সালাত বা নামাজ

মুক্তাদী নামাযে ভুল করলে কি তার উপর সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২১২৬) : একদিন এশার নামাযে দ্বিতীয় রাকাতে বসার সময় ইমাম সাহেব কিছুটা দীর্ঘ করে তাকবীর বলেন। একারণে আমরা কয়েকজন মুক্তাদি দাঁড়িয়ে যাই। এরপর অন্যদের দেখে আবার বসে পড়ি এবং শেষে ইমামের সাথেই সালাম ফিরাই। জানার বিষয় হল, এভাবে দাঁড়িয়ে যাওয়ার কারণে কি আমাদের উপর সাহু সিজদা আবশ্যক হয়েছে?

কাউকে বিপদে পড়তে দেখলে নামায ছেড়ে দেওয়া জায়েয আছি কি?

প্রশ্ন (১২১২৫) : আমার আট মাসের বাচ্চাকে খাটের উপর ঘুমন্ত অবস্থায় রেখে আমি খাটের পাশে আসরের নামায পড়তে দাঁড়াই। ইতিমধ্যে ঘুম ভেঙ্গে গেলে বাচ্চা কাঁদতে শুরু করে এবং গড়াগড়ি করে খাটের পাশে চলে যায়। এ অবস্থা দেখে নিচে পড়ে যাওয়ার ভয়ে আমি নামায ছেড়ে দিয়ে বাচ্চাকে কোলে নিই। জানার বিষয় হল, আমার উক্ত নামায ছেড়ে দেওয়া কি ঠিক হয়েছে?

কোথাও সফরে গেলে কি সুন্নত নামায আদায় করা জরুরী?

প্রশ্ন (১২১২২) : কিছুদিন আগে দশ দিনের জন্য আমরা তাবলীগে গিয়েছিলাম। আমাদের রোখ সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থানায় ছিল। সেখানে গিয়ে আমরা একাকী নামায পড়লে কসর করতাম এবং নামাযের আগে পরের সুন্নাতগুলোও গুরুত্বের সাথে আদায় করছিলাম। আমাদের জামাতের আমীর সাহেব ফরয নামায কসর পড়লেও নামাযের আগে-পরের সুন্নতগুলো পড়তেন না এবং অন্যদেরকেও পড়তে নিষেধ করতেন। বলতেন যে, সফরে সুন্নাত পড়তে হয় না। আমরা যারা আগে থেকেই এই ধরনের সফরে সুন্নাত পড়ে আসছি, তার এই কথা শুনে বেশ সংশয়ে পড়ে যাই। এবং আমাদের অনেক সাথি সুন্নাত পড়া বন্ধ করে দেয়। এখন মুফতী সাহেবের কাছে আমি বিষয়টির সঠিক সমাধান জানতে চাচ্ছি যে, সফরে নামাযের আগে-পরের সুন্নাত আদায়ের বিধান কী?

ইমাম সাহেব ভুলে প্রথম বৈঠকে না বসে দাঁড়িয়ে গেলে করণীয় কি?

প্রশ্ন (১২১২১) : একদিন যোহরের নামাযের ইমাম সাহেব মসজিদে ছিলেন না। তখন মুসল্লিদের থেকে একজন নামায পড়ালেন। তিনি ভুলক্রমে প্রথম বৈঠক না করেই তৃতীয় রাকাতে দাঁড়িয়ে গেলেন। পেছন থেকে লোকমা দিলেও তিনি বসলেন না এবং শেষে সাহু-সিজদা করে নামায শেষ করেন। তো আমি জানতে চাচ্ছি, আমাদের উক্ত নামায কি সহিহ হয়েছে ?

মুক্তাদীর তাশাহ্হুদ শেষ হওয়ার আগে ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে গেলে মুক্তাদী কী করবে?

প্রশ্ন (১২১১১) : গতকাল যোহরের নামাযের প্রথম বৈঠকে তশাহহুদ পড়ছিলাম। আমার তাশাহ্হুদ শেষ হওয়ার আগেই ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে যান। এমতাবস্থায় আমি দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে যাই- ইমামের সঙ্গে দাঁড়িয়ে যাব, নাকি তাশাহহুদ শেষ করে দাঁড়াব? পরে অবশ্য তাশাহহুদ শেষ করেই দাঁড়াই। হুজুরের কাছে জানার বিষয় হল, উল্লেখিত সুরতে আমার করণীয় কী ছিল? তাশাহহুদ শেষ করে দাঁড়ানো কি ঠিক হয়েছে?

