মতো কেউই ছিল না। তাই আমাকে বাগান দেখাশুনা করতে হল। এদিকে দেখাশুনা করতে করতে যোহরের নামাযের সময় হয়ে যায়। ঘটনাক্রমে আমার আশপাশে অযু করার মতো কোনো পানি ছিল না। যদি পানির সন্ধানে দূরে কোথাও বা পাহাড়ের নিচে যাই, তাহলে বাগানে রাখা সব আম ওঁত পেতে থাকা চোরেরা নিয়ে যাবে। তাই আমি ঐদিন যোহরের নামায শেষ সময়ে তায়াম্মুম করে পড়ি। জানার বিষয় হল, এভাবে যদি কেউ তার সম্পদ চুরির ভয়ে তায়াম্মুম করে নামায পড়ে, তাহলে কি তা সহিহ হবে?

ওয়াক্ত শেষ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তায়াম্মুম করে নামায পড়া সহিহ হবে কি?

প্রশ্ন (১২৩৬৭) : কয়েকদিন আগে ফজরের সময় ঘুম ভাঙতে দেরি হয়ে যায়। চোখ খুলে দেখি, সূর্যোদয়ের ১০ মিনিট বাকি আছে। অযু করার জন্য দ্রুত ওয়াশরুমে গিয়ে দেখি লাইনে পানি নেই। তখন পানি খুঁজতে গেলে নামায কাযা হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় তায়াম্মুম করে নামায পড়ে নিই। জানার বিষয় হল, এক্ষেত্রে তায়াম্মুম করে নামায পড়া কি সহিহ হয়েছে?

নামাযে সূরা ফাতিহা না পড়লে কি সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২৩৬৬) : একদিন যোহরের নামাযে মসজিদে যেতে দেরি হয়ে যায়, ফলে মাসবুক হই। যখন বাকি নামায আদায় করি তখন প্রথম রাকাতে সূরা ফাতেহা ভুলে যাই। আমার প্রশ্ন হল, এমন অবস্থায় কি আমার জন্য সাহু সিজদা করা আবশ্যক?

অযুতে কুলি করার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৩৬৪) : আমি ভুলে অযুতে কুলি না করে নামায আদায় করি। জানার বিষয় হল, কুলি করা ছাড়া আমার ঐ অযু হয়েছে কি?

চার রাকাত বিশিষ্ট ফরয নামাযের প্রথম বৈঠকে ইমাম না বসে দাঁড়িয়ে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২৩৬৩) : যোহরের নামাযে ইমাম সাহেব দ্বিতীয় রাকাতে না বসে দাঁড়িয়ে যান। পিছন থেকে কয়েকজন মুকতাদী ‘আল্লাহু আকবার’ বলে লোকমা দেন। তখন ইমাম সাহেব বসে পড়েন এবং তাশাহ্হুদ পড়ার পর শেষে সাহু সিজদা করেন। আমার জানার বিষয় হল, এই নামায কি শুদ্ধ হয়েছে, নাকি তা আবার পড়তে হবে?

যোহরের চার রাকাত সুন্নত ফরযের আগে পড়তে না পারলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২৩৬২) : আমার মাঝে মাঝে যোহরের নামাযের আগের চার রাকাত সুন্নত ছুটে যায়। জানার বিষয় হল, যোহরের সুন্নত ছুটে গেলে তখন করণীয় কী? কীভাবে তা আদায় করব? নামাযের পরের দু’রাকাত সুন্নতের আগে পড়ব, নাকি পরে?

অযু করার সময় এক অঙ্গ শুকিয়ে যাওয়ার পর অন্য অঙ্গ ধৌত করলে কি অযু সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২৩৬১) : একদিন মসজিদে অযু করার সময় হাত ও মুখ ধোয়ার পর পানি চলে যায়। তখন মসজিদের ফিল্টার থেকে পানি নিয়ে অযু শেষ করি। ততক্ষণে আমার চেহারা এবং হাত শুকিয়ে যায়। জানার বিষয় হল, আমার এ অযু কি শুদ্ধ হয়েছে? এবং তা দ্বারা যে নামায পড়েছি তা কি আদায় হয়েছে?

