সালাত বা নামাজ

ঈদের নামাযে মাসবুক হলে ছুটে যাওয়া রাকাত আদায় করার পদ্ধতি।

প্রশ্ন (১২৩১১) : গত রোযার ঈদে মাঠে যেতে দেরি হওয়ায় আমার ও আমার ছোট ভাইয়ের ঈদের নামায এক রাকাত ছুটে যায়। তারপর ইমাম সাহেবের সালাম ফেরানোর পর আমরা আমাদের ছুটে যাওয়া নামায পূর্ণ করি। আমি দাঁড়িয়ে প্রথমে অতিরিক্ত তাকবীর বলেছি, তারপর কেরাত পড়েছি। কিন্তু আমার ছোট ভাই কেরাত পড়ার পর অতিরিক্ত তাকবীর বলেছে। নামাযের পর তাকে জিজ্ঞেস করলে সে বলেছে, ঈদের নামাযে মাসবুক হলে ছুটে যাওয়া নামায আদায় করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তাকবীর কেরাতের পর বলতে হয়। জানার বিষয় হল, আমার ভাইয়ের কথাটি কি ঠিক?

আযান ইকামত কি একই ব্যক্তি দেওয়া আবশ্যক?

প্রশ্ন (১২৩০০) : আমাদের মাদরাসার মসজিদের জন্য মুআযযিন নির্ধারিত আছে। মুআযযিন ঐ মাদরাসারই ছাত্র। সাধারণত মুআযযিনই আযান দেন। কিন্তু ইকামতের সময় অনেক সময় মাদরাসার মুহতামিম সাহেব ইকামত দেন। প্রায় ২/৩ ওয়াক্তে তিনিই ইকামত দেন। এটা নিয়ে কিছু মুসল্লী কানাঘুষা শুরু করে। জানার বিষয় হল, একজনে আযান দেওয়া অন্যজনে ইকামত দেওয়ার বিধান কী?

নফল নামাযের মাঝখানে মাসিক শুরু হয়ে গেলে কি উক্ত নফঅ নামায কাযা করতে হবে?

প্রশ্ন (১২২৯৮) : একদিন সকালে আমি কুরআন তিলাওয়াত শেষে ইশরাকের নামায পড়ছিলাম। সেদিন নামায অবস্থায় আমার মাসিক শুরু হয়ে গেলে আমি নামায ছেড়ে দিই। হুজুরের কাছে জানতে চাই, আমার উক্ত নামায কি পুনরায় আদায় করতে হবে?

নারী-পুরুষ একসাথে নামায পড়লে দাঁড়ানোর পদ্ধতি কী হবে?

প্রশ্ন (১২২৯৭) : আমার দুলাভাই বাসায় আসলে মাঝেমধ্যে আমার বোনকে নিয়ে একসাথে জামাতে নামায পড়েন। দুলাভাই কিছুটা সামনে দাঁড়ান আর বোন এক পাশে একটু পেছনে দাঁড়ায় এবং তাদের দু’জনের মাঝে একটা চেয়ারও থাকে। আম্মু বলছেন, স্বামী-স্ত্রী পাশাপাশি দাঁড়িয়ে নামায পড়লে স্বামীর নামায হয় না। এখন জানার বিষয় হল, উল্লেখিত সুরতে কি আসলেই তাদের নামায হয় না?

জুমার খুতবা না শুনতে পারলে কি জুমার নামায হবে?

প্রশ্ন (১২২৯৬) : অনেক সময় আমার জুমার জন্য প্রস্তুত হয়ে মসজিদে যেতে বেশ দেরি হয়ে যায়। গত শুক্রবার প্রস্তুত হয়ে মসজিদে গিয়ে দেখি খুতবা শেষ হয়ে গেছে। নামাযের ইকামত হচ্ছে। আমার জানার বিষয় হল, খুতবা ছাড়া আমার উক্ত জুমার নামায কি সহিহ হয়েছে?

