হজ্জ ও উমরাহ

ইদ্দতের ভেতর হজ্ব পালন করলে কি উক্ত হজ্ব আদায় হবে?

প্রশ্ন (১৩৩১০) : গত বছর আমি হজ্বে যাওয়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করি। মাহরাম হিসেবে আমার বড় ভাই আমার সাথে থাকবে। তো ফ্লাইটের কয়েকদিন আগে আমার স্বামী ইন্তেকাল করে। তখন অনেকেই আমাকে হজ্বে না গিয়ে বাড়িতে থেকে ইদ্দত পালন করতে বলে। আমি তাদের কথা না শুনে নির্দিষ্ট তারিখে হজ্বের সফরে চলে যাই। জানার বিষয় হল, এভাবে ইদ্দতের ভেতর হজ্ব করা কি আমার জন্য ঠিক হয়েছে? আর আমার হজ্ব কি আদায় হয়েছে? জানালে উপকৃত হব।

ইহরাম অবস্থায় মুরগী জবাই করলে কি দম ওয়াজিব হবে?

প্রশ্ন (১৩৩০৬) : আমি হজ্বের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে ইহরাম বেধেছি। হঠাৎ মা একটি রোগা মুরগী হাতে নিয়ে বললেন, বাবা! জলদি মুরগীটি জবাই কর। না হয় মরে যেতে পারে। তাই আমি একটি ছুরি নিয়ে মুরগীটি জবাই করে দিয়েছি। দূর থেকে আমার চাচা এটা দেখে বললেন, ইহরাম অবস্থায় কোনো কিছু জবাই করা নিষেধ তাই জরিমানা হিসেবে তোমার উপর একটি দম ওয়াজিব হয়েছে। আমি জানতে চাচ্ছি, চাচার উক্ত কথা কি ঠিক? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

ইহরাম অবস্থায় সেলাইকৃত লুঙ্গি পরিধান করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩২৮৪) : আমি এ বছর হজ্ব করার ইচ্ছা করেছি। শুনেছি, ইহরাম অবস্থায় সেলাইকৃত কাপড় পরা যায় না। আমি সবসময় প্যান্ট ও পায়জামা পরে অভ্যস্থ। তাই সেলাই ছাড়া লুঙ্গি পড়ে থাকাটা আমার জন্য খুবই কঠিন মনে হচ্ছে। জানতে চাই, ইহরাম অবস্থায় সেলাইকৃত লুঙ্গি পরে থাকলে কি খুব বড় কোনো সমস্যা হয়ে যাবে?

অসুস্থতার কারণে যথা সময়ে তাওয়াফে যিয়ারত করতে না পারলে কি দম ওয়াজিব হবে?

প্রশ্ন (১৩২৬৪) : আমার দাদা ১০ যিলহজ্ব বড় জামারায় কংকর নিক্ষেপ করার পর ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ে। ফলে তাকে ঐ দিনই হাসপাতালে ভর্তি করা লাগে। এ অবস্থায় তিন দিনেরও বেশি তাকে হাসপাতালে থাকতে হয়। হাসপাতালে থাকা অবস্থায়ই ১০ তারিখ তার পক্ষ থেকে দমে শোকর আদায় করা হয়। এবং ১১ তারিখ তার চুল ছোট করে দেওয়া হয়। আর ১১ ও ১২ তারিখ তার পক্ষ থেকে একজন কংকর নিক্ষেপ করে। কিন্তু ১৩ তারিখ পর্যন্ত হাসপাতালে থাকার কারণে সে ১২ তারিখের ভেতর তাওয়াফে যিয়ারত করতে পারেনি। সে কি এখন ঐ তাওয়াফে যিয়ারত আদায় করে নিবে? এবং এখন আদায় করলে তার উপর কি দম ওয়াজিব হবে? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ হব।

১২ যিলহজ্ব মাগরিবের পর তাওয়াফে যিয়ারত করলে কি কোনো দম ওয়াজিব হবে?