তাকবীর বলে রুকুতে যাওয়ার সাথে সাথে ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে গেলে কি ঐ রাকাত ধর্তব্য হবে?

প্রশ্ন (১২১০৪) : একদিন আসরের নামাযের সময় মসজিদে গিয়ে ইমাম সাহেবকে দ্বিতীয় রাকাতের রুকুতে পাই। তখন আমি তাড়াতাড়ি তাকবীর বলে রুকুতে চলে যাই। কিন্তু রুকুতে পৌঁছার সাথে সাথেই ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে যান। তখন আমিও ইমামের সাথে আবার দাঁড়িয়ে যাই। এই অবস্থায় কি দ্বিতীয় রাকাত পেয়েছি বলে ধর্তব্য হবে? নাকি আমি এই রাকাত পাইনি? আবার কখনো এমন হয় যে, রুকুতে পুরোপুরি পৌঁছার আগেই ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে যান। তখনই বা কী করণীয়? রুকু পাওয়ার জন্য ন্যূনতম অবস্থা কী?

মুক্তাদী তাশাহ্হুদ শেষ করার আগেই ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে গেলে মুক্তাদীর করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২১০১) : আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব একটু দ্রুত তারাবী পড়ান। ফলে কখনো কখনো আমি তাশাহহুদ পড়ে শেষ করার আগেই ইমাম সাহেব সালাম ফিরিয়ে ফেলেন। তেমনিভাবে অন্যান্য নামাযের প্রথম বৈঠকে কখনো কখনো আমরা মুক্তাদীরা তাশাহহুদ পড়ে শেষ করার আগেই তিনি তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যান। জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় আমরা কি তাশাহহুদ পূর্ণ করব, নাকি তাশাহহুদ পূর্ণ না করেই ইমামের অনুসরণ করে দাঁড়িয়ে যাব বা সালাম ফিরিয়ে ফেলব?

দুই তাকবীরের মাঝে কিছু সময় বিলম্ব করলে নামাযে কোনো সমস্যা হবে কি?

প্রশ্ন (১২১০০) : এবার ঈদগাহে ঈদের নামায পড়ানোর সময় মাইকে সমস্যা হওয়ায় মুকাব্বির ঠিক করে দেই। ঈদের জামাত বেশ বড় ছিল। তাই অতিরিক্ত তাকবীর বলার সময় দুই তাকবীরের মাঝে কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে ছিলাম। যাতে সকলেই তাকবীর বলে শেষ করতে পারে। হুজুরের নিকট জানতে চাই, দুই তাকবীরের মাঝে কিছু সময় চুপ করে দাঁড়িয়ে থাকার কারণে ঐ নামাযের কি কোনো সমস্যা হয়েছে?

নামাযের মাঝে ঘড়ি দেখলে কি নামাযের কোনো সমস্যা হবে?

প্রশ্ন (১২০৯৯) : মসজিদের সামনের দেয়ালে একটি ডিজিটাল ঘড়ি লাগানো হয়েছে। তো অনেক সময় যোহরের নামায পড়ার জন্য মসজিদে এসে টাইম না দেখেই সুন্নত পড়তে শুরু করি। সুন্নত শুরু করার পর জামাত দাঁড়িয়ে যাওয়ার আশংকা হলে সুন্নত শেষ করতে পারব কি না নিশ্চিত হওয়ার জন্য ঘড়ি দেখি। জানার বিষয় হলো, নামাযের মধ্যে সময় দেখার উদ্দেশ্যে ঘড়ি দেখলে নামাযের কি কোনো ক্ষতি হয়?

ইমাম সাহেব সাহু সিজদা দেওয়ার পর জামাতে শরীক হলে কি ইক্তিদা সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২০৯৮) : গতকাল এশার নামাযে ইমাম সাহেব সাহু সিজদা দেওয়ার পর আমি জামাতে শরীক হয়েছি। নামায শেষ করার পর আমার সন্দেহ হয় যে, ইমাম সাহেব সাহু সিজদা করার পর আমার ইক্তেদা করা সহিহ হল কি না? দয়া করে বিষয়টি জানিয়ে বাধিত করবেন।

