সুন্নত নফল ও অন্যান্য সালাত

তারাবীর নামাযে প্রতি চার রাকাত পর পর দুআ পড়ার বিধান কী?

প্রশ্ন (১২৮৮৪) : আমাদের এলাকায় প্রায় সকল মসজিদে তারাবির নামাযে চার রাকাত অন্তর অন্তর একটি দুআ- سُبْحَانَ ذِي الْمُلْكِ... পাঠ ও তারপর মোনাজাতের রীতি রয়েছে। গত বছর আমাদের মসজিদে তারাবীহ পড়ানোর জন্য একজন নতুন হাফেজ সাহেব আসেন। তিনি এভাবে মোনাজাত করতে দেখে এটাকে অনুত্তম বলেন এবং তা না করার কথা বলেন। এতে মুসল্লিরা দুই পক্ষ হয়ে যায়। ফিতনার আশংকায় কেউ কেউ মোনাজাত করার পরামর্শ দেন এবং তিনি তাই করেন। এ প্রেক্ষিতে একজন মুসল্লি বললেন, অনেকে এ মোনাজাতকে মুস্তাহাব পর্যায়ের বলে থাকে। অথচ তারাবির এ মোনাজাত সাহাবায়ে কেরাম, তাবিয়ীন ও তাবে-তাবেয়ীন কেউ করেননি; তাহলে মুস্তাহাব সাব্যস্ত হয় কীভাবে? এখন জানার বিষয় হলো, এই দুআর ব্যাপারে শরীয়তের হুকুম কী? দালীলিক সমাধান দিলে চিরকৃতজ্ঞ থাকব।

সূর্যোদয়ের সময় নামায পড়লে কি উক্ত নামায সহিহ হবে?

প্রশ্ন (১২৮৬৯) : আমরা জানি, সূর্যোদয়ের সময় ১০-১৫ মিনিট নামায পড়া যায় না। তা সত্ত্বেও যদি কেউ এ সময় ফজরের নামায পড়ে ফেলে তাহলে কি এর দ্বারা তার ফরয আদায় হয়ে যাবে? নাকি পরে আবার পড়তে হবে? অনুরূপ যদি সূর্যোদয়ের পূর্বে নামায শুরু করার পর নামাযরত অবস্থায় সূর্যোদয় হয়ে যায় তাহলে এ নামাযের হুকুম কী?

যোহরের আগের চার রাকাত সুন্নত না পড়তে পারলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২৭০৮) : আমি গতকাল যোহরের নামাযের সময় মসজিদে গিয়ে সুন্নতে দাঁড়ানোর পর ইকামত শুরু হয় যায়। তখন আমি দুই রাকাত সুন্নত পড়ে সালাম ফিরিয়ে ফেলি। এখন কি আমাকে ফরযের পরে নতুন করে চার রাকাত সুন্নত করতে হবে নাকি দুই রাকাত পড়লেও হয়ে যাবে?

ঈদের নামাযে ইমামকে রুকুতে পেলে অতিরিক্ত তাকবীর কিভাবে আদায় করবে?

প্রশ্ন (১২৬৯২) : আমি গত ঈদে ঈদগাহে গিয়ে দেখি ইমাম সাহেব রুকুতে চলে গেছেন। আমি নামাযের নিয়ত করে রুকুতে চলে যাই এবং বাকি নামায আদায় করি। জানার বিষয় হল, ইমাম সাহেবকে ঈদের নামাযের রুকুতে পেলে কীভাবে তাকবীর বলব? মাসআলাটির সমাধান জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

নফল নামাযের প্রথম বৈঠকে কি দরূদ শরীফ ও দুআ মাছুরা পড়তে হয়?

