সালাত বা নামাজ

মৃত ভূমিষ্ট বাচ্চার জানাযার নামায পড়তে হবে কি?

প্রশ্ন (১২৮৪০) : কিছু দিন আগে আমার ছোট বোনের একটি মৃত সন্তান ভূমিষ্ঠ হয়েছে। আমার ভগ্নিপতি ঐ বাচ্চাকে গোসল দিয়ে কাপড়ে পেঁচিয়ে দাফন করে দিয়েছে। ঐ বাচ্চার জানাযার নামায পড়েনি। তার এই কাজটি কি সঠিক হয়েছে?

তিন মাসের বাচ্চা নষ্ট হবার পর আসা রক্তের হুকুম কী?

প্রশ্ন (১২৮৩৫) : আমার গর্ভে তিন মাসের বাচ্চা নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ময়লা পরিষ্কারের জন্য ডাক্তার ঔষুধ দিয়েছে। আমি সেই ঔষুধ খাচ্ছি। ২০ দিন হলো ব্লাড আসছে। একটুও কমে নাই। এখন কি আমি নামাজ আদায় করতে পারব?

হায়েয বন্ধ হলে বুঝবে কিভাবে?

প্রশ্ন (১২৮৩২) : নারীরা তাদের ঋতুস্রাব বন্ধের ব্যাপারে কিভাবে নিশ্চিত হবে? যদি সতর্কতা হিসেবে আগেই নামায পড়ে, কিন্তু পরে সামান্য লাল/হলুদ স্রাব দেখতে পায় তাহলে এর বিধান কী হবে? এভাবে নামায পড়লে কি গুনাহ হবে?

ইমাম সাহেব নামাযে ভুল করলে কী বলে লোকমা দেওয়া উচিত?

প্রশ্ন (১২৮১৭) : আমি একটি মসজিদে ইমামতি করি। কয়েকদিন আগে আমি ভুল করে যোহরের নামাযের দ্বিতীয় রাকাতে না বসে দাঁড়িয়ে যাই। তখন পেছন থেকে একজন আল্লাহু আকবার বলে লোকমা দেয়। সেখানে উপস্থিত একজন আলেম নামায শেষে বললেন, হাদিস ও ফিকহের কিতাবাদিতে সুবহানাল্লাহ বলে লোকমা দেওয়ার কথা আছে। আল্লাহু আকবার বলে নয়। সুতরাং সুবহানাল্লাহ বলাই উচিত। এখন আমি জানতে চাচ্ছি যে, ঐ আলেমের কথা কি সঠিক? জানিয়ে বাধিত করবেন।

মুসাফিরের জন্য কি সফর অবস্থায় কসর করা আবশ্যক?

প্রশ্ন (১২৮১২) : সফর অবস্থায় নামায কসর করা কি জরুরি? কেউ কেউ বলে কসর করা জরুরি নয়। কেউ চাইলে পুরো নামাযও পড়তে পারে আবার কসরও করতে পারে। এতে কোনো অসুবিধা নেই। এ কথার পর বিষয়টি নিয়ে আমি সংশয়ে পড়ে যাই। দয়া করে আমাকে এর সমাধান জানাবেন।

জামাতে নামাযের ক্ষেত্রে মুসল্লীরা কখন দাঁড়াবে?

প্রশ্ন (১২৮০৯) : অনেককেই বলতে শোনা যায় যে, মুক্তাদীগণ মুআজ্জিন হাইয়া আলাল ফালাহ বলা পর্যন্ত মুক্তাদীগণ অপেক্ষা করবে। তারপর দাঁড়াবে। আমার জানার বিষয় হলো, জামাতে নামায আদায় করার ক্ষেত্রে কাতার সোজা করার সঠিক সময় কখন? আর ইক্বামত কি মুসল্লিরা দাঁড়ানোর পর দিবে? নাকি ইক্বামত শুরু করার পর মুসল্লিরা দাঁড়াবে?

নেফাস শেষ হওয়ার পর ১৫ দিন অতিক্রম হওয়ার আগেই স্রাব দেখা দিলে তা কি হায়েয হিসেবে গণ্য হবে?

প্রশ্ন (১২৮০৬) : দেড় মাস আগে আমার সন্তান হয়। তারপর ৩৫ দিন স্রাব থাকার পর সুস্থ হই। এর ৭ দিন পর পুনরায় নিয়মিত স্রাব শুরু হয় এবং অন্যান্য সময়ের মত স্বাভাবিকভাবেই ৬ দিন পর্যন্ত স্রাব আসে। আমি এ ৬ দিন মাসিকের সময় হিসেবে নামায আদায় করিনি। গতকাল আমার এক আত্মীয়ের কাছে এই বিষয় বললে তিনি আমাকে বললেন, দুই স্রাবের মাঝে যেহেতু ১৫ দিন ব্যবধান হয়নি তাই পরবর্তী ৬ দিন ইস্তেহাযা বলে গণ্য হবে। তাই ঐ দিনগুলোর নামায কাযা করতে হবে। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, তার কথা কি ঠিক? এবং ঐ ছয় দিনের নামায কাযা করতে হবে কি?

নিকটবর্তী ওলি জানাযায় উপস্থিত না থাকায় দূরবর্তী ওলির উপস্থিতিতে ইমাম সাহেব নামায পড়ালে কি নিকটবর্তী…

প্রশ্ন (১২৭৯০) : এক ব্যক্তি মারা যাওয়ার পর উক্ত গ্রামের মসজিদের ইমাম সাহেব তার জানাযার নামায পড়িয়েছিলেন। এবং এতে মহল্লাবাসী ও দূরবর্তী ওলিগণ উপস্থিত ছিল। কিন্তু সে জানাযায় নিকটবর্তী ওলি উপস্থিত ছিল না এবং তার অনুমতিও ছিল না। এ অবস্থায় নিকটবর্তী ওলি দ্বিতীয়বার জানাযা পড়তে পারবে কি?

নামাযের পর মসজিদ বন্ধ রাখার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৭৮৯) : বর্তমানে দেখা যায় আমাদের দেশের প্রায় মসজিদই নামাযের সময় ছাড়া অন্য সময় তালা মেরে রাখা হয়। এ ব্যাপারে কোনো কোনো মসজিদ কর্তৃপক্ষ বলেন, সব সময় মসজিদ খোলা রাখলে মসজিদ ময়লা হয়ে যায় এবং মসজিদের আসবাবপত্র চুরি হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে। অথচ আমরা অনেক সময় ব্যবসা-বাণিজ্য ও অফিস টাইমের ফাঁকে ফাঁকে কিছু অবসর সময় পাই। তখন আমাদের নামায, কুরআন তিলাওয়াত বা ফাজায়েলে আমল কিংবা অন্যান্য দ্বীনী বইপত্র পড়তে মনে চায়। কিন্তু মসজিদগুলো তালাবদ্ধ থাকায় উপযুক্ত স্থান না পেয়ে আমরা এসব করতে পারি না। মাননীয় মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাই, উল্লেখিত সমস্যাকে সামনে রেখে এক্ষেত্রে শরয়ী সমাধান কী? আশা করি বিষয়টি খোলাসা করে জানাবেন।

মুসাফির ব্যক্তি যোহরের নামায চার রাকাত আদায় করলে কি তা সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২৭৮৬) : সফর অবস্থায় আমরা দুই সাথী একদিন মসজিদে জামাত না পেয়ে নিজেরা জামাত করি। সফরে সবসময় কসর করলেও যেহেতু মসজিদে জামাতে নামায পড়লে পূর্ণ চার রাকাতই পড়া হয় এ হিসাবে আমিও চার রাকাত নামায পড়াই। ঘটনাক্রমে ভুলবশত প্রথম বৈঠক করিনি। তাই সাহু-সিজদা করে নামায শেষ করি। নামায শেষে আমার সাথীটি বলল, নামায সহিহ হয়নি। কেননা, মুসাফির ব্যক্তি চার রাকাত পড়ার ক্ষেত্রে প্রথম বৈঠক না করলে নামায নষ্ট হয়ে যায়। বিষয়টি আমার বোধগম্য হয়নি। কেননা আমি তো সাহু-সিজদা করেছি। তাই সে পুনরায় নামাযটি পড়লেও আমি পড়িনি। জানার বিষয় হল, তার কথাটি কি ঠিক? আমাদের ঐ দিনের যোহরের নামায সহিহ হয়েছে কি?

সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করার পর রুকুতে চলে গেলে কি তিলাওয়াতে সিজদা আদায় হবে?

প্রশ্ন (১২৭৮৫) : একদিন আমাদের মসজিদের হাফেজ সাহেব তারাবীর নামাযে সিজদার আয়াত তিলাওয়াত করেও কোনো সিজদা করেননি। নামায শেষে আমি ইমাম সাহেবকে বিষয়টি বললাম। তিনি বললেন, রুকুতে সিজদা আদায় করা হয়েছে। তার কথাটি আমার বোধগম্য হয়নি। তাই জানার বিষয় হল, রুকুতে সিজদা আদায় হবে কি না?

মাসবুক ব্যক্তি ইমামের সাথে প্রথম বৈঠকে শরীক হলে তাশাহহুদ পড়তে হবে কি?

প্রশ্ন (১২৭৭৬) : ক. কোন মাসবুক ব্যক্তি যদি ইমামের সাথে প্রথম বৈঠকে শরীক হয় , আর এমতাবস্থায় ইমাম সাহেব বৈঠক থেকে উঠে যান তাহলে মাসবুকের তাশাহহুদ পড়া লাগবে কী? খ. যদি তাশাহহুদ পড়া জরুরি হয় তাহলে আগে মাসআলা না জানার কারণে তাশাহুদ না পড়ে যে নামায পড়েছি সেগুলোর হুকুম কী হবে?

