সালাত বা নামাজ

সুন্নত নামাযে দাঁড়ানোর পর জামাত শুরু হয়ে গেলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২০৬১) : আমি মসজিদে যোহরের পূর্বের চার রাকাত সুন্নত পড়ছিলাম, এমতাবস্থায় ইকামাত শুরু হয়। তখন আমি চার রাকাত পূর্ণ না করে দুই রাকাত পড়েই সালাম ফিরিয়ে জামাতে শরীক হই। জানার বিষয় হল, চার রাকাতের নিয়ত করে দুই রাকাতে সালাম ফিরিয়ে ফেলাটা কি সঠিক ছিল,নাকি চার রাকাত পূর্ণ করে জামাতে শরীক হওয়া উচিত ছিল?

ওয়াক্ত হওয়ার আগেই আযান দিয়ে ফেললে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২০৬০) : আমাদের এলাকর মসজিদে আমি একদিন এশার আযান দেই। আযানের পর জানতে পারি, এশার ওয়াক্ত এখনো হয়নি। ওয়াক্ত হওয়ার পর লজ্জায় দ্বিতীয়বার আযান দিইনি। মুহতারামের কাছে জানার বিষয় হল, ওয়াক্ত হওয়ার পূর্বে আযান দিলে কি পুনরায় আযান দিতে হয়? লজ্জার কারণে পুনরায় আযান না দেওয়া কি আমার জন্য ঠিক হয়েছে? জানালে উপকৃত হব।

একই ব্যক্তি ইমাম ও মুআযযিন হলে কোনো অসুবিধা আছে?

প্রশ্ন (১২০৫৯) : আমাদের এলাকার মসজিদগুলোতে সাধারণত মুআযযিন থাকে না; বরং ইমাম সাহেবই আযান দিয়ে থাকেন। শরীয়তের দৃষ্টিতে এটা কেমন? আর এক্ষেত্রে ইকামত দেবে কে? ইমাম নিজেই, না অন্য কোনো মুসল্লি? সাধরণত দেখা যায়, ইমাম যাকে বলে সে কিংবা নিয়মিত মুসল্লিদের মধ্যে থেকে কোনো একজন ইকামত দিয়ে থাকে।

অজ্ঞান থাকা অবস্থায় ১০ ওয়াক্ত নামায ছুটে গেলে কি সেগুলো কাযা করতে হবে?

প্রশ্ন (১২০৫৮) : আমি সড়ক দুর্ঘটনায় মারাত্মকভাবে আহত হই এবং সাথেসাথে অজ্ঞান হয়ে যাই। পরবর্তীতে হাসপাতালে চিকিৎসার মাধ্যমে দুই দিন পরে আমার জ্ঞান ফিরে। এই দুই দিনে আমার ১০ ওয়াক্তের নামায ছুটে যায়। মুহতারামের কাছে জানার বিষয় হল, অজ্ঞান থাকা অবস্থায় যে ১০ ওয়াক্ত নামায আমার ছুটে গেছে, তা কি কাযা করতে হবে? জানালে উপকৃত হব।

নামাযে ভুলে মুখে কিছু বলে ফেললে কি নামায বাতিল হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১২০৪৫) : আমি মাগরিবের নামাযে ভুলে মুখে কিছু কথা বলে ফেলি। আমার জানার বিষয় হল, আমার নামায কি সহিহ হয়েছে? না হলে আমাকে কি সেই নামায আবার পড়তে হবে?

সূরা ফাতিহা পড়ার পর অন্য সূরার শুরুতে কি বিসমিল্লাহ পড়া সুন্নত?

প্রশ্ন (১২০৩০) : নামাযের মধ্যে সূরা ফাতিহা পড়ার পর আমি অন্য সূরার শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়ে থাকি। আমি জানি এটা পড়া সুন্নত। কিন্তু কিছুদিন পূর্বে একজন আলেম থেকে শুনলাম, সূরা ফাতিহার পর অন্য সূরার শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়া সুন্নত নয়। তাই আমি হযরতের কাছে সঠিক বিষয়টি জানতে চাচ্ছি।

যোহরের ফরজের আগে চার রাকাত সুন্নত পড়তে না পারলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২০২৯) : আমি মাঝে মাঝে সময় কম থাকার কারণে যোহরের আগের চার রাকাত সুন্নত পড়ি না। যোহরের ফরয আদায়ের পর তা আদায় করি। এক্ষেত্রে আমার জানার বিষয় হলো, এই চার রাকাত সুন্নত কি আমি নামায পরবর্তী দুই রাকাত সুন্নতের আগে পড়ব নাকি পরে পড়ব?