প্রশ্ন (১২৬৫৬) : মাঝে মাঝে আমি আসর ও এশার আগের চার রাকাত সুন্নত পড়ি। অন্যান্য নামাযের মত এ নামাযেও প্রথম বৈঠকে দরূদ শরীফ পড়ি না। কিছু দিন আগে আমার প্রতিবেশী বললেন, এসকল নামাযের প্রথম বৈঠকে দরূদ শরীফ পড়তে হয়। অনুরূপভাবে তৃতীয় রাকাতে দাঁড়ানোর পর পুনরায় সানা, আউযুবিল্লাহও পড়তে হয়। এখন হযরতের কাছে জানতে চাচ্ছি, তার কথা কি ঠিক? এ ব্যাপারে শরীয়তের সঠিক সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

মাকরুহ ওয়াক্তে নফল নামায শুরু করে ভেঙে ফেললেও কি উক্ত নফলের কাযা আদায় করতে হবে?

প্রশ্ন (১২৬৪৩) : আমরা জানি, নফল নামায শুরু করার পর ভেঙে ফেললে তা কাযা করতে হয়। এখন যদি কেউ মাকরূহ ওয়াক্তে নফলের নিয়ত বাঁধার পর কোনভাবে বুঝতে পেরে নামায ছেড়ে দেয় তাহলে কি এই নফলেরও কাযা করতে হবে? এ জিজ্ঞাসার কারণ, এ সময় তো এমনিতেই নামায পড়া অনুচিত ছিল। জানালে খুব উপকার হয়।

নফল নামায জামাতের সাথে আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৬৪০) : আমাদের মহল্লার মসজিদে রমযানের শেষ দশকে রাত ১২টার পর জামাতের সাথে কিয়ামুল লাইল-এর নামায আদায় করা হয় এবং তাতে পূর্ণ ৩০ পারা পড়া হয়। ইমাম সাহেব ফতোয়া দিয়েছেন, রমযানের শেষ দশকের জামাতবদ্ধ এই নফল নামায মাকরূহ হবে না। তিনি মক্কা ও মদীনাকে দলীল হিসাবে ব্যবহার করেছেন। আমার জানার বিষয় হল, উক্ত নফল নামাযের জামাতটা শরীয়তে বৈধ হবে কি না? বিস্তারিত দলীলসহ জানালে উপকৃত হব।

দুআয়ে কুনূত না পারলে কি সূরা ইখলাস পড়া যাবে?

প্রশ্ন (১২৫৬৭) : এক আলেমকে বলতে শুনেছি, কেউ যদি দুআয়ে কুনূত না পারে তাহলে সে ঐ সময় তিনবার সূরা ইখলাস পড়ে নিবে। হযরতের কাছে আমার প্রশ্ন হল, তার উক্ত কথা কি ঠিক আছে?

বার্ধক্যের কারণে নফল নামায বসে আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২৪৯৪) : আমার বড় চাচা বার্ধক্যে কাবু হওয়ার পর থেকে নফল নামাযের বেলায় প্রায়ই এমন করেন যে, কখনো দাঁড়িয়ে নামায শুরু করার পর বাকিটা বসে আদায় করেন। আবার কখনো এর উল্টো। অর্থাৎ প্রথমে বসে আরম্ভ করার পর বাকিটা দাঁড়িয়ে। তাঁর এভাবে নফল পড়া কি ঠিক আছে? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

বিতির নামাযে ইমাম সাহেব ভুলে দুআ কুনুত না পড়ে রুকুতে চলে গেলে করণীয় কী?

প্রশ্ন (১২৪৩৯) : বিতিরের নামাযে ইমাম সাহেব ভুলে দুআ কুনূত না পড়েই রুকুতে চলে যান। মুক্তাদীগণ লোকমা দিলে রুকু বাদ দিয়ে আবার দাঁড়িয়ে যান। এরপর দুআ কুনূত পড়ে যথারীতি বাকি নামায শেষ করেন। এতে এক রাকাতে দুই রুকু হয়ে যায়। উক্ত নামায কি সহিহ হয়েছে? এক আলেম বলেছেন, নামায সহিহ হয়নি। সঠিক মাসআলাটি জানালে উপকৃত হতাম।

মুসল্লি ইমাম সাহেবকে বিতির নামাযের তৃতীয় রাকাতে পেলে বাকি নামায কিভাবে আদায় করবে?

