সালাত বা নামাজ

নামাযরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে চলাফেরা করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১১৭০৮) : মসজিদে জামাত শেষ হওয়ার পর যখন মুসল্লিরা সুন্নত নামায আদায় করে তখন সাধারণত তাদের সামনে সুতরা থাকে না। ফলে অনেকে না্মাযরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে চলে যায়। আমার জানার বিষয় হলো, নামাযরত ব্যক্তির সামনে দিয়ে সুতরা ব্যতীত চলাফেরা করা যাবে?

সফর অবস্থায় নামায কাযা হয়ে গেলে মুকীম অবস্থায় সেই নামায কিভাবে আদায় করবে?

প্রশ্ন (১১৭০৭) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমার বাড়ি খুলনা। কয়েকদিন আগে আমি দুই দিনের জন্য ঢাকায় মামার বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলাম। সেখানে আমার আসরের নামায কাযা হয়ে যায়। কিন্তু আমি তা আদায় করি নি। এখন আমি বাড়িতে চলে এসেছি। তো এখন সেই ছুটে যাওয়া নামায কি আমি দুই রাকাত আদায় করব নাকি চার রাকাত আদায় করব?

মুসাফির ব্যক্তি মুকিমের পিছনে ইকতিদা করলে কত রাকাত আদায় করবে?

প্রশ্ন (১১৬৯৯) : আমার বাড়ি যশোর। মাঝে মাঝে ব্যক্তিগত কাজে আমার ঢাকা যেতে হয়। যাত্রাপথে ড্রাইভার নামাযের বিরতি দেয়। তখন মসজিদে জামাত হলেও আমি এই ভেবে জামাতে শরিক হই না যে, ইমাম সাহেব মুকিম, তাই তিনি চার রাকাত নামায পড়াবেন। আর আমি তো মুসাফির, আমার উপর দুই রাকাত ওয়াজিব। তো আমার এই ভাবনা কি ঠিক আছে?

‘আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান্নার’ দুআ কি হাদিসে আছে?

প্রশ্ন (১১৬৯৮) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, . ফজর ও মাগরিবের ফরজ সালাতের পর ‘আল্লাহুম্মা আজিরনী মিনান্নার’ এই দু্আ ৭ বার পড়ার বিষয়টি কি হাদিসে আছে?

নামাযে সিজদার আয়াত তেলওয়াত করার পর কোনো কারণে নামায ভেঙে গেলে কি সেই সিজদা আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১১৬৯৭) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি নামাযে সিজদার আয়াত তেলাওয়াত করি। কিন্তু সিজদা করার আগে কোনো কারণে আমার নামায ভেঙে যায়। তাই নতুন করে নামায আদায় করি। এখন কি আমাকে সিজদায়ে তিলাওয়াত আদায় করতে হবে?

জুমার দিন কি সফরে বের হওয়া যায় না?

প্রশ্ন (১১৬৯৬) : আমি শুক্রবার সফরে বের হওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। তো আমার এক বন্ধু বলল, জুমার দিন নাকি সফরে বের হওয়া মাকরুহ। তার কথা কি ঠিক আছে?

মুসাফির ব্যক্তি জুমার নামায পড়ালে কি সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১১৬৯৪) : আমি একজন আলেম। আমি ঢাকা থাকি। একবার আমি সিলেট আমার এক বন্ধুর বাড়ি দুই দিনের জন্য বেড়াতে যাই। সেখানে জুমার দিনে বন্ধুর আবেদনে তাদের মসজিদে জুমার নামায পড়াই। নামাযের পর স্থানীয় একজন লোক বলল, হুজুর তো মুসাফির। আর মুসাফিরের উপর তো জুমার নামায ফরয না। তাহলে হুজুরের জুমার নামায পড়ানো কি সঠিক হয়েছে? হযরতের নিকট জানতে চাচ্ছি, মুসাফির ব্যক্তি জুমার নামায পড়ালে কি শুদ্ধ হবে?

সদকায়ে ফিতর রমযান মাসে আদায় করলে সহিহ হবে।

প্রশ্ন (১১৬৮৮) : রমযান মাসে যেহেতু দান-সদকার সওয়াব অধিক বেশি তাই আমরা আমাদের পরিবারের সদস্যদের যাকাত-ফিতরা সবসময় রমযান মাসেই আদায় করে থাকি। কিন্তু সেদিন এক আলেমের নিকট শুনেছি যে, রাসূল (সা.) ঈদের দিন ঈদগাহে যাওয়ার আগে সদকায়ে ফিতর আদায় করার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন। তো আমরা বিগত বছরগুলোতে আমাদের পরিবারের যে সমস্ত সদকায়ে ফিতর রমযান মাসে অগ্রিম আদায় করেছি তা কি ঠিক হয়েছে?

আত্মহত্যাকারীর জানাযার নামায পড়া কি নাজায়েয?

প্রশ্ন (১১৬৮৭) : আমাদের এলাকায় একজন লোক আত্মহত্যা করে। লোকটি খুব ভালো ছিল। পারিবারিক ঝামেলা সহ্য করতে না পেরে সে আত্মহত্যা করে। তাই আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব তার জানাযা পড়তে রাজি হয়নি। এবং এলাকার লোকজনও তার জানাযা পড়তে রাজি হয়নি। অবশেষে তার পরিবারের লোকজন একজন লোককে ইমাম বানিয়ে জানাযার নামায পড়ে তাকে দাফন করে। হযরতের কাছে জানতে চাচ্ছি, আত্মহত্যাকারীর জানাযার নামায পড়া কি নাজায়েয?

দাঁড়ানোর সক্ষমতা থাকলে বসে নামায আদায় করা যাবে না।

প্রশ্ন (১১৬৮২) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, আমি দাঁড়িয়েও নামায আদায় করতে পারি আবার বসেও নামায আদায় করতে পারি। কিন্তু রুকু-সিজদা করতে পারি না। এই অবস্থায় আমি কি দাঁড়িয়ে নামায আদায় করব নাকি বসে আদায় করব? আর রুকু-সিজদা কিভাবে আদায় করব?

পায়ে ব্যথা পাওয়ার কারণে দাঁড়িয়ে নামায পড়তে না পারলে কি বসে নামায পড়া যাবে?

প্রশ্ন (১১৬৮১) : গাড়ি থেকে তাড়াহুড়া করে নামার সময় পড়ে গিয়ে আমার ডান পা মচকে যায়। এখন দাঁড়িয়ে নামায পড়তে গেলে বা মাটিতে সিজদা করতে গেলে পায়ে প্রচন্ড ব্যথা লাগে। এক্ষেত্রে কি আমার বসে নামায পড়ার সুযোগ আছে?

নামাযে একাধিক ভুল হলেও সাহু সিজদা একবারই করতে হবে।

প্রশ্ন (১১৬৮০) : কখনো কখনো নামাযের মধ্যে আমার একাধিক ভুল হয়ে যায়। যেমন- সূরা ফাতিহা পড়ার পর অন্য সূরা পড়তে ভুলে যাই, চার রাকাত বিশিষ্ট নামাযের প্রথম বৈঠকে তাশাহহুদের পর দুরুদ শরিফ পড়ে ফেলি ইত্যাদি। নামায শেষে সবগুলো ভুলের জন্য একবার সাহু সিজদা আাদায় করি। আমি জানতে চাচ্ছি, একাধিক ভুলের জন্য কি একবার সাহু সিজদা আদায় করা যথেষ্ট হবে?

সাহু সিজদা আদায় করতে ভুলে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১১৬৭৯) : নামায পড়ার সময় কখনো কখনো আমার উপর সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়। কিন্তু শেষ বৈঠকে আমি সাহু সিজদা করতে ভুলে যাই। ফলে সাহু সিজদা না করেই সালাম ফিরিয়ে ফেলি। এক্ষেত্রে কি আমার নামায আদায় হবে?