বিতিরের নামাযের পর কি ছুটে যাওয়া তারাবীর নামায পড়া যাবে?

প্রশ্ন (১২০২৭) : রমযান মাসে একদিন এশার জামাতে হাজির হতে দেরি হয়। ফলে আমার এশার নামায ও দুই রাকাত সুন্নত পড়তে পড়তে চার রাকাত তারাবীহ ছুটে যায়। আমি দ্রুত এশার ফরয ও সুন্নত আদায় করে তারাবীতে শরীক হয়ে যাই। পরবতীর্তে বিতির নামায পড়ার পরে ছুটে যাওয়া তারাবীহ আদায় করি। এখন এভাবে বিতিরের পরে তারাবীহ আদায় করা সহিহ হয়েছে কি?

নামাযে সালাম ফিরানোর পদ্ধতি।

প্রশ্ন (১২০২৬) : ক) আমরা জানি, নামায থেকে বের হওয়ার জন্য সালাম ফিরানো ওয়াজিব। কিন্তু এটা কি এক সালামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য না উভয় সালামের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য? কেউ যদি এক সালাম ফিরিয়ে নামায শেষ করে দেয় তাহলে কি কোনো অসুবিধা আছে? খ) সাধারণত লোকদের তিনভাবে সালাম ফিরাতে দেখা যায়। ১. সামনের দিকে চেহারা রেখে السّلَامُ عَلَيْكُمْ বলে। আর وَرَحْمَةُ اللهِ বলার সময় চেহারা ডানে-বামে ফিরায়। অথবা পুরা সালামই চেহারা সামনের দিকে রেখে বলে। এরপর চেহারা ডানে-বামে ফিরায়। ২. সালামের পুরা বাক্যই ডানে বা বামে চেহারা ফিরিয়ে বলে। অর্থাৎ চেহারা ডান বা বাম দিকে ফিরানোর পর السّلَامُ عَلَيْكُمْ বলা শুরু করে। ৩. সামনে থেকে সালাম শুরু করে। সালাম বলতে বলতে ডানে বা বামে চেহারা ফিরায়। যাতে ডানে বা বাম দিকে পূর্ণ চেহারা ফিরানোর সাথে সাথে সালামও শেষ হয়ে যায়। জানার বিষয় হল, এই তিন পদ্ধতির মধ্যে কোন পদ্ধতিটি সহিহ?

ঈদের নামাযের পর ইমাম সাহেব খুতবা পাঠ করার সময় মুসল্লীরা কি তাকবীরে তাশরীক পাঠ করতে পারবে?

প্রশ্ন (১২০২২) : ঈদের নামাযের পর ইমাম সাহেব খুতবা পড়ার সময় অনেককে দেখা যায় ইমাম সাহেবের সঙ্গে তাকবীরে তাশরীক পড়েন। জানার বিষয় হল, ঐ সময় ইমাম সাহেবের সঙ্গে তাকবীর বলা কি ঠিক, না চুপ থেকে খুতবা শোনা উচিত?

ফজরের সুন্নত ফরযের আগে আদায় করতে না পারলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২০২০) : আজকে ফজরের সময় মসজিদে একটি ছেলেকে দেখলাম ফজরের নামাযের পর মসজিদের বারান্দায় গিয়ে দুই রাকাত নামায আদায় করেছে। তাকে জিজ্ঞাসা করলে সে বলে, ফজরের আগে সুন্নত পড়তে পারে নি বিধায় তা ফরযের পর আদায় করেছে। তাই জানতে চাচ্ছি, ফজরের নামাযের আগে সুন্নত পড়তে না পারলে তা ফজরের ফরযের পর সূর্যোদয়ের আগে আদায় করা যাবে কি?

রাস্তার কাঁদা জামায় লাগলে উক্ত অবস্থায় নামায আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২০১৭) : আমাদের মসজিদে যাওয়ার রাস্তা কাঁচাবাজারের ভিতর দিয়ে। আর এই রাস্তায় সবসময় পানি জমে কাঁদা হয়ে থাকে। ফলে মসজিদে যাওয়ার সময় জামায় কাঁদা লেগে যায়। আমি জানতে চাচ্ছি, কাঁদাযুক্ত জামা নিয়ে নামায পড়লে নামায সহিহ হবে কি?