প্রশ্ন (১২৩৮০) : রমযান মাসে একদিন বিতির নামাযের তৃতীয় রাকাতে ইমামের সাথে রুকুতে শরীক হই। ফলে দুআ কুনূত পড়ার আর সুযোগ হয়নি। এমতাবস্থায় ছুটে যাওয়া নামায আদায় করার সময় শেষ রাকাতে আমার কী করণীয়? আমি কি দুআ কুনূত পড়ব, না পড়ব না? কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করেছি। একেকজন একেকরকম বলেছে। ফলে বিষয়টি আমার কাছে অস্পষ্ট হয়ে গেছে। তাই সঠিক মাসআলাটি জানালে কৃতজ্ঞ হব।

ঈদের খুতবা চলাকালীন মুসল্লিরা কি ইমামের সাথে তাকবীর বলতে পারবে?

প্রশ্ন (১২৩৫১) : ঈদের নামাযের খুতবার সময় আমাদের মসজিদে একটি বিষয় লক্ষ্য করা যায়। তা হল খুতবার মাঝে ইমাম সাহেব যখন তাকবীর বলেন তখন অনেক মুসল্লিও তাঁর সাথে সাথে উচ্চস্বরে তাকবীর বলেন। আমি এক আলেমকে বলতে শুনেছিলাম, খুতবার সময় একেবারে চুপ থাকতে হয়। জানার বিষয় হল, এই বিধান কি শুধু জুমার খুতবার সাথেই খাস, নাকি ঈদের খুতবার ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য? সঠিক বিষয়টি জানালে উপকৃত হব।

ঈদের নামাযে অতিরিক্ত তাকবীর বলার সময় কি হাত বাঁধতে হবে?

প্রশ্ন (১২৩৫০) : গত কুরবানী ঈদে এক মসজিদে ঈদের নামায পড়তে যাই। নামাযের আগে ইমাম সাহেব দ্বিতীয় রাকাতে অতিরিক্ত তাকবীর আদায়ের তরীকা বলেন, প্রথম দুই তাকবীরের পর হাত উঠিয়ে বেঁধে নিবে, তৃতীয় তাকবীরের পর হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিবে এবং চতুর্থ তাকবীর বলতে বলতে রুকুতে যাবে। অথচ আমাদের মহল্লার মসজিদের ইমাম সাহেব প্রথম দুই তাকবীরেও হাত উঠিয়ে ছেড়ে দিতে বলেন। এক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি কোনটি জানালে উপকৃত হব।

ফেতনা হওয়ার আশঙ্কায় সাহু সিজদা ছেড়ে দেওয়া কি ঠিক?

প্রশ্ন (১২৩২১) : আমি ঢাকার একটি বড় মসজিদে তারাবীহ পড়াই। এবার রমযানের ২৭ তারিখে তারাবীর নামাযের প্রথম রাকাতে সূরা ফাতিহার তিন-চার আয়াত মনে মনে পড়ি, এরপর স্মরণ হলে উচ্চস্বরে সূরা ফাতিহা শুরু থেকে পড়ি। সেদিন মসজিদে ৩-৪ হাজার মুসল্লী ছিল। অনেক বড় জামাত ফেতনা হতে পারে- একথা ভেবে সাহু সিজদা দিইনি। মুহতারামের নিকট জানার বিষয় হচ্ছে, আমার এই কাজটি কি ঠিক হয়েছে? জুমা ও ঈদের নামাযের মত তারাবীর জামাত বড় হলে সাহু সিজদা ছেড়ে দেওয়ার সুযোগ আছে কি না?

ঈদের নামাযে মাসবুক হলে ছুটে যাওয়া রাকাত আদায় করার পদ্ধতি।

প্রশ্ন (১২৩১১) : গত রোযার ঈদে মাঠে যেতে দেরি হওয়ায় আমার ও আমার ছোট ভাইয়ের ঈদের নামায এক রাকাত ছুটে যায়। তারপর ইমাম সাহেবের সালাম ফেরানোর পর আমরা আমাদের ছুটে যাওয়া নামায পূর্ণ করি। আমি দাঁড়িয়ে প্রথমে অতিরিক্ত তাকবীর বলেছি, তারপর কেরাত পড়েছি। কিন্তু আমার ছোট ভাই কেরাত পড়ার পর অতিরিক্ত তাকবীর বলেছে। নামাযের পর তাকে জিজ্ঞেস করলে সে বলেছে, ঈদের নামাযে মাসবুক হলে ছুটে যাওয়া নামায আদায় করার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তাকবীর কেরাতের পর বলতে হয়। জানার বিষয় হল, আমার ভাইয়ের কথাটি কি ঠিক?

