সালাত বা নামাজ

এলাকায় একাধিক মসজিদ থাকলে কোন মসজিদে নামায আদায় করা উচিত?

প্রশ্ন (১২৯৮৬) : আমাদের এলাকায় দুটি মসজিদ আছে। আমি প্রথম মসজিদের সামনে দিয়ে দ্বিতীয় মসজিদে নামাজ পড়তে যাই। এতে কি কোনো কুরআন হাদিস বিরোধী কাজ হয়?

সিজদার আয়াত তিলাওয়াতের পর রুকুতে উক্ত সিজদার নিয়ত করলে কি তিলাওয়াতে সিজদা আদায় হবে?

প্রশ্ন (১২৯৮৫) : ইদানিং অনেক হাফেজ সাহেবকে তারাবীর নামাযে সিজদার আয়াত পাঠের পর রুকুর মাধ্যমে তা আদায় করতে দেখা যায়। এক্ষেত্রে বেশিরভাগ মুসল্লীরা তো বিষয়টি টেরই পায় না। তাই তারা রুকুতে সিজদা আদায়ের নিয়ত করতে পারে না। জানার বিষয় হল, এক্ষেত্রে ইমামের নিয়ত তাদের জন্য যথেষ্ট হবে কি না? এবং এর মাধ্যমে তাদের সিজদা আদায় হবে কি না?

ভুলে অযু ছাড়া নামায পড়ার পর মনে পড়লে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২৯৮৪) : কারো যদি এশার ফরয আদায়ের সময় অযু ভেঙ্গে যায়। নতুন অযু দিয়ে সে সুন্নত ও বিতর আদায় করে। পরে ওয়াক্তের ভিতরেই মনে পড়ে যে, এশার ফরয অযু ছাড়া পড়া হয়েছিল, তখন কি তাকে ফরযের সাথে সুন্নত ও বিতরও পুনরায় আদায় করতে হবে, না শুধু এশার ফরয আদায় করলেই চলবে?

মাসাহকারী ব্যক্রির পিছনে ইক্তিদা করা সহিহ আছে কি?

প্রশ্ন (১২৯৭৭) : আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেব সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন। ফলে তার হাত ভেঙে যায়। হাতে প্লাস্টার করা হয়। এখন তিনি প্লাস্টারের উপর মাসেহ করে নামায পড়ান। জানার বিষয় হল, এমতাবস্থায় ইমাম সাহেবের পেছনে আমাদের ইক্তিদা কি সহিহ হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

সুন্নত নামাযের কি কসর আছে?

প্রশ্ন (১২৯৭৪) : আমি ব্যবসা সংক্রান্ত বিভিন্ন কারণে প্রায়ই বিভিন্ন জায়গায় সফর করি। আমার জানার বিষয় হল, সুন্নত নামাযের কি কসর করতে হয়? আর সফর অবস্থায় সুন্নত নামাযের হুকুম কী?

ফজরের সু্ন্নত আর ফরযের মাঝে অন্য কোনো নফল নামায পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৯৫৯) : আমি সবসময় ঘরে ফজরের সুন্নত পড়ে তারপর মসজিদ যাই। মাঝে মাঝে মসজিদে গিয়ে দেখি ফজরের জামাত শুরু হতে এখনো কিছু সময় বাকি। তাই আমি সে সময় দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় করি। আমার এক ভাগিনা আছে। সে মাদরাসায় পড়ে। একদিন সে আমাদের বাসায় বেড়াতে আসলে আমরা বাসায় একসাথে সুন্নত আদায় করে মসজিদে যাই। মসজিদে গিয়ে দেখি জামাতের সময় এখনো বাকি আছে তাই আমি তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়তে দাঁড়িয়ে যাই। নামায শেষে সে আমাকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে আমি তাকে বলি যে, আমি তাহিয়্যাতুল মসজিদ আদায় করেছি। তখন সে আমাকে বলে, ফজরের সু্ন্নত আর ফরযের মাঝে অন্য কোনো নফল নামায পড়া যায় না। তাই আমি জানতে চাচ্ছি যে, তার কথা কি ঠিক আছে?

সফরে বের হয়ে যোহরের নামায আদায় করার পর কোনো কারণে ওয়াক্তের মধ্যেই সফর বাতিল করে বাড়িতে ফিরে আসলে কি…

প্রশ্ন (১২৯৫৭) : আমি গত ঈদের ছুটি শেষে ঢাকার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে ৪/৫ মাইল দূরবর্তী স্টেশনে পৌঁছি এবং সেখানে যোহরের নামায কসর করি। কিন্তু পরবর্তীতে বিশেষ কারণে সফর বাতিল করে বাড়িতে এসে দেখি যোহরের ওয়াক্ত এখনো বেশ বাকি। এখন প্রশ্ন হল, আমাকে উক্ত যোহরের নামাযটি কি পুনরায় পূর্ণ চার রাকাত পড়তে হবে?

কাঁথা-কম্বল ইত্যাদির এক পাশে নাপাকি লাগলে অন্য পাশে নামায আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৯৫৪) : কাঁথা-কম্বল ইত্যাদির কোনো এক কোণে যদি ছোট বাচ্চার পেশাব লাগে এবং তা শুকিয়ে যায় তাহলে কি অপর পাক অংশে নামায পড়া যাবে? তেমনি তোশক বা জাজিমের এক পিঠে নাপাকি লাগলে তা উল্টিয়ে অপর পিঠে কি নামায পড়া যাবে?

মক্কা মদিনার নামে কসম করলে কি উক্ত কসম সংঘটিত হবে?

প্রশ্ন (১২৯৫০) : আমি একবার আমার স্ত্রীর সাথে এভাবে কসম করেছিলাম যে, ‘যাও! মক্কা মদীনার কসম করে বলছি, আমি আর কখনো ইচ্ছা করে নামায ছাড়ব না। সর্বদা নামায পড়ব।’ কিন্তু আমি এরপরও অনেকবার নামায ছেড়ে দিয়েছি। এখন আমার করণীয় কী? আমাকে কি এর কাফফরা আদায় করতে হবে? কাফ্ফারা আদায় করতে হলে কীভাবে আদায় করব? বিষয়গুলো জানানোর অনুরোধ রইলো।

জানাযার নামাযে ভুলে এক তাকবীর ছুটে গেলে কি নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২৯৪৮) : কিছু দিন আগে আমাদের মসজিদে জুমার নামাযের পর একটি জানাযার নামায অনুষ্ঠিত হয়। তো জানাযার নামাযে ইমাম সাহেব তৃতীয় তাকবীর বলার পর ভুলে সালাম ফিরিয়ে ফেলেন। পরে মুসল্লীগণ তাঁকে তা জানালে তিনি বললেন, ভাই! নামায তো হয়ে যাবে, তারপরও আমরা নামায আবার পড়ে নিই। জানার বিষয় হল, এভাবে জানাযার নামাযে এক তাকবীর ছুটে গেলে নামায কি হয়ে যাবে?

ইমাম সাহেব সাহু সিজদার জন্য সালাম ফিরানোর সময় মাসবুক ব্যক্তি কী করবে?

প্রশ্ন (১২৯৪৪) : নামাযে ভুলের কারণে ইমাম সাহেব সাহু সিজদা দিলে মাসবুক ব্যক্তি কি ঐ সিজদায় ও সালামে শরীক হবে, নাকি হবে না? এ সম্পর্কে সঠিক পদ্ধতি জানানোর অনুরোধ রইল।

ফজরের সুন্নত পড়ার পর কি তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়া যাবে?

প্রশ্ন (১২৯৩০) : কেউ ফজরের সুন্নত ঘরে পড়ে যদি মসজিদে যায় এবং সময় থাকে তাহলে ঐ সময় তাহিয়্যাতুল মসজিদ পড়তে পারবে কি? না পারলে কেন? এবং ঐ সময় কী আমল করলে তাহিয়্যাতুল মসজিদের সওয়াব পাওয়া যাবে? দলীলসহ জানালে কৃতজ্ঞ হব।

নফল নামাযের তৃতীয় রাকাতে কেরাত না পড়লে কি নামায হবে?

প্রশ্ন (১২৯২৮) : আমি চার রাকাত নফল নামায আদায় করেছি। কিন্তু তৃতীয় রাকাতে শুধু তাশাহ্হুদ পড়েছি; কোনো কেরাত পড়িনি। এমনকি সূরা ফাতেহাও না। এখন জানার বিষয় হল, আমার এ নামাযের হুকুম কী?

মাসবুক ব্যক্তি তার ছুটে যাওয়া নামায আদায় করার জন্য কখন দাঁড়াবে?

প্রশ্ন (১২৯২১) : মাসবুক ব্যক্তির দাঁড়ানোর সঠিক সময় কখন? অনেক সময় দেখা যায় যে, ইমাম প্রথম সালাম দেওয়ার সাথে সাথেই কেউ দাঁড়িয়ে যায় কিংবা কেউ ইমামের দুই সালাম দেওয়ার পর দাঁড়ায়। আমার জানার বিষয় হল, মাসবুক ব্যক্তি তার ছুটে যাওয়া নামায আদায় করার জন্য কখন দাঁড়াবে?

রাকাত ছুটে যাওয়ার ভয়ে কাতার খালি রেখে পিছনে দাঁড়ালে কোনো সমস্যা হবে কি?

প্রশ্ন (১২৯২০) : একবার মসজিদে এসে ইমাম সাহেবকে রুকু অবস্থায় পাই। কাতার পর্যন্ত পৌঁছার আগে ইমাম সাহেব রুকু থেকে উঠে যাওয়ার আশংকা ছিল তাই রাকাতটি পাওয়ার জন্য কাতার থেকে দূরে থাকতেই ইমামের একতেদা করি। অতপর এক রোকন পরিমাণ থেমে থেমে দু-এক কদম করে কাতারে গিয়ে মিলিত হই। জানার বিষয় হল, নামাযের মধ্যে এভাবে হাঁটার দ্বারা কি নামায নষ্ট হয়ে গেছে?

নামাযের দ্বিতীয় রাকাতে দাঁড়িয়ে ভুলে তাশাহ্হুদ পড়ে ফেললে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২৯১৯) : আমি কখনো কখনো দ্বিতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে সূরা ফাতিহার পূর্বে ভুলবশত তাশাহহুদ পড়ে ফেলি। এমতাবস্থায় আমার করণীয় কী হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

নামায শুরু করে ভেঙে ফেললে কি তা কাযা করতে হয়?

প্রশ্ন (১২৯১৭) : আমার বাড়ি ঝিনাইদহ। বাড়িতে যাওয়ার সময় আমি সবসময় রাতে রওনা করি। তাই এশার নামায ফেরিতে পড়া হয়। কিন্তু শেষবার আমি বাড়িতে যাওয়ার সময় মসজিদ থেকে নামায আদায় করে রওনা করি। পরে যখন গাড়ি ফেরিতে আসে তখন আমি আবার নামাযে দাঁড়াই। তখন আমার মনে পড়ল যে, এশার নামায তো গাড়িতে উঠার আগেই পড়া হয়েছে। তখন সাথে সাথে আমি নামায ছেড়ে দেই। এখন জানার বিষয় হল, যে নামায ছেড়ে দেওয়া হয়েছে তা কি আমাকে কাযা করতে হবে?

মসজিদ নির্মাণ সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৯১৩) : আমাদের এলাকায় ১৯৯২ সালে দুই দাগ জমি মসজিদ-মাদরাসার জন্য ওয়াক্ফ করা হয়। কিন্তু মসজিদ ও মাদরাসার জন্য পৃথকভাবে জমির দাগ ও পরিমাণ নির্দিষ্ট করা হয়নি। তবে সাথে সাথে ওয়াকফকারীগণ ও গ্রামবাসী সকলে মিলে এক দাগে একটি মসজিদ নির্মাণ করেন। সেখানে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামায ও জুমার নামায আদায় করা হয়। পরবর্তীতে জায়গাটি যমুনা নদীতে ভেঙ্গে যায়। তারপর আবার ২০০১ বা ২০০২ সালের দিকে জায়গাটি উঠে যায় এবং সেখানে কিছু বসতি স্থাপন হয়। তারা যেই দাগে পূর্বে মসজিদ ছিল তা নিচু থাকাতে অপর দাগে একটি টিনের ঘর উঠিয়ে নামায ও জুমা পড়তে থাকে এবং পূর্বের মসজিদের কিছু জায়গায় টয়লেট বানানো হয়। বর্তমানে এলাকাবাসী একটি পাকা মসজিদ নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। এখন জানার বিষয় হল, এমতাবস্থায় পাকা মসজিদ কোথায় নির্মাণ করবে, পূর্বের মসজিদের জায়গায়, না বর্তমান মসজিদের জায়গায় এবং টয়লেটগুলোর হুকুম কী হবে? শরীয়তের দৃষ্টিতে বিস্তারিত বিধান জানিয়ে আমাদেরকে বাধিত করবেন।