সালাত বা নামাজ

ঈদের নামাযের প্রথম রাকাতে ইমাম সাহেবের সাথে অতিরিক্ত তাকবীর বলতে না পারলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২২৫৪) : গত কুরবানীর ঈদে ঈদগাহে যেতে আমার দেরি হয়ে যায়। আমি ঈদগাহে গিয়ে দেখি ইমাম সাহেব প্রথম রাকাতে কেরাত পড়ছেন। তখন আমি তাকবীরে তাহরীমা বলে জামাতে শরীক হই। নামায শেষে পাশের মুসল্লি আমাকে বললেন, ‘আপনার ছুটে যাওয়া তাকবীরগুলো শুরুতেই আদায় করে নিতে হত।’ জানতে চাই, লোকটি কি ঠিক বলেছে? ঈদের নামাযে প্রথম রাকাতের কেরাত অবস্থায় জামাতে শরীক হলে তাকবীর আদায়ের নিয়ম কী?

নামাযের মাঝখানে ওজরের কারণে বসে পড়লে কি কোনো সমস্যা হবে?

প্রশ্ন (১২২৫৩) : আলহামদুলিল্লাহ, আমি নিয়মিত সুন্নাহ মোতাবেক নামায আদায় করার চেষ্টা করি। গত কয়েকদিন আগে আমি ইমাম সাহেবের সাথে নামায শুরু করি। হঠাৎ নামাযের দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়ানো অবস্থায় আমার মাথা প্রচুর চক্কর দেয়া শুরু করে। তখন আমার চোখের সামনে সব অন্ধকার মনে হচ্ছিল। ঐ সময় আমি অপারগ হয়ে বসে পড়ি এবং বাকি নামায বসে আদায় করি। জানার বিষয় হল, আমার এভাবে বসে নামায আদায় করা কি ঠিক হয়েছে?

জাহাজ সমুদ্রে থাকাকালীন যাত্রীদের জন্য মুকিম হওয়ার নিয়ত প্রযোজ্য নয়।

প্রশ্ন (১২২৫২) : আমি মাছ ধরার একটি সামুদ্রিক জাহাজ চালিয়ে থাকি। অনেক সময় দেখা যায়, তীরবর্তী এলাকাগুলোতে মাছ ধরা যায় না। আমরা তখন গভীর সমুদ্র অর্থাৎ আন্তর্জাতিক সমুদ্র সীমানা পর্যন্ত পৌঁছি, যা সফরের দূরত্বের চেয়ে অনেক বেশি এবং একাধারে ৪-৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ২০-২৫ দিন থাকি। লক্ষ্য অর্জন হলে গন্তব্যে ফিরে আসি। হুযুরের কাছে যে বিষয়ে জানতে চাচ্ছি, উক্ত স্থানটিতে থাকাকালীন আমি এবং আমার অন্য সাথীরা কীভাবে নামায পড়ব? কসর না পূর্ণ নামায পড়ব?

তারাবীর নামায সংক্রান্ত দুটি প্রশ্ন।

প্রশ্ন (১২২৫১) : ১. তারাবীর নামাযে চার রাকাত পর পর মুসল্লীরা নিম্নোক্ত দুআ- سُبْحَانَ ذِي الْمُلْكِ وَالْمَلَكُوتِ، سُبْحَانَ ذِي الْعِزّةِ وَالْعَظمَةِ ... পড়ে থাকেন। এ সময় আসলে কী করণীয়? এ দুআ পড়বে নাকি ভিন্ন কোনো দুআ পড়বে? এ দুআ পড়ার অবকাশ আছে কি? ২. মাঝে মাঝে এমন হয় যে, দেরি করে আসার কারণে ইশার নামায শেষ করে তারাবীতে শরীক হতে হতে ৪/৬ রাকাত হয়ে যায়। ২০ রাকাত পড়ানোর পর ইমাম সাহেব বিতিরের জন্য দাঁড়িয়ে যান। তখন আমার কী করণীয়? তারাবীর বাকি রাকাতগুলো পড়তে গেলে বিতির ছুটে যাওয়ার আশংকা হয়। জানিয়ে বাধিত করবেন।

মুখ ঢেকে নামায পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২৫০) : শীতকালে শেষ রাতে আমাদের এলাকায় প্রচণ্ড কুয়াশা পড়ে। একদিন ফজরের নামাযের সময় আমি ও আমার ভাই ঘর থেকে রুমাল দিয়ে নাক-মুখ পেঁচিয়ে বের হই। মসজিদে গিয়ে সে এভাবেই সুন্নত পড়তে দাঁড়িয়ে যায়। তখন এক লোক আমাকে বললেন, তোমার ভাইকে বলবে রুমাল দিয়ে নাক-মুখ পেঁচিয়ে নামায পড়া মাকরূহ। জানার বিষয় হল, ঐ লোকের কথা কি ঠিক?