নারী-পুরুষ একসাথে নামায পড়লে দাঁড়ানোর পদ্ধতি কী হবে?

প্রশ্ন (১২২৯৭) : আমার দুলাভাই বাসায় আসলে মাঝেমধ্যে আমার বোনকে নিয়ে একসাথে জামাতে নামায পড়েন। দুলাভাই কিছুটা সামনে দাঁড়ান আর বোন এক পাশে একটু পেছনে দাঁড়ায় এবং তাদের দু’জনের মাঝে একটা চেয়ারও থাকে। আম্মু বলছেন, স্বামী-স্ত্রী পাশাপাশি দাঁড়িয়ে নামায পড়লে স্বামীর নামায হয় না। এখন জানার বিষয় হল, উল্লেখিত সুরতে কি আসলেই তাদের নামায হয় না?

তারাবীহর নামায বসে আদায় করা যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২৯৫) : রমযানে অনেককে দেখা যায় কোনো প্রকার ওযর ছাড়াই বসে বসে তারাবীহর নামায আদায় করে। হযরতের কাছে আমি জানতে চাচ্ছি যে, কোনো ওযর ছাড়াই তারাবীহ বসে পড়া জায়েয আছে কি?

বিতিরের নামায পড়ার পর তারাবীহ পড়া যাবে কি?

প্রশ্ন (১২২৮১) : গত রমযানে একদিন এশার পরবর্তী দুই রাকাত সুন্নাত আদায় করার পর রমযানের কথা স্মরণ না থাকায় গতানুগতিকভাবে আমি ভুলে বিতিরও পরে ফেলি। বিতির শেষ হওয়ার পর তারাবীহ শুরু হলে আমার রমযানের কথা স্মরণ হয়। কিন্তু তখন আমার সংশয় হতে থাকে যে, তারাবীহ তো বিতিরের আগে পড়তে হয়। আমি তো বিতির পড়ে ফেলেছি, এখন কি আমার তারাবীহ হবে? এই দোদুল্যমান অবস্থা নিয়েই আমি তারাবীহ আদায় করি। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, আমার উক্ত তারাবীহ কি শুদ্ধ হয়েছে? না হলে এখন আমার করণীয় কি?

বিতিরের নামাযে মাসবুক হলে কিভাবে তা আদায় করব?

প্রশ্ন (১২২৫৯) : রমযান মাসে একদিন খতম তারাবীর ২০ রাকাত শেষ হওয়ার পর আমি ইস্তিঞ্জায় যাই। অযু করে এসে ইমামের সাথে বিতিরের দুই রাকাত পাই। কিন্তু ভুলবশত অবশিষ্ট এক রাকাত পড়ার সময় দুআয়ে কুনূত না পড়েই নামায শেষ করে ফেলি। ইমাম সাহেবকে বিষয়টি জানালে তিনি বলেন, নামায হয়ে গেছে। জানার বিষয় হল, তিনি কি সঠিক বলেছেন? ইমামের সাথে যে রাকাতে আমি দুআয়ে কুনূত পড়েছি সেটা আমার দ্বিতীয় রাকাত ছিল। এমতাবস্থায় কি আমার নাযায সহিহ হয়েছে?

বিতির নামায সংক্রান্ত একটি মাসআলা।

প্রশ্ন (১২২৫৬) : আমি সেদিন বিতির নামাযে তৃতীয় রাকাতে ভুলে কুনূত না পড়ে রুকুতে চলে যাই। পরে রুকুতে স্মরণ হয় আমি কুনূত পড়িনি। তাই দাঁড়িয়ে যাই এবং দাঁড়িয়ে কুনূত আদায় করি। জানার বিষয় হল, আমি কি দ্বিতীয়বার রুকু করব? এভাবে রুকু থেকে দাঁড়িয়ে যাওয়া কি ঠিক হল?