তারাবীহর নামায বসে আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২৯৫) : রমযানে অনেককে দেখা যায় কোনো প্রকার ওযর ছাড়াই বসে বসে তারাবীহর নামায আদায় করে। হযরতের কাছে আমি জানতে চাচ্ছি যে, কোনো ওযর ছাড়াই তারাবীহ বসে পড়া জায়েয আছে কি?

মাসবুক ব্যক্তি ইমামের প্রথম সালামের পর দাঁড়াবে নাকি দ্বিতীয় সালামের পর?

প্রশ্ন (১২২৯৪) : মসজিদে প্রায় প্রতি ওয়াক্তেই অনেক মানুষ মাসবুক হয়। অনেককে দেখি ইমাম সাহেব প্রথম সালাম ফিরানোর সাথে সাথেই বাকি নামায আদায়ের জন্য দাঁড়িয়ে যান। আবার অনেকে দ্বিতীয় সালামের পর দাঁড়ান। জানার বিষয় হল, মাসবুক বাকি নামায আদায়ের জন্য কখন দাঁড়াবে?

অফিসে বা ঘরে জামাত করার জন্য কি মসজিদের আযান যথেষ্ট হবে?

প্রশ্ন (১২২৯৩) : আমাদের অফিসে নামাযের জন্য ভিন্ন জায়গা আছে। নির্দিষ্ট সময়ে সেখানে জামাত হয়। কিন্তু আযান দেওয়া হয় না। শুধু ইকামত দিয়ে নামায শুরু করা হয়। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এক্ষেত্রে মহল্লার আযান কি আমাদের জন্য যথেষ্ট হবে? নাকি পৃথকভাবে আযান দেওয়া লাগবে?

মুসল্লীরা সামনের কাতার খালি রেখে নামাযে দাঁড়িয়ে গেলে তাদের সামনে দিয়ে যাওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২৯২) : আমাদের মহল্লার মসজিদটি তিন তলা বিশিষ্ট। জুমুআর দিন পুরো মসজিদ ভরে যায়। খুতবার সময় তৃতীয় তলায় অনেকেই জায়গা না পেয়ে পেছনে দাঁড়িয়ে থাকে। ইকামতের সময় সবাই দাঁড়ালে কাতারের মাঝে জায়গা খালি হয়। তখন অনেকেই কাতারে দাঁড়াতে পারে। কখনো কখনো নামায শুরু হয়ে যাওয়ার পরও কোথাও খালি জায়গা দেখা যায়। তখন পেছন থেকে দুই-একজন নামাযীদের সামনে দিয়ে সেখানে গিয়ে দাঁড়ায়। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এক্ষেত্রে নামাযীদের সামনে দিয়ে অতিক্রম করা কি জায়েয আছে? জানালে কৃতজ্ঞ হব।

নামাযে একাধিক বার নাক মোছার প্রয়োজন হলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২২৯১) : আমার ঠান্ডার সমস্যা আছে। শীতের দিনে নাক দিয়ে পানি পড়ে। বারবার মোছার প্রয়োজন হয়। হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, নামায পড়া অবস্থায় নাক মোছার প্রয়োজন হলে আমার জন্য করণীয় কী? আমি কি পকেট থেকে রুমাল বা টিস্যু বের করে তা দিয়ে নাক মুছতে পারব বা নাক মোছার প্রয়োজনে এগুলো হাতে রেখে নামায পড়া যাবে?

নামায কসর করা সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২২৯০) : আমার গ্রামের বাড়ি সিলেট। আমি লন্ডনে থাকি । লন্ডনের সিটিজেনশিপ আছে। সিলেটে আমাদের বাড়ি ও জায়গা-জমি আছে। বছরে আব্বা-আম্মাসহ একাধিকবার দেশে আসা হয়। সামনে আমার বিবাহ-শাদী ইত্যাদি দেশেই করার খেয়াল এবং লন্ডন ও বাংলাদেশ উভয় দেশেই থাকার খেয়াল। কিছু সময় দেশে থাকব, বাকি সময় লন্ডনে থাকব। জানার বিষয় হল, আমি দেশে আসলে কি কসর করব?

