সিয়াম বা রোজা

রোযার কাফ্ফারা সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২৩১৮) : আমি বালেগ হওয়ার পর ৭টি রমযান অতিবাহিত হয়েছে। সেগুলোর মধ্যে শেষ ৩ রমযান আমি ঠিকমত রোযা রেখেছি। কোনো রোযা ছাড়িনি। বাকি ৪ রমযানে নিয়মিত রোযা রাখিনি। কোনো দিন রোযা রেখে বিনা ওজরে ভেঙে ফেলেছি। কখনো মায়ের চাপাচাপিতে ভেঙেছি। আবার কোনো দিন একেবারেই রাখিনি। তবে মনে হয়, রেখে ভেঙে ফেলার সংখ্যাই বেশি। এভাবে কত রোযা গেছে তার সঠিক হিসাব আমি বলতে পারছি না। আমার জানা মতে, বিনা ওজরে রোযা ভাঙলে কাফফারা আদায় করতে হয়। তাই একবার লাগাতার ৬০টি রোযা রেখেছি। এ অবস্থায় আমার ঐ রোযাগুলোর কাযা কাফফারা আদায়ের ব্যাপারে শরীয়তের মাসআলা জানতে চাই।

মুসাফির ব্যক্তি রোযা না রাখলে তার জন্য করণীয় কি?

প্রশ্ন (১২৩০৩) : গত বছর শাবান মাসের ত্রিশ তারিখে রাত দশটায় আমি বাংলাদেশ থেকে আমেরিকা যাওয়ার জন্য প্লেনে উঠি। আমেরিকায় যখন নিজের বাসায় পৌঁছাই তখন দুপুর একটা বাজে। সেখানে দ্বিতীয় রমযান চলছিল। সফরের কারণে আমি রোযা ছিলাম না। তাই বাসায় এসে দুপুরের খাবার খাই, কিন্তু পরে সন্দেহ হয় যে কাজটি ঠিক হল কি না। হুজুরের কাছে প্রশ্ন হল, আমার এ কাজটি কি শরীয়তসম্মত হয়েছে?

ইতিকাফ ভেঙে গেলে করণীয়।

প্রশ্ন (১২২৮৮) : গত রমযানে আমি মহল্লার মসজিদে সুন্নত ইতিকাফ করেছিলাম। পঁচিশ রোযার দিন এক ভাইয়ের সাথে কথা বলতে বলতে বেখেয়ালে মসজিদের বাইরে চলে যাই। পরে ইমাম সাহেব হুযূরকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, আপনার ইতিকাফ ভেঙে গেছে। আপনাকে এখন পূর্ণ দশ দিনের ইতিকাফ কাযা করতে হবে। জানার বিষয় হল, ইমাম সাহেবের কথা কি সঠিক? সুন্নত ইতিকাফ ভেঙে গেলে কি পূর্ণ দশ দিনের ইতিকাফই কাযা করতে হয়?

নফল রোযা রাখা অবস্থায় মাসিক চলে আসলে উক্ত রোযা পরে কাযা করতে হবে?

প্রশ্ন (১২২৮৭) : আমি ফরয, ওয়াজিব পালনের পাশাপাশি কিছু নফল আমলও করার চেষ্টা করি। চেষ্টা করি কিছু নফল নামায ও কিছু নফল রোযা রাখার। এ বছর আমি আশুরার দিন রোযা রাখি। হঠাৎ দিনের বেলায় আমার মাসিক এসে যায়। পরে আমি কী করব ভেবে পাচ্ছিলাম না। তাই সেভাবেই রোযা অবস্থায় কিছু না খেয়ে কাটিয়ে দিলাম। বাকি আমি জানি যে, ফরয রোযা অবস্থায় মাসিক এসে গেলে কাযা করতে হয়। তাই হুযূরের নিকট জানতে চাচ্ছি, নফল রোযা অবস্থায় মাসিক এসে গেলে কাযা করা লাগবে কি?

অযুতে কুলি করার সময় ভুলে গলায় পানি চলে কি রোযা ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১২২৭৬) : গত রমযানে একদিন অযু করছিলাম। কুলি করার সময় হঠাৎ গলার ভেতরে পানি চলে যায়। অনিচ্ছাকৃত এমনটি ঘটেছে বিধায় সারাদিন রোযা অবস্থাতেই ছিলাম। আমার উক্ত রোযা কি শুদ্ধ হয়েছে? যদি শুদ্ধ না হয়ে থাকে তাহলে এখন আমার জন্য করণীয় কী?

রোযার ফিদইয়া সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২২৭৪) : আমার এক মেয়ে আজ প্রায় ১৫-১৬ বছর যাবত অনেক বেশি অসুস্থ। এত বেশি অসুস্থ যে, তা বর্ণনা করে বুঝানো সম্ভব নয়। শুধু এতটুকু বলব যে, সে যে বেঁচে আছে এটা কেউ বিশ্বাসই করতে চায় না। মাঝখানে তার মৃত্যু প্রায় নিশ্চিত ছিল। অর্থাৎ তার বয়স যখন আঠারো ছিল মারাত্মক অসুস্থতার কারণে ওজন ১৭ তে নেমে আসে। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আল্লাহ তাকে হাজারো মানুষের দুআয় বাঁচিয়ে রেখেছেন। হুজুরের কাছে যে বিষয়ে জানতে চাচ্ছি তা হচ্ছে, ১৫-১৬-১৭-১৮ বয়সগুলোতে সে লাগাতার রোযা ভাঙে। এছাড়া পরবর্তীতে ডাক্তারদের অনুরোধে আরো কিছু রোযা ভাঙে। এখন তার বয়স ত্রিশ। কষ্ট করে রোযা নামায যথাযথভাবে পালন করে যাচ্ছে। সে নিজেকে সুস্থ মনে করে এ হিসেবে যে, আল্লাহ তাকে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরিয়ে এনে বৈবাহিক জীবন যাপনের তাওফীক দিয়েছেন এবং অকল্পনীয়ভাবে সন্তানের মাও বানিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবে সে সুস্থ নয়। কারণ এমন এমন কিছু জটিল রোগ আছে, যা বাহ্যদৃষ্টিতে নিরাময় হবে বলে মনে হয় না। বরং প্রায়ই তার থেকে শাখাগত রোগ দেখা দিয়ে থাকে। তাই মাঝে মাঝে সে আমাকে বলে থাকে, বাবা! রোযাগুলোর কী হবে? সেগুলোর কি ফিদয়া দেওয়া যায় না? তাই সে কি উক্ত রোযাগুলোর ফিদয়া দিতে পারবে? জানালে উপকৃত হব।

ইতিকাফরত অবস্থায় কি জানাযার নামায পড়া যাবে?

প্রশ্ন (১২২৩১) : গত রোযায় প্রচণ্ড গরম পড়েছিল। অসহনীয় গরমের কারণে আমাদের পাড়ার মসজিদটিতে কেউ ইতিকাফ করতে চাচ্ছিল না। গরমে মুআযযিন সাহেব আগের থেকে অসুস্থ ছিলেন। তাই আমি একাই আল্লাহর উপর ভরসা করে ইতিকাফে বসে পড়ি। ইতিকাফে থাকা অবস্থায় পাড়ার তিন ভদ্রলোক বৈরী আবহাওয়ায় অসুস্থ হয়ে মৃত্যুবরণ করে। ফলে যথাক্রমে ২৩, ২৪, ২৫ রমযানে মসজিদের পূর্ব পাশের উঠানে জানাযা পড়াই। কারণ আমাদের পাড়ার অধিকাংশ মানুষ কৃষি কাজ করে। ইদানীং সময়ে কিছু ছেলে স্কুলে যাওয়া-আসা করে। আমি জানতে চাচ্ছি যে, এ পরিস্থিতির মাঝেও কি জানাযা পড়ানোর কারণে উক্ত তিন দিনের ইতিকাফ ভেঙে গেছে? উল্লেখ্য, ২৫ রমযানে জানাযা পড়ানোর পর ইস্তিসকার নামাযও পড়ানো হয়। সংবাদ আসছিল, বিভিন্ন এলাকায় সালাতুল ইস্তিসকা পড়া হচ্ছে। তাই আমরা আগের থেকেই ঘোষণা দিয়ে রেখেছিলাম যে, জানাযার পর ইস্তিসকার নামায অনুষ্ঠিত হবে।

ইতিকাফ সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২২১৮) : গত রোযায় আমি এলাকার মসজিদে ইতিকাফে বসেছিলাম। মসজিদের বাথরুম অনেক নোংরা হওয়ায় তা ব্যবহারের অযোগ্য ছিল। ফলে টয়লেটের জন্য বাসায় আসতে হত। একদিন ঘরে এসে জরুরত পূর্ণ করার পর বেগম সাহেবের সঙ্গে একান্ত আলাপচারিতায় লিপ্ত হই। চার পাঁচ মিনিট পর সে আমাকে ইতিকাফের কথা স্মরণ করিয়ে দিলে তৎক্ষণাৎ আমি মসজিদে চলে আসি। হুযূরের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, একান্ত আলাপচারিতা দ্বারা কি আমার ইতিকাফটি ভেঙে গেছে?

রোযা রেখে ভেঙে ফেললে করণীয়।

প্রশ্ন (১২১৬৩) : গত বছর রমযানে প্রায় এক সপ্তাহ সফরে ছিলাম। সফরের কিছুদিন রোযা রাখতে পারিনি। মুহাররাম মাসে তা কাযা করতে শুরু করি। কতদিন রোযা রাখিনি- নিশ্চিতভাবে এ সংখ্যাটি মনে ছিল না। চারদিন রোযা রাখার পর পঞ্চম দিন রোযা রাখা অবস্থায় ঘটনাক্রমে এক সাথীর সাথে দেখা হয় যে ঐ সফরে আমাদের সাথে ছিল। সে আমাকে জানালো যে, আমরা কেবল তিন দিন রোযা রাখিনি। অবশিষ্ট দিনগুলোতে নিশ্চিতভাবেই রোযা রেখেছি। বিষয়টি জানার পর আমি পঞ্চম দিনের রোযাটি ভেঙে ফেলি। কিন্তু পরে জানতে পারলাম যে, রোযা শুরু করার পর তা পূর্ণ করা জরুরি। শুরু করার পর ভেঙে ফেললে এর কাযা করতে হবে। জানার বিষয় হল, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রেও কি আমাকে এ রোযার কাযা করতে হবে?

রোযা রাখার পর সফর অবস্থায় তা ভেঙে ফেলা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২১৫৩) : গত রমযানে সকালে জরুরি এক কাজে দেশের বাড়ি পাবনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই। দুপুর ১টার দিকে গাড়ি সিরাজগঞ্জে হোটেলে বিরতি দেয়। তখন মাথায় চিন্তা আসল যে, আমি তো এখন মুসাফির। আর সফর অবস্থায় তো রোযা না রাখারও অনুমতি রয়েছে। কিছুটা ক্লান্তিও লাগছিল। তাই বিষয়টি চিন্তা করে রোযা ভেঙে ফেললাম। পাবনায় পৌঁছার পর যখন আমার মামাকে উক্ত ঘটনা শোনালাম। তখন তিনি বললেন, রোযা রাখার পর তা ভেঙে ফেলা জায়েয নেই। এখন তোমাকে উক্ত রোযার কাযা-কাফফারা উভয়টিই আদায় করতে হবে। তার এই কথা শোনার পর থেকে আমি বিষয়টি নিয়ে বেশ চিন্তিত। তাই এখন হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি যে, আসলে সেই রোযার জরিমানাস্বরূপ এখন আমার করণীয় কী?

ইতিকাফরত অবস্থায় মসজিদের বাহিরে গিয়ে আযান দেওয়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২১৪৩) : আমি মসজিদের মুআযযিন। গত রমযানে মসজিদে ইতিকাফ করেছিলাম। ইতিকাফের সময়ও আমাকে আযান দিতে হত। আযান দেওয়ার স্থানটি মসজিদের একটু বাইরে একটা রুমে। মসজিদ থেকে একটু বের হয়ে সেখানে যেতে হয়। এক ভাই আমার এ অবস্থা দেখে বললেন, আমার মসজিদ থেকে বের হয়ে সেখানে গিয়ে আযান দেওয়া বৈধ হয়নি। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, মসজিদের বাইরে কামরায় গিয়ে আযান দেওয়ার কারণে কি আমার ইতিকাফ নষ্ট হয়ে গেছে?

ফরয রোযার কাযা করার জন্য কখন নিয়ত করতে হবে?

প্রশ্ন (১২১৩৫) : গত রমযানে অসুস্থতার কারণে একটি রোযা রাখতে পারিনি। আজ সকাল আটটার দিকে ঘুম থেকে জেগে কাযা রোযাটি রাখার নিয়ত করি। কিন্তু কিছুক্ষণ পর বাড়িতে মেহমান আসায় তাদের পীড়াপীড়িতে তা ভেঙে ফেলি। জানার বিষয় হল, এখন আমাকে কয়টি রোযা রাখতে হবে? একটি, না দুটি?

ভুলে সময় হওয়ার আগে ইফতার করে ফেললে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২১১৯) : আমাদের বাসায় স্বাভাবিকভাবে রমযানে সকলেই মসজিদের আযানের পরই ইফতার করি। কিন্তু আমার দাদা সাধারণত আযানের অপেক্ষা করেন না। ঘড়িতে ইফতারের নির্ধারিত সময় হলেই ইফতার শুরু করে দেন। গত রমযানে একদিন বরাবরের মতই তিনি ঘড়িতে ইফতারের সময় হয়ে যাওয়ায় ইফতার করে নেন। কিন্তু পরে জানা যায় যে সেদিন দুর্ঘটনাক্রমে ঘড়ি প্রায় ১২ মিনিট ফাস্ট হয়ে গিয়েছিল। ফলে ভুলে তিনি ইফতারের সময় হওয়ার বেশ কিছুক্ষণ আগেই ইফতার করে নিয়েছেন। এখন মুহতারামের কাছে জানার বিষয় হল, দাদার সেই রোযা কি ভেঙে গিয়েছিল? ভেঙে গিয়ে থাকলে এখন তার করণীয় কী?

কাযা রোযা আদায় করার জন্য কখন নিয়ত করা জরুরী?

প্রশ্ন (১২১১০) : গত রমযানে মাসে আমার একটি রোযা কাযা হয়েছিল। গত শুক্রবার রোযাটি কাযা করার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু শুক্রবার রাতে রোযা রাখার কথা আমার খেয়ালই ছিল না। পরে ঐ দিন সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠে কিছু খাওয়ার আগেই রোযা রাখার কথা স্মরণ হলে রোযার নিয়ত করে ফেলি। মুহতারামের কাছে জানতে চাচ্ছি, আমার রোযাটি কি আদায় হয়েছে?

রমযান মাসে মান্নতের ইতিকাফ আদায় করতে না পারলে করণীয় কি?

প্রশ্ন (১২১০৯) : আমি গত রমযানে ইতিকাফ করার মান্নত করেছিলাম। কিন্তু গত বছর বিভিন্ন সমস্যার কারণে ইতিকাফ আদায় করতে পারিনি। এখন আমি চাচ্ছি, আগামী রমযানে উক্ত মান্নত ইতিকাফের কাযা করে নিতে। এভাবে কাযা করে নিলে আমার মান্নত ইতিকাফ কি আদায় হয়ে যাবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

ওযু করার সময় ভুলে গলায় পানি ঢুকে গেলে কি রোযা ভেঙে যায়?

প্রশ্ন (১২০৬৩) : এবার রমযানে একদিন অযুতে কুলি করার সময় ভুলে গলা দিয়ে পানি ঢুকে যায়। হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, এ কারণে আমার রোযার কোনো ক্ষতি হয়েছে কি?

বিগত দিনের কাযা রোযার কাফ্ফারা কিভাবে আদায় করব?

প্রশ্ন (১২০৪৬) : আমি ভার্সিটির একজন ছাত্র। আগে দ্বীনের বুঝ না থাকায় নামায-রোযা ঠিকমত আদায় করতাম না। এখন দ্বীনের বুঝ পেয়েছি। তাই পিছনের জীবনে ছেড়ে দেওয়া নামায-রোযা কাযা করা শুরু করেছি। আমি বিগত রমযানে আব্বু আম্মুর জোরাজুরির কারণে ভোর রাতে সাহরী করে রোযা রাখতাম। পরে ভার্সিটিতে এসে ভেঙ্গে ফেলতাম। আমি শুনেছি, রোযা রেখে ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙে ফেললে শুধু কাযা করাই যথেষ্ট না; বরং কাফফারা আদায় করতে হয়। জানার বিষয় হল, আমি তো এভাবে অনেক রোযা ভেঙ্গেছি। এখন আমি এত কাফফারা কীভাবে আদায় করব? শরীয়তে আমার জন্য কোনো ছাড় আছে কি?