ড. মুফতি মুহাম্মাদ খলিলুর রহমান মাদানী

থুথুর সাথে রক্ত দেখা গেলে কি রোযা ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২৫৫৫) : গত রমযানে সেহরির পর তাড়াহুড়া করে পান খাওয়ার জন্য কামড় দিয়ে সুপারি ভাঙতে গিয়ে দাঁতে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। অনেকক্ষণ কুলি করার পর রক্ত পড়া বন্ধ হয়। পরবর্তীতে বেসিনে থুথু ফেললে তাতে হালকা রক্তের ভাব দেখতে পাই। আমি জানতে চাচ্ছি যে, এতে কি আমার রোযা ভেঙ্গে গিয়েছে?

ইতিকাফ সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৫৫৪) : গত রমযানে আমাদের গ্রামের একটি পাঞ্জেগানা মসজিদে আমরা আটজন ইতিকাফে বসি। পাশের জামে মসজিদে আমার দুই মামাও ইতিকাফে বসেন। আটাশ রমযানে সেই মসজিদে জুমার নামায পড়তে গেলে বড় মামা আমাকে জোর করে রেখে দেন। ফলে বাকি দুদিন সেখানে থেকে ইতিকাফ পূর্ণ করি। এক হুজুরকে মাসআলা জিজ্ঞেস করলে ইতিকাফ হয়ে যাবে বলে মত দেন। কিন্তু এ বিষয়ে খটকা রয়ে যায়। তাই মুফতী সাহেবের কাছে আবেদন হল, এ বিষয়ে শরীয়তের সঠিক মাসআলাটি জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

যাকাতের উপযুক্ত নয় এমন ব্যক্তিকে যাকাত দেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৫৫৩) : কিছুদিন আগে আমার ব্যবসায় লস হয়। ফলে আমি কিছুটা আর্থিক সংকটে পড়ি। তবে আমার সংকট এমন ছিল না, যার কারণে আমি যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হব। আমার ভগ্নিপতি বিষয়টি বুঝতে না পেরে সহায়তার নামে আমাকে যাকাতের টাকা প্রদান করে, যা আমি বোনকে গোপনে জিজ্ঞাসা করার মাধ্যমে স্পষ্ট করেছি। মুহতারামের নিকট প্রশ্ন হল, আমি এই টাকাগুলো কী করব?

পুরস্কার স্বরূপ হজ্ব করলে কি ফরয হজ্ব আদায় হয়ে যাবে?

প্রশ্ন (১২৫৫২) : দুই বছর আগে রমযানে ‘ইসলামিক নলেজ’ নামের একটি কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে আমি ১ম স্থান অধিকার করি। পুরস্কার স্বরূপ সে বছর আমাকে হজ্বে নিয়ে যাওয়া হয়। বর্তমানে আমি একজন সাধারণ ব্যবসায়ী। এখন আমার হজ্ব করার সামর্থ্য আছে। মুহতারামের নিকট আমার জিজ্ঞাসা হল, এই অবস্থায় কি আমার জন্য পুনরায় হজ্ব করা আবশ্যক?

বড় ভাই ওলি হিসেবে অনুমতি দেওয়ার পর ছোট ভাই আপত্তি করতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২৫৫১) : আমরা দুই ভাই এক বোন। আমার বাবা নেই। উভয়েই কাপড়ের ব্যবসা করেন। আমি ইন্টার পাশ করার পর তারা আমার বিবাহের জন্য একটি ছেলেকে পছন্দ করেন। ছেলেটি দ্বীনদার না হওয়াতে আমি রাযি হইনি। এরপর আমার মামা (যার মাধ্যমে আমি দ্বীনের বুঝ পেয়েছি) আমার জন্য একটি দ্বীনদার পাত্র ঠিক করেন, যার অর্থনৈতিক অবস্থা আমাদের থেকে কিছুটা দুর্বল। আমার বড় ভাইয়ের সম্মতিতে তার সাথে মহরে মিছিলে আমার বিবাহ হয়। এসময় আমার ছোট ভাই ব্যবসার কাজে ইন্ডিয়াতে ছিলেন। আকদের দুই দিন পরে ইন্ডিয়া থেকে আসেন এবং বলেন আমি এই বিয়েতে রাযি নই। কারণ তারা আমাদের থেকে অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল। এ বিষয়ে তিনি অনেক কঠোরতা করেছেন। এখন মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাচ্ছি, ছোট ভাইয়ের সম্মতি ছাড়া অর্থনৈতিক দিক থেকে গাইরে কুফুর মধ্যে বিবাহ হওয়ার দ্বারা কি আমাদের বিবাহ সহিহ হয়েছে? শরয়ীভাবে আমার ছোট ভাই কি আমাদের বিবাহ ভেঙ্গে দেয়ার অধিকার রাখে?

একসাথে দুইটি কংকর নিক্ষেপ করলে কি সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২৫৫০) : গত বছর আব্বা ও আম্মাকে নিয়ে হজ্বে গিয়েছিলাম। আব্বা অনেক বৃদ্ধ হয়ে গেছেন। মুআল্লিম সাহেব হজ্বের নিয়মাবলী বলে দেওয়ার পরও আব্বা অনেক কিছু ভুলে গিয়েছিলেন। ১০ তারিখ কংকর মারার সময় আব্বা দুটি কংকর একসাথে মেরেছিলেন। হযরতের কাছে জানার বিষয় হল, কংকর মারার সময় যদি দুইটি বা তিনটি কংকর একসাথে নিক্ষেপ করে ফেলে তাহলে করণীয় কী? এটার কারণে কোনো জরিমানা আসবে কি না? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

কাস্টমার পাঞ্জাবীর অর্ডার করে তা না নিলে কি সেই কাপড় যাকাত হিসেবে দিয়ে দেওয়া যাবে?

প্রশ্ন (১২৫৪৯) : আমার একটি পাঞ্জাবীর কাপড় ও টেইলার্সের দোকান আছে। আমার দোকানে কিছু পাঞ্জাবী পড়ে আছে, যা ক্রেতাদের অর্ডারে সেলাই করা হয়েছে। কিন্তু তারা তা নেয়নি। অপরদিকে আমাদের মেমোতে উল্লেখ রয়েছে, যা ক্রেতার নিকট রয়েছে, ৯০ দিনের মধ্যে কাপড় ডেলিভারী না নিলে তা নষ্ট হয়ে গেলে বা হারিয়ে গেলে কর্তৃপক্ষ দায়ী নয়। এমতাবস্থায় ছয় মাস পার হয়ে গেলেও ক্রেতা তার কাপড় না নিলে আমি ঐ কাপড় যাকাত স্বরূপ দিয়ে দেই। যেমন, একটি জুব্বার অর্ডার নিলাম। কাপড় বাবদ ৬০০ টাকা, সেলাই বাবদ ৪০০ টাকা মোট ১০০০ টাকা। ক্রেতা জমা দিল ২০০ টাকা বাকি আছে ৮০০ টাকা। এক্ষেত্রে আমি ক্রেতার নিকট পাওনা ৮০০ টাকা হিসাবে জুব্বাটি যাকাত স্বরূপ দিয়ে দেই। প্রশ্ন হল, এ নিয়মে শরীয়তসম্মত যাকাত আদায় হবে কি না? যদি না হয় তাহলে সহিহ পন্থা কী হবে দলীলসহ জানাবেন।

ব্যাংক একাউন্ট থেকে আসা সুদের টাকা জনকল্যাণমূলক কাজে খরচ করার নিয়তে ব্যাংকে টাকা রাখা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৫৪৮) : আমার কয়েকটি বিষয় জানার ছিল, ১. আমি বিগত সময় আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকে সেভিংস একাউন্টে কিছু টাকা জমা রেখেছিলাম। যার লাভের হার ছিল ৪%। এই লাভের টাকা আমি কোনোদিনই ভোগ করিনি এবং কোনোদিন করবও না ইনশাআল্লাহ। এই লাভের টাকা দিয়ে বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসার টয়েলেট ও প্রস্রাব খানা তৈরি করার কাজে ব্যয় করা হয়। এখন অন্য ব্যাংকে যদি জমা রাখি তাহলে সেই ব্যাংক আমাকে ৫.৫% হারে লাভ দিবে। উল্লেখ থাকে যে, সেই টাকাও বিভিন্ন মসজিদ, মাদরাসার টয়লেট ও প্রস্রাব খানা তৈরি করার কাজে ব্যয় করা হবে। এখন জানাবেন যে, বেশি লাভের জন্য আমি অন্য ব্যাংকে টাকা জমা রাখতে পারব কি না? ২. আমার ব্যবসা পরিচালনার জন্য কোম্পানীর নামে একাধিক ব্যাংকে চলতি হিসাব বা কারেন্ট একাউন্ট চালু আছে এবং লেনদেন করছি। ঐসকল ব্যাংকগুলো তাদের ব্যাংকে লেনদেন করার কারণে বাৎসরিক সার্ভিস চার্জ বাবদ টাকা কেটে নেয়। আমি অন্য ব্যাংক থেকে যে সুদ বা লাভের টাকা পাব তা দিয়ে উক্ত সার্ভিস চার্জ পরিশোধ করতে পারব কি না? ৩. আমার কোম্পানীর ওভেন, ডায়ার ও চুলা ব্যবহারের নতুন গ্যাস লাইন বর্ধিত করার জন্য ব্যাংক গ্যারান্টি বাবদ ১০ লক্ষ টাকা তিতাস গ্যাস কোম্পানীকে দিতে হবে। উক্ত ব্যাংক গ্যারান্টির ১০ লক্ষ টাকা নগদ জমা দিলে আমাকে ২% হারে সুদ বা লাভ দিবে ব্যাংক এবং জামানতও দেওয়া হবে। আর যদি নগদ ৩ লক্ষ টাকা জামানত বাবদ জমা দেওয়া হয় তাহলে ব্যাংকে বছর শেষে আরো ছয় হাজার টাকা অতিরিক্ত সুদ দিতে হবে। এখন আমার জানার ইচ্ছা যে, উক্ত সুদ বা লাভের টাকা অন্য ব্যাংক একাউন্টের সুদ বা লাভের টাকা থেকে পরিশোধ করা যাবে কি না? মোটকথা হল, এক ব্যাংকের সুদ বা লাভের টাকা দিয়ে অন্য ব্যাংকের সুদ বা লাভের টাকা পরিশোধ করা যাবে কি না?

যাকাত সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৫৪৭) : আমি একজনকে মাসে ১৫ হাজার টাকায় বাসা ভাড়া দিই। সে ৫০ হাজার টাকা এ্যাডভান্স দেয়। এরপর গত দুই বছর ধরে তার থেকে বাসা ভাড়া আদায় করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে আমার ছেলে অনেক কষ্টে তার থেকে দুই বছরের বাসা ভাড়া বাবদ তিন লক্ষ দশ হাজার টাকা উসূল করতে সক্ষম হয়। বর্তমানে উক্ত টাকা ছাড়া আমার কাছে নেসাব পরিমাণ সম্পদ নেই। এখন আমার জানার বিষয় হল, এই টাকাগুলোর যাকাতের বিধান কী? আমাকে কি এই টাকাগুলোর বিগত দুই বছরের যাকাত দিতে হবে?

তাওয়াফ ও সাঈর চক্কর নিয়ে সন্দেহ হলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২৫৪৬) : অনেক সময় তাওয়াফ ও সাঈর চক্কর নিয়ে সন্দেহ হয় যে, কয়টি চক্কর হল। তো তাওয়াফ ও সাঈর চক্করের ব্যাপারে সন্দেহ হলে কী করণীয়? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

মিরাছ বণ্টন সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৫৪৫) : আমার পিতা সরকারি চাকরি করতেন। তিনি গত বছর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। চাকরির কাগজপত্রে আমার মাকে নমিনি করা আছে। এখন প্রশ্ন হল, সরকার থেকে প্রাপ্ত সকল টাকা-পয়সার মালিক আমার আম্মা হবেন কি না? যদি না হন তবে এসব টাকা-পয়সা কিভাবে বণ্টিত হবে? উল্লেখ্য, আমরা তিন বোন এক ভাই। তিন বোন সাবালিকা এবং বিবাহিতা। ভাইটি নাবালেগ (বয়স তিন বছর)। আর আমাদের বাড়ি এবং বাড়ির জিনিসপত্র বণ্টন করার নিয়ম কী?

সন্তান লালন-পালন সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৫৪৪) : আমার এক বন্ধু এক মেয়েকে বিয়ে করে। সাত মাসের গর্ভবতী অবস্থায় মেয়েটি পালিয়ে গিয়ে আরেক ছেলের সাথে সংসার শুরু করে। এর এক মাস পর প্রথম স্বামী ঐ মেয়েকে তালাক প্রদান করে। পালিয়ে যাওয়ার তিন মাস পর একটি কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে। পরবর্তীতে মেয়েটি কাযী অফিসে গিয়ে ঐ ছেলেটিকে বিয়ে করে নেয়। সন্তানের লালন-পালন ঐ মেয়ে এবং তার দ্বিতীয় স্বামীই করে যাচ্ছে। প্রথম স্বামীকে লালন-পালন করা এমনকি দেখার সুযোগ দিতেও তারা রাজি না। এখন আমি জানতে চাই- ১. ঐ কন্যা সন্তানের পিতা হিসেবে পরিচয় কে পাবে? ২. সন্তানটির লালন-পালনের অধিকার কে রাখে? ৩. এমন অপারগতাবস্থায় সন্তানের খোঁজ-খবর না নেওয়ার দ্বারা প্রথম স্বামী গুনাহগার হবে কি না? ৪. ঐ সন্তানের লালন-পালনের ক্ষেত্রে দ্বিতীয় স্বামীর কোনো অধিকার আছে কি না?

কনে থেকে সম্মতি নেওয়ার সময় সাক্ষী থাকা কি জরুরি?

প্রশ্ন (১২৫৪৩) : গত শনিবার ধানমণ্ডি তাকওয়া মসজিদে আমার বড় ভাগ্নির বিবাহের আকদ হয়। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় আমার ভগ্নিপতি আমার ভাগ্নি থেকে ইযিন নিয়ে যান। এ সময় সেখানে শুধু আমার বোন ছিলেন। আকদের পূর্বে ছেলে পক্ষের কয়েকজন মুরব্বী বলে উঠলেন, বিবাহ সংঘটিত হওয়ার জন্য ইযিন নেয়ার সময়ও সাক্ষীদের উপস্থিত থাকা জরুরি। এরপর ইমাম সাহেব তাদেরকে কি যেন বলেন। তাতে তারা শান্ত হন। এরপর বিবাহ হয়। এছাড়াও এটা জরুরি কি না এ নিয়ে আরো কিছু বিবাহে জটিলতা সৃষ্টি হতে দেখেছি। এখন জানতে চাচ্ছি বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার জন্য ‘ইযিন’ নেয়ার সময় সাক্ষীদের উপস্থিতি জরুরি কি না?

নবজাতকের কানে আযান দেওয়ার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৫৪২) : কিছুদিন আগে আমার মেয়ের একটি ছেলেসন্তান জন্ম হয়। নার্সরা নাতিকে আমাদের কোলে দেওয়ার পর তার কানে আযান দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নেই। ঠিক তখনই যোহর নামাযের আযান হয়। আমরা মসজিদের আযানই যথেষ্ট মনে করে পুনরায় তার কানে আর আযান দেইনি। জানার বিষয় হল, মসজিদের আযানের দ্বারা কি নবজাতকের কানে আযান দেওয়ার সুন্নাত আদায় হয়ে যায়? আর নবজাতকের কানে আযান দেওয়ার ক্ষেত্রেও কি حي على الصلاة ও حي على الفلاح বলার সময় ডানে-বামে চেহারা ঘোরানোর নিয়ম আছে? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

সফর সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৫৪১) : তাবলীগ জামাতের মারকায ঢাকা কাকরাইল মসজিদ থেকে ৪০, ২০, ৭, ৩ দিনের জন্য বিভিন্ন মহল্লা, গ্রাম, শহর, পৌরসভা, থানা বা জেলাভিত্তিক জামাত পাঠানো হয়ে থাকে। এ অবস্থায় তাবলীগ জামাতের ভাইদের নামাযের হুকুম কী হবে? কিছু ভাই বলে থাকেন, তাবলীগ জামাতে বের হয়ে যেহেতু একই মসজিদে ১৫ দিনের বেশি অবস্থান করা হয় না তাই সদা-সর্বদা মুসাফির থাকবে। তাদের এ কথা কতটুকু ঠিক? এখানে আরো উল্লেখ্য যে, একই মসজিদ বা একই মহল্লা, গ্রাম, ইউনিয়ন, থানা বা জেলার ভিতর ১৫ দিনের বেশি থাকলে নামাযের হুকুম কী হবে?

কবর স্থানান্তর করার বিধান কি?

প্রশ্ন (১২৫৪০) : আমাদের নির্দিষ্ট ওয়াকফকৃত কোনো কবরস্থান ছিল না। তাই আমাদের বংশীয় লোকদেরকে বাড়ির পাশে একটি স্থানে দাফন করা হত। এখানে নতুন পুরাতন অনেক কবর আছে। সর্বশেষ এক বছর আগে আমার চাচাকে দাফন করা হয়। আল্লাহর রহমতে এখন আমরা একটি ওয়াকফকৃত কবরস্থান বানিয়েছি। আমাদের বংশের অনেকেই কবরগুলোকে নতুন কবরস্থানে স্থানান্তর করে আগের জায়গাকে সমান করে দিয়ে ফসলি জমি বানাতে চাচ্ছে। জানার বিষয় হল, আমরা কি নতুন-পুরাতন কবরগুলোকে ওয়াকফকৃত নতুন কবরস্থানে স্থানান্তর করে ঐ জমি ব্যবহার করতে পারব? মাসআলাটির সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

অমুসলিমদের লালা কি নাপাক?

প্রশ্ন (১২৫৩৯) : আমার বাবা একজন নওমুসলিম। বাবার বংশের সবাই বৌদ্ধ। মাস দেড়েক আগে আমার এক বৌদ্ধ ফুফু ও ফুফাত ভাই আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসে। সবাই একসাথে দুপুরের খাবার খাই। খাওয়ার একপর্যায়ে পানি পানের জন্য ফুফুর পান করা পানির গ্লাসে মুখ দিতে গেলে মা ইশারা দিয়ে নিষেধ করেন। ফলে আমি অন্য গ্লাস দিয়ে পানি পান করি। পরে মা আমাকে বিষয়টি খুলে বলেন- ‘তোমার ফুফু ঐ গ্লাসে মুখ দিয়ে পানি পান করার কারণে অবশিষ্ট পানি নাপাক হয়ে গেছে। কারণ, অমুসলিম হল অপবিত্র।’ তো প্রশ্ন হল, আমার মার আপত্তিটি কি ঠিক? এক্ষেত্রে সঠিক মাসআলাটি জানালে কৃতজ্ঞ হব।

মুদারাবা ব্যবসা সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৫৩৭) : আমি আমাদের এলাকার ‘উদয়ন সমবায় সমিতির’ একজন সদস্য। আমাদের সমিতিতে বেশ কিছু টাকা জমা হলে কোষাধ্যক্ষ সাহেবকে মুযারাবার ভিত্তিতে ব্যবসার জন্য ৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়। তিনি প্রথমে আগ্রহ দেখালেও পরে ঝামেলা হবে ভেবে রাজি হচ্ছিলেন না। তাই সমিতির সভায় সিদ্ধান্ত হয় যে, তিনি যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই ব্যবসা পরিচালনা করবেন, ব্যবসার উপকারার্থে যে কোনো সিদ্ধান্ত তিনি নিবেন- এতে কারো আপত্তি থাকবে না। তিনি (একথা ভেবে যে, ব্যবসায় তার অভিজ্ঞতা নেই তাই লাভ না হতে পারে) তার এক আমানতদার বন্ধুকে সমিতির টাকা মুদারাবা চুক্তিতে দুই বছরের জন্য দিয়ে দেন। শতকরা হারে লাভের ৩০% সে পাবে ৭০% সমিতি পাবে। এক্ষেত্রে বিষয়টি তিনি দু-একজনের সাথে মৌখিকভাবে আলোচনা করলেও আনুষ্ঠানিকভাবে সকলের থেকে অনুমতি নেননি। ঘটনাটি জানাজানি হলে অনেক সদস্য এতে অসন্তুষ্ট হন। তারা টাকা ফিরিয়ে নেয়ার জন্য চাপ দিচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে অনেক ঝামেলা হচ্ছে। সভাপতি চাচ্ছেন কোনোভাবে চলতি বছর শেষ করতে। কিন্তু অন্যান্যরা এখনই টাকা ফিরিয়ে আনার দাবি জানাচ্ছেন। হযরতের কাছে জানার বিষয় হল, নিজে ব্যবসা না করে এভাবে অন্যের সাথে চুক্তি করা কি জায়েয হয়েছে? সদস্যদের অভিযোগের কারণে এখনই তিনি চুক্তি ভঙ্গ করতে বাধ্য কি না? এক্ষেত্রে এক বছর শেষ করার দাবি কি শরীয়তসম্মত? এ সময় ব্যবসায় কোনো লোকসান হলে এর দায়ভার কে নিবে?

‘আল্লাহ’ শব্দের সাথে ‘তাআলা’ শব্দ যোগ করে বলা বা লিখা কি ঠিক?

প্রশ্ন (১২৫৩৬) : আমার জানার বিষয় হল, ১. ‘আল্লাহ’ এই সম্মানিত নামটির পরে আমরা যে ‘তাআলা’ শব্দটি ব্যবহার করি, যেমন ‘আল্লাহ তাআলা’- এই তাআলা ব্যবহার করা কি সহিহ, না শুধু আল্লাহই বলব বা লিখব। ২. আর ‘আল্লাহ’ এই সম্মানিত নামটির পর যে ‘তাআলা’ ব্যবহার করি, এই তাআলার অর্থ কী? আর ‘তাআলা’ যদি না লিখি বা না বলি তবে কি ভুল বা গুনাহ হবে? একজন জ্ঞানী বলেন, আল্লাহ তো আল্লাহই; কেন আবার আল্লাহর নামের সাথে তাআলা ব্যবহার করা। যাক যেটা সঠিক সেটাই আমাদের জানিয়ে উপকৃত করবেন।