সুস্থ অবস্থায় কাযা হওয়া নামায অসুস্থ অবস্থায় ইশারা করে পড়লে সহিহ হবে কি?

প্রশ্ন (১২২৮২) : কিছুদিন আগে আমার হাঁটুতে প্রচন্ড ব্যথা হয়েছিল। ফলে ওঠা-বসা করতে পারতাম না। তখন এক মুফতী সাহেবকে জিজ্ঞেস করে চেয়ারে বসে ইশারার মাধ্যমে রুকু-সিজদা করে নামায পড়তাম। তখন আমার সুস্থ অবস্থায় ছুটে যাওয়া কিছু নামাযের কাযা পড়ি। এখন আলহামদুলিল্লাহ আমার হাঁটুতে কোনো ব্যথা নেই। রুকু-সিজদা ঠিকভাবে করতে পারি। জানার বিষয় হল, অসুস্থ থাকাকালীন সুস্থ অবস্থায় ছুটে যাওয়া যে নামাযগুলোর কাযা পড়েছিলাম সেগুলো কি এখন পুনরায় পড়তে হবে?

বিতিরের নামায পড়ার পর তারাবীহ পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২৮১) : গত রমযানে একদিন এশার পরবর্তী দুই রাকাত সুন্নাত আদায় করার পর রমযানের কথা স্মরণ না থাকায় গতানুগতিকভাবে আমি ভুলে বিতিরও পরে ফেলি। বিতির শেষ হওয়ার পর তারাবীহ শুরু হলে আমার রমযানের কথা স্মরণ হয়। কিন্তু তখন আমার সংশয় হতে থাকে যে, তারাবীহ তো বিতিরের আগে পড়তে হয়। আমি তো বিতির পড়ে ফেলেছি, এখন কি আমার তারাবীহ হবে? এই দোদুল্যমান অবস্থা নিয়েই আমি তারাবীহ আদায় করি। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, আমার উক্ত তারাবীহ কি শুদ্ধ হয়েছে? না হলে এখন আমার করণীয় কি?

মুক্তাদির তাশাহ্হুদ শেষ হওয়ার আগে ইমাম সাহেব দাঁড়িয়ে গেলে মুক্তাদি কি করবে?

প্রশ্ন (১২২৮০) : জামাতে নামায আদায় করা অবস্থায় মাঝে মাঝে আমার তাশাহহুদ শেষ হওয়ার আগেই ইমাম সাহেব তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যান। এমতাবস্থায় আমার করণীয় কী? আমি কি তাশাহহুদ পূর্ণ করে দাঁড়াব, না তাশাহহুদ অসমাপ্ত রেখেই ইমামের সাথে দাঁড়িয়ে যাব?

নামাযে হাঁচির দুআ পড়লে কি নামায ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২২৭৮) : কিছুদিন আগে আমি মসজিদে নামায পড়ছিলাম। হঠাৎ আমার হাঁচি আসে। হাঁচির পর বেখেয়ালে কিছুটা শব্দ করেই ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে ফেলি। নামায শেষ করার পর পাশে থাকা এক ব্যক্তি বললেন, নামাযটি আবার পড়ে নিলে ভালো হয়। কারণ, নামাযে হাঁচির পরের দুআ পড়া যায় না। জানার বিষয় হল, নামাযে হাঁচির পর ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বললে কি নামায নষ্ট হয়ে যায়?

নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত এলাকার মসজিদে জুমার নামায আদায় করা সহিহ হবে কি?