ঘরে প্রাণীর ছবি থাকলে সেই ঘরে নামায আদায় করা মাকরুহ।

প্রশ্ন (১১৬৭৮) : আমি একটি সরকারি অফিসে চাকরি করি। আমি সবসময় জামাতের সাথে নামায পড়ার চেষ্টা করি। তবে মাঝে মধ্যে অফিসের কাজের ব্যস্ততার কারণে যোহরের নামায একা পড়তে হয়।তখন অফিসেই নামায আদায় করি। আর অফিসে যেখানে দাঁড়িয়ে নামায পড়ি তার বরাবর ডান দিকে বড় দুটি (মানুষের) ছবি ঝুলানো আছে। পাশে ছবি নিয়ে নামায পড়ার কারণে কি আমার নামাযের কোনো সমস্যা হবে?

গোসল ফরয অবস্থায় শরীর থেকে বের হওয়া ঘাম নাপাক নয়।

প্রশ্ন (১১৬৭৬) : গোসল ফরয অবস্থায় শরীর থেকে যে ঘাম বের হয় তা কি নাপাক? সেই ঘাম যদি কাপড়ে লাগে তাহলে কি কাপড় নাপাক হয়ে যাবে? সেই ঘামযুক্ত কাপড় পরিধান করে নামায পড়া যাবে কি?

নাকের সর্দি নাপাক নয়।

প্রশ্ন (১১৬৬৫) : আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ, নাকের সর্দি কি নাপাক? নামায পড়ার সময় বা অন্য কোনো সময় আমার নাকে সর্দি আসলে হাতের কাছে কোনো রুমাল না থাকলে তখন জামার আস্তিন দিয়ে ‍মুছে ফেলি। এতে কি আমার জামা নাপাক হয়ে যাবে? সেই জামা গায়ে দিয়ে নামায পড়লে কি আমার নামায হবে?

চার রাকাত বিশিষ্ট নামাযের প্রথম বৈঠকে ইমাম সাহেব না বসে দাঁড়িয়ে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১১৬৬৪) : ইমাম সাহেব আসরের নামাযের জামাতে প্রথম বৈঠকে না বসে দাঁড়িয়ে যান। পেছন থেকে মুসল্লিরা লোকমা দেওয়ার পরেও তিনি বৈঠকে ফিরে আসেন নি। নামায শেষে তিনি সাহু সিজদা আদায় করেন। নামায শেষ হওয়ার পর কেউ কেউ বলল, ইমাম সাহেবের নামায হয়নি। কারণ তিনি লোকমা শোনার পরেও বৈঠকে ফিরে আসেন নি। আমার জানার বিষয় হলো, মুসল্লিদের কথা কি ঠিক আছে?

সফর অবস্থায় নামায কাযা হলে করণীয়।

প্রশ্ন (১১৬৬৩) : কয়েকদিন আগে আমি কোনো কারণে সফর অবস্থায় আসর নামায পড়তে পারিনি। জানার বিষয় হল, এখন মুকীম অবস্থায় ঐ ওয়াক্তের কাযা কীভাবে আদায় করব? দুই রাকাত আদায় করব নাকি চার রাকাত?

নামাযরত অবস্থায় কোনো নারীর হায়েয শুরু হলে করণীয়।

প্রশ্ন (১১৬৬২) : আমি যোহরের নামাযের শেষ ওয়াক্তে নামাযে দাঁড়াই। নামাযরত অবস্থায় আমার মাসিক শুরু হয়ে যায়। তখন আমি নামায ছেড়ে দেই। এমতাবস্থায় পবিত্র হওয়ার পর কি আমার এই নামায পরে কাযা করে নিতে হবে?

তাওয়াফে কুদুম করার পর তাওয়াফের দুই রাকাত নামায পড়তে না পারলে করণীয়।

প্রশ্ন (১১৬৫৪) : আমি ভীড়ের কারণে তাওয়াফে কুদুম করার পর তাওয়াফের দুই রাকাত নামায পড়তে পারি নি। পরে নামাযটির কথা ভুলে যাই। পরবর্তীতে দেশে চলে আসার পর স্মরণ হয়েছে। আমার জানার বিষয় হলো, তাওয়াফের দুই রাকাত নামায পড়ার হুকুম কী? তা না পড়ার কারণে কি আমাকে কোনো জরিমানা দিতে হবে?