তারাবীর নামায ভুলে একসাথে চার রাকাত আদায় করে ফেললে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২০৯৭) : আমি আমাদের গ্রামের মসজিদে খতম তারাবী পড়াই। কয়েকদিন আগে তারাবী নামাযে দুই রাকাতের পর বৈঠক না করে ভুলে দাঁড়িয়ে যাই এবং একসঙ্গে চার রাকাত পড়ে সাহু সিজদা করে সালাম ফেরাই। নামায শেষে একজন বললেন, তারাবী নামাযে প্রত্যেক দুই রাকাতের পর বৈঠক করা ফরয। আপনি যেহেতু ফরয তরক করেছেন, তাই সাহু সিজদা করলেও নামায সহিহ হয়নি। সুতরাং আগামীকাল তারাবী নামায শুরু হওয়ার আগে এই চার রাকাত নামায পুনরায় পড়িয়ে দেবেন। আমি ইমাম সাহেবের নির্দেশ অনুযায়ী ঐ চার রাকাত নামায পরদিন রাতে তারাবীর নামায শুরু হওয়ার আগে ছোট ছোট সূরা দিয়ে পড়িয়ে দেই। মুহতারামের নিকট জানার বিষয় হল, বাস্তবেই কি তারাবী নামাযে দুই রাকাতের পর ভুলে বৈঠক না করে একসঙ্গে চার রাকাত পড়ে নিলে (শেষে সাহু সিজদা করলেও) পুরো নামায ফাসেদ হয়ে যায়, নাকি এক্ষেত্রে সাহু সিজদা করাই যথেষ্ট?

মাসবুক ব্যক্তি ইমাম সাহেবের সাথে সালাম ফিরিয়ে ফেললে কি তার নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২০৯৬) : কখনো কখনো মাসবুক হলে শেষ বৈঠকে তা স্মরণ থাকে না। ভুলে ইমাম সাহেবের সাথে সালাম ফিরিয়ে ফেলি। প্রথম সালাম ফিরিয়ে নেওয়ার পর মাসবুক হওয়ার বিষয়টি মনে পড়ে। এক্ষেত্রে কি আমার নামায ভেঙে যাবে। আর যদি না ভাঙে, তাহলে কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে?

ভুলে ওযু ছাড়া নামায পড়ানোর পর মনে পড়লে করণীয়।

প্রশ্ন (১২০৯১) : আমি একটি মসজিদে ইমামতি করি। গতকাল এশার নামাযের সময় আমার ওযু আছে মনে করে নামায পড়িয়ে দেই। নামাযের পর মুসল্লীরা সবাই যখন যার যার বাড়িতে চলে যায় তখন আমার মনে পড়ে, আমি তো ওযু ছাড়াই নামায পড়িয়ে দিয়েছি। হযরতের কাছে জানতে চাই, এ অবস্থায় আমাদের জন্য করণীয় কী?

কাতারের মাঝখানে ফাঁকা রেখে নামায পড়লে কি কোনো সমস্যা হবে?

প্রশ্ন (১২০৮৯) : আমাদের এলাকায় একটি মাহফিল হয়। তাতে অনেক লোকসমাগম হয়। তাই কর্তৃপক্ষ এশার জামাত মাহফিলের মাঠেই করার সিদ্ধান্ত নেয়। সেদিন এখানে বৃষ্টি ছিল। তাই নামাযের কাতার সোজা করার সময় দেখা গেল যে, মাঠের মধ্যখানে তিনটি কাতারের মাঝামাঝি অংশে উপরে শামিয়ানা না থাকায় বৃষ্টির পানি পড়ছে। তাই লোকেরা এ কাতারগুলোর ডান পাশে ও বাম পাশে দাঁড়াতে পারলেও মাঝের অংশ খালি রেখে পেছনে গিয়ে দাঁড়ায়। মুহতারামের কাছে জানার বিষয় হল যে, যাদের সামনে কাতারগুলোর মাঝখানের অংশ ফাঁকা ছিল তাদের নামায কি সহিহ হয়েছে?

নামাযের মাঝে নিয়ত ছেড়ে দিয়ে আবার নামায শুরু করলে কি ইকামত দেওয়ার প্রয়োজন আছে?

