ড. মুফতি মুহাম্মাদ খলিলুর রহমান মাদানী

মোবাইল রিচার্জ সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৫৩৫) : আমরা যখন মোবাইলে টাকা রির্চাজ করার জন্য দোকানদারকে বিশ টাকা দেই, তখন সে ১ টাকা কম ১৯ টাকা রির্চাজ করে দেয়। এক্ষেত্রে আমাদের এই লেনদেন কমবেশি করার কারণে সুদী লেনদেন হবে কি না? আর যদি সুদ হয় তাহলে বিগত দিনগুলোতে যে লেনদেন করা হয়েছে তাতে উভয়ের কী হুকুম? বিস্তারিত জানালে আমরা সকলেই উপকৃত হতাম।

ইনসিওরেন্সের টাকা কি হালাল?

প্রশ্ন (১২৫৩৪) : আমার আম্মা প্রগতি লাইফ ইনসিওরেন্স দশ বছর মেয়াদী একটি বীমা করেন। মাসে ২০০ টাকা করে দশ বছরে ২৪০০০ টাকা জমা হয়। ইনসিওরেন্স কোম্পানি এ টাকার সাথে আরোও ১৬০০০ টাকা মিলিয়ে মোট ৪০০০০ টাকা দিয়েছে। যা একটি ব্যাংক একাউন্টে রয়েছে। তিনি এখন জানতে চাচ্ছেন যে, তার এ টাকার উপরে কুরবানী ওয়াজিব হবে কি না? কেউ কেউ বলেছে, ইনসিওরেন্স ডিভিডেন্ড হারাম। তাই তার উপর কুরবানী আসবে না। আবার কেউ বলেছে, যেহেতু অধিকাংশ টাকা হালাল, তাই এর উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে। সঠিক মাসআলাটি জানিয়ে বাধিত করবেন।

ছেলে তার বাবার স্ত্রীর আগের ঘরের মেয়েকে বিয়ে করতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২৫৩৩) : কিছু দিন আগে আমার মায়ের ইন্তিকালের পর আমার পিতা এক বিধবা নারীকে বিবাহ করেন। তার ১৮ বছরের এক মেয়ে আছে। বর্তমানে সে আমাদের বাড়িতে অবস্থান করছে। সম্প্রতি ঐ মেয়ের মামা চাচ্ছেন আমার সঙ্গে তাকে বিবাহ দিতে। আমি কি তাকে বিবাহ করতে পারব? কেউ কেউ বলছেন, এই বিবাহ সহিহ হবে না। তাদের কথা কি ঠিক?

কেউ অন্যায়ভাবে মসজিদের জমি দখল করে না দিতে চাইলে তার থেকে জমির মূল্য গ্রহণ করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৫৩২) : আমাদের মসজিদের একটি জমি দীর্ঘদিন থেকে মহল্লার এক ব্যক্তির দখলে ছিল এবং সে জমিটির মালিকানা দাবি করে আসছিল। ২০০৬ সালে সে জমিটি আরেকজনের কাছে বিক্রি করে দেয়। লোকটি তাতে বাড়ি নির্মাণ করে বসবাস শুরু করে। ২০০৭ সালে আমরা ক্রেতার বিরুদ্ধে মামলা করি। সে নানা অপকৌশলে মামলার রায় তার পক্ষে নিয়ে যায়। ২০০৯ সালে আরেক সূত্র ধরে আমরা পুনরায় মামলা করি। দীর্ঘদিন পরে গত বছর আদালত মসজিদের পক্ষে রায় দেয়। সে জমি বুঝিয়ে না দিয়ে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে। বিষয়টির এভাবে কোনো নিষ্পত্তি না দেখে এলাকার কিছু গণ্যমান্য ব্যক্তি একটি সমঝোতা করতে চাচ্ছেন যে, যেহেতু সে বাড়ি নির্মাণ করে ফেলেছে তাই জমিটির বর্তমান বাজারমূল্য মসজিদকে দিয়ে দিবে। জানার বিষয় হল, জমির বিপরীতে এভাবে মূল্য নেওয়া বৈধ হবে কি না? এক্ষেত্রে ঐ লোক কি মূল বিক্রেতা থেকে ক্ষতিপূরণ নিতে পারবে?