মসজিদ স্থানান্তর করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৩৬০) : প্রায় সত্তর বছর আগে আমাদের এলাকায় মাদরাসার জন্য একটি জমি ওয়াকফ করা হয় এবং সেখানে একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়। মাদরাসার ছাত্ররা কাছের একটি পুরনো মসজিদে নামায আদায় করত। আনুমানিক চল্লিশ বছর আগে মসজিদ ও মাদরাসার মাঝে একটি হাইওয়ে রাস্তা নির্মাণ করা হয়। রাস্তা পার হয়ে মসজিদে যাওয়া ছাত্রদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। তাই মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ছাত্রদের নামায আদায়ের সুবিধার্থে মাদরাসার ওয়াক্ফকৃত জমির উত্তর কোণে একটি মসজিদ নির্মাণ করে। চল্লিশ বছর যাবৎ উক্ত মসজিদে নামায পড়া হচ্ছে। কিন্তু মাদরাসার নতুন কর্তৃপক্ষ পুরো এরিয়ার সুযোগ-সুবিধার প্রতি লক্ষ করে মসজিদটি উক্ত জমির অন্য এক পাশে স্থানান্তর করে নিচ তলায় দোকানপাট ও দোতলা থেকে মসজিদ নির্মাণ করতে চচ্ছে। জানার বিষয় হল, এভাবে মসজিদ স্থানান্তর করা বৈধ হবে কি না? বৈধ হলে আগের মসজিদের জায়গা কী করা হবে? জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

নামাযের শুরুতে ছানা পড়তে ভুলে গেলে কি সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২৩৫৯) : অনেক সময় নামায শুরু করার পর ছানা পড়তে ভুলে যাই। তো আমাদের এলাকায় একজনকে জিজ্ঞাসা করি; তিনি বলেন, এমন অবস্থায় সাহু সিজদা করা ওয়াজিব। হুজুরের কাছে প্রশ্ন হল, তার এ কথাটি কি ঠিক?

নামাযের কোনো রাকাতে এক সিজদা ছেড়ে দিলে কি নামায হবে?

প্রশ্ন (১২৩৫৭) : আমি নামাযের প্রথম রাকাতে ভুলে এক সিজদা করি। নামায শেষ করে মসজিদ থেকে বের হওয়ার পর স্মরণ হয় যে, আমি এক সিজদা করেছি। এখন আমার ঐ নামাযের হুকুম কী?

ফরয নামায ভুলে পাঁচ রাকাত পড়ে ফেললে উক্ত নামাযের হুকুম কী?

প্রশ্ন (১২৩৫৬) : আমার এক বন্ধুকে সাথে নিয়ে জামাত করে আসর নামায পড়ছিলাম। ভুলবশত চতুর্থ রাকাতকে তৃতীয় রাকাত মনে করে দাঁড়িয়ে যাই এবং পাঁচ রাকাতের পর সালাম ফিরাই। সালাম ফেরানোর পর সে বলল, নামায তো পাঁচ রাকাত হয়েছে; তখন আমি কথা না বলে সাহু সিজদা করি এবং পুনরায় সালাম ফিরাই। আমাদের এ নামায কি শুদ্ধ হয়েছে?

নামাযে সূরা ফাতিহা পড়তে ভুলে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২৩৫৪) : আমি কয়েকদিন আগে ফরয নামাযের প্রথম রাকাতে ভুলে সূরা ফাতিহা না পড়ে সূরা পড়া আরম্ভ করি। সূরা পড়া শেষ হওয়ার পর আমার স্মরণ হয় যে, আমি সূরা ফাতিহা পড়িনি। এ অবস্থায় আমার করণীয় কী?

সুন্নত বা নফল নামাযে একাধিক রাকাতে একই সূরা পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৩৫৩) : কয়েকদিন আগে এশার জামাতের পর সুন্নত পড়ছিলাম। দ্বিতীয় রাকাতে রুকুতে গিয়ে মনে পড়ে- আমি উভয় রাকাতে একই সূরা পড়েছি। পরে সাহু সিজদাও করিনি। জানার বিষয় হল, আমার উপর কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে এবং এ নামায কি সহিহ হয়েছে?

নামাযে ইশারা করে কিছু বললে কি নামায নষ্ট হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১২৩৫২) : কয়েকদিন আগে আমি বাসায় নামায পড়ছিলাম। হঠাৎ আমার ছোট বাচ্চা পাশে এসে পেশাব করে দেয়। এদিকে নামাযে বিঘ্নতার আশঙ্কায় তার মা তাকে নিতে আসে। তখন আমি তার পেশাবের দিকে ইশারা করি। তবে জায়নামায এবং আমার গায়ে পেশাব লাগেনি। এই ইশারার কারণে কি নামায নষ্ট হয়ে গিয়েছে?