জামায় কবুতরের বিষ্ঠা নিয়ে নামায আদায় করলে নামায সহিহ হবে কি?

প্রশ্ন (১২০১২) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি ঈদগাহে ঈদের নামায পড়ার সময় একটি কবুতর এসে আমার গায়ে বিষ্ঠা ছেড়ে দেয়। উক্ত অবস্থায়ই আমি নামায শেষ করি। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, আমার উক্ত নামায কি সহিহ হয়েছে?

একাকী নামায আদায় করার সময় কি ইকামত বলতে হবে?

প্রশ্ন (১২০০৫) : আমি একটি প্রাইভেট কোম্পানিতে চাকরি করি। আমার মাঝে মাঝেই অফিস থেকে বের হতে দেরি হয়ে যায়। তখন আমি বাসায় এসে নামায আদায় করি। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, আমি বাসায় নামায আদায় করার সময় কি ফরযের পূর্বে ইকামত বলব নাকি ইকামত ছাড়াই নামায শুরু করব?

ইমামের ইক্তিদা সম্পর্কে দুটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২০০৪) : নামায সম্পর্কে আমার কয়েকটি বিষয় জানার ছিল। ১. প্রত্যেক ওঠা-বসার সময় মুক্তাদী কি ইমামের সাতে সব তাকবীর বলবে? ২. মাসবুক ব্যক্তি ইমামের সাতে প্রথম বৈঠকে শরিক হলে কি তাশাহ্হুদ পাঠ করবে?

নামাযে চোখ বন্ধ করে রাখলে কি নামাযের কোনো সমস্যা হবে?

প্রশ্ন (১২০০৩) : নামাযে চোখ বন্ধ করে থাকলে আমার মনোযোগ বেশি হয়। তাই আমি চোখ বন্ধ করেই নামায আদায় করি। আামার জানার বিষয় হলো, চোখ বন্ধ করে নামায আদায় করলে কি নামাযের কোনো সমস্যা হবে?

নামাযের তাকবীরের উচ্চারণে ভুল হলে কি নামাযে কোনো সমস্যা হবে?

প্রশ্ন (১১৯৯৬) : একবার আমাদের এলাকার মসজিদের ইমাম সাহেব ছুটিতে বাড়িতে গিয়েছিলেন। তখন এক মুরুব্বী ইমামতি করেছিলেন। তিনি তাকবীরে তাহরীমা থেকে শুরু করে প্রত্যেকটি তাকবীরেই الله أكبر এর বা-কে টেনে টেনে উচ্চারণ করেন।তো আমার জানার বিষয় হলো, এভাবে তাকবীর পড়ার কারণে কি আমাদের নামাযে কোনো সমস্যা হয়েছে?

নিষিদ্ধ সময়ে জানাযার নামায পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১১৯৯৪) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আসরের নামাযের পর আমাদের মসজিদে একটি জানাযা উপস্থিত হয়। কিন্তু মৃত ব্যক্তির অভিভাবক ও নিকটাত্মীয়রা আসতে দেরি হওয়ায় নামায বিলম্বিত করা হয়। তখন উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে মতানৈক্য সৃষ্টি হয় যে, এই সময়ে জানাযার নামায পড়া যাবে কিনা। তো আমার জানার বিষয় হলো, এই সময়ে জানাযার নামায পড়ার বিধান কী?

ইমাম সাহেবের আগে রুকুতে চলে গেলে কি নামাযে কোনো সমস্যা হবে?

প্রশ্ন (১১৯৯৩) : আমি ইমাম সাহেবের পিছনে মাগরিবের নামায আদায় করছিলাম। ইমাম সাহেব প্রথম রাকাতে রুকুতে যাওয়ার আগেই আমি রুকুতে চলে যাই। আমি রুকুতে যাওয়ার পর ইমাম সাহেব রুকুতে যায়। তখন আমি তার সাথে রুকুতে শরিক থাকি। আমার জানার বিষয় হলো, ইমাম সাহেবের আগে রুকুতে যাওয়ার কারণে কি আমার নামাযে কোনো সমস্যা হয়েছে?