প্রশ্ন (১২০৮৩) : আমি আমাদের মাদরাসা মসজিদে ইমাম সাহেবের পেছনে মাগরিবের নামায আদায় করছিলাম। ইমাম সাহেব তৃতীয় রাকাতে রুকু থেকে দাঁড়িয়ে হঠাৎ বলে উঠলেন, আমরা নিয়ত ছেড়ে দিই। তাই মুসল্লিরা সবাই নিয়ত ছেড়ে দেয়। অতঃপর তিনি একজন ছাত্রকে নামায পড়ানোর জন্য বলে ওযু করতে চলে যান। পরে ঐ ছাত্র তখনই পুনরায় নামায পড়িয়ে দেন। তবে দ্বিতীয়বার জামাত করার সময় ইকামত দেওয়া হয়নি। জানার বিষয় হল, এক্ষেত্রে পুনরায় ইকামত না দেওয়া কি ঠিক হয়েছে?

ওজরবশত ইমাম সাহেবের আগে সালাম ফিরালে নামাযে সমস্যা হবে কি?

প্রশ্ন (১২০৮২) : মসজিদের নিচ তলায় জায়গা না থাকায় আমরা কয়েকজন মুসল্লী আসরের নামাযের সময় মসজিদের দ্বিতীয় তলায় জামাতে দাঁড়াই। চতুর্থ রাকাতে ইমাম সাহেব সিজদা থেকে ওঠার পর হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যায়। তখন আমরা তাশাহহুদ, দরুদ শরীফ, দুআ মাসূরা পড়ে নিজে নিজেই সালাম ফিরিয়ে ফেলি। আমরা সালাম ফিরানোর পরপরই বিদ্যুৎ চলে আসে এবং আমরা তখন ইমাম সাহেবের সালাম ফিরানোর আওয়াজ শুনতে পাই। মুহতারামের কাছে জানতে চাই, উক্ত অবস্থায় ইমামের আগে সালাম ফিরানোর কারণে কি আমাদের নামায নষ্ট হয়ে গেছে?

কানটুপি দ্বারা কপাল ঢেকে থাকলে কি সিজদা আদায় হবে?

প্রশ্ন (১২০৮১) : শীতকালে শেষ রাতে প্রচণ্ড শীতের কারণে আমি কানটুপি ব্যবহার করি এবং সাধারণত এটি পরেই ফজরের নামায আদায় করি। এক্ষেত্রে কখনো এমনও হয় যে, কানটুপি পরার কারণে কপাল ঢেকে যায় এবং ঐ অবস্থাতেই সিজদা আদায় করা হয়। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, কপাল কানটুপি দ্বারা আবৃত অবস্থায় সিজদা করার দ্বারা আমার সিজদা আদায় হবে কি?

সুন্নত নামাযে কি উচ্চৈঃস্বরে কেরাত পাঠ করা যাবে?

প্রশ্ন (১২০৮০) : একদিন আমি মাগরিবের ফরয নামায মসজিদে পড়ে বাসায় এসে সুন্নতের নিয়ত বাঁধি। বাইরে থেকে অনেক আওয়াজ আসছিল। তাই নামাযে একাগ্রতা আনার জন্য আমি উচ্চৈঃস্বরে কেরাত পড়ি। নামায শেষে খটকা লাগে, এভাবে জোরে কেরাত পড়ার কারণে নামাযে কোনো অসুবিধা হয়নি তো? তাই হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, আমার ওপর কি সিজদায়ে সাহু ওয়াজিব হয়েছিল? আমি সাহু সিজদা করিনি; আমার নামাযের কী হুকুম

এশার নামায আদায় করার আগে তারাবীর নামায আদায় করলে কি তা সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২০৭৯) : রমযান মাসে একদিন এশার জামাতে মসজিদে যেতে দেরি হয়ে যায়। মসজিদে পৌঁছে দেখি, তারাবী শুরু হয়ে গেছে। তখন আমি খতম ছুটে যাবে মনে করে এশার নামায না পড়েই তারাবীতে শরীক হয়ে যাই। পরে বাসায় এসে এশা ও বিতির আদায় করি। জানার বিষয় হল, আমার উক্ত তারাবী কি সহিহ হয়েছে?

ইমাম সাহেবের জন্য মেহরাবের ভিতরে দাঁড়িয়ে নামায পড়ার হুকুম কী?

প্রশ্ন (১২০৭০) : বর্তমানে অধিকাংশ মসজিদেই দেখা যায় ইমাম সাহেব মেহরাবের ভিতরে দাঁড়িয়ে নামায পড়ান। আমি জানতে চাচ্ছি, ইমাম সাহেবের জন্য মেহরাবের ভিতরে দাঁড়িয়ে নামায পড়ার হুকুম কী?