সালাত বা নামাজ

নামাযে গলা খাঁকারি দেওয়ার হুকুম কি?

প্রশ্ন (১২৪৪৮) : ১. নামাযে গলা খাঁকারি দেওয়ার হুকুম কী? কেউ যদি ইচ্ছাকৃত দেয় তবে কী হুকুম? অনিচ্ছাকৃত দিলে কী হুকুম? কেউ যদি অভ্যাসের কারণে দেয়, (সে চেষ্টা করেও অভ্যাস ছাড়তে পারছে না) বা গলার সমস্যার কারণে দেয় তবে কী হবে? ২. কাশি দেওয়ার কী হুকুম? কোন অবস্থায় জায়েয, কোন অবস্থায় নাজায়েয? মাসআলাগুলোর সমাধান জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

ইমামের পিছনে মুসল্লিরা কিভাবে দাঁড়াবে?

প্রশ্ন (১২৪৪৭) : আমরা ভার্সিটিতে মাঝে মাঝে নিজেরা জামাত করি। একদিন নামাযের জন্য কাতার করে দাঁড়ানোর সময় এক সাথী বললেন, প্রথম কাতারে যারা আছি তাদের ইমামের পিছনেই দাঁড়াতে হবে এটা আবশ্যক না। ইমামের পাশে ডানে বামে দাঁড়ালেও চলবে। আরেক সাথী বললেন, না, এভাবে দাঁড়ালে হবে না। ইমামকে সামনে এগিয়েই দাঁড়াতে হবে। যাই হোক আমরা আর কথা না বাড়িয়ে প্রথমোক্ত সাথীর কথামতো ইমামের থেকে এক কদম সরে ডানে ও বামে তিনজন করে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করি। আর বাকি সাথীরা আমাদের পিছনে আরেক কাতারে। এখন জানার বিষয় হল, এইভাবে কাতার করে দাঁড়ালে কি নামায শুদ্ধ হবে? নাকি ইমামের একদম পিছনে কাতার করা বাধ্যতামূলক? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

মাসবুক ব্যক্তি ইমামের সাথে সালাম ফিরালে কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়?

প্রশ্ন (১২৪৪৪) : আমি এক নামাযে মাসবুক হই। ভুলবশত ইমামের সাথে আমিও সালাম ফিরাই। এরপর পাশের লোকদের দাঁড়াতে দেখে আমার মাসবুক হওয়ার কথা স্মরণ হয়। তখন আমি দাঁড়িয়ে বাকি রাকাত পড়ে সাহু সিজদা করি। আমার এ নামায কি সহিহ হয়েছে? ইমাম সাহেব বলেছেন সাহু সিজদা না দিলেও নামায হয়ে যেত, তাঁর কথা কি ঠিক?

বিতির নামাযে ইমাম সাহেব ভুলে দুআ কুনুত না পড়ে রুকুতে চলে গেলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২৪৩৯) : বিতিরের নামাযে ইমাম সাহেব ভুলে দুআ কুনূত না পড়েই রুকুতে চলে যান। মুক্তাদীগণ লোকমা দিলে রুকু বাদ দিয়ে আবার দাঁড়িয়ে যান। এরপর দুআ কুনূত পড়ে যথারীতি বাকি নামায শেষ করেন। এতে এক রাকাতে দুই রুকু হয়ে যায়। উক্ত নামায কি সহিহ হয়েছে? এক আলেম বলেছেন, নামায সহিহ হয়নি। সঠিক মাসআলাটি জানালে উপকৃত হতাম।

ছোট বাচ্চা বা পরিবারের নারী সদস্যদের নিয়ে জামাতে নামায আদায় করার ক্ষেত্রে দাঁড়ানোর পদ্ধতি কী হবে?