রমযান মাসে জামাতের সাথে বিতিরের নামায আদায়কালীন দুআয়ে কুনূত পড়ে শেষ করার আগে ইমাম সাহেব রুকুতে চলে …

প্রশ্ন (১২২৪৯) : আমি রমযান মাসে বিতিরের নামাযে মাঝে মাঝে এ সমস্যার সম্মুখীন হই যে, দুআয়ে কুনূত পুরোপুরি শেষ করার পূর্বে ইমাম সাহেব তাকবীর বলে রুকুতে চলে যান। হুজুরের নিকট জানতে চাচ্ছি, এ অবস্থায় আমার করণীয় কী? ইমামের সাথে রুকুতে শরীক হব, নাকি কুনূতের বাকি অংশ পূর্ণ করব?

জাহাজ সমুদ্রে থাকাকালীন যাত্রীরা মুকিম হওয়ার নিয়ত করতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২২৪৮) : আমি মাছ ধরার একটি সামুদ্রিক জাহাজ চালিয়ে থাকি। অনেক সময় দেখা যায়, তীরবর্তী এলাকাগুলোতে মাছ ধরা যায় না। আমরা তখন গভীর সমুদ্র অর্থাৎ আন্তর্জাতিক সমুদ্র সীমানা পর্যন্ত পৌঁছি, যা সফরের দূরত্বের চেয়ে অনেক বেশি এবং একাধারে ৪-৫ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ২০-২৫ দিন থাকি। লক্ষ্য অর্জন হলে গন্তব্যে ফিরে আসি। হুযুরের কাছে যে বিষয়ে জানতে চাচ্ছি, উক্ত স্থানটিতে থাকাকালীন আমি এবং আমার অন্য সাথীরা কীভাবে নামায পড়ব? কসর না পূর্ণ নামায পড়ব?

জুমার খুতবা চলাকালীন দান বাক্স চালানো যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২৪৬) : আমাদের এলাকায় জুমার দিন বিভিন্ন মসজিদে খুতবার সময় দানবাক্স চালাতে ও এক-দু’জন উঠে মুসল্লিদের থেকে টাকা উঠাতে দেখা যায়। জানার বিষয় হল, খুতবা চলাকালীন দানবাক্স চালানো বা উঠে টাকা উঠানো শরীয়তের দৃষ্টিতে কেমন?

নামাযের মাঝখানে ওজরের কারণে বসে পড়লে কি কোনো সমস্যা হবে?

প্রশ্ন (১২২৪৫) : আলহামদুলিল্লাহ, আমি নিয়মিত সুন্নাহ মোতাবেক নামায আদায় করার চেষ্টা করি। গত কয়েকদিন আগে আমি ইমাম সাহেবের সাথে নামায শুরু করি। হঠাৎ নামাযের দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়ানো অবস্থায় আমার মাথা প্রচুর চক্কর দেয়া শুরু করে। তখন আমার চোখের সামনে সব অন্ধকার মনে হচ্ছিল। ঐ সময় আমি অপারগ হয়ে বসে পড়ি এবং বাকি নামায বসে আদায় করি। জানার বিষয় হল, আমার এভাবে বসে নামায আদায় করা কি ঠিক হয়েছে?

মাযুর ব্যক্তির নামায কাযা সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২২৪৪) : কিছুদিন আগে আমার পরিচিত একজন গাড়ি এক্সিডেন্ট করে এবং মাথায় গুরুতর আঘাত পায়। তখন তার মাথায় অপারেশন করা লাগে। এরপর মাথায় ব্যান্ডেজ অবস্থায় ছিল কিছুদিন। প্রথম কয়েকদিন বিছানায় পুরো শায়িত ছিল। মাথা নাড়ানো সম্ভব ছিল না। ডাক্তাররাও কয়েকদিন মাথা না নাড়ানোর কথা বলেছিলেন। এখন সে কিছুটা সুস্থ হয়ে উঠেছে। প্রশ্ন হল, সে যে কয়দিন পুরো শায়িত ছিল ওই দিনগুলোর নামাযের হুকুম কী? একজন বলেছে, মাথা না নাড়াতে পারলেও যেহেতু তার জ্ঞান ছিল তাই ওই কয়দিনের নামায তার চোখের ইশারায় পড়া জরুরি ছিল। তাই ওই কয়দিন নামায না পড়া অন্যায় হয়েছে। তার একথা কি ঠিক? এখন সে ওই নামাযগুলোর জন্য কী করবে? বিস্তারিত জানতে চাই।

নামাযে সিজদার আয়াত পাঠ করার পর সিজদা দিতে ভুলে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২২৪০) : নামাযের মধ্যে সিজদার আয়াত পাঠের পর ভুলে যথাসময়ে সিজদা আদায় না করলে কী করণীয়? একজন হাফেজ সাহেব বললেন যে, নামায শেষ হওয়ার আগে যদি স্মরণ হয়ে যায় তাহলে তা আদায় করে নিবে এবং পরে সাহু সিজদা করবে। তার কথাটি কি ঠিক?

