সিয়াম বা রোজা

প্রস্রাবের সমস্যার কারণে রোযা রাখা অবস্থায় ক্যাথেটার ব্যবহার করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩৩৩৩) : আমার প্রস্রাবের রাস্তায় সমস্যা আছে। মাঝে মাঝে প্রস্রাব আটকে যায়। এজন্য আগে মাঝেমধ্যে ক্যাথেটারও ব্যবহার করতে হয়েছে। সামনে রমযান আসছে। তাই আমি জানতে চাচ্ছি যে, রোযা অবস্থায় ক্যাথেটার ব্যবহার করলে কি রোযা ভেঙ্গে যায়?

ঔষুধ খেয়ে স্রাব বন্ধ করে রমযানের রোযা রাখলে উক্ত রোযার হুকুম কী হবে?

প্রশ্ন (১৩৩১৯) : মহিলারা যদি রমযান মাসে কোনো ঔষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে ঋতুস্রাব বন্ধ রাখে তাহলে ওই দিনগুলোতে রোযা রাখতে পারবে কি? আর ‍এভাবে রোযা রাখলে উক্ত রোযার হুকুম কী হবে?

আগুনের ধোঁয়া নাক-মুখে ঢুকে গেলে কি রোযা ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১৩৩০৪) : আমাদের মসজিদে জায়গা স্বল্পতার কারণে শুক্রবারে মুসল্লিদের জায়গা হয় না। তাই আমরা মসজিদের ছাদে নামাযের ব্যবস্থা করতে চাচ্ছি। বিন্তু সমস্যা হলো ছাদে উঠার জন্য সিঁড়ি বানানোর জায়গা নেই। মসজিদের সামনে একটি কবরস্থান আছে। এমতাবস্থায় নিচে ফাঁকা বা কবর রেখে উপরে দ্বিতীয় তলার জন্য সিঁড়ি বানানো যাবে কি?

রোযা রেখে ছোট বাচ্চাকে খাবার চিবিয়ে খাওয়ালে কি রোযা ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১৩২৯৮) : আমরা স্বামী-স্ত্রী শহরের একটি ফ্ল্যাট বাসায় ভাড়া থাকি। আমাদের এক বছরের একটি সন্তান আছে। বাসায় অন্য কোনো মহিলা নেই। রমযান মাসে রোযা রেখে মাঝেমধ্যেই আমার সন্তানকে খাদ্য চিবিয়ে খাওয়ানোর প্রয়োজন হয়। তখন রোযা রাখেনি এমন কাউকে না পেয়ে আমি নিজেই খাদ্য চিবিয়ে ওর মুখে দেই। জানতে চাই, রোযাবস্থায় এভাবে খাদ্য চিবালে রোযার কোনো ক্ষতি হয় কি?

ভুলবশত সাহরীর সময় শেষ হওয়ার পর খাবার খেলে উক্ত রোযা আদায় হবে কি?

প্রশ্ন (১৩২৮৯) : একদিন আমার ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়ে যায়। তখনো সাহরীর সময় বাকি আছে ধারণা করে সাহরী খেতে থাকি। খাওয়া শেষে জানতে পারি তখন সুবহে সাদিক হয়ে গেছে। জানার বিষয় হল, আমার উক্ত রোযা আদায় হবে কি? না হলে এক্ষেত্রে আমার করণীয় কি? জানালে কৃতজ্ঞ হব।

অসুস্থতার দরুণ রোযা রাখতে না পারলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১৩২৮৮) : গত রমযান মাসে আমার দাদা ইন্তেকাল করেন। অসুস্থতার দরুণ তিনি কোনো রোযা রাখতে পারেননি। আমার বাবা-চাচারা এখন তার উক্ত রোযাগুলোর ফিদয়া আদায় করতে চাচ্ছেন। তাই জানতে চাই, তার ছুটে যাওয়া প্রতি রোযার জন্য কত টাকা করে ফিদয়া আদায় করতে হবে?

রমযানের কাযা রোযা ও শাওয়ালের নফল রোযার নিয়ত একসাথে করলে কি শুদ্ধ হবে?

প্রশ্ন (১৩২৮২) : রমযানের কাযা রোযা এবং শাওয়ালের ছয় রোযা একত্রে রাখলে উভয়টি আদায় হবে কি? এবং কাযা ও নফল রোযার সওয়াব পাওয়া যাবে কি?

রোযা রাখা অবস্থায় মুখ থেকে রক্ত বের হয়ে থুথুর সাথে পেটে চলে গেলে কি রোযা ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১৩২৮১) : আমি রোযা রাখা অবস্থায় মিসওয়াক করছিলাম। তখন দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত বের হয়। এবং তা থুথুর সাথে পেটে চলে যায়। এতে কি আমার রোযা ভেঙ্গে গেছে? ভেঙ্গে থাকলে এখন আমার কী করণীয়? জানিয়ে বাধিত করবেন।

রোযাদার ভুলে কিছু খাওয়া শুরু করলে তাকে রোযার কথা মনে করিয়ে দেওয়ার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩২৭০) : আমার বোন শারীরিকভাবে ভীষণ দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও গত রমাযানে সে রোযা রাখে। কিন্তু প্রথম রোযার দিন ভুলে সে দুপুরবেলা খাওয়া শুরু করে দেয়। আমি তৎক্ষণাত তাকে রোযার কথা মনে করিয়ে দেই। এতে আম্মু আমার উপর খুব রেগে যান। এবং ধমক দিয়ে বলেন, রোযাদার ভুলে কিছু খেতে গেলে তাকে মনে করিয়ে দিতে হয় না। সত্যিই কি তাকে মনে করিয়ে দেয়া আমার অন্যায় হয়েছে?