ঈদের নামাযে অতিরিক্ত তাকবীর বলার সময় কি হাত বাঁধতে হবে?

প্রশ্ন (১২৩৫০) : গত কুরবানী ঈদে এক মসজিদে ঈদের নামায পড়তে যাই। নামাযের আগে ইমাম সাহেব দ্বিতীয় রাকাতে অতিরিক্ত তাকবীর আদায়ের তরীকা বলেন, প্রথম দুই তাকবীরের পর হাত উঠিয়ে বেঁধে নিবে, তৃতীয় তাকবীরের পর হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিবে এবং চতুর্থ তাকবীর বলতে বলতে রুকুতে যাবে। অথচ আমাদের মহল্লার মসজিদের ইমাম সাহেব প্রথম দুই তাকবীরেও হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে বলেন। এক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি কোনটি জানালে উপকৃত হব।

মুক্তাদির জন্য ইমাম সাহেবের ইক্তিদা করার বিধান কি?

প্রশ্ন (১২৩৪৫) : কিছুদিন আগে আমরা কয়েকজন জামাতের সাথে যোহর নামায আদায় করছিলাম। নামাযের প্রথম রাকাতে হঠাৎ দেখি ইমাম সাহেব তাকবীর বলে সিজদায় যাচ্ছেন। আমি সিজদায়ে তিলাওয়াত ভেবে ইমাম সাহেবের সাথে সিজদায় শরীক হই। পরে বুঝতে পারলাম যে, আসলেই তা সিজদায়ে তিলাওয়াত ছিল। তখন আমার পাশে যে মুসল্লী ভাই ছিলেন তিনি সিজদায় যাননি। পরে তাকে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমি তিলাওয়াতে সিজদা শুনিনি, তাই যাইনি এবং আপনার যাওয়াটাও ঠিক হয়নি। আমার না করাটাই ঠিক। জানার বিষয় হল, ইমামের সাথে আমার সিজদায় শরীক হওয়া কি ঠিক হয়েছে? আর তার কথা কি ঠিক?

ফরয নামাযের পর ইমাম সাহেব কোন জায়গায় সুন্নত আদায় করবে?

প্রশ্ন (১২৩৪৪) : আমি মকতব বিভাগের একজন শিক্ষক। আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব কখনো না থাকলে আমি নামায পড়িয়ে থাকি। আমার একটি বিষয় জানার ছিল। তা হল, কোনো কোনো মসজিদে দেখি যে, ইমাম সাহেব যোহর, মাগরিব, এশা এই ওয়াক্তগুলোতে ফরয নামাযের পর সুন্নত পড়ার জন্য মেহরাব থেকে পিছনে চলে আসেন। আবার কেউ জায়নামাযের একপাশে দাঁড়িয়ে সুন্নত পড়েন। আর কেউ নিজের জায়গায় দাঁড়িয়েই সুন্নত পড়েন। এক্ষেত্রে আসলে সঠিক নিয়ম কী?

মাদ্রাসার জন্য জমি দান করার পর আবার সেখান থেকে পৃথক করে মসজিদের জন্য দান করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৩৩০) : আমাদের এলাকার এক ব্যক্তি মাদরাসা প্রতিষ্ঠার জন্য ১০ ডিসিম জমি দান করে। সেখানে একটি অনাবাসিক নূরানী মকতব প্রতিষ্ঠা করা হয়। দুই-তিন বছর পর এলাকার মানুষের প্রয়োজনের কথা বিবেচনা করে মাদরাসা কমিটি সিদ্ধান্ত নিল, মাদরাসার পাশাপাশি একটি জামে মসজিদ নির্মাণ করবে। তাই কমিটির সিদ্ধান্তক্রমে উক্ত ব্যক্তি দানকৃত জমি থেকে ৪ ডিসিম জমি মসজিদের জন্য দান করে এবং সেখানে মসজিদ নির্মাণ করে। আমার প্রশ্ন হল, উক্ত প্রক্রিয়াটি সঠিক হয়েছে কি না? ভুল হলে সংশোধনের উপায় কী? এবং এতদিন এলাকাবাসীর আদায়কৃত নামাযে কোনো সমস্যা হবে কি না? মাদরাসা ও মসজিদে একই কমিটি ও পূর্বের কমিটি অপরিবর্তিত।