মাগরিবের আযানের পর ফরযের আগে কোনো নফল নামায পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২২৮) : মুহতারামের নিকট আমার জানার বিষয় হল, মাগরিবের আযানের পরে ফরয নামাযের আগে নফল নামায পড়ার হুকুম কী? এবিষয়ে কোনো এক আলেমকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, পড়া যাবে। কেননা বিভিন্ন সাহাবীরা পড়েছেন। অন্য একজনকে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, মাকরূহে তানযিহী-এর সাথে হবে; কেননা খুলাফায়ে আরবাআসহ উল্লেখযোগ্য কোনো সাহাবী পড়েননি। এ বিষয়ে শরয়ী সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

নামাযে ইশারা করে কিছু বললে কি নামায ভেঙে যায়?

প্রশ্ন (১২২২৭) : আমি ও আমার বন্ধু একদিন তার ইমামতিতে আছরের নামায পড়ছিলাম। সালাম ফেরানোর পর রাকাত নিয়ে তার সন্দেহ হয়। তাই সে আমাকে হাতের ইশারায় জিজ্ঞেস করে যে, নামায তিন রাকাত হয়েছে, না চার রাকাত? আমি হাত ও মাথা দিয়ে ইশারা করে বুঝাই যে তিন রাকাত হয়েছে। সে দাঁড়িয়ে আরেক রাকাত পড়ে সাহু সিজদা দিয়ে নামায শেষ করে। কিন্তু আমার সন্দেহ হয় যে, এভাবে ইশারা করার পর এ নামায সহিহ হয়েছে কি না? তাই আমি পুনরায় নামাযটি পড়ে নিই। এখন জানার বিষয় হল, আমাদের উক্ত নামায সহিহ হয়েছিল কি না? পুনরায় নামায পড়া কি আমার ঠিক হয়েছে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

সফরে দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে এক ওয়াক্তে পড়া জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২২১২) : আমি রিয়াদের মুহাম্মদ বিন সাউদ ইউনিভার্সিটির একজন ছাত্র। আমাদের ভার্সিটি থেকে প্রায়ই ছাত্র জামাত ওমরার উদ্দেশ্যে মক্কায় গিয়ে থাকে। সুযোগ হলে আমিও তাদের সাথে শরীক হই। আমার সফরসঙ্গীরা তাদের হাম্বলী মাযহাব অনুযায়ী যাত্রাপথে বিরতি দিয়ে দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে আদায় করে নেয়। কিন্তু আমাদের হানাফী মাযহাব অনুসারে যেহেতু দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে পড়ার নিয়ম নেই, তাই আমি তাদের সাথে জামাতে শরীক না হয়ে শুধু ওয়াক্তের নামায একাকী পড়ি। পরবর্তী ওয়াক্তের নামায সফরে বিরতি না হওয়ার কারণে বাধ্য হয়েই আমাকে কাযা করতে হয়। অবশ্য আমাকে অনেকে বলেছেন, তুমি চাইলে তাদের সাথে দুই ওয়াক্তের নামায একত্রে পড়তে পারো। আসলেই কি এভাবে দুই ওয়াক্তের নামায আমার জন্য একত্রে পড়ার সুযোগ রয়েছে? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

নামাযী ব্যক্তির দিকে মুখ করে বসলে কোনো সমস্যা আছে কি?

প্রশ্ন (১২২১১) : একদিন মসজিদে কিবলার দিকে পিঠ করে বসে তিলাওয়াত করছিলাম। এর মধ্যে এক ব্যক্তি এসে আমার সামনে নামাযে দাঁড়িয়ে যায়। বলা হয়ে থাকে যে, নামাযীর দিকে মুখ করে বসা জায়েয নয়। কথাটি সঠিক কি না? বাস্তবে বিষয়টি এমন হয়ে থাকলে প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে গোনাহগার কে হবে? আমি, না ঐ নামাযী ব্যক্তি, যে হঠাৎ আমার সামেন এসে দাঁড়িয়ে গেল?

কাযা নামায বাকি রেখে ওয়াক্তিয়া নামায আদায় করলে কি আদায় হবে?