প্রশ্ন (১২২৭৫) : আমি একটি ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানীতে চাকরি করি। কোম্পানীটি প্রায় ৩ একর জমিতে স্থাপিত। প্রবেশাধিকার কোম্পানীর স্টাফদের জন্য আইনগতভাবে সংরক্ষিত। ভিতরে একটি মসজিদ আছে, যাতে পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা হয়। শুক্রবার ছুটি থাকায় জুমা হয় না। তবে অফিস টাইম ছাড়া অন্য সময় দায়িত্বরত পাহারাদারগণ নামায পড়েন। কিন্তু যখন কোম্পানীর প্রডাকশন বৃদ্ধি পায় তখন শুক্রবারেও কাজ করতে হয়। জানার বিষয় হল, এখন শুক্রবারে আমাদের জন্য উক্ত মসজিদে জুমা আদায় করা কি সহিহ হবে?

বিতিরের নামাযে মাসবুক হলে কিভাবে তা আদায় করব?

প্রশ্ন (১২২৫৯) : রমযান মাসে একদিন খতম তারাবীর ২০ রাকাত শেষ হওয়ার পর আমি ইস্তিঞ্জায় যাই। অযু করে এসে ইমামের সাথে বিতিরের দুই রাকাত পাই। কিন্তু ভুলবশত অবশিষ্ট এক রাকাত পড়ার সময় দুআয়ে কুনূত না পড়েই নামায শেষ করে ফেলি। ইমাম সাহেবকে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, নামায হয়ে গেছে। জানার বিষয় হল, তিনি কি সঠিক বলেছেন? ইমামের সাথে যে রাকাতে আমি দুআয়ে কুনূত পড়েছি সেটা আমার দ্বিতীয় রাকাত ছিল। এমতাবস্থায় কি আমার নাযায সহিহ হয়েছে?

ইমাম সাহেব কি মেহরাবের ভিতরে দাঁড়াবে নাকি মেহরাবের বাহিরে দাঁড়াবে?

প্রশ্ন (১২২৫৭) : ইমাম সাহেব নামায পড়ানোর সময় মসজিদের অংশে না দাঁড়িয়ে কেবলমাত্র মেহরাবের ভেতরে দাঁড়িয়ে নামায পড়ালে নামায হবে কি? শুনেছি ইমাম সাহেব নামায পড়ানোর সময় মসজিদের অংশেই দাঁড়াতে হয়। এক্ষেত্রে সঠিক বিষয়টি জানালে উপকৃত হব।

বিতির নামায সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২২৫৬) : আমি সেদিন বিতির নামাযে তৃতীয় রাকাতে ভুলে কুনূত না পড়ে রুকুতে চলে যাই। পরে রুকুতে স্মরণ হয় আমি কুনূত পড়িনি। তাই দাঁড়িয়ে যাই এবং দাঁড়িয়ে কুনূত আদায় করি। জানার বিষয় হল, আমি কি দ্বিতীয়বার রুকু করব? এভাবে রুকু থেকে দাঁড়িয়ে যাওয়া কি ঠিক হল?

ইমাম সাহেব বসে তারাবীহর ইমামতি করলে তার পিছনে ইক্তিদা করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২৫৫) : গত রমযানে একদিন আমাদের মসজিদের হাফেজ সাহেব হঠাৎ অসুস্থ হয়ে যান। অসুস্থতার কারণে তিনি বসেবসেই রুকু-সিজদার সাথে তারাবীহর ইমামতি করেন। এবং আমাদেরকে উনার পিছনে দাঁড়িয়েই ইক্তিদা করতে বলেন। উনার কথা মত আমরা দাঁড়িয়েই ইক্তিদা করি। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে আমার বেশ সংশয় হচ্ছে। তাই জানতে চাচ্ছি যে, এভাবে বসে ইমামতি করা ও তার পিছনে ইক্তিদা করা কি জায়েয আছে? এবং আমাদের ঐ দিনের তারাবীহ কি সহিহ হয়েছে?