পথ হারিয়ে ফেলার কারণে তাওয়াফে যিয়ারত যথাসময়ে করতে না পারলে কি দম ওয়াজিব হবে?

প্রশ্ন (১২৫৩১) : আল্লাহর রহমতে আমার গত বছর হজ্বে যাওয়ার সুযোগ হয়। ১২ই যিলহজ্ব মাগরীবের পর রাস্তায় এক বৃদ্ধের সাথে দেখা হয়। তিনি বললেন, বাবা, আমি রাস্তা হারিয়ে ফেলেছি। আমার বাসাটা একটু খুঁজে দেবে? তার বাসা খুঁজতে খুঁজতে আলাপচারিতায় জানতে পারলাম তিনি তখনও তাওয়াফে যিয়ারত করেননি। মিনা থেকে ১২ই যিলহজ্বের কংকর মারার পর কাফেলার সাথে মক্কার উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। কিন্তু ভিড়ে কাফেলা থেকে বিছিন্ন হয়ে যান। কাফেলাকে খুঁজে না পেয়ে শেষে একাই মাগরীবের সময় মক্কায় এসে পৌঁছান। আমি বললাম, ১২ই যিলহজ্ব সূর্যাস্তের আগে তাওয়াফ না করার কারণে আপনার উপর তো দম ওয়াজিব হয়ে গেছে। তিনি বললেন, আমি তো বিকালের আগেই তাওয়াফ করার জন্য বের হয়েছিলাম। কিন্তু পথ ও কাফেলা হারিয়ে ফেলায় দেরি হয়ে গেছে। এখন এশার সময়ই তাওয়াফ করে নিচ্ছি। তাহলেও কি আমার দম দিতে হবে? আমি জানতে চাচ্ছি, এধরনের ক্ষেত্রেও কি দম ওয়াজিব হবে? কাফেলা খুঁজতে গিয়ে নির্দিষ্ট সময়ের মাঝে তাওয়াফে যিয়ারত না করতে পারলে যদি পরে করে নেওয়া হয় তাহলেও কি দম দিতে হবে?

ইহরাম অবস্থায় মুখ ঢেকে ঘুমালে কি কোনো জরিমানা আবশ্যক হবে?

প্রশ্ন (১২৫৩০) : ইহরাম অবস্থায় আমি ৮ তারিখ রাতে এশার নামাযের পর চাদর গায়ে দিয়ে ঘুমিয়ে ছিলাম। এই অবস্থায় যেহেতু মাথা ও মুখ ঢাকা যায় না, তাই আমি বুক পর্যন্ত চাদর গায়ে দিয়েছিলাম। ফযরের আগে ঘুম থেকে ওঠার সময় খেয়াল করলাম, ঘুমের ভিতরে অজান্তে পূর্ব অভ্যাস অনুযায়ী আমি চাদর দিয়ে মুখ ঢেকে ফেলেছি। মুহতারামের নিকট আমার জিজ্ঞাসা হল, এক্ষেত্রে আমার করণীয় কী? এরকম অনিচ্ছাকৃত ভুলের কারণে কি কাফফারা দিতে হয়?