প্রশ্ন (১২২০২) : আমি একদিন ফজরের নামায পড়তে পারি নাই। সূর্য উদয় হলে পড়ে নিব ভাবছিলাম। কিন্তু আমার মনে ছিল না। তারপর যোহরের নামায পড়ার পর আমি ফজরের কাযা নামায আদায় করি। এখন কি আমার যোহরের ফরয নামায বাতিল হয়ে যাবে? আমি একজন আলেমের কাছ থেকে শুনেছিলাম যে, কোনো ব্যক্তির এক ওয়াক্ত নামায তার জিম্মা থেকে ছুটে গেল পরবর্তী ওয়াক্তের পরে তা কাযা আদায় করলে পূর্ববর্তী নামাযের ফরযিয়াত বাতিল হয়ে যাবে। তাই দয়া করে সঠিক মাসআলা জানাবেন। উল্লেখ্য: আমার অনেক ওয়াক্তের নামায কাযা আছে।

মাসবুক ব্যক্তি বৈঠক করতে ভুলে গেলে কি তার উপর সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২১৮৮) : গতকাল মাগরিবের নামাযে মসজিদে যেতে আমার দেরি হয়ে যায়। আমি ইমামকে তৃতীয় রাকাতে পাই। ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর আমি ছুটে যাওয়া দুই রাকাত নামায পড়তে দাঁড়াই। অন্য মুসল্লিরাও সুন্নত পড়তে দাঁড়ায়। আমি সুন্নত পড়ার মত দুই রাকাত পড়ি। আমার প্রথম রাকাতের পর বৈঠক করার কথা ভুলে যাই। সাহু-সিজাদও করিনি। এরপর সুন্নাত পড়ার সময় বিষয়টি মনে পড়ে। আমার উক্ত নামায কি হয়েছে?

মাজুর ব্যক্তির পিছনে তারাবীহের ইক্তিদা করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২১৮৭) : গত রমযানে তাবলীগের এক সফরে আমি ইন্ডিয়া ছিলাম। রোখের এক মসজিদে আমরা দেখলাম, একজন বৃদ্ধ হাফেজ হুইল চেয়ারে বসে তারাবীহ পড়াচ্ছেন। আর মুক্তাদীগণ সকলেই তার পিছনে দাঁড়িয়ে তারাবীহ পড়ছেন। এমন অবস্থার সম্মুখীন আমরা প্রথম হলাম। তাই কী করব- এ নিয়ে আমরা বেশ সংশয়ে ছিলাম। এবং শেষ পর্যন্ত আমরাও এলাকার ভাইদের মতই তার পিছনে তারাবীহ আদায় করি। এখন আমি জানতে চাচ্ছি যে, এভাবে হুইল চেয়ারে বসে ইমামতি করা ও তার পিছনে ইক্তিদা করা কি জায়েয আছে? এবং আমাদের উক্ত দিনগুলির তারাবীহ কি সহিহ হয়েছে?

নামাযের পর তাকবীরে তাশরীক বলতে ভুলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২১৮৬) : আমি গত ঈদুল আযহার দিন আসরের নামাযে মাসবুক হই। ইমাম সাহেব সালাম ফেরানোর পর সবাই যখন তাকবীরে তাশরীক বলে তখন আমারও তাকবীরের কথা স্মরণ হয়। কিন্তু অবশিষ্ট নামায শেষ করে সালাম ফেরানোর পর তাকবীর বলতে ভুলে যাই। বাসায় যাওয়ার পর তাকবীরের কথা স্মরণ হলে তৎক্ষণাৎ একবার তাকবীর বলে নেই। জানার বিষয় হল, আমার ঐ ওয়াক্তের তাকবীর কি আদায় হয়েছে? না হয়ে থাকলে এখন করণীয় কী?

যানবাহনে নামাযরত অবস্থায় যানবাহন ঘুরে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২১৮৫) : লঞ্চে করে লালমোহন থেকে ঢাকায় আসার পথে খালের মাঝে অতিরিক্ত বাঁক থাকায় আমরা আসরের নামায বিলম্ব করে সূর্য ডোবার আগ মুহূর্তে আরম্ভ করি। নামাযের মাঝে হঠাৎ লঞ্চটি ঘুরতে শুরু করে। তখন ইমাম সাহেবও ঘুরতে থাকেন। আর ইমাম সাহেবের দেখাদেখি মুসল্লিরাও ঘুরতে থাকে। আরো আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, ইমাম সাহেব ঘুরার সাথে সাথে ডান দিকে ঘেষে এক-দু পা করে হাঁটতেও থাকেন। বিষয়টি আমার কাছে অদ্ভুত লাগায় পাশের ভাইকে জিজ্ঞেস করলে সে এ বলে উত্তর দেয় যে, হয়ত কিবলা ঠিক রাখার জন্য সকলে ঘুরতে থাকে। অন্যথায় পূর্বদিকে ফিরে নামায আদায় করা হত। আর ইমাম সাহেব যদি তখন না হাটতেন তাহলে মুসল্লিদের পিছনে চলে যেতেন। তাই হয়ত তিনিও হেঁটেছেন। হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, আমাদের উক্ত নামায আদায় হয়েছে কি?