প্রশ্ন (১৩২৫৭) : আমি মীনায় কংকর নিক্ষেপ করার পর কিছুটা অসুস্থ হয়ে পড়ি। তাই তাওয়াফে যিয়ারত করতে বিলম্ব হয়ে যায়। ইচ্ছা ছিল, ১২ যিলহজ্ব মীনা থেকে কংকর নিক্ষেপ করে এসে তাওয়াফ করব। কিন্তু মীনা থেকে আসার পর প্রচন্ড ভীড় দেখে তাওয়াফ করার সাহস হয়নি। মাগরিবের পর ভীড় কমে গেলে তাওয়াফ করেছি। ১২ যিলহজ্ব মাগরিবের পর তাওয়াফ করার কারণে কি আমার উপর কোনো জরিমানা ওয়াজিব হয়েছে?

ইহরাম অবস্থায় হায়েয চলে আসলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩২৪৬) : আমি আমার স্বামীর সাথে হজ্বে যাই। ওখানে পৌঁছার পর উমরার তাওয়াফ করার আগেই আমার মাসিক স্রাব শুরু হয়ে যায়। কিন্তু তখন তা আমি পুরো বুঝতে পারিনি। তাওয়াফ সায়ী শেষ করার পর পুরোপুরি নিশ্চিত হলাম যে, তাওয়াফের আগেই আমার মাসিক শুরু হয়েছিল। এরপর আমি আমার মাথার চুল ছোট করে হালাল হয়ে যাই। পরে একজন আলেমকে ব্যাপারটি জানালে তিনি বলেন, এখন পবিত্র অবস্থায় তাওয়াফটি করে নিতে। তাহলে আর কোনো জরিমানা দিতে হবে না। নতুবা একটি দম দিতে হবে। কিন্তু একজন সন্দেহ পোষণ করছেন যে, এখন তো আমি উমরার সব কাজ শেষ করে হালাল হয়ে গেছি। এখনো আমার এ সুযোগ আছে কি না? তাই এক্ষেত্রে সঠিক মাসআলা কী তা জানতে চাই। এখন ওই তাওয়াফ পুনরায় আদায় করলে কি জরিমানা মাফ হয়ে যাবে এবং এক্ষেত্রে সায়ীও কি আবার আদায় করতে হবে? বিস্তারিত জানতে চাই।

মীকাতের আগে ইহরাম বাঁধতে না পারলে কি দম ওয়াজিব হবে?

প্রশ্ন (১৩২৩৮) : এক ব্যক্তি হজ্ব আদায়ের উদ্দেশ্যে মক্কায় গমন করেছেন, কিন্তু মীকাতের আগে ইহরাম বাঁধেননি। আবার আইনী জটিলতার কারণে মীকাতে ফিরে এসেও ইহরাম বাঁধতে পারেননি। প্রশ্ন হল, এই অবস্থায় হজ্বের ইহরাম তিনি কোত্থেকে বাঁধবেন? উক্ত ওজরের কারণে মীকাতের ভিতরে ইহরাম বাঁধলে তার উপর দম আসবে কি?

হজ্বের জন্য টাকা জমা করলে কি উক্ত টাকার যাকাত আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১৩২১৯) : আমি হজ্বে যাওয়ার জন্য ব্যাংকে ৩ লক্ষ টাকা জমা করেছি। আমার ভিসার কাগজপত্রে সমস্যার কারণে এ বছর হজ্বে যাওয়া হয়নি। আগামী বছর যাওয়ার নিয়ত করেছি। আমার জানার বিষয় হল, বছর অতিবাহিত হলে হজ্বে যাওয়ার জন্য ব্যাংকে জমাকৃত টাকার যাকাত আদায় করতে হবে কি?

মদীনা যিয়ারতের পর ইহরাম ছাড়া মক্কায় এসে দেশে চলে আসলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩১৯৫) : হজ্বের পর যিয়ারতের উদ্দেশ্যে মদীনায় গিয়েছিলাম। এরপর সেখান থেকে ইহরাম না বেঁধেই মক্কায় চলে এসেছি। এবং দেশেও চলে এসেছি। এখন উপায় কী?

হজ্ব ফরয হওয়ার পর বিলম্ব করে টাকা খরচ করে ফেললে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩১৮৫) : কোনো ব্যক্তির উপর হজ্ব ফরয হওয়ার পর সে তা আদায় করল না। এভাবে বিলম্ব করার পর একসময় তার সম্পদ খরচ হয়ে গেল। এবং তার ঐ পরিমাণ সম্পদ অবশিষ্ট থাকল না, যা দ্বারা তার উপর হজ্ব ফরয হয়। এমতাবস্থায় তার করণীয় কী?

মাহরাম ছাড়া ওমরাহ করলে কি ওমরাহ আদায় হবে?

প্রশ্ন (১৩১৬৪) : কিছুদিন আগে আমি আমার বয়স্ক চাচাতো ভাই ও চাচীর সাথে ওমরার সফরে গিয়েছিলাম। যেহেতু চাচী সার্বক্ষণিক সাথেই থাকবেন এবং ছিলেনও, তাই ভেবেছি চাচাতো ভায়ের সাথে সফর করতে দোষ নেই। তাছাড়া অনেকে এমনটা বলেছিলো। কিন্তু মাদরাসা পড়ুয়া আমার ভাগিনা বলেছে আমাদের সফর করা ঠিক হয়নি। আবার কিছু কিছু লোক বলেছেন কোনো অসুবিধা নেই। বিষয়টা দলীলসহ জানতে চাই?

কাপড়ে রক্ত লাগলে উক্ত কাপড় নিয়ে তাওয়াফ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩১৬২) : এ বছর হজ্বের সময় ফরজ তাওয়াফের পূর্বে আমার পা অনেকটা কেটে যায়। ফরজ তাওয়াফ করার সময় ক্ষত স্থান থেকে রক্ত গড়িয়ে পড়ে। তখন তাওয়াফ ছেড়ে দিয়ে ক্ষত স্থান ভালোভাবে ব্যান্ডেজ করে নতুন করে অযু করে তাওয়াফ করি। তাওয়াফের পর মীনায় চলে যাই। মীনায় যাওয়ার পর দেখি জামার পেছনে প্রায় এক বিঘত পরিমাণ জায়গায় রক্ত লেগে আছে। জামায় রক্ত কোন সময় লেগেছে তা নিশ্চিতভাবে জানা নেই। তবে আমার প্রবল ধারণা হল, তাওয়াফের সময় যখন রক্ত গড়িয়ে পড়েছিল তখন লেগেছে অথবা ব্যান্ডেজ করার সময় লেগেছে। কারণ ব্যান্ডেজ করার পর আর রক্ত বের হয়নি। হযরতের কাছে প্রশ্ন হল, কাপড়ে রক্ত লেগে থাকলে ঐ কাপড় পরে তাওয়াফ করা সহিহ কি? এবং ঐ কাপড় পরে তাওয়াফ করলে কোনো জরিমানা দিতে হবে কি? আর উপরে বর্ণিত ঘটনায় আমার ঐ তাওয়াফ সহিহ হয়েছে কি? এবং আমার উপর কোনো জরিমানা ওয়াজিব হয়েছে কি?

সাঈ করার সময় চক্কর ছুটে গেলে কি কোনো জরিমানা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১৩১৬১) : আমার এক প্রতিবেশী ওমরা করার সময় সাঈতে ছয় চক্কর দিয়েই মাথা মুন্ডিয়ে হালাল হয়ে যায়। এরপর সে আর সাঈর বাকি চক্কর পূর্ণ করেনি। এভাবেই দেশে চলে আসে। প্রশ্ন হল, তার ওমরা সহিহ হয়েছে কি? সহিহ না হলে তার করণীয় কী? আর যদি সহিহ হয়ে থাকে তাহলে তার উপর কোনো জরিমানা ওয়াজিব হয়েছে কি? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

বদলী হজ্ব সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১৩১১৭) : আমার বাবার উপর হজ্ব ফরয ছিল। তাই তিনি হজ্বের ইরাদা করেন। কিন্তু হঠাৎ তিনি অসুস্থ হয়ে একেবারে শয্যাশায়ী হয়ে পড়েন। এভাবে দীর্ঘ সময় কেটে যাওয়ায় আব্বা সুস্থ হওয়ার ব্যাপারে নিরাশ হয়ে আমাদেরকে বদলী হজ্ব করার ওসিয়ত করেন। এ ঘটনার কিছুদিন পরই আব্বা ইন্তিকাল করেন। আব্বার রেখে যাওয়া সমস্ত সম্পত্তির এক তৃতীয়াংশ প্রায় ৩,৬০,০০০/- (দুই লক্ষ চল্লিশ হাজার) টাকার মত হয়। কিন্তু এ টাকা দিয়ে বর্তমানে কাউকে হজ্বে পাঠানো যাচ্ছে না। তাই এ বিষয়ে আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেবের সাথে আলোচনা করলে তিনি বলেন, এক্ষেত্রে কেউ যদি স্বেচ্ছায় এ টাকার সাথে আর (বাকি) সামান্য টাকা নিজে বহন করে বদলী হজ্ব করে তাহলেও হয়ে যাবে। এ আলোচনার সময় ইমাম সাহেবের সাথে কয়েকজন ব্যক্তি ছিলেন। তাদের মধ্যে একজন এ কথা শুনে এগিয়ে এসে নিজ থেকেই বলে যে, আপনি যদি ৩,৬০,০০০/- টাকা দেন তাহলে বাকি টাকা দিয়ে আমি আপনার বাবার বদলী হজ্ব করতে পারি। এখন আমরা জানতে চাচ্ছি, উক্ত আলেমের কথা অনুযায়ী ঐ ব্যক্তি যদি বাকি টাকা নিজ থেকে দিয়ে হজ্ব করেন তাহলে কি আমার বাবার ফরয হজ্ব আদায় হবে?

ইহরাম ছাড়া জেদ্দায় যাওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩১০২) : আমার ব্যবসায়িক প্রয়োজনে ঢাকা থেকে জেদ্দা যাওয়া প্রয়োজন। সময় স্বল্পতার কারণে এবার মক্কায় যাওয়ার ইচ্ছা নেই। আমার জন্য কি ইহরামবিহীন জেদ্দায় যাওয়া জায়েয হবে?

এহরাম অবস্থায় ভুলবশত নাকের পশম তুলে ফেললে কি জরিমানা দিতে হবে?

প্রশ্ন (১৩০৮৯) : আমার বাবা হজ্বে গিয়ে এহরাম অবস্থায় ভুলবশত নাকের দুই-তিনটি পশম উপড়ে ফেলেছেন। জানতে চাচ্ছি, এহরাম অবস্থায় তার এ কাজটি জায়েয হয়েছে কি? নাজায়েয হলে তার জরিমানা কী হবে?

প্রতিবেশীর স্ত্রীকে দিয়ে বদলী হজ্ব করানো যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩০৮২) : আমার এক প্রতিবেশী এ বছর তার ফরয হজ্ব আদায় করতে যাচ্ছে। এখন আমি চাচ্ছি, তার স্ত্রীর সাথে কথা বলে তাকে দিয়ে আমার বাবার বদলী হজ্ব করাতে। তাই হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, আমার প্রতিবেশীর স্ত্রীকে দিয়ে বদলী হজ্ব করালে কি তা আদায় হবে?

কোনো মহিলা কি মাহরাম ব্যতীত হজ্বে যেতে পারবে?

প্রশ্ন (১৩০৩৮) : আমার স্ত্রীর উপর হজ্ব ফরয হয়েছে। কিন্তু বর্তমানে আমি দেশের বাইরে আছি। আমরা দু’জন একসাথে হজ্ব পালন করব। বাংলাদেশ থেকে আমার স্ত্রীকে শ্বশুর সৌদি এয়ারলাইন্স পর্যন্ত দিয়ে যাবেন আর আমি এদিক থেকে তাকে রিসিভ করব। এখন হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, বাংলাদেশ থেকে বিমানে সৌদি আসতে মাত্র কয়েক ঘণ্টা সময় লাগবে। এমতাবস্থায় এই অল্প কয়েক ঘণ্টা মাহরাম ছাড়া সফর করতে কি কোনো প্রকার অসুবিধা আছে?

হজ্ব করার জন্য টাকা জমা করার পর তা অন্য প্রয়োজনে খরচ করে ফেললে কি গুনাহ হবে?

প্রশ্ন (১৩০৩৭) : আমি অনেক আগে থেকেই হজ্ব করার নিয়তে টাকা জমা করছি। আলহামদুলিল্লাহ আমার হজ্ব করার জন্য যথেষ্ট পরিমাণ টাকা জমাও হয়ে যায়। কিন্তু ইতিমধ্যে ঘূর্ণিঝড়ে আমার ঘর-বাড়ি বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে হজ্বের জন্য জমানো টাকা দিয়েই এর মেরামত ও সংস্কার করি। বর্তমানে আমার কাছে হজ্ব করার মত অর্থকড়ি নেই। হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, এতে কি আমার কোনো গুনাহ হয়েছে? এবং আমার জন্য কি হজ্ব করা আবশ্যক?