প্রশ্ন (১২৪২৭) : বাসায় জামাত করে নামায আদায়ের সময় অনেক ক্ষেত্রে আমার সঙ্গে শুধু আমার ভাই ও আমার বোন থাকে। অনেক সময় কেবল আমার স্ত্রী ও আমার ছোট বাচ্চা। তো এধরনের ক্ষেত্রে জামাতে নামায আদায়ের জন্য দাঁড়ানোর পদ্ধতি কী হবে? জানালে উপকৃত হব।

ভ্রান্ত আকীদার অনুসারী বিদআতী ব্যক্তি নামাযের ইমামতি করতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২৪২১) : গত ঈদে আমি চাচার সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। আলোচনার একপর্যায়ে চাচা বললেন, তোমাকে একটা বিষয় বলে রাখছি। তা হল, আমার জানাযার নামায বড় ছেলে রাশেদ পড়াবে। সে যদি না পড়ায় তাহলে তুমি পড়াবে। উল্লেখ থাকে যে, আমার জানা মতে রাশেদ ভাইয়ের কুরআন পড়া সহিহ-শুদ্ধ নয় এবং সে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাযও পড়ে না। এমনকি তার দাড়িও নেই এবং সে দেওয়ানবাগীর মুরিদ ও তার আকীদার প্রচারক। এমতাবস্থায় আমার জানার বিষয় হল- ১. ইমাম হওয়ার জন্য কী কী গুণাগুণ বা বৈশিষ্ট্য থাকা প্রয়োজন? ২. সে জানাযার নামায পড়াতে পারবে কি না? ৩. তার ইমামতি যদি জায়েয না হয় তাহলে জানাযায় উপস্থিত হাফেজ আলেম ও সাধারণ দ্বীনদার শ্রেণীর করণীয় কী হবে? কুরআন-সুন্নাহর আলোকে দলীল-প্রমাণসহ দিকনির্দেশনাদানে জনাব মুফতী সাহেবের প্রতি বিনীত অনুরোধ রইল।

জুমার নামায সম্পর্কে দুটি প্রশ্ন।

প্রশ্ন (১২৪২০) : আমি হুজুরের কাছে দুটি বিষয় সম্পর্কে জানতে চাচ্ছি, ১. জুমার নামাযে কেউ যদি দ্বিতীয় রাকাতের রুকু না পায়; যেমন শেষ বৈঠকে শরীক হল, তবে তার করণীয় কী? সে কি ইমাম সাহেবের সঙ্গে নামাযে শরীক হয়ে যাবে, নাকি মসজিদের এক পাশে একা একা চার রাকাত যোহর পড়ে নেবে? ২. এমন ব্যক্তি যদি ইমামের নামাযে শরীক হয়, তবে সে ইমামের সালাম ফেরানোর পর কত রাকাত পড়বে; দুই রাকাত না চার রাকাত? আমি আগে একজন থেকে শুনেছিলাম, দ্বিতীয় রাকাতের রুকু না পেলে চার রাকাত পড়তে হয়। এখন শুনি দুই রাকাত পড়া নাকি নিয়ম। মাসআলাদুটির সঠিক সমাধান জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

শেষ বৈঠকে দুইবার তাশাহ্হুদ পড়লে কি সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২৪১৫) : আমি একবার ফজরের সুন্নত পড়ার সময় তাশাহহুদ পড়ে সামান্য ঘুমিয়ে যাই। ঘুম ভাঙার পর পুনরায় তাশাহহুদ পড়েছি এবং দরূদ শরীফ ও দুআ মাছূরা পড়ে নামায শেষ করেছি। জানার বিষয় হল, তাশাহহুদ দুইবার পড়ার কারণে কি আমার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছিল? এবং সাহু সিজদা না দেওয়াতে কি নামায সহিহ হয়নি?

নামায আদায় করতে অক্ষম ব্যক্তির নামাযের বিধান?

প্রশ্ন (১২৪১১) : আমার বাবা অনেক দিন যাবৎ বার্ধক্যজনিত রোগে আক্রান্ত। তবে এতদিন আল্লাহর রহমতে নামাযগুলো স্বাভাবিকভাবেই আদায় করে আসছিলেন। কিন্তু দুই সপ্তাহ হল প্যারালাইসিস হয়ে পুরো শরীর অচল হয়ে গিয়েছে। মাথাটাও এদিক সেদিক করতে পারেন না। মাঝেমাঝে চোখ খুলে তাকান আর কখনো দুই-এক শব্দ বলেন। এখন মুফতী সাহেবের কাছে জানার বিষয় হল, বাবার নামাযগুলোর কী হবে? আমরা কি ফিদয়া আদায় করে দেব, নাকি তিনি সুস্থ হলে তা কাযা করবেন?

মুক্তাদীর ভুলের কারণে ইমাম বা মুক্তদী কারো উপর কি সাহু সিজদা ওয়াজিব হবে?

প্রশ্ন (১২৪১০) : একদিন আমি জামাতের সাথে এশার নামায পড়ছিলাম। প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের পর ভুলে দরূদ শরীফ অর্ধেকের বেশি পড়ে ফেলি। ইমাম সাহেব তৃতীয় রাকাতের তাকবীর বলার পর স্মরণ হয় যে, আমি প্রথম বৈঠকে আছি। তারপর যথারীতি ইমামের সাথে নামায শেষ করি। জানার বিষয় হল, উক্ত ভুলের কারণে কি আমার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছিল? এবং সাহু সিজদা না করার কারণে কি ওই নামায পুনরায় পড়তে হবে?

জামার হাতা গুটিয়ে নামায আদায় করলে মাকরুহ হবে?

প্রশ্ন (১২৪০৬) : আমি মাদরাসার ছাত্র। আমরা আমাদের মাদরাসার নিজস্ব মসজিদে নামায পড়ে থাকি। একদিন ইমাম সাহেবকে রুকুতে যেতে দেখে তাড়াহুড়া করে তার একতেদা করি। আমার পাশেই উস্তায দাঁড়িয়েছিলেন। নামায শেষে তিনি আমাকে বললেন, অযু শেষ করে জামার হাতা ঠিক কর না কেন, নামাযে হাতা গুটিয়ে রাখা মাকরূহ। জানতে চাচ্ছি- সঠিক কথা কী?

নামাযের শেষ বৈঠকে কোন দুআ পড়তে হয়?

প্রশ্ন (১২৪০৫) : আমরা ছোটকাল থেকে শুনে আসছি যে, শেষ বৈঠকে দরূদ শরীফ পড়ার পর দুআ মাছূরা পড়তে হয়। অথচ আমাদের মসজিদের খতীব সাহেব গত জুমায় বলেছেন, নামাযের শেষ বৈঠকে প্রসিদ্ধ দুআ মাছূরা ছাড়াও কুরআন-হাদিসে বর্ণিত যে কোনো দুআ পড়া যায়। জানতে চাচ্ছি, তাঁর কথা কি ঠিক?

নামাযে মহিলাদের চুল খোলা থাকলে কি নামায ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২৪০০) : নামাযের মধ্যে মহিলাদের চুল ঢেকে রাখার বিষয়ে বিভিন্ন রকম কথা শুনেছি। হযরতের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, চুল বা মাথার কতটুকু অংশ খোলা থাকলে নামায ভাঙবে নাকি ভাঙবে না?

নামাযের নিয়ত বাঁধার পর হেঁটে সামনের কাতারে গেলে কি নামায নষ্ট হয়ে যায়?

প্রশ্ন (১২৩৯৬) : শুক্রবার মসজিদের তৃতীয় তলায় কাতার ঠিক হতে হতে নামায শুরু হয়ে যায়। মুসল্লিদের কেউ কেউ ইমামের সাথে নিয়ত বেঁধে ফেলেছে। আর কেউ নিয়ত না বেঁধে খালি জায়গা পূরণ করছে। আমার পাশের লোককে দেখলাম, সে নামাযের নিয়ত বেঁধে ফেলেছে। কিছুক্ষণ পর তার সামনের লোক খালি জায়গা পূরণের জন্য সামনে গেলে সে নামাযে থাকাবস্থায় সামনের কাতারে চলে যায়। তারপর আবার তার সামনে খালি হয়ে যায় এবং সে নামাযে থেকে সামনের কাতারে যায়। জানার বিয়ষ হল, উক্ত ব্যক্তির নামায কি সহিহ হয়েছে? এভাবে নামাযরত আবস্থায় হাঁটার হুকুম কী?

নামাযে অনিচ্ছাকৃত বা ভুলে কথা বললে কি নামায নষ্ট হয়ে যায়?

প্রশ্ন (১২৩৯৫) : কিছুদিন আগে যোহরের সুন্নত আদায়কালে দ্বিতীয় রাকাতে অসতর্কতাবশত ভুলে আমার মুখ থেকে উচ্চস্বরে কিছু কথা বের হয়ে যায়। ভুলে বলে ফেলার কারণে কি আমার নামায নষ্ট হয়ে গিয়েছে?

জিম্মায় নামায কাযা রেখে পরবর্তী ওয়াক্তের নামায আদায় করা সহিহ হবে কি?

প্রশ্ন (১২৩৯৩) : এক ব্যক্তি মাগরিবের নামায ওয়াক্তের ভেতর পড়তে পারেনি। এশার সময় এক মসজিদে জামাতের সাথে এশার নামায পড়ে নেয়। তখন তার মাগরিবের নামাযের কথা স্মরণ ছিল। কিন্তু যেহেতু এশার জামাত দাঁড়িয়ে যায় তাই মাগরিবের কথা স্মরণ থাকা সত্ত্বেও সে এশার জামাতে শরিক হয়ে যায়। আর অতীতেরও তার কোনো নামায কাযা নেই। এখন ঐ ব্যক্তির করণীয় কী? সে কি এখন মাগরিবের কাযা আদায় করে নেবে? বিস্তারিত জানতে চাই।

জোহরের নামাযে সূরা ফাতিহার এক-দুই আয়াত উচ্চস্বরে পড়ে ফেললে কি সাহু সিজদা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২৩৯১) : আমি একদিন যোহরের নামাযের ইমামতি করছিলাম। প্রথম রাকাতে ভুলে সূরা ফাতিহার ১ম আয়াত উচ্চস্বরে পড়ে ফেলি। খেয়াল হতেই পরক্ষণে ২য় আয়াত থেকে আস্তে পড়া শুরু করি। এক্ষেত্রে কি আমাকে সাহু সিজদা করতে হবে?

এক নামাযে একাধিক ভুল হলে সাহু সিজদা কতবার করতে হবে?

প্রশ্ন (১২৩৮৯) : নামায আদায় করতে গিয়ে মাঝে মাঝে আমার সাহু সিজদা ওয়াজিব হওয়ার মত ভুল হয়ে যায়। কখনো এমন ভুল একই নামাযে একাধিক হয়ে থাকে। আমার জানার বিষয় হল, উক্ত ক্ষেত্রে ভুল একাধিক হওয়ার কারণে কি আমাকে সাহু সিজদাও একাধিকবার করতে হবে?

জামাতে শরীক হওয়ার আগে ইমামের সিজদার আয়াতের তিলাওয়াত শুনলে কি সিজদা দিতে হবে?

প্রশ্ন (১২৩৮৬) : আমাদের মসজিদে প্রতি শুক্রবার ফজরের নামাযে ইমাম সাহেব সূরা আলিফ-লাম-মিম সাজদা তিলাওয়াত করেন। গত শুক্রবার ফজরের নামায শুরু হলে আমি মসজিদের এক কোণে সুন্নত পড়ছিলাম। এ সময় ইমাম সাহেব সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করে সিজদা করেন। আমি শরীক হতে পারিনি। এরপর আমার সুন্নত পড়া শেষ হলে উক্ত রাকাতে রুকুর আগে আমি ইমামের সাথে শরীক হই। জানার বিষয় হল, আমার কি পরবর্তিতে তিলাওয়াতে সিজদা আদায় করতে হবে?

মুসল্লি ইমাম সাহেবকে বিতির নামাযের তৃতীয় রাকাতে পেলে বাকি নামায কিভাবে আদায় করবে?

প্রশ্ন (১২৩৮০) : রমযান মাসে একদিন বিতির নামাযের তৃতীয় রাকাতে ইমামের সাথে রুকুতে শরীক হই। ফলে দুআ কুনূত পড়ার আর সুযোগ হয়নি। এমতাবস্থায় ছুটে যাওয়া নামায আদায় করার সময় শেষ রাকাতে আমার কী করণীয়? আমি কি দুআ কুনূত পড়ব, না পড়ব না? কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করেছি। একেকজন একেকরকম বলেছে। ফলে বিষয়টি আমার কাছে অস্পষ্ট হয়ে গেছে। তাই সঠিক মাসআলাটি জানালে কৃতজ্ঞ হব।