বাংলাদেশ ব্যাংকে চাকরি করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৫২৯) : আমি শুনেছি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে চাকরি করা হারাম। বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্ষেত্রেও কি একই বিধান? বাংলাদেশ ব্যাংকের কার্যক্রম অন্যান্য ব্যাংকের মত নয়। এরা কাউকে (ব্যক্তিগতভাবে) ঋণ দেয় না, আমানতও নেয় না। তবে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঋণ দেয় অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কাজ ও প্রতিষ্ঠার কারণ দেশের আর্থিক ব্যবস্থা ঠিক রাখা ও ভারসাম্য রক্ষা করা। এক্ষেত্রে এখানে চাকরি করা কি হারাম হবে? যদি উত্তর দেয়া হয় তাহলে খুব উপকৃত হব।

ডিও ক্রয়-বিক্রয় করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন (১২৫২৮) : আমার আলআরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ও এনআরসি ব্যাংকে সেভিং একাউন্টে কিছু টাকা জমা আছে। এই টাকা দিয়ে বসুন্ধরা গ্রুপ, সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ, টি কে গ্রুপসহ অন্যান্য কোম্পানির নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রী যেমন, আটা, ময়দা, চিনি, তৈল, ডালডা, ভুসি ইত্যাদি পণ্য দাম যখন কম থাকে তখন পণ্যগুলো কোম্পানি থেকে ক্রয় করা হয়। পণ্যের মূল্য তাদের ব্যাংক একাউন্টে নগদ জমা করা হয়। তারা পণ্য প্রদানের একটি তারিখ দিয়ে শুধু পণ্যের স্লিপ দিয়ে দেয়। এই স্লিপটিকে ব্যবসার ভাষায় ডিও বলা হয়। ডিও কিনে তাতে উল্লেখিত পণ্যসামগ্রী সংশ্লিষ্ট কোম্পানির গোডাউনে মজুদ রাখা হয়। কোনো পণ্যসামগ্রী আমি স্ব-চোখে দেখিও না এবং আমার গোডাউনেও আনি না, কেবলমাত্র কোম্পানীর দায়িত্বশীল প্রতিনিধির সাথে সরাসরি বা মোবাইলে কথা বলে পণ্যসামগ্রী কিনে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির ব্যাংক একাউন্টে টাকা পাঠিয়ে দিলে কোম্পানি আমাকে ঐ ডিও লেটার দিয়ে দেয়, পরবর্তীতে উল্লেখিত পণ্যসামগ্রীর দাম বৃদ্ধি হলে, উক্ত ডিও লেটার কাগজটি অন্য আরেকজন ব্যবসায়ীর কাছে কিছু লাভ করে বিক্রি করে দেওয়া হয়। এই ধরনের ব্যবসা করা জায়েয কি না? এই ব্যবসা করা যাবে কি না? জানালে খুবই উপকৃত হব।

ব্যবসার সম্পদের উপর যাকাত আবশ্যক হবে কি?

প্রশ্ন (১২৫২৭) : আমাদের গ্রামে আমার চাচা গরু ক্রয়-বিক্রয় করেন। তাকে সবাই গরু বেপারী বলে চেনে। তার লেনদেনের পদ্ধতি হল, তিনি একটা গরু ক্রয় করে ১০-১৫ দিন বাড়িতে রেখে বিক্রি করে দেন। আবার কখনো ১ মাস বা দেড় মাসের মত রেখে বিক্রি করে দেন। হযরতের কাছে আমার জানার বিষয় হল, এটার কারণে তার উপর যাকাত আসবে কি না? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

সম্মিলিত মুনাজাত করার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৫২৬) : সম্মিলিত মুনাজাত করার বিধান কী? কারো ধারণা, সম্মিলিতভাবে দুআ করা শরীয়তে প্রমাণিত নেই। এ ব্যাপারে দলীল-প্রমাণসহ বিস্তারিত জানালে আমরা উপকৃত হব।