নাবালেগ ছেলে জানাযার নামাযের ইমামতি করতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১২৭৭৫) : রাশেদা বেগম মৃত্যুর আগে তার এক হাফেজ ভাতিজাকে জানাযা পড়ানোর অসীয়ত করে গেছেন। মৃত্যুর পর তার পরিবারও চাচ্ছে মরহুমার ইচ্ছানুযায়ী সে-ই জানাযা পড়াক। কিন্তু সে ভাতিজা এখনো প্রাপ্তবয়স্ক নয়। প্রশ্ন হল, এ অবস্থায় সে জানাযা পড়াতে পারবে কি?

সরকারি জমির উপর নির্মিত মসজিদ কি শরয়ী মসজিদ হিসেবে গণ্য হবে?

প্রশ্ন (১২৭৭৪) : আমাদের গ্রামের ঈদগাহ মাঠের সাথে সংযুক্তি একটি সরকারি জায়গার উপর প্রায় ১০ বছর আগে একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয় এবং এতে দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ জামাতের সাথে নামায পড়া হচ্ছে এবং জুমার নামাযসহ মসজিদ কেন্দ্রিক সব ধরনের কার্যক্রমও পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু ইদানিং একটি মহল একথা প্রচার করছে যে, ঐ জায়গাটি যেহেতু সরকারি তাই এটা মসজিদ হিসাবে গণ্য হবে না এবং এতে ইতেকাফ ও অন্যান্য আহকাম এতে সহিহ হবে না। কারণ হিসাবে তারা বলছে, মসজিদ হওয়ার জন্য তার জায়গা ওয়াকফ করা জরুরি। আর এ জায়গা ওয়াকফ করা হয়নি। এখন হুজুরের কাছে আমাদের জানার বিষয় হল, তাদের কথা কি ঠিক? এবং মসিজদ হওয়ার জন্য ওয়াকফ করা জরুরি কি না? সর্বোপরি আমাদের মসজিদটি ‘শরয়ী মসজিদ’ কি না? বিস্তরিত দলিলসহ জানালে উপকৃত হব।

কাপড়ে রক্ত লেগেছে। কিন্তু কখন লেগেছে তা জানা নেই। এ ক্ষেত্রে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২৭৫৭) : আমি একটি কাপড় পরে কয়েকদিন ধরে নামায পড়ছি। একদিন নামাযের দুই ঘণ্টা পরে দেখি যে, কাপড়ের একাংশে দুই ইঞ্চি পরিমাণ রক্ত লেগে আছে। এ রক্ত কখন লেগেছে তা আমার জানা নেই। নামাযের সময় এ রক্ত ছিল কি না তাও জানা নেই। এখন কি এই কাপড় পরে যত নামায পড়েছি তার কাযা পড়তে হবে? জানালে উপকৃত হব।

রোগীর দেখাশোনা করার কারণে জুমার নামায পড়তে না পারলে কি গুনাহ হবে?

প্রশ্ন (১২৭৫০) : আমার চাচা অসুস্থ হওয়ার কারণে হাসপাতালে তার সাথে সারাক্ষণ থাকতে হচ্ছিল। তাই একদিন জুমার নামাযের সময় হয়ে যাওয়ার পরও জুমাতে শরীক হতে পারিনি। যোহর আদায় করতে হয়েছে। কারণ, তখন রোগীর কাছে রেখে যাওয়ার জন্য কাউকে পাইনি। এখন মুহতারামের কাছে জানার বিষয় হল, ঐদিন জুমার নামাযে শরীক না হওয়াটা কি অন্যায় হয়েছে?

নামাযরত অবস্থায় দাঁতের মধ্যে লেগে থাকা খাবার গলার ভিতরে চলে গেলে কি নামায ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২৭৪৯) : আমি আসরের নামায পড়ছিলেন। নামাযের মধ্যে দাঁতের পাশে লেগে থাকা একটু গোস্ত গলার ভিতরে চলে যায়। এখন জানার বিষয় হল এর দ্বারা কি আমার নামায নষ্ট হয়ে গেছে?

আসরের নামাযের পরে কাযা নামায পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৭৪৮) : একদিন আমি আসরের পরে মসজিদে কাযা নামায পড়ছিলাম। আমার এক প্রতিবেশী বললেন, আছরের পরে নামায পড়া মাকরূহ। তাই আসরের পরে কাযা নামায পড়া যাবে না। হুযুরের কাছে আমার জানার বিষয় হল, আসলেই কি আসরের পরে কাযা নামায পড়া নিষেধ? জানিয়ে বাধিত করবেন।