ইতিকাফ আদায়কারী ব্যক্তি জানাযার নামায আদায় করার জন্য মসজিদ থেকে বের হতে পারবে কি?

প্রশ্ন (১৩১৯৬) : আমি যে মসজিদে ইতিকাফ করি সে মসজিদে প্রায় প্রতি বছরই একটা বিষয় নিয়ে বিতর্ক হয়। কেউ বলেন, ইতিকাফকারী জানাযার নামাযের জন্য মসজিদ থেকে বের হতে পারবে না। আর কেউ বলেন, বের হতে পারবে। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, কোন কথাটি সঠিক? জানিয়ে বাধিত করবেন।

রমযান মাসে মহিলাদের ইতিকাফ করার বিধান কী?

প্রশ্ন (১৩১৮৯) : রমযানের শেষ দশকে মহিলাদের ইতিকাফের কী হুকুম? তাদের কেউ ইতিকাফ শুরু করার পর নির্দিষ্ট স্থান থেকে কোনো প্রয়োজন ব্যতীত বের হতে পারবে কি? বিনা কারণেই তিন-চার ঘন্টা সময় যদি বাহিরে থাকে তাহলে কি তার ইতেকাফ নষ্ট হয়ে যাবে? জানালে উপকৃত হব।

গর্ভবতী মহিলার জন্য রোযা না রাখার অনুমতি আছে কি?

প্রশ্ন (১৩১৫০) : আমার মামি গর্ভাবস্থায় রমযানের প্রথম দিকে চার-পাঁচটি রোযা রেখেছে। রোযা রাখার কারণে অস্বাভাবিক পানিশূন্যতাসহ তার বেশ কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। এবং বর্তমানের গর্ভকালীন মেয়াদ অনুযায়ী দিনে গর্ভস্থ সন্তানের যে পরিমাণে মুভিং ও নড়া-চড়া হওয়ার কথা তাও আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। এ অবস্থায় তার জন্য কি রোযা না রাখার অনুমতি আছে?

ফজরের পর পানি পান করার পর দ্বিপ্রহরের আগে রোজার নিয়ত করলে কি উক্ত রোজা সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১৩১১৫) : আমি কয়েকদিন আগে একটি রোযা রাখার ইচ্ছা করি। কিন্তু রাতের বেলায় শরীরটা খারাপ লাগায় রোযার নিয়ত করতে পারিনি। সকালে কিছুটা সুস্থতা অনুভব হলে রোযা রাখার মনস্থ করি এবং দ্বিপ্রহরের আগেই নিয়ত করে ঐ দিনের রোযা রাখি। কিন্তু ইফতারের পর হঠাৎ স্মরণ হয় যে, আমি রোযার নিয়ত করার আগেই ফজরের পর ভুলে পানি পান করেছিলাম। জানার বিষয় হল, ভুলে পানি পান করার পর নিয়ত করে এভাবে রোযা রাখা সহিহ হয়েছে কি না?

রোযা রাখা অবস্থায় মুখের মধ্যে বৃষ্টির পানি ঢুকে গেলে কি রোযা ভেঙে যাবে?

প্রশ্ন (১৩১০১) : আমি রোযা রেখে বৃষ্টির মধ্যে হাঁটছিলাম। তখন মুষলধারে বৃষ্টি হওয়ার কারণে আমার মুখে কিছু বৃষ্টির পানি ঢুকে ভেতরে চলে যায়। হুযুরের কাছে জানতে চাই, আমার রোযা কি ভেঙ্গে গেছে? আর ভেঙ্গে গেলে কি শুধু কাযা করতে হবে নাকি কাফফারাও দিতে হবে?

ইতিকাফরত অবস্থায় মসজিদ থেকে বের হলে কি ইতিকাফ ভেঙে যায়?

প্রশ্ন (১৩০৮৫) : আমাদের মহল্লার মসজিদে আমার চাচা প্রতি বছর রমযানের শেষ দশদিন ইতিকাফ করেন। গত বছর একদিন ইতিকাফ অবস্থায় চাচার এক আত্মীয়ের সাথে কথা বলতে বলতে ভুলে মসজিদ থেকে বের হয়ে যান। পরে ইতিকাফের কথা স্মরণ হওয়া মাত্রই মসজিদে প্রবেশ করেন। তখন কেউ বলেছে, মসজিদ থেকে বের হওয়ার কারণে তার ইতিকাফ নষ্ট হয়ে গেছে। আবার কেউ বলেছে, সে যেহেতু ভুলে বের হয়ে গেছে তাই তার ইতিকাফ নষ্ট হয়নি। যেমন ভুলে খেয়ে ফেললে রোযা ভাঙ্গে না। জানার বিষয় হলো, আসলেই কি চাচার ইতিকাফ ভেঙে গেছে?