জমি বন্ধক নেওয়া সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৫২৪) : আমাদের এলাকায় লোকজন বিভিন্ন পদ্ধতিতে জমি চাষাবাদ করে। যার মধ্যে একটি পদ্ধতি উদাহরণ স্বরূপ- একজন ব্যক্তি অপরজন থেকে এক বিঘা জমি ৫ বছরের জন্য নেয় এবং অগ্রিম বাবদ দেড় লক্ষ টাকা দেয় এবং চুক্তি হয় যে, সে জমিওয়ালাকে প্রতি বছর ৫৬০ টাকা করে ভাড়া দিবে এবং নির্ধারিত বছরের পর পূর্ণ টাকা জমিওয়ালা থেকে ফেরত নিবে। অথবা প্রতি বছর ৫৬০ টাকা করে ভাড়া না দিয়ে নির্ধারিত বছরের পর মূল টাকা থেকে ৫৬০ টাকা করে প্রতি বছরে বাদ দিয়ে বাকি টাকা জমিওয়ালা ফেরত দিবে। যেমনটি দোকানের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে। হযরতের কাছে জানার বিষয় হল, উল্লেখিত পদ্ধতিতে জমি চাষাবাদ করা জায়েয হবে কি না?

ফোনে বিয়ে করলে কি বিয়ে কার্যকর হবে?

প্রশ্ন (১২৫২৩) : আমার এক বন্ধু এক মেয়েকে ফোনে বিয়ে করে। সে মেয়েটিকে ফোনে বলে, আমি তোমাকে এত টাকার মহরে বিবাহ করলাম, তুমি রাজী থাকলে কবুল বল। মেয়েটি তখন কবুল বলে। ফোনে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে ছেলের দুজন বন্ধুও মেয়ের কবুল বলা শুনেছিল। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ছেলে এবং মেয়ে উভয়ের অভিভাবক তাদেরকে ভিন্ন জায়গায় বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তাদের উভয়ে বলে, আমাদের তো বিয়ে হয়ে গেছে। আমরা পরস্পর স্বামী-স্ত্রী। তাই অন্য কোথাও আমরা বিয়ে করব না। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, তাদের বিবাহ কি শুদ্ধ হয়েছে? এক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান কী? বর্তমানে তাদের বাবা-মা চাচ্ছেন তারা একে অপরকে তালাক দিয়ে দিক। এটা কি বৈধ হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

তাওয়াফের সময় উচ্চস্বরে দুআ-দরূদ পড়ার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৫২২) : আল্লাহ তাআলার রহমতে গত বছর হজ্বে গিয়েছিলাম। আগামীতেও যাওয়ার ইচ্ছা আছে। তো হজ্বে গিয়ে দেখলাম, অনেক মানুষ তাওয়াফের সময় জোরে জোরে বিভিন্ন দুআ-দরূদ পড়ে। এতে অন্যের তাওয়াফে ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়। একবার তো তাওয়াফের সংখ্যাই ভুলে গিয়েছিলাম। পাশে এক আলেমের কাছ থেকে মাসআলা জেনে নিয়ে আমল করেছি। এ সময় আরো কিছু লোককে দেখলাম সারি বেঁধে তাওয়াফ করছে। তাদের মধ্যে একজন ছোট মাইকে দুআ পড়ছে আর অন্যরা তার অনুসরণ করেছে। এখন আমার জানার বিষয় হল, তাওয়াফের সময় এভাবে উচ্চস্বরে দুআ-দরূদ পড়ার বিধান কী? দয়া করে বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

মসজিদের জায়গা বেদখল হয়ে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২৫২১) : দুই শতাংশ জায়গার উপর একশ বছরের পুরনো একটি মসজিদ রয়েছে। সঙ্গে মসজিদের জন্য ওয়াকফকৃত আরো পাঁচ শতাংশ জমি ছিল। কালক্রমে যা বেদখল হয়ে গিয়েছে। তা আর উদ্ধার করা সম্ভব নয়। এখন মসজিদটি সম্প্রসারিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। যা এখানে সম্ভব নয়। তাই মুতাওয়াল্লী চাচ্ছেন, অদূরে চার শতাংশের উপর বড় আকারে মসজিদ করতে। এখন আমার জানার বিষয় হল, আগের মসজিদ ও তার জায়গাটা কোন কাজে ব্যবহার করা হবে? উল্লেখ্য, অতি নিকটে হওয়ার কারণে উভয়টাকে মসজিদ হিসাবে ব্যবহার করা সমীচীন মনে হচ্ছে না। দয়া করে মাসআলাটির সমাধান প্রদান করে বাধিত করবেন।

লটারীর টাকা কি হালাল?

প্রশ্ন (১২৫২০) : মাহবুব আমার ছোট ভাই। সে আমেরিকা থাকে। তার উপার্জিত টাকা আমার কাছেই পাঠিয়ে থাকে। আমি সে টাকা দিয়ে ব্যবসা করি এবং পরিবারের ভরণপোষণ করি। মাহবুব একবার লটারীতে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা পায়। লটারীর এসব টাকা সে আমার নিকট পাঠিয়ে দিলে আমি সে টাকা থেকে কিছু ব্যবসায় বিনিয়োগ করি আর কিছু জমি ক্রয় করি এবং নিজেও কিছু খরচ করি। আমি এক আলেমকে জিজ্ঞেস করে জেনেছিলাম যে, কাফের মুলুকে পাওয়া লটারীর টাকা বৈধ, এতে সুদ নেই। তবে তা শুধু মাহবুবের জন্য জায়েয। কিন্তু এখন সঠিক মাসআলা জেনেছি যে, মূলত ওই টাকা মাহবুবের জন্যও নাজায়েয। কিন্তু এর মধ্যে আমি লটারীর টাকা ও পূর্বে পাঠানো টাকা দিয়ে বেশ মোটা অংকের টাকা ব্যয়ে একটি জমি ও দোকান ক্রয় করি। দ্বিতীয়ত সংসারের ভরণপোষণও এ টাকা থেকেই করেছি। তৃতীয়ত যাকাত, সাধারণ দান-খায়রাতও এ টাকা থেকেই দিয়েছি। এ অবস্থায় কী পন্থা অবলম্বন করলে উক্ত টাকা ও সম্পদ বৈধ হবে? আর এ টাকা থেকে দেওয়া যাকাত ও দান-খায়রাতের কী বিধান? উল্লেখ্য, আমাদের এক বিধবা খালা ও খালাতো ভাই-বোন আছে। এখন তাদেরকে কি পুরো টাকা দিয়ে দেওয়া যাবে? কেননা একে তো তারা গরিব আবার এক খালাতো বোন বিয়ের উপযুক্ত। টাকাটা দিলে তাদের অনেক উপকার হবে।

স্ত্রীর উদ্দেশ্যে চিঠিতে তালাকের কথা লিখলে কি তালাক হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১২৫১৯) : আমি ঢাকায় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি। আমার ছোট ছোট দুটি ছেলে এবং একটি মেয়ে আছে। আমার স্ত্রীর সাথে একটি বিষয় নিয়ে মনোমালিন্য হচ্ছিল। কিছুদিন আগে আমার বোনেরা আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসলে সে তাদের সাথে খুবই খারাপ আচরণ করে এবং ফোনে আমার সাথে খুব কথা কাটাকাটি হয়। আমি তাকে তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেই এবং একটি চিঠিতে ঘটনার বিবরণসহ লিখি যে, ‘আমি আমার স্ত্রীকে বায়েন তালাক দিলাম’। আমি মুখে উচ্চারণ করে তালাক বলিনি কিন্তু তালাকের নিয়তেই উক্ত কথা লিখেছি। পরে আমার ছেলে-মেয়ের কথা ভেবে তালাকের চিঠিটি তার কাছে না পাঠিয়ে ছিঁড়ে ফেলি। আমার জানার বিষয় হল, উক্ত লেখার কারণে আমার স্ত্রীর উপর তালাক পতিত হয়েছে কি না? এখন তার সাথে ঘর-সংসার করতে পারব কি না? উল্লেখ্য, আমি ইতিপূর্বে তাকে কোনো তালাক দেইনি। সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

নফল হজ্ব করা বেশি উত্তম নামি দান-সদকা?

প্রশ্ন (১২৫১৮) : আল্লাহর অশেষ দয়ায় আমি একাধিকবার বাইতুল্লাহর হজ্ব করতে পেরেছি এবং সবসময় চেষ্টা করি, প্রতি বছর না হলেও অন্তত তিন বছরে যেন একবার যাওয়া হয়। সে হিসাবে আমি আগামী বছরের জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণ করি। কিন্তু দেশের কিছু অঞ্চলে বন্যা হওয়ায় শত শত পরিবার বিপদের সম্মুখীন হয়। সেখানে আমার কিছু আত্মীয়-স্বজনও আছে। এ অবস্থায় আমাদের ইমাম সাহেব আমাকে পরামর্শ দেন এবারের হজ্বের জন্য জমা করা অর্থগুলো মানবতার সেবায় দান করে দিতে। তিনি বলেন, নফল হজ্বের চেয়ে বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়ানোই বেশি ফযীলতের। তার কথামতো সে অর্থ আমি ঐ খাতে দান করে দেই। এখন চিন্তা হচ্ছে, আসলে কোনটা উত্তম ছিল, দান করে দেয়া, নাকি হজ্বে যাওয়া। এ প্রশ্নের সঠিক উত্তর জানিয়ে আমাকে আশ্বস্ত করবেন।

খোলা তালাক দেওয়ার সময় স্ত্রীর কাছ থেকে কী পরিমাণ অর্থ গ্রহণ করা উচিত?

প্রশ্ন (১২৫১৭) : গত বছর আমার বিয়ে হয়। বিয়ের কিছু দিন পরই স্ত্রীর সাথে মনোমালিন্য হয়। সে বিভিন্ন পর-পুরুষের সাথে ফোনে কথা বলে, তাদের সাথে আড্ডা দেয়। তাকে অনেক বোঝানোর পরও কাজ হয়নি; বরং সে বারবার বলে, আমাকে ছেড়ে দাও। আমাকে তালাক দিয়ে দাও। আমার স্ত্রীরা পারিবারিকভাবে বেশ ধনী। তাই মুরব্বীদের সাথে পরামর্শ করে তাকে খোলা তালাক দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিই। আমার এক চাচা বললেন, তুমি খোলা তালাক বাবদ তিন লাখ টাকা নাও। আমার বিয়ের মহর ছিল আড়াই লাখ টাকা। বিয়ের সময় স্বর্ণালংকারের মাধ্যমে তা আদায় করে দিয়েছি। হযরতের কাছে কাছে জানতে চাই, আমি কি আমার স্ত্রী থেকে তালাক বাবদ উক্ত টাকা গ্রহণ করতে পারব?

মসজিদের জন্য ওয়াকফকৃত জায়গায় কবর থাকলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২৫১৬) : জনাব, ২৫ বছর আগে আমাদের গ্রামের এক মুরব্বী মসজিদের নামে ৫ শতাংশ জায়গা ওয়াকফ করেন। ওয়াকফকৃত জায়গাটির সীমানার মধ্যে ডান পাশে পুরাতন একটি কবর ছিল। আমাদের জানামতে এটি ওয়াকফকারীর নানার কবর। সে সময় আবাদী কম থাকায় মসজিদটি নির্মাণকালে আমরা কবরের দিক থেকে প্রায় দুই শতাংশ জায়গা ছেড়ে তা নির্মাণ করি। এখন মানুষের সংখ্যা অনেক বেড়েছে। আমরা চাচ্ছি মসজিদটি বড় করে পূর্ণ জায়গার উপর নির্মাণ করতে। এক্ষেত্রে কী আমাদের জন্য কবরের জায়গাটি ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে?