সালাত বা নামাজ

শেষ বৈঠকে দুরুদ পড়ার পর কোন কোন দুআ পাঠ করা যাবে?

প্রশ্ন (১২৬১০) : আমি নামাযের শেষ বৈঠকে দরূদ শরীফের পরে اللهم إني ظلمت نفسي এই দুআ পড়তাম। কিন্তু গতকাল মুআযযিন সাহেব বললেন, দরূদ শরীফের পরে এই দুআ ছাড়া অন্য যে কোনো দুআ পড়া যায় এবং এর মাধ্যমে নামাযের কোনো ক্ষতিও হয় না। কথাটি আমার কাছে নতুন মনে হয়েছে। তাই হযরতের কাছে আমি জানতে চাচ্ছি, দরূদ শরীফের পর এই দুআ ছাড়া অন্য যে কোনো দুআ পড়া যাবে কি না?

কোনো কারণে নামায ফাসেদ হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় শুরু করলে কি ইকামত দেওয়ার প্রয়োজন আছে?

প্রশ্ন (১২৫৯৬) : আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব ভুলে একদিন অযু ছাড়া নামায পড়ান। সালাম ফেরানোর সঙ্গে সঙ্গে স্মরণ হয়। তখনই তিনি মুআজ্জিন সাহেবকে বলেন, তুমি আবার নামায পড়িয়ে দাও। তখন মুআজ্জিন সাহেব নামায পড়ালেন। কিন্তু পুনরায় ইকামত দেওয়া হয়নি। এটা কি ঠিক হয়েছে?

একই সূরা একাধিক রাকাতে পড়লে কি নামাযে কোনো সমস্যা হয়?

প্রশ্ন (১২৫৭৭) : আমি একদিন বিতর নামাযের মধ্যে প্রথম রাকাতে সূরা ইখলাস তিলাওয়াত করি। অতপর দ্বিতীয় রাকাতেও ভুলবশত সূরা ইখলাস তিলাওয়াত করি। অতপর নামায ছেড়ে দিয়ে আবার পুনরায় নামায আদায় করি। এমতাবস্থায় আমার করণীয় কী ছিল?

দুআয়ে কুনূত না পারলে কি সূরা ইখলাস পড়া যাবে?

প্রশ্ন (১২৫৬৭) : এক আলেমকে বলতে শুনেছি, কেউ যদি দুআয়ে কুনূত না পারে তাহলে সে ঐ সময় তিনবার সূরা ইখলাস পড়ে নিবে। হযরতের কাছে আমার প্রশ্ন হল, তার উক্ত কথা কি ঠিক আছে?

আলেম নয় এমন ব্যক্তির পিছনে কি আলেম ব্যক্তি ইক্তিদা করতে পারবে?

প্রশ্ন (১২৫৬৩) : আমাদের বাজার মসজিদে এশার সময় একদিন ইমাম সাহেব ছিলেন না। তখন এক মুসল্লী ইমামতী করে। সে আলেম না। তবে তার কেরাত শুদ্ধ। যখন নামায শুরু হয় তখন কোনো আলেম ছিলেন না। দ্বিতীয় রাকাতে এক আলেম এসে নামযে শরীক হন। নামাযের পর কেউ কেউ বলছে ঐ ব্যক্তি যেহেতু আলেম নয় তাই তার পেছনে আলেম ইকতেদা করার কারণে কারো নামায হয়নি। এ বিষয়টি নিয়ে আমাদের অনেকেই বিভ্রান্তিতে পড়ে গেছে। এ ব্যাপারে শরীয়তের মাসআলা জানতে চাই।

নামাযী ব্যক্তির জন্য কি নিজের সুতরা নিজেই স্থাপন করা আবশ্যক?

প্রশ্ন (১২৫৬১) : আমরা জানি, মুসল্লির সামনে অন্তত এক হাত পরিমাণ সুতরা থাকলেই তার সামনে দিয়ে চলাচল করা যায়। কিন্তু একটি বইয়ে দেখতে পেলাম যে, সেখানে উল্লেখ আছে, ‘যে ব্যক্তি নামায আদায় করবে সেই সুতরা স্থাপন করবে। সুতরাং নামাযী ব্যক্তি যদি সুতরা স্থাপন না করে তাহলে অতিক্রমকারী তার সামনে সুতরা রেখে অতিক্রম করতে পারবে না।’ আমার জানার বিষয় হল, ঐ বইয়ের বক্তব্যটি কি ঠিক?

জামাতে নামায আদায় করার গুরুত্ব।

প্রশ্ন (১২৫৬০) : আমার জানামতে আমাদের সমাজে কিছু মানুষ যে কোনো ফরয নামায (বিশেষ করে ফজরের ফরয নামায)-এর জামাতে অনুপস্থিত থাকে। কারণ হিসাবে তারা বলেন, নবী কারীম (সা.) সবসময় নামায আউয়াল ওয়াক্তে আদায় করতেন এবং আবু দাউদ শরীফের একটি হাদিসে আছে, ‘যখন তোমাদের ইমামগণ নামায আদায়ে বিলম্ব করবে তখন তোমরা নিজেরা উক্ত নামায ঘরে আদায় করবে। পরে তাদের সাথে মিলিত হলে পুনরায় জামাতে শরীক হবে। তা তোমাদের জন্য নফল।’ তাদের এ বক্তব্য কতটুকু সঠিক এবং উক্ত কারণে জামাতে অনুপস্থিত থাকার গুনাহ হবে কি না?

নামাযে সিজদার আয়াত তিলাওয়াত সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৫৫৯) : আমি এক মসজিদের ইমাম। আমি জানি, সিজদার আয়াত যদি সূরার শেষে থাকে এবং সিজদার আয়াতের পর এক-দু আয়াত বাকি থাকে, তাহলে সূরা শেষ করে নামাযের রুকুর মাধ্যমে যদিও সিজদা আদায় হয়ে যায়, কিন্তু উত্তম হল, সিজদার আয়াত পড়ে ভিন্নভাবে সিজদা দেওয়া। আমার জানার বিষয় হল, ভিন্নভাবে সিজদা দেওয়ার পর দাঁড়িয়ে অবশিষ্ট এক-দু আয়াত পড়ে রুকু করবে? নাকি অন্য সূরা থেকে আরো কিছু আয়াত মিলিয়ে রুকু করবে? আর যেসব সূরা সিজদার আয়াতের মাধ্যমে শেষ হয়, যেমন- সূরা ‘আলাক’। সেক্ষেত্রে যদি সূরা শেষ করে সিজদা করে এবং সিজদা থেকে দাঁড়িয়ে কিরাত না পড়েই রুকু সিজদার মাধ্যমে নামায শেষ করে তাহলে নামাযের কোনো ক্ষতি হবে কি না? দলীলসহ উক্ত বিষয়গুলোর সমাধান জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

মাসবুক ব্যক্তির পিছনে ইক্তিদা করা সহিহ আছে কি?

প্রশ্ন (১২৫৫৭) : কিছু দিন আগে আমার এক চাচা বাসায় বেড়াতে আসেন। আসরের সময় একসঙ্গে মসজিদে যাই। যেতে দেরি হওয়ায় গিয়ে দেখি ইমাম সাহেব সালাম ফিরাচ্ছেন। তাই আমি মসজিদের এক পাশে গিয়ে নামায আদায় করি। নামায শেষে জানতে পারি, জামাতে নামায পড়ার উদ্দেশ্যে চাচা একজন মাসবুকের পেছনে ইক্তিদা করে নামায আদায় করেছেন। হযরতের কাছে আমার জানার বিষয় হল, মাসবুকের পেছনে ইক্তিদা করে তার নামায পড়া কি সহিহ হয়েছে? এক্ষেত্রে শরীয়তের সঠিক মাসআলাটি জানালে কৃতজ্ঞ হব।

সফর সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৫৪১) : তাবলীগ জামাতের মারকায ঢাকা কাকরাইল মসজিদ থেকে ৪০, ২০, ৭, ৩ দিনের জন্য বিভিন্ন মহল্লা, গ্রাম, শহর, পৌরসভা, থানা বা জেলাভিত্তিক জামাত পাঠানো হয়ে থাকে। এ অবস্থায় তাবলীগ জামাতের ভাইদের নামাযের হুকুম কী হবে? কিছু ভাই বলে থাকেন, তাবলীগ জামাতে বের হয়ে যেহেতু একই মসজিদে ১৫ দিনের বেশি অবস্থান করা হয় না তাই সদা-সর্বদা মুসাফির থাকবে। তাদের এ কথা কতটুকু ঠিক? এখানে আরো উল্লেখ্য যে, একই মসজিদ বা একই মহল্লা, গ্রাম, ইউনিয়ন, থানা বা জেলার ভিতর ১৫ দিনের বেশি থাকলে নামাযের হুকুম কী হবে?

নামায শেষে সালাম ফিরানোর সুন্নতসম্মত পদ্ধতি কী?

প্রশ্ন (১২৫১০) : আমি একটি পাঞ্জেগানা মসজিদে নামাযের ইমামতি করি। কিছুদিন আগে একটি ইসলামী গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রকাশিত সাময়িকীতে দেখলাম ‘সুন্নাহসম্মত নামায’ শিরোনামে একটি প্রবন্ধ লিখেছেন এক নিবন্ধকার। সেখানে বলা হয়েছে, নামাযের শেষে যে সালাম ফেরানো হয় তার একটি সুন্নত হল, সালামের শব্দগুলো ‘মদ’ না করে (দীর্ঘক্ষণ না টেনে) সংক্ষেপে স্বাভাবিকভাবে উচ্চারণ করা। সালাম বিষয়ে এ কথাটি এর আগে কোথাও পড়িনি বা শুনিনি। তাই আপনার কাছে জানতে চাচ্ছি, এ নিবন্ধে যা লেখা হয়েছে তা কি ঠিক? নামাযের শেষে সালামের শব্দ উচ্চারণের সুন্নাহসম্মত তরীকা কি এটাই? জানালে অনেক উপকৃত হব।

শেষ রাতে নফল নামাযে দাঁড়ানোর পর ফজরের আযান হয়ে গেলে উক্ত নামাযের হুকুম কী হবে?

প্রশ্ন (১২৪৯৫) : শেষ রাতে উঠে কয়েক রাকাত নফল আদায় করছিলাম। আমার ধারণা, তখনো ভোর হবার কিছু সময় বাকি। কিন্তু নামাযে দাঁড়ানোর পরপরই ফজরের আযান শুনতে পেলাম। এখন কি আমার এ দুই রাকাত নামায ফজরের দুই রাকাত সুন্নত হিসেবে আদায় হয়েছে বলা যাবে?

বার্ধক্যের কারণে নফল নামায বসে আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৪৯৪) : আমার বড় চাচা বার্ধক্যে কাবু হওয়ার পর থেকে নফল নামাযের বেলায় প্রায়ই এমন করেন যে, কখনো দাঁড়িয়ে নামায শুরু করার পর বাকিটা বসে আদায় করেন। আবার কখনো এর উল্টো। অর্থাৎ প্রথমে বসে আরম্ভ করার পর বাকিটা দাঁড়িয়ে। তাঁর এভাবে নফল পড়া কি ঠিক আছে? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

ফজর ও আসর নামাযে ইমাম সাহেব সালাম ফিরানোর পর মুসল্লীদের দিকে মুখ করে বসার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৪৯৩) : মসজিদে আমরা সাধারণত দেখি, আসর ও ফজরের নামাযে সালাম ফেরানোর পর ইমাম সাহেব মুসল্লীদের দিকে মুখ করে বসেন। আমার এক সহপাঠী, ধর্মীয় বিষয়ে বেশ পড়াশোনা আছে তার। সে আমাকে একদিন বলল, এই যে মসজিদগুলোতে ইমাম সাহেবরা ফজর ও আসরের পর মুসল্লীদের দিকে মুখ করে বসেন এটা সুন্নতের খেলাফ। মুসল্লিদের বরাবর না বসে মেহরাবের ডান দিকে বা বাম দিকে সামান্য বাঁকা হয়ে বসা উচিত ইমামের। সহপাঠীর কথায় আমি একটু অবাকই হলাম। ব্যাপকভাবে মসজিদগুলোতে ইমাম সাহেবরা কি তাহলে সুন্নতের খেলাফ আমল করে আসছেন? আপনার কাছে তাই জিজ্ঞাসা, এক্ষেত্রে শরীয়তস্বীকৃত পদ্ধতি কী?

মসজিদে একাকী ফরয নামায শুরু করার পর জামাত শুরু হয়ে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২৪৯১) : আমাদের গ্রামের বাজার মসজিদে প্রায়ই জামাতের নির্ধারিত সময় থেকে পাঁচ-দশ মিনিট দেরি করে জামাত শুরু করে। তাই অনেক মুসল্লীই জামাতের অপেক্ষা না করে একাকী নামায পড়তে দাঁড়িয়ে যায়। পরে দেখা যায় জামাত শুরু হয়ে যায়। আমিও প্রায় সময় একাকী দাঁড়িয়ে যাই। একবার এশার নামাযে একাকী দাঁড়িয়ে গেলে এক রাকাত শেষ করে দ্বিতীয় রাকাতে যখন কেরাত আরম্ভ করেছি তখন জামাত আরম্ভ হয়ে যায়। এ অবস্থায় আমি বুঝতে পারছিলাম না- আমার কী করণীয়। আমি কি নামায ছেড়ে দিয়ে জামাতে অংশগ্রহণ করব, নাকি পুরো নামায একাকী শেষ করে ফেলব- যেমনটা সাধারণত করে থাকে এখানকার অন্য মুসল্লীরা- নাকি দুই রাকাত পূর্ণ করে জামাতে অংশ নেব। অবশেষে চিন্তা করে দ্বিতীয় রাকাত সমাপ্ত করে জামাতে শরীক হয়ে গেলাম। প্রশ্ন হচ্ছে, এ ধরনের ক্ষেত্রে আসলে কী করা উচিত? তাছাড়া আমি যা করেছি তা কি ঠিক হয়েছে? জানিয়ে বাধিত করবেন। বিস্তারিত বললে ভালো হয়।

জুমার নামাযে একই ব্যক্তির খুতবা দেওয়া ও ইমামতি করা কি জরুরী?

প্রশ্ন (১২৪৮৮) : জুমার নামাযের খুতবা জুমার নামাযের মতোই গুরুত্বপূর্ণ বলে আলেমদের মুখে শুনেছি। আমাদের মসজিদের যিনি খতীব, সাধারণত তিনিই খুতবা দেন এবং নামায পড়ান। কিছুদিন আগে এক জুমায় খুতবা দেওয়ার পর তিনি হাম্মামের জরুরতে মসজিদ থেকে বের হয়ে গেলেন। আর উপস্থিত একজনকে ইমামতির দায়িত্ব অর্পণ করলেন। আমার জানার বিষয়, পরে যিনি নামায পড়ালেন তার ইমামতিতে কি আমাদের জুমা পূর্ণাঙ্গভাবে আদায় হয়েছে? যেহেতু খুতবা তিনি দেননি, তিনি ছিলেন কেবল শ্রোতা। জানালে উপকৃত হব।

লাহেক ব্যক্তি নামাযের শেষ বৈঠকে ভুলে তাশাহ্হুদ না পড়ে সূরা ফাতিহা পড়ে ফেললে কি তার উপর সাহু সিজদা আ…

প্রশ্ন (১২৪৫৭) : কিছুদিন আগে আমাদের মসজিদে একটি বিদেশি জামাত আসে। ঘটনাক্রমে ইমাম সাহেব অনুপস্থিত থাকায় বিদেশি মেহমানদের একজন ইমামতি করেন। ইমাম সাহেব মুসাফির থাকার কারণে তিনি দুই রাকাত পড়ে সালাম ফেরানোর পর আমি বাকি দুই রাকাত পড়ার জন্য দাঁড়িয়ে যাই। আমি এই দুই রাকাতে সূরা ফাতিহা পড়ি এবং যথারীতি নামায শেষ করি। কিন্তু শেষ বৈঠকে ভুলে তাশাহহুদ না পড়ে সূরা ফাতিহা পড়ে ফেলি এবং সিজদায়ে সাহু না করেই নামায শেষ করি। জানার বিষয় হল, আমার নামায কি সহিহ হয়েছে? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

ওয়াক্ত হওয়ার আগে আযান দেওয়া ঠিক যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৪৫৫) : একদিন মুয়াযযিন সাহেব ভুলবশত মাগরিবের ওয়াক্ত হওয়ার আগে আযান দিয়ে ফেলেন। ওয়াক্ত হওয়ার পর আমার আব্বা তাকে পুনরায় আযান দিতে বলেন। তিনি বললেন, একবার তো আযান দেওয়া হয়েছে। আবার পুনরায় কেন আযান দেওয়া লাগবে? পূর্বের আযানই যথেষ্ট। হুযুরের কাছে জানার বিষয় হল, তার কথা কি ঠিক? জানালে উপকৃত হব।