বিমানে সফরকারী ব্যক্তি কিভাবে ইফতার করবে?

প্রশ্ন (১৩০৮১) : রমযানে যখন বিমানে সফর করা হয় তখন ইফতারের সময় নিয়ে বেশ দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়ি। কারণ, যে দেশ থেকেই সফর শুরু হয় এক সময় দেখা যায়, সে দেশের সময় অনুযায়ী সূর্যাস্ত হয়ে গেছে। কিন্তু বিমান যমিন থেকে কয়েক হাজার ফিট উপরে থাকায় স্পষ্টভাবেই সূর্য দেখা যায়। বিশেষ করে বিমান যখন পূর্বদিক থেকে পশ্চিম দিকে যেতে থাকে। যেমন কেউ বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে বিমানে উঠল। এক্ষেত্রে বিমান যেহেতু পশ্চিম দিকে যাচ্ছে তাই দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা সূর্য চোখের সামনে থাকে। অথচ বাংলাদেশের সময় অনুযায়ী সূর্যাস্ত হয়ে গেছে অনেক আগেই। এক্ষেত্রে বিমানের যাত্রীদের যদি সূর্যাস্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় তাহলে দেখা যায় কখনো কখনো রোযার সময় প্রলম্বিত হয়ে ২০-২২ ঘণ্টাও হয়ে যায়। তাই হুযুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, এ ধরনের অবস্থায় আমরা কখন ইফতার করব?

রোযা রেখে চোখে এবং নাকে ড্রপ ব্যবহার করলে কি রোযার কোনো ক্ষতি হবে?

প্রশ্ন (১৩০৬৪) : আমার নানু প্রতি সোম ও বৃহস্পতিবার নফল রোযা রাখেন। কিছুদিন আগে তিনি চোখের অপারেশন করিয়েছেন। তাতে ঘন ঘন ড্রপ ব্যবহার করতে হয়। জানার বিষয় হল, রোযা অবস্থায় চোখে ড্রপ ব্যবহার করলে রোযা নষ্ট হবে কি? অনুরূপ রোযা অবস্থায় নাকে ড্রপ ব্যবহার করলে রোযার কোনো ক্ষতি হবে কি?

রমযানের কাযা রোযা আদায় আগে শাওয়ালের নফল রোযা রাখা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩০৬৩) : গত রমযানে আমি অসুস্থ থাকার কারণে কয়েকটি রোযা রাখতে পারিনি। এখনও তা কাযা হিসাবে রয়ে গেছে। কিন্তু রমযানের পরে কাযা রোযা না রেখে শাওয়ালের নফল রোযা রেখেছিলাম। তাই হযরতের কাছে জানার বিষয় হল, কাযা রোযা না রেখে নফল রোযা রাখলে তা কি সহিহ হবে?

অস্থায়ী মসজিদে ইতিকাফ আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১৩০৪২) : আমাদের মসজিদের ভবনটি অনেক পুরাতন। তাই পুনঃনির্মাণের জন্য গত বছর মসজিদটি ভাঙা হয়। আপাতত নামায পড়ার জন্য পাশে অবস্থিত মুতাওয়াল্লী সাহেবের জায়গায় টিনশেড দিয়ে একটি অস্থায়ী মসজিদ তৈরি করা হয়েছে। বর্তমানে ঈদ-জুমাসহ পাঁচ ওয়াক্তের নামায এই অস্থায়ী মসজিদেই আদায় করা হয়। এলাকার বিরোধের কারণে এখন পর্যন্ত নতুন ভবনের কাজ শুরু করা যায়নি। জানার বিষয় হল, সামনের রমযানে এ অস্থায়ী মসজিদে ইতিকাফে বসা সহিহ হবে কি? সহিহ না হলে মহল্লাবাসী সুন্নত ইতিকাফ কীভাবে আদায় করবে?

ইচ্ছাকৃত ভাবে একাধিক রোযা ভেঙে ফেললে কি সবগুলোর কাফ্ফারা আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১৩০০২) : আমি বালেগ হওয়ার পর থেকেই প্রতি রমযানে রোযা রাখি। কিন্তু শুরুতে বন্ধুদের প্ররোচনায় গোপনে পানাহার করে বেশ কিছু রোযা ভেঙে ফেলেছিলাম। এখন আমি সেগুলোর কাযা-কাফফারা আদায় করতে চাচ্ছি। আমি শুনেছি যে, বিনা ওজরে একটি রোযা ভাঙলে ৬০ টি রোযা কাযা হিসেবে রাখতে হয়। তাহলে কি আমাকে প্রত্যেক রোযার জন্য ৬০ টি করে রোযা রাখতে হবে? এ ব্যাপারে কোনো ছাড় আছে কি? শরীয়তের সমাধান জানানোর